বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ঘুম

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Rupkothar Rajkonna (০ পয়েন্ট)

X আনিকা হঠাৎ করে বললো, আপনার সাথে আর সংসার করতে ভাল লাগছেনা... ডিভোর্স দিবো... আকাশ শুনে হাসল‌, জবাব দিলো না... আকাশের‌ বউ কয়দিন যাবৎ এই একই কথা বলতেসে... শেষে বিরক্ত হয়ে আকাশ জিজ্ঞেস করল কেন? তার বউ বলে, "আমার একটা এক্স বিদেশ থেকে চলে আসতেসে, তার সাথে পালিয়ে যাবো... আকাশ বলল আচ্ছা যাও... - আমাকে কিছু টাকা দিতে পারবেন? - কেন? - পালিয়ে যেতে টাকা লাগবেনা? সেজন্য... - আচ্ছা নিয়ো... একদিন হুট করে আকাশ‌ বাসায় এসে দেখে বউ বাসায় নেই... নরমালি মন মেজাজ খারাপ হবার কথা... কিন্তু আকাশের কিছুই হচ্ছেনা... সন্ধ্যা হয়ে গেছে, তার বউয়ের খোঁজখবর নেই... এবার ভয় লাগার কথা... তাও লাগছেনা... কারণ আমেরিকা বাংলাদেশের উপর পারমানবিক বোমা ফেললে সবাই মরে যাওয়ার পর যে একটা মানুষ বেঁচে থাকবে সেটা হল আকাশের বউ... সে নিজেকে এতটাই সেইভ করতে জানে... রাতে দশটার দিকে তার বউ ক্লান্ত হয়ে ব্যাগ ট্যাগ নিয়ে বাসায় ফিরেছে... আকাশ তাকিয়ে শুধু একবার দেখল , কিছু বলল না... তার বউ এসে তার হাতে কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়ে বললো, সবটা টাকা খরচ হয়নি, কি এক হারামীর সাথে পালাবো ভাবলাম, সারাদিন অপেক্ষা করিয়ে, শেষে রাতেও এলোনা... অযথাই কিছু টাকা পয়সা নষ্ট করলাম... আকাশ কিছুই বললো না... তার বউ নিজের মত বলে নিজেই চলে গেল... আকাশের এসবে তেমন কিছু যায় আসেনা, তারপরও অকারণে সারাটাদিন নষ্ট হল তার ... সারাদিন কোন কাজ করতে পারল না... হুট করে খুব মন খারাপ হলো তার ... অভিমানে পৃথিবী মাথার উপর ভেঙ্গে পড়ার অবস্থা... পড়ার ঘরে টেবিলের উপর হাত ঘড়িটা খুলে রেখে, ঘুরতে থাকা চেয়ারটার উপর গাঁ এলিয়ে দিল সে ... জাগতিক কিছু ভাবতে ইচ্ছা করছিলো না তার... কারো সাথে কথা বলতেও ইচ্ছা করছিলোনা... শুধু ঝিম ধরে পড়ে থাকতে ভাল লাগছিলো... আকাশ ফোন বন্ধ করে দিয়েছে, ভিতর থেকে দড়জায় খিল দিয়ে দিয়েছে... খাবারের জন্য তার বউ বাহির থেকে অনেকবার ডেকেছে, কিন্তু আকাশের খেতে ইচ্ছা করছেনা... তাই ভিতর থেকে কোন জবাব আমি দেয়নি সে ... সারারাত ঝিম ধরে থেকে ভোরে একটা বই পড়তে শুরু করেছে সে ... বইয়ের নাম হচ্ছে "সুখ" এটা মুলত একটা ইংরেজী বইয়ের বাংলা অনুবাদ... ব্রাটাণ্ড রাসেলের বিখ্যাত বই "কনকুয়েস্ট অব হেপিনেস" কে মোতাহার হোসেন চৌধুরী "সুখ" নামে অনুবাদ করেছেন... লেখক বইটাকে দুইটা অংশে ভাগ করেছেন একবার প্রমাণ করার চেষ্টা করছে আমরা আসলে মানবজীবনে অনেক সুখী, আবার প্রমাণ করার চেষ্টা করছে, আসলে সুখী না, আমাদের মানব জীবন শুধু দুঃখের... এখানে দুঃখ ছাড়া কিছুই নেই... খুবই ইন্টারেস্টিং একটা বই... আকাশ সারাদিন ধরে এটাই পড়ে যাচ্ছে... এরমধ্যে তার বউ কয়েকবার এসে ডেকেছে... সে কোন জবাব দেইনি... বউ ব্যর্থ হয়ে ডাকা বন্ধ করে দিয়েছে... সারারাত সারাদিন না খেয়ে একটা রুমে পড়ে থাকায় শরীরটা একটু দুর্বল হয়ে আসছিলো আকাশের ... চোখের পাতা ভারি হয়ে এলো তার ... সে বইটা বুকের উপর রেখে একটু চোখটা বন্ধ করল... এরমধ্যে তার বউ নানান কাণ্ড ঘটিয়েছে... আত্মীয় স্বজন সবাইকে ফোন দিয়ে বলেছে আকাশ আত্মহত্যা করেছে... আত্মীয় স্বজনরা বাসায় এসে কান্নাকাটির ধুম লাগিয়েছে... বাসার কাজের মেয়েটাও প্রচুর কান্না করছে... আকাশের বউ কান্নাকাটি তেমন করছেনা, সে ঘুরে ঘুরে সবার কান্না দেখছে... একটুপর কাজের মেয়েকে এসে জোড়ে একটা ধমক দিলো, ধমক দিয়ে বললো, জামাই মরেছে আমার, তর এত দুঃখ কেন? তুই হাউমাউ করে কাঁদতেছিস কেন? ধমক শুনেই কাজের মেয়ে চুপ, এবার সে কান্নাকাটি রেখে চুপ করে বসে আছে... এরমধ্যে অতি উৎসাহী কিছু সাংবাদিক বাসায় ডুকার চেষ্টা করছে, বাহিরে ভীড় লেগে গেছে... কোর্ট শেষে আকাশের কলিগরাও প্রায় সবাই চলে এসেছে... এলাকার মানুষ নানান কানাঘুষা শুরু করেছে... তারা ইতিমধ্যে অপরাধী খুঁজে বের করে তার শাস্তিও দাবি করছে... আমার আত্মহত্যার পিছনে তারা প্রধান আসামী বানিয়েছে আকাশের বউকে, তারপর যথারীতি কাজের মেয়ে এবং বউয়ের বন্ধুদেরকে... তার মৃত্যুর চেয়ে এখন তাদের কাছে এখন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়েছে, স্বামী মরেছে কিন্তু বউ কেন কান্না করতেসে না? বিষয়টা বউয়ের কান পর্যন্ত এসেছে, কিন্তু তার বউ এসবে পাত্তা দিচ্ছেনা... সে দুপুর থেকে সবকিছু ম্যানেজ করে চলেছে... কেউ ভয়ে দড়জা ভাঙছেনা, সবাই পুলিশের জন্য অপেক্ষা করতেসে... এসব সেন্সিটিব ব্যাপারে পুলিশ ছাড়া কারো হাত দেয়াও উচিৎ না... পুলিশ এখনো আসতে পারছেনা কারণ রাস্তায় প্রচুর জ্যাম... আর আকাশ খুব বেশি বিশেষ ব্যক্তি নয় যে পুলিশ হেলিকপ্টারে চড়ে চলে আসবে... পুলিশ আসলো আরো আধা ঘণ্টা পর... পুলিশ এসে ভীড় কমাতে সাংবাদিকদের বাসার ভিতর ডুকতে দিলো... পুলিশের ওসি সাহেবের মধ্যে আকাশের মৃত্যু নিয়ে তেমন ভাবোধয় হতে কিছু দেখল না... উনি বাসার দাড়োয়ান কে ধমক দিয়ে বললো চায়ের ব্যবস্থা করতে... দাড়োয়ান চা নিয়ে আসেনি, সে কোন ঝামেলায় জড়াতে চায়না তাই এখন পর্যন্ত সে পলাতক... পুলিশ এসে একবার পড়ার ঘরের দড়জায় উকি দিয়ে গেছে কিন্তু দড়জা ভাঙ্গার ব্যাপারে কোন আদেশ নির্দেশ দেয়নি... সোফার রুমে পুলিশ এবং সাংবাদিকদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে... পুলিশ সাংবাদিকদের ইন্টার্ভিউ দিয়ে যাচ্ছেন, অনেকটা প্রেস ব্রিফিং টাইপও বলা যায়... পুলিশ তার মৃত্যুর জন্য অনেকদিনের পারিবারিক কলহ, ব্যাংক ভর্তি অবৈধ টাকার ব্যাপারে দুদকের চাপ, বিবাহিত অবস্থায় পুরোনো প্রেমিকার বিরহে মানুষিক যন্ত্রণা এসব তথ্য সাংবাদিকদের দিয়ে যাচ্ছেন... এরপর সাংবাদিকরা আকাশের বউকে নানান কোশ্চেন করছেন, তার বউ খুব সিরিয়াস হয়ে সাংবাদিকদের খোঁচা মারা টাইপ প্রশ্নের কঠিন জবাব দিচ্ছে... সাংবাদিক: এই যে আপনার স্বামী কোটি কোটি অবৈধ টাকা ব্যাংকে এবং বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রেখেছে, এসব কি আপনি জানতেন? বউ: জানতাম না মানে? অবশ্যই জানতাম... সেই টাকা দিয়েই তো মঙ্গল গ্রহে ডুপ্লেক্স বাড়ি বানানোর প্ল্যান করছি... সাংবাদিক২: আপনার স্বামীর পুরোনো প্রেমিকার জন্য মনে যে এত হতাশা এসব কি আপনি বুঝতেন? অথবা এসব নিয়ে আপনাদের মধ্যে রোজ ঝগড়াঝাঁটি হতো? বউ: আমার স্বামীর তো পুরোনো প্রেমিকা একটা না, একাধিক... কার জন্য ঝগড়া করবো সেটাই বুঝতে পারতাম না... সেজন্য প্রায় প্রতিদিনই দুজন মারামারি করতাম, এক একদিন এক প্রেমিকা নিয়ে মারামারি করতাম... সাংবাদিক৩: আপনি কি বুঝতে পারছেন, উকিল সাহেবের এই মৃত্যুর জন্য পুলিশের আঙুল প্রথমে আপনার দিকেই উঠবে? বউ: অবশ্যই বুঝতে পারছি.. স্বামী মারা যাওয়ার সময় বাসায় একমাত্র আমিই ছিলাম, এবং আমার এর সাথে যুক্ত থাকার একটা বিশাল সম্ভাবনাও রয়েছে... কিন্তু স্বামীকে মেরে ভিতর থেকে দড়জা লক করে আমি কিভাবে বাহিরে এলাম সেটা আমার মাথাতেই আসছেনা... তবে পুলিশ অবশ্যই এই রহস্যটা উদঘাটন করবে... স্বামীকে মেরে তো কোন না কোনভাবে আমি বের হয়েছিই... সাংবাদিকরা তার বউকে প্রশ্ন করে তেমন মজা পাচ্ছেনা... কিন্তু মনে হল তার বউ সাংবাদিকদের উত্তর দিয়ে মজা পাচ্ছিলো, অনেকটা সেলিব্রেটি টকশো টাইপ... পুলিশ দুই ঘন্টা রেস্ট নিয়ে পড়ার ঘরের দড়জা ভাঙার চেষ্টা করছে... দড়জায় ধুরুম ধুরুম শব্দ হচ্ছে... দড়জার শব্দ শুনে আকাশের ঘুম ভেঙ্গে গেল... বাহিরে এসে এমন হুলুস্থুলু কান্ড সে কিছুটা ভয় পেয়ে গেল... কেউ কেউ ভয়ে ভুত বলে দৌড়েও পালালো... পুলিশ প্রচণ্ড বিরক্তি নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে, আর সাংবাদিকরা তার ঘুম ভাঙা চেহারার ছবি তুলছে... এদিকে তার বউ এগিয়ে এসে তাকে দিলো ঝাড়ি, মরার মত ঘুমাচ্ছেন যেহেতু, আরেকটু ঘুমাতে পারলেন না? মজাই তো হচ্ছিলো... সাংবাদিকরা ছবি তোলা রেখে আকাশের বউয়ের দিকে তাকিয়ে আছে, আর আকাশও অবাক হয়ে বউয়ের কাণ্ড দেখে যাচ্ছে... (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ঘুমপুরের হাইমন্ত্রী ও ভোরবিরোধী প্রজাতন্ত্র
→ ঘুমের ঔষুধ
→ ঘুম থেকে সজাগ হলে পৃথিবী আর সজাগ না হলে অনন্ত পৃথিবী থেকে।
→ ঘুমন্ত পরী ( পার্ট ২)
→ ঘুমন্ত পুর
→ "নিজেকে জানো" তুমি কতটা ঘুমকাতুরে?
→ প্রতিদিন ১ কেজি কাদা না খেলে ঘুম আসে না ১০০ বছর বয়সী এই বৃদ্ধের!
→ আমি যখন ঘুমাব
→ ঘুম হারানো রাত
→ অপর্যাপ্ত ঘুম মানসিক সমস্যা সৃষ্টি করে
→ ঠাকুরমার ঝুলি - ঘুমন্ত পরী
→ নানীর বাড়িতে ঘুম
→ আলমের ঘুম ভাঙল খুব ভো৷ [ আগুনের পরশমনি ]
→ ঘুম পাগল
→ দেরি করে ঘুমাতে নিষেধ করেছেন রাসুল (সা.)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now