বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ঘটনাটি ঘটে মার্চের ২২ তারিখে।

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ঘটনাটি ঘটে মার্চের ২২ তারিখে। সেদিন সাভার থেকে ফিরছিলাম।নবীনগর এসে একটা Red Bull কিনে খেতে খেতে রিক্সা খুজছিলাম। তখন হঠাৎ করে লক্ষ করলাম ভালো পোষাক পরিহিত এক মহিলা ভিক্ষা করছেন। তার সাথে রয়েছে তিনজন সন্তান। কোলে একটি শিশু আর দুজন পাশে দাড়িয়ে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে তাকে কেউ ভিক্ষা দিচ্ছিল না। কিছুক্ষন পর আমি এগিয়ে গেলাম ৫ টা টাকা দিতে। গিয়ে শিশুগুলোর চেহারা দেখে বুঝতে পারলাম সারাদিন কিছু খায়নি। অবাক হলাম তার সাথে কথা বলে। জানতে পারলাম উনি ভিক্ষা করছিলেন না।মহিলাকে জিজ্ঞাসা করলাম,-"আপনার বাড়ি কই?"। মহিলা বলল,-" ভাই,আমগো বাড়ি মায়মিনসিংহ "। আমি:- "তো এখানে কোথায় এসেছেন?" মহিলা বাচ্চাগুলোকে দেখিয়ে বলল-"ওগো বাপেরে খুজবার আইছি।" এবার মহিলা কাদো কাদো হয়ে বলল-"ভাই,সারাদিন পোলাপাইন গুলারে কিছু খাওয়াইবার পারি নাই। বাড়ি যে যামু হেই ট্যাকা ডাও নাই। সরমে ভিক্ষাও করা পারি না। ওগো বাপেরে ও খুইজা পাইলাম না। কি করুম আফনেই কন ভাই।" কথাগুলো বলতে বলতে মহিলা কেদেই ফেললেন। আর তার সন্তান দুটো তার কাদা দেখে কেদে দিলেন। এরকম সময় খুব কষ্ট করে নিজেকে সামলালাম। কান্না থামানোর কিছুক্ষণ পরমহিলাকে জিজ্ঞেস করলাম -"ওর বাবাকে পান নাই মানে?" এবার মহিলা অঝোরে কেদে দিলেন । কিছুক্ষণ পর তিনি নিজে থেকেই বললেন -" পাশের বাড়ির বেটির তন হুনলাম হেই নাকি আরেক্ষান বিয়া করছে......" এরপর আর কিছু বলার প্রয়োজনবোধ করলাম না। পকেটে হাত দিয়ে দেখি মাত্র ১৩৭ টাকা আছে। আমি খুব ভালোবাবেই জানি এতে ওনার কিছুই হবে না। বাসায় ফোন দিয়ে বললাম,-"মা মোটরসাইকেলের তেল শেষ হয়ে গেছে,তুমি তারাতারি আমার নাম্বারে ২৫০ টাকা পাঠাও"। কথা টুকু বলেই ফোন টা কেটে দিলাম। মা জানত না যে আমি বাসে গিয়েছিলাম। কিছুক্ষন পর ওই টাকা সহ মোট ৩৮৭ টাকাই মহিলাকে দিলাম। মহিলা খুব লজ্জা বোধ করায় তাকে বললাম," আপা,কাল হয়তো আমিও এমন পরিস্থিতিতে পড়তে পারি। আর এটা কোন দান নয়। আমি আপনাকে টাকাটা ধার হিসেবে দিলাম। আপনি পরে কোন এক সময় দিয়ে দিয়েন। " মহিলাটা আবার কেদে দিলেন। তবে বুঝতে পারলাম এটা দুঃচিন্তা কেটে যাওয়ার কান্না। তিনি আমার ফোন নম্বরটা নিয়ে গিয়েছিলেন। দুইদিন আগে তিনি ফোন দিয়েছিলেন। বিকাশ করে আমার টাকাটাও পাঠিয়ে দিয়েছেন। সেদিন মহিলাকে বাসে উঠিয়ে দিয়ে যখন হেটে হেটে বাসায় ফিরছিলাম তখন মনের মধ্যে কেন জানি খুব শান্তি অনুভূত হচ্ছিল। নিরব শান্তি। আর হাতে থাকা Red Bull এর ক্যান টা ছুড়ে ফেলে দিই। কারণ তখন আমার নিজের মস্তিষ্কটা বেশ ভালই কাজ করছিল। আর নিজের সেই সুস্থ মস্তিষ্কের মাঝে একটা নিরব প্রশ্ন জাগে, "মানুষগুলো কেন এমন হয়?" [] Syed Alif Hasan []


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ঘটনাটি ঘটে মার্চের ২২ তারিখে।

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now