বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ঘটনা ঘটছে আমার________

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান MD Shohidul Islam Sahid (০ পয়েন্ট)

X ঘটনাটি ঘটেছে আমার এক frnd er দাদার সাথে। আমি তার ভাষায় বলছি। আমি জামালউদ্দিন।একজন কৃষক।সাধারনতই একজন কৃষক কে সারা দিন হাল চাষ করতে হয়।তাই বাড়িতে ফিরতে রাত হয়ে যেত।আমার বাড়ি কিছুটা দূরে হওয়ায় সব সময় সূর্যের আলো থাকতে থাকতেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতাম।কিন্তু সেদিন কাজ বেশি থাকায় সন্ধা হয়ে গেল।সবাই যার যার বাড়িতে চলে গেল।আমি কাজটা শেষ করে যখন রওনা হলাম তখন সু্র্য ডুবে গেছে।চারদিক আবছা দেখা যাচ্ছে।এরই মধ্য আমি দেখতে পেলাম একটা গরু রাস্তার পাশে দারিয়ে আছে।ভাবলাম এই সন্ধায় না জানি কার গরু এখানে রয়ে গেছে।আবার হাটতে লাগলাম।মনেহলো কেও আমার পিছু নিয়েছে।কিছুক্ষন হাটার পর পেছনে তাকিয়ে দেখি সেই গরু টা।আমি ভাবলাম হয়ত এই সন্ধায় একা থাকতে ভয় পাচ্ছে তাই আমার পিছু নিয়েছে।তাই গরুটাকে সাথে নিয়ে হাটতে লাগলাম।এভাবে কিছুক্ষন হাটার পর সামনে দুটো রাস্তা পড়লো। একটা আমার বাড়ির দিকে অন্যটা জঙ্গলের দিকে যায়।তো ঠিক তখনই গরুটা আমায় ছেড়ে দৌড়ে জঙ্গলের দিকে যেতে লাগলো।আমি পড়লাম মহা মুস্কিলে।এখন কি করি। আমিও দিলাম দৌড় যাতে গরুটা জঙ্গলের ভেতর যেতে না পারে।কিন্তু গরুর সাথে কি মানুষ পারে? ঠিকই জঙ্গলে ডোকে পড়ল।এবার আমিও গেলাম।কিন্তু এখন আর গরু টা কে দেখতে পারছি না।আমার ভয় করছিল।আমি গরু টাকে খুজছি।ডাকছি কিন্তু গরুর কোন সারা শব্দ নেই।এভাবে কিছুক্ষ। যাওয়ার পর হঠাৎ পেছন থেকে গরুটা ডেকে উঠল।পেছনে গিয়ে গরুটাকে টানছি জঙ্গল থেকে বের করার জন্য কিন্তু পারছি না।মনে হচ্ছে কোন পাথরকে ক্রমশ টেনে যাচ্ছি আমি।বাধ্য হয়ে গরুর গায়ে থাপ্পর দিয়ে বললাম ''মরার গরু এবার তো চল"'ঠিক তখনই গরুটা আমার দিকে তাকাল।ভয়ে আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেল।গরুর চোখ দুটো জ্বল জ্বল করছে। আমি ভয়ে উল্টো দিকে দিলাম দৌড়। গরুটাও আমার পেছনে আসতে লাগলো।দৌড়াতে আর না পেরে একটা গাছে উঠে পড়লাম।গরুটা নিচে তখন দারিয়ে আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।বেশ কিছুক্ষন এভাবে থাকার পর হঠাৎ গরুটা ওর মাথা দিয়ে গাছে ধাক্কাতে লাগলো।আমার মনে হচ্ছিল এই বুঝি গাছটাকে আমি সহ উপড়ে ফেলবে।এমন শক্তি কোন গরুর থাকতে পারে না।আমি প্রান পণে সূরা,দোয়া দূরূদ পড়তে লাগলাম।একটু পর গরুটা সেখান থেকে কোথায় যেন চলে গেল।আমি এখন কি করবো বুঝতে পারছিনা।এদিকে অনেক রাত হয়ে গেছে।এভাবে তো আর বসে থাকা যায় না।তার তখন পর মনে পড়লো আমার কাছে তো দুটো বিড়ি আছে।শুনেছি এসব জিনিশ আগুনে ভয় পায়।তাই বিড়ি টা জ্বালালাম।কিছুক্ষন তার পরও গাছে বসে থাকলাম।দেখলাম গরুটা আসে কি না।এর পর গাছ থেকে নেমে দৌড় দিলাম।জঙ্গল টা পেরোতেই বিড়ি প্রায় শেষ।আর একটা বিড়ি জ্বালাব ঠিক তখনই দেখলাম ম্যাচ ও শেষ তাই জ্বালানো বিড়ি থেকে অন্যটা জ্বালিয়ে প্রায় দৌড়ে আসতে লাগলাম।কিছুক্ষনের ভেতর আমাদের বাড়ির রাস্তায় চলে এলাম।তখন অনেক রাত হয়ে গেছে তাই কারো দেখা পাওয়া সম্ভব নয় কারন গ্রামে সাধারনত মানুষ খুব তারাতারি ঘুমিয়ে পড়ে।এখান থেকে বাড়িতে যেতে প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগে।তাই তারাতারি হাঁটছি।কিছুক্ষন হাটার পর শুনতে পেলাম পেছন থেকে কেও ডাকছে।আমি তাকালাম না।২য় বার ডাকতেই কেন জানিনা পেছনে তাকালাম।দেখলাম এক বৃদ্ধ লোক একটা গাছের নিচে দারিয়ে আমায় ডাকছে।বিড়িটা তখনও আমার হাতে ছিল।কাছল যেতে চাইতেই লোকটি বলল তার হাপানি রোগ আছে।ধোয়া সহ্য করতে পারবে না তাই বিড়ি টা ফেলে দিতে বলে।আমার একটু সন্দেহ হলো।তাই জিগ্গেস করলাম''কই যাইবেন।আপনারে তো আগে কখনও দেখি নাই?উত্তরে তিনি বললেন "' আমি রহমত মিয়া,এই গেরামে আইছিলাম কবিরাজ দেখাইতে।হাপানি রোগের ঔষধ লাগব। আইতে আইতে দেরি হইয়া গেছে।এইহানে আমার দূরসম্পর্কেরর নাতি থাকে।তার বাড়িত যামু।আমি তার।নাতির নাম জিগ্গেস করলাম তিনি বললেন ''"'মুমিন''।""অহ হেরে তো আমি বালা কইরা চিনি,আসেন আমি আপনারে পৌছায়া দিই।বিড়িটা ফেলে লোকটির কাছে গেলাম।লোকটি হাটতে পারছিল না।আমি বললাম আমার কাঁধে হাত রাখেন।তিনি বললেন ধরতে পারবা তো।"হ পারমু''বলারর পর উনার হাত টা আমার ঘারে রাখলেন।তখন মনে হচ্ছিল ধানের তিনটা বস্তা ঘারে নিয়েছি।আর হাতটা অসম্ভব রকমের ঠান্ডা।আমি ভয় পেলাম।মনে মনে ভাবলাম একজন বৃদ্ধের এত ওজন আর হাত এত ঠান্ডা কেন।আমি ভয়ে ভয়ে জিগ্গেস করলাম''"আপনের হাত এত ঠান্ডা কেন?লোকটি হেসে বলল মরা মানুষের হাত তো তাই।আমি ভয়ে তার হাত ছাড়িয়ে নিলাম।তখন সে বলে উঠল "'আমারে থাপ্পর দিয়া তুই কামডা ঠিক করস নাই।"'আমি কথা টা শুনে এক মুহূর্ত দেরি না করে বাড়ির দিকে দৌড়াতে লাগলাম।মনে হলো সেই ঠান্ডা হাত আমার পিঠে স্পর্শ করলো।সাথে সাথে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। চোখ খুলে দেখি আমি একটা মসজিদে।সকালে ফজরের সময় কয়েকটা লোক আমায় গাছের নিচে পড়ে থাকতে দেখে।তার পর এখানে নিয়ে আসে।এর পর আমায় বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।আমার প্রচন্ড জ্বর আসে।তখন আমার জ্ঞানন থাকলেও কথা বা চলা ফেরা করতে পারতাম না।অনেক কবিরাজ,হুজুর দেখানোর পরও কোন পরিবর্তন হলো না।প্রায় ৩ মাস পর আমি আস্তে আস্তে সুস্থ হতে লাগলাম।সম্পূর্ন সুস্থ হতে প্রায় ৬ মাস লেগেছিল।এর পর আমি মমিন কে জিগ্গেস করায় সে বলে তার রহমত নামে কোন দূরসম্পর্কের নানা নেই।আমি আজও বুঝিনি সেটা কি ছিল।তবে এর পর থেকে আমি বিকেল থাকতেই সব কাজ শেষ করে বাড়িতে ফিরে আসতাম


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ঘটনা ঘটছে আমার________

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now