বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ঘড়িয়াল তোকে বলছি

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রামীম (০ পয়েন্ট)

X প্রিয় ঘড়িয়াল, এই ঘড়িয়াল কেমন আছিস। আজ তোকে না বলা কিছু কথা লিখছি। দেখ নাকের ভেতর থেকে আঙ্গুল বের কর। আমি কিন্তু মজা করছি না। তোর সেদিন হোস্টেলে প্রথম দিন, তুই নতুন আমাদের মাঝে। আমরা সবসময়ের মত টিজ করার জন্যে কি নামে ডাকা যায় ভাবছি। হঠাত তোর সামনের দুই লম্বা লম্বা দাত দেখে আমি প্রস্তাব দিলাম ‘ঘড়িয়াল’। ঘড়িয়ালের সাথে কুমিরের পার্থক্য একটাই কুমিরের চেয়ে তোদের চোয়াল বেশ লম্বা থাকে। দেখছিস তোকে কি পরিমান আবেগ নিয়ে ঘড়িয়ালদের দলে ফেলছি। ডাইনিং রুমে খাবার সময় তোকে আমার টবিলের মেম্বার করা হল। আমি ভাবছি মনে মনে তোরে কখন ঘড়িয়াল বলে ডাকব, সবার সামনে ডাকলেইতো নামটা হোস্টেলে পার্মানেন্ট হয়ে যাবে। যেই ভাবা সেই কাজ। আমি বললাম এই ঘড়িয়াল ডালটা এগিয়ে দাওতো। তুই আমার দিকে যেভাবে তাকিয়ে ছিলি, আমিতো ভয়ই পেয়ে গেছিলাম তুই না আবার স্যারকে বলে দিস। তুইতো নতুন এখানে, নিয়মকানুন জানিস না কিছুই, আমরা যারা এখানে থাকি তারা সবাই সবাই কে টিজ করি, কিন্তু কেউ রাগ করি না। কেন জানিস আমরাতো বাবা মা ছাড়া এখানে থাকি, তাই সবাই মিলে একটা ফেমিলি। মজার জিনিস কি জানিস যদি ঝগড়া করে কারো সাথে কথা না বলি, তবে সবাই দুইজন কেই বেস্ট ফ্রেন্ড বলে খেপায়। তুই সবই জানবি আস্তে আস্তে। তুই আমাকে বললি এই কি বললা আরেকবার বল। আমি থতমত খেয়ে গেলাম, না মানে বলছিলাম ঐ যে দেয়ালের ঘড়িটা..ঘড়িয়াল মানে ঘড়ি আলপিনে লাগানো আছে। সেইদিন থেকেই শুরু, তোর নামটা ছেয়ে গেলো সবখানে। একদিন ক্লাস টেষ্টে বাংলায় সবচেয়ে বেশী মার্ক পেলি তুই। আমিতো অবাক, আমিও খারাপ পাইনি, কিন্তু তোর ধারে কাছে কেউই নেই। তোর খাতাটা চেয়ে নিয়ে পড়লাম ওহ অসাধারন অসাধারন। সেইদিন থেকেই মনে মনে ঠিক করলাম আমি কিভাবে তোর মত লিখব তোর কাছ থেকেই শিখবো। তোকে ব্যাপারটা বলতেই তুই কিছুক্ষন হাসলি। বললি ঠিক আছে। আমার এত ভালো লেগেছিল জানিস!! গত তিন বছরে আমাদের যারা প্রথম সারির স্টুডেন্ট তাদের কেউ কেউ কোন পড়া বলে দিত না বরং এমন একটা ভাব করত যে আমি কিছুই পারি না। আমি মনে মনে বলতাম শালারা ধাইরা (বয়সে বড়) তোরা আমার চাইতে কম করে হলেও ২ বছরের বড়, তোরাতো ভাল রেজাল্ট করবিই। প্রতিদিন তোর সেকশনে গিয়ে আমার বাংলা শিখা শুরু হল। তুই একটা লাইন লিখে দিতি আর আমিও অমনি ওই লাইন অন্য ভাবে লিখতাম। তুই কথায় কথায় বললি যখন বাংলা পরীক্ষায় বসবি তখন নিজেকে সাহিত্যিক মনে করবি, তাইলে দেখবি কলম কেমনে চলে। আমি হাতে হাতেই ফল পেলাম, দুই ক্লাস মিলিয়ে সেকেন্ড ক্লাস টেস্ট এ একমাএ আমি ফুল মার্ক্স ২৫। হা হা হা তুই হাসলি। বললি তুইতো আমার থেকেও বেশি। এখন আমাকে শিখা কিভাবে লিখব। সেইদিন কিযে খুশি লাগছিল আমার। স্পেশাল ডাইনিং এর আমার প্রিয় চপ পুডিং তোরে দিয়ে দিলাম। তুই ফেরত দিয়ে দিলি বললি নাহ তুই খা। ঘড়িয়াল তুই কি জানিস!! আমি সেই ক্লাস ফাইব থেকেই না পড়েই এত বছর বাংলা পরিক্ষায় বসেছি। আজ প্রায় ১৪ বছর পর সেই কথা ভেবে আমার ভয় লাগে, কিভাবে না পড়ে আমি পরিক্ষায় বসেছি। হা হা হা আমার সাহিত্য চর্চা এখনো শেষ হয়নাই। এখন আমি বাংলা লিখে মানুষ কে কাদাতে পারি ,পারি হাসাতে, অনেকেই আমার লেখার প্রেমে পড়ে গেছে। ফেসবুকে নিয়মিত ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আর মেসেজতো আসছেই। কিন্তু তুই, তুই এত দাম দেখাচ্ছিস কেন? তুই কেন ফ্রেণ্ড রিকোয়েস্ট দিসনা। কত পুরানো বন্ধু কে ফিরে পেয়েছি পার্থ, রাসেল, রবিন, তরিক, লিটন, অতনু, ফিরোজ,পাভেল মোটামুটি সবাই তুই ছাড়া। রাগ করিস না দোস্ত, ফিরে আয় প্লিজ। একদিন কে যেন স্ট্যাটাস দিল তুই নাকি রাগ করে অনেক দূরের দেশে চলে গেছিস। কেন রে এত অভিমান কিসের তোর? ঘড়িয়াল এই ঘড়িয়াল এইভাবে না বলে কেউ চলে যায়, এইভাবে কি চলে যেতে হয় তুই বল!!! যেখানেই আছিস ভাল থাকিস। জানা অজানা ভুলগুলা মাফ করে দিস । একদিন আবার দেখা হবে। Love you দোস্ত। ইতি অ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ঘড়িয়াল তোকে বলছি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now