বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
"ডোন্ট কল হার বিল্লু। ওর নাম বিলি আজাদ।"
অন্তির কথায় তমাল অবাক হল।
- "আমি জানতাম বিলির কোনো লাস্ট নাম নেই।"
-"নাই তো। আরিফ আজাদ আছে না? আরে
আমাদের একটা স্যার। বিলাকে যা ভালো পায়!"
শুরু হয়ে গেল।খিলখিল বিলবিল। হাসাহাসি। আহা কি মজা!
বিলু হাসি হাসি মুখ করে জানালার বাইরে তাকালো। কি
বাতাস বাইরে! আচ্ছা মা কি করছে এখন?? কাপড়
ঘরে আনছে বোধহয়। বিলুর মা খুব সাধাসিধা।
এককালে নাকি হাসিখুশি ছিল খুব।
বিলু মাকে খুব একটা হাসিমুখে দেখে নি যদিও। বড়
চাচীর কাছে শুনেছে।
বেণী করে দিতে দিতে চাচী ওকে
ছোটবেলার গল্প শোনাত। বিলুর জন্মের
আগের কথা। মা কত হাসিখুশি প্রাণবন্ত ছিল। বাবা
মায়ের রোম্যান্স আর কেমিস্ট্রি। বিলু শুনত আর
চোখ বড় করে ভাবত, এটা কার বাবা মায়ের কথা
বলছে?? বিলুর?? সত্যি!!
বিলু অবাক হয়ে বলত, "চাচী তুমি বললে মা নাকি
দড়িলাফ খেলত। এখন তো আমার সাথে লুডুটাও
খেলে না।"
চাচী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলত, "সবই তোরা
হওয়ার আগেরে পাগলী।"
বাসার মধ্যে একমাত্র বড়চাচীই পিতুর অস্তিত্বটা
স্বীকার করে। আর কেউ না। চাচীর চোখ
দিয়েই সে পিতুকে আবছায়া দেখেছে।
"তোরা যখন হলি, তিন দিন তিন রাত তোরা আমার
কোলে জানিস। তুই কি শান্ত ছিলি রে! তোর
বোনটা ভীষণ সেনসিটিভ। একভাবে ধরে
রাখতে হবে তাকে। একটু নড়নচড়ন হলেই
গেল! কান্না দেখে কে! তোর বাবা, আমি আর
তোর চাচু মিলেও চুপ করাতে পারি না। তোর মা
তখন কি অসুস্থ। তবু দস্যি মেয়ে মায়ের
কোলে গিয়েই শান্ত হবে।"
বিলু ঘোরলাগা চোখে তাকিয়ে অস্ফুটে বলে
বসল, পিতুটা তাহলে আসলেই দস্যি ছিল!
চাচী হা করে বলল, কি নাম বললি???
বিলু বলল কিছু না কিছু না।
ক্ষতি যা হওয়ার ততক্ষণে হয়ে গেছে। পুরা বাসা
চাউর হয়ে গেল বিলু নাকি মরা বোনটার নাম
দিয়েছে নিতু না কি। ছোটকা, ফুপি সবাই হা। বাবা
এসে ধমকে গেল, "কি শুনি আমি এসব? নিতু ফিতু
কি?"
বিলু বলল, বাবা নিতু ফিতু তো না। পিতু। ভালো নাম
প্রীতি।
বাবা ঠাস করে একটা চড় মেরে গেল।
বিলু গালটা কিছুক্ষণ হাত বুলিয়ে বারান্দায় চলে গেল।
নাহ বাবার মারটা তো এই প্রথম না। বিলুর এখন অভ্যাস
হয়ে গেছে। মেয়েরা নাকি বাবার আদরের
দুলালী হয়? কিভাবে? বিলুর জানা নেই। বাবার কেন
যেন বিলুকে পছন্দ না।
বিলু প্রথম প্রথম বিশ্বাস করতে পারত না। ওর মনে
হত এটা ওর বাবা না। বাবার মুখোশ পড়ে অন্য
কেউ। বাবারা বুঝি এরকম হয়? বড় চাচু যে তাহলে
প্রমা ছাড়া কিছুই বোঝে না?? বাসায় এসেই
প্রমাকে কোলে তুলে কি আদর! প্রতিদিন।
চাচু বলবে, "আমার প্রমামণিটা আজকে কি চায়??"
প্রমা নতুন লাল ফ্রকটা ঘুরিয়ে আধো বুলিতে
বলবে, "তকলেট।"
চাচু তখন ব্যাগ বের করবে। চিপ্স চকলেট কমিক্স
নেই ওতে??
দরজার আড়ালে ছোট্ট বিলুকে চাচুর চোখে
পড়ত। কখনো এসে একটা চুমো দিত। কখনো
চকলেট। কখনো দেখেও না দেখার ভান করে
চলে যেত।
সে তো ছোট থাকতে। এখনো চাচু দরজায়
এলেই প্রমা ঘর কাঁপিয়ে চিৎকার দিবে,
"বাবাআআআ.."
বিলুর দেখতে দেখতে সয়ে গেছে। তবু
আজো প্রতিদিনই সে খেয়াল করে চাচু আর
প্রমাকে। আগের মত কষ্ট লাগে না। কিন্তু আগ্রহ
লাগে। বাবা-মেয়ের সম্পর্ক। লোকে বলে,
মেয়েরা নাকি বাবার প্রিন্সেস হয়। বিলুর দুনিয়াটা এমন
কেনো??
বিলু কিছুতেই ভেবে পেত না তার দোষটা
কোথায়। তার তো আর কোনো ভাইবোনও
নেই। ছোটোবেলা থেকেই বিলুর রেজাল্ট
ভালো। তবুও, বাবার মন তো পেল না।
ক্লাস এইটে বৃত্তির রেজাল্ট যেদিন দিল।
সাধারণ গ্রেড। বাবা সেদিন কাঠের স্কেল দিয়ে
মেরেছিল। হাতে। পিঠে।
বিলুর চোখ শুকনা। বাবা মনে হয় অপেক্ষা করছিল
বিলু কখন কাঁদবে। বিলুর কান্না পাবে কি করে? সে
অবাক বিস্ময়ে বাবাকে দেখছিল। এত ক্রোধ??
এমন তো না বিলুদের টাকার খুব দরকার। মধ্যবিত্ত
ঠিক আছে। তাতে কি?? কটা টাকাই তো।
তবে কি সম্মান? ভারী তো সম্মান। একদিনও
তো বিলুকে স্কুলে নিয়ে যায় নি। ওর কোনো
টিচারই তো ওর বাবা মা কে চিনে না!
তবে কি??
বিলু কখনোই বুঝতে পারেনি। ছোটবেলায় তার
একটা ইচ্ছা ছিল, কখনো কোনো জিনি এলে
সে একটা জিনিস চাবে। বাবার মনের ভেতরে
দেখতে। একটুও মায়া আছে কি বিলুর জন্য??
মাথার বিলুটা সব বোঝে। সেই বয়ান দিয়ে বিলুকে
বুঝিয়েছে, বাবা বিলুকে পছন্দ করে না।
কোনো কারণ ছাড়াই,না।
আচ্ছা মা-টাই বা কেমন?? এই যে সেদিন মার
খেয়ে বিলু বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল মা তো একটুও
কাছে আসল না। কি হত একটু আসলে। মাথায় হাতটা
রেখে যদি বলত, "বিলু মা মন খারাপ করিস না। তোর
বাবার রাগ একটু বেশি। সাধারণ বৃত্তি পেয়েছিস তো
কি হয়েছে??"
খুব কি ক্ষতি হত??
কই আসে নি তো। চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখে
নিজের ঘরে চলে গেছে।
মাথার বিলুই বিলুকে বুঝিয়েছে। কখনো বড়
চাচী। কখনো ছোটকা।
"এসে গেছি তো! নামবি না তুই?"
অন্তি আর তমাল বিলুর বাসার নিচে। বিলু ভাবছে।
ভদ্রতার খাতিরে বলা তো উচিত, উপরে আয়।
কিন্তু বিলুর ইচ্ছা করছে না। বিলু বাসায় কাউকে নেয়
না। মায়ের উপর ঝক্কি যাবে। নাস্তা বানাও হ্যানত্যান।
আর বাবা বাসায় থাকলে তো কথাই নেই।
বিলু ইতস্তত করে বলল, "উপরে আয় না।"
বলেই বুঝল ভুল হয়ে গেছে। অন্তি আর তমাল যা
মিশুক। যেন বিলু বলার জন্যই অপেক্ষা করছিল।
বলামাত্র দেরী। অন্তি দাঁত বত্রিশটা বের করে
রাজি হয়ে গেল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now