বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
অন্তি বাসায় এসেছে। বিলু রুমে বসে আছে।
"কি ব্যাপার?? হঠাৎ জরুরী তলব??"
-" I have seen her. পিতু!"
-"কিহহ??"
-"হ্যা! সত্যি অন্তি! বিশ্বাস কর আমি দেখেছি।
আমি জানি ওটা পিতু!! "
-"Who the hell is পিতু!! কার কথা বলছিস??"
-"পিতু, আমার জমজ বোনটা।"
অন্তি ফিসফিস করে বলল, "তুই ডাক্তারের কাছে
যাবি। এক্ষণ। আমার
সাথে।"
কেন যাব?? আমাকে তোর পাগল মনে হয়??
কেন?? কোন
আক্কেলে?? পিতুকে দেখেছি বলেই তো
বলেছি।
তোর সাথে গপ্পো মেরে আমার লাভ কি??
বিলু ভেবেছিল মাথার বিলু ভেগে গেছে। ধুস।
কিসের কি। পিতু
থাকলে মাথার বিলু থাকে না। পিতু না থাকলে মাথার বিলু
ভড়ভড় শুরু
করে। বিলুর ইচ্ছা করে নিজের সমস্যাটা নিয়ে
ভাবতে। মাথার বিলু
ভাবতে দেয় না।
সমস্যা আবার কি?? ধুস!
বিলুর ঘুম মাথা ধরেছে।
সারা রাত ঘুম হয় নি। অন্তির সাথে গিয়েছিল
সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে।
অন্তি যা বলে করেই ছাড়ে।
সাইকিয়াট্রিস্ট ভদ্রলোকের মাথা জুড়ে বিশাল টাক।
একটা দশাসই গোঁফ আছে। রুমটা খুব সাজানো
গোছানো। একটা ডাক্তারের
চেম্বার এত গোছানো হবে বিলু ভাবে নি। হালকা
আসমানী রঙ
এর দেয়াল। ফুলদানীর ফুলগুলো দেখে ইচ্ছে
হল বিলু দুইটা চুরি করেই নিয়ে যায়।
মাথার বিলুর ধারণা এই ভদ্রলোকের কোনো
কাজকাম নেই। সারাদিন
এই সুন্দর রুমে বসে এসি খায় আর গোঁফে তা
দেয়। এসির হাওয়া ভদ্রলোকের সমস্ত ফুটা দিয়ে
ঢুকে কিন্তু বের হয় না।
সবটা গিয়ে পেটে জমা হচ্ছে।
ভদ্রলোকের বিলুর ব্যাপারে কোন আগ্রহই
নেই। বিলুর
মনে হতে লাগলো, রোগীটা কি বিলু, না
অন্তি??
“কি দেখতে পাও তুমি?? তোমাকে তুমি করেই
বললাম, কিছু
মনে কর না।“
কি?? কি দেখতে পাই মানে?? “কি” মানে কি??
পিতু কি একটা কি??
ডাক্তার হয়েও ভাষার এই ছিড়ি?? সর্বনাম শিখে
আসো নি??
আবার তুমি করে বলা হচ্ছে। মশকরা?? বিলু একটা
সম্মানিত মানুষ না??
মাথার বিলুর ধারণা সে জানে লোকটা কি লিখবে।
স্কিজোফ্রেনিয়া??
লোকটা কি আদৌ শুনেছে বিলু কি কি বলল
এতক্ষণ??
হোঁতকাটা ঘসঘস করে কাগজে লিখছে।
Delusion disorder.
Depression..
Disoriented thoughts
বিলুর হাসি পেল। ডি এর মেলা বসাচ্ছে নাকি ব্যাটা??
ঘুম আসছে না বিলুর। সারারাত অঘুমো, তাও না।
ডাক্তার লোকটা কিসব ওষুধ দিয়েছে যেন।
হলদে বাদামী শিশি, ভেতরে ছোট্ট ছোট্ট
সাদা ট্যাবলেট। বিলু ৩টা শিশিই উপুড় করে ঢেলে
দিল।
কালো টেবিলের উপর সাদা ওষুধগুলোকে
শিউলী ফুল মনে হচ্ছে। শিউলী ফুল বিলু চিনে
না। গন্ধ চেনে।
বিশ্রী একটা গন্ধ। বিলুর মনে হচ্ছে নাকের
কাছে দশ বিশটা শিউলী গাছ ঝুলছে। ফুলগুলো
হঠাৎ তেলাপোকা হয়ে গেল কেন?? সাদা
কালারের বিশ্রী তেলাপোকা। কি যেন একটা
কিউট নাম ছিল আবার।
ইমাগো?? মনে পড়ছে না!
বিলু ডায়েরীটাটা নিয়ে বসলো। পিতুর ডায়েরী।
কিছু প্রশ্নের জবাব দরকার তার। খুব বেশি।
সে কেনো পিতুকে দেখছে??
বিলু যতই চায় স্বাভাবিক মানুষের মত আচরণ করতে,
পারে না কেনো??
মা বাবা এত দূরে কেন তার কাছ থেকে??
মা সেদিন কেনো লাফ দিয়েছিল???
বিলু কি অসুস্থ??
সুস্থ যে না তাতে তো সন্দেহই নেই। কেন
অসুস্থ???
কেন??
বিলুর ভাল্লাগছে না। মাথার বিলু কি যে সব চিৎকার
করছে। বিলু কিছু
শুনতেও পাচ্ছে না। আজব। বিলুর বিছানায় শুয়ে
ঘুমাতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু পারছে না।
তাকাতে ইচ্ছে করছে না পেছনে। তাকালেই
দেখবে পিতু বসে আছে। বিলু জানে।
ঝনঝন করে কি একটা যেন ভাংগার আওয়াজে বিলুর
ঘুম ভাংল। কখন ঘুমিয়েছিল রাতে? মনে পড়ছে না।
আবার কি যেন একটা ভাংল।
কে চিৎকার করছে? বাবা??
আরেকটা কান্না কান্না গলা শোনা যাচ্ছে। মা কি??
বিলু বেরিয়ে আসল ঘর থেকে। কি হচ্ছেটা কি
বাসায়?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now