বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
আজকের ওয়েদারটা অবশ্য ওইদিনের মত অত
সুন্দর না। জায়গাটা বিলু চিনে না। আগে কখনো
আসে নি। সমস্যা হচ্ছে জায়গাটা বেশ নির্জন।
এরকম জায়গায় প্রেমিকের সাথে আসলে মানায়
বেশি। দুজনে বসে সুখ দুঃখের গল্প করবে,
কথার ছলে ছেলেটা মেয়েটার চুল ধরবে,
মেয়েটা ছেলেটার কাঁধে মাথা রেখে বসে
থাকবে। আহা!
বিলুর কখনো প্রেম ভালোবাসা হল না। এমন না বিলু
দেখতে খারাপ। বরং ছোট কপাল, বিষণ্ণ চোখ
আর গজদন্তবের করা মায়াবী হাসিটা ভালো
লেগেছে অনেকেরই। কিন্তু কেন যেন
হয়ে ওঠেনি। বিলুর কি কখনো কাউকে ভালো
লাগে নি? লেগেছে অবশ্যই।
স্কুলের ওই ছেলেটা। লাইব্রেরি তে কলম
কিনতে গিয়েছিল বিলু। যা ভিড়। মোটাসোটা
হোঁতকা একটা ছেলে তার গায়ের উপর উঠেই
যাচ্ছিল প্রায়। পাশে থাকা ওই ছেলেটা বন্ধুকে
ধরে সরালো। একটা থ্যাংক্স তো প্রাপ্য ছিলই।
মাথার বিলুর জ্বালায় কিছুই বলতে পারলো না।
এরপরেও দেখা হয়েছিল অনেক বার।
কোনোবারই কথা হয় নি।
কিংবা, ওই ছেলেটা। স্পাইক করা চুল, চোখে সাদা
ফ্রেমের চশমা। বিলুর এত ভালো লেগেছিল
ছেলেটাকে! রাস্তা পার হওয়ার সময় প্রায়ই দেখা
হত। একদিন হঠাৎ করেই বললো,"হাই!"
মাথার বিলু বখাটে ফালতু ছেলে ভাংভুং কিসব যে বলা
শুরু করল, বিলু কোনদিক খেয়াল না করে হাঁটা শুরু
করল। ওর মনে হচ্ছিল সামনে থাকলে আজকে
বোধহয় মাথার বিলু বেরই হয়ে যাবে।
বিলু আশেপাশে তাকালো। এখনো অন্তি তমাল
কারো দেখাই নেই। কি আশ্চর্য! গাড়ি হাঁকিয়ে
আসবে তাও এত দেরী কেন?? বিলু তো ঠিকই
রিকশায় চলে এল!
জায়গাটা বেশ সুন্দর দেখতে।কাশফুল আছে
অনেকগুলা। আচ্ছা এটা কি শরৎকাল?? কে জানে!!
"আপা রাইসমিলটা কোথায় বলতে পারবেন?"
লোকটার মুখ শুকনা। মনে হয় চাকরি খুঁজতে
এসেছে। চাকরিই তো খুঁজতে আসছ বাবা। বাঘ
তো আর না। ভয়ে মুখ শুকায়ে কাঠ বানানোর কি
আছে??
বিলু আস্তে বলল,"কিসের রাইসমিল?"
লোকটা কিছু না বলে চলে গেল। এত ভাব
দেখানোর কি আছে?! ইশ! না চিনতেই পারি!
বললেই চিনতে হবে? এই জায়গার নাম কি রাইসমিল?
আমি কি রিকশায়ালাকে বলসিলাম ভাই রাইসমিল যাবো
চলেন????
আচ্ছা জায়গাটার নাম যেন কি??
কিছুতেই মনে পড়ছে না। বিলুর গলা শুকিয়ে
আসছে।
আবার কি ওরকম হচ্ছে তার???
"এখনো আসছে না কেন?" বিড়বিড় করল বিলু।
দূরে একটা লম্বা ছায়া দেখা যাচ্ছে। তমাল কি??
বাব্বাহ তমাল তো বেশ লম্বা! তমালের পাশে
দাঁড়িয়ে একটা ছবি তোলার ইচ্ছা আছে বিলুর।
দেখার ইচ্ছা পাশাপাশি দাঁড়ালে কেমন লাগে?
অদ্ভূত ইচ্ছা। বিলুর তো তমালকে পছন্দ না। তাও
কেন এমন ইচ্ছা হবে??? মাথার বিলুটা একটা অদ্ভূত
বটে!
বিলুর মাঝে মাঝে খুব মন খারাপ লাগে। জমজ
বোনটা বেঁচে থাকলে কি মজাই না হত! বাবা মা
একটা কেমন যেন। বোনটার একটা নামও দেয়নি।
নাকি দিয়েছিল? সেটাও বিলুকে জানানো নিষেধ??
আশ্চর্য! না জানাকগে। মাথার বিলু একটা সুন্দর নাম
দিয়েছে। পিতু। ভালো নাম প্রীতি। মিল আছে।
পিতু-বিলু। হাস্যকর একটু।। হিহিহি, সাহস থাকলে মাথার
বিলুকে গিয়ে বলুক না! ছুলে দেবে!
বাবা মা পিতুর নাম বাসায় কখনো নেয় না। as if পিতু
নামে কেউ জন্মই নেয় নি কখনো। এতগুলি
জন্মদিন গেল, বাবা মা পিতুর কথা উচ্চারণইই করতে
চায় না। বিলুর খুব খারাপ লাগে। যখন মায়ের অন্ধকার
দুনিয়ায় অথই পানিতে সে হাবুডুবু খাচ্ছিল, তখন
থেকে সে পিতুর সাথে। এত সহজে কি করে
ভুলে মা??
ভাল্লাগে না বিলুর। কিচ্ছু ভাল্লাগে না।
বিলু জীবনের বেশ ভালো একটা সময় পিতুকে
নিয়ে অবসেসড ছিল। ওর সারাক্ষণ মনে হত পিতু
থাকলে কেমন হত। পিতু এই।পিতু সেই। এখানে
পিতু থাকলে কি বলত। ও বেশি দুষ্ট হত না বিলু??
একটা সময় ব্যাপারটা সয়ে আসল। পিতু লাইফের একটা
অবিচ্ছেদ্য পার্ট হয়ে গেল।
যে জিনিসটা বিলু খেয়াল করেও করেনি, তখন
থেকেই মাথার বিলুর জন্ম।
বিলু এখনো জায়গাটার নাম মনে করতে পারছে না।
ফাঁকা দৃষ্টিতে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। দূরে কতগুলা
চ্যাংড়া পোলাপান দেখা যাচ্ছে। কি বিদঘুটে একটা
গানও গাইছে। বিলুকে লক্ষ্য করেই কি? বিলু দ্রুত
মনোযোগ সরাতে চেষ্টা করল। মাথার বিলু
খুনোখুনি লাগিয়ে দেবে।
এইটা কোথায়? বিলু কিছুতেই মনে করতে পারছে
না। নৌকা থেকে একটা কাপল নামছে। মেয়েটার
জামা এলোমেলো। হায়রে। ঠিকঠাক হয়ে নামতে
পারো না?? দুইনিয়াশুদ্ধ মানুষকে জানানো লাগবে??
বাবা মা জানে বাসায়?? জানলে কেমন হবে?? নৌকার
হাওয়া গিলায়ে দিবে নে ভালো করে!
মাথার বিলুটা কি একটা পাগল?? থামে না ক্যানো!
উফফ! ওদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করবে??
বিলুর হাত ঘামছে। নার্ভাস লাগলে বিলুর এমন হয়।
এত রোদ এল কেমন করে??? মেঘগুলো
হাপিস হল কি করে?? দূর থেকে একটা ডাক শোনা
যাচ্ছে। কি বলছে?? বোঝা যাচ্ছে না।
দূরের লম্বা ছায়াটা এগিয়ে আসছে। কে ওটা?? বিলু
হাত দিয়ে চোখে ছায়া দিয়ে দেখার চেষ্টা
করছে। পারছে না। প্রচণ্ড মাথা ধরেছে। বিলুর
মাইগ্রেইন আছে। সে রোদ সহ্য করতে পারে
না।
মাথাটা এরকম হালকা লাগছে কেন???
"রোল টুয়েন্টি নাইন!!"
তৃতীয় বারের মত ডাকলেন ডা: আরিফ। চোখের
সামনে মেয়েটা বসে আছে। আরিফ স্পষ্ট
দেখতে পাচ্ছেন। চোখ খুলে ঘুমাচ্ছে নাকি??
কি আশ্চর্য! মেয়েটার আশেপাশে কেউ
বসেও নি। অন্য মেয়েরা তো ধাক্কা দিয়ে
ডেকে দিলেও পারে!
এক সীট পাশে বসা মেয়েটা এতক্ষণ মজা
দেখছিল। একে তো বিলি একটা ফ্রীক, এখন
থেকে নতুন আরেকটা নাম পাওয়া গেল! বিলি
বয়রা! চিড়িয়া একটা। হাত দিয়ে ঝাঁকি দিল বিলিকে।
ধ্যাৎ! আর এর ধারে কাছে বসা যাবে না। সবাই
তাকে আবার ফ্রীকটার দোস্তো ভেবে
বসলে সমস্যা।
বিলি কিছুই বুঝতে পারছে না। কি হল মাত্র?!
"রোল টুয়েন্টি নাইন!" আবার ডাকলেন আরিফ।
"ইয়েস স্যার!"
-"তোমার মন কোথায় থাকে?? উড়ে উড়ে
বেড়ায়??"
গ্যালারীতে হাসি ঠাট্টার রোল পড়ে গেল। লাল
দুপাট্টা উড় গায়ির সাথে নতুন গান পাওয়া গেছে!
ইয়ো পপস!
বিলু মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
"বসো! আর যেন এরকম না হয়। আর ক্লাস
শেষে আমার সাথে দেখা করবে।"
বিলি বসে পড়ল। হাতের চেটো দিয়ে কপাল মুছল
সে। এই নিয়ে চতুর্থবার।
আগের তিনবারই বাসায় হয়েছে। বিলু মাথামুণ্ডু কিছুই
বুঝতে পারছে না। এইটা নতুন কি যন্ত্রণা শুরু হল???
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now