বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
চিলটা একটা অদ্ভূত শব্দ করছে।
এটা কি চিলের ডাক নাকি? আদৌ কি চিল?? নো
আইডিয়া। ওয়েদারটা সেই। কিরকম বিষণ্ণ, মেঘে
আকাশ কানাকানা, শুধু বৃষ্টি নামা বাকি। তমাল থাকলে
এতক্ষণে হাউকাউ জুড়ে দিত। পটাপট ৫টা গান আর
১০-১২টা কবিতা ঝেড়ে উদ্ধার করত। ভালোই
হয়েছে নাই। এই ছেলে মুখটা খুলতে জানে
কিন্তু বন্ধ করতে জানে না। সব বড়লোকের
ছেলেপেলেগুলোই এরকম হয় নাকি?! এদের
কাছে বিষণ্ণতা উদাসীনতা এসব বিষয় বিলাসীতা।
বাপের পয়সায় গাড়ি হাঁকাবে, চারবেলা কেএফসি
বিএফসি মারাবে আর হাতিল থেকে সদ্য কেনা
লাখটাকার সোফায় আরাম করে গা এলিয়ে বেনসন
সুইস কিংবা ব্ল্যাক ধরিয়ে হতাশ গলায় বলবে,
- "life sucks man."
- "আমরা কেন বেঁচে আছি বল তো?"
- "আচ্ছা, ফ্রয়েডের জীবন সম্পর্কে ধারণা
আর মার্ক্সের ধারণার মধ্যে কত তফাৎ?!"
বিলুর এসব ভাল্লাগে না। গা চিড়বিড় করে। মনে হয়
কানের নিচে একটা কষে থাবড়া লাগিয়ে বলে,
জীবন মানে থাবড়া খাওয়া। তোদের লাইফে
থাবড়ার খুব অভাব। তাই ত্যাল এত বেশি।
এত রাগ করার অবশ্য কিছুই নেই। তমাল ছেলে
খারাপ না। বরং বলা যায় বেশ ভালো। সহজ সরল।
কারো সাতে পাঁচে নেই। বন্ধুসার্কেলে
বড়লোক গাড়িওয়ালা ছেলে একটা থাকলে যা হয়,
সবাই ভাংগিয়ে খায়। তমালের অবশ্য মাথাব্যাথা নেই।
তার যাবতীয় ধ্যানজ্ঞান উদাসী জীবন দর্শনে
আর সিগারেটের ধোঁয়া উড়ানোতে।
বিলুর সাথে তমালের পরিচয় হওয়ার কোনো কারণ
ছিল না। তমাল প্রাইভেট ভার্সিটির আর বিলু
মেডিকেলের। বিলুর মেডিকেলের একমাত্র
সখী অন্তির সূত্রে তাদের পরিচয়। কথা নেই
বার্তা নেই অন্তি এসে একদিন বললো, বিলা চল
ঘুরতে যাই।
বিলুর মাথায় টং করে লাগলো। বলতে ইচ্ছা করল,
আমার নাম বিলা না। আমি বিলি। নামটা খুবই ছোটো।
তাও সেটা ডাকতে এত কষ্ট লাগলে বিলু ডাকতে
পারো। আমার নামটা তোমার বাপের সম্পত্তি না যে
যা খুশি বানিয়ে ফেলবা। আমার নামটা.......
অন্তির কথায় মাথার কথাগুলির জাল ছিঁড়ে গেল।
"কি ব্যাপার রোবটের মত তাকায়ে আছিস ক্যান?"
বিলু আস্তে করে একটা নিঃশ্বাস ফেললো। এটা
তার একটা অভ্যাস। কোনো একটা ব্যাপার নিয়ে তার
মাথার মধ্যে ভড়ভড় করে কে যেন কথা বলে।
বিলু তখন হা করে সামনে তাকিয়ে থাকে। মাথার
ভেতরের বিলুটা দশ পাঁচটা উচিত কথা বলেই
থেমে থাকে না। এরপর অন্তিকে কষে একটা
চড়ও মারা হয়। পুরো ব্যাপারটাই অবশ্য মাথার
ভেতরে চলে। কখনো মুখ ফুটে বলা হয় না।
কারণ বিলু জানে বলে লাভ নেই। বিলা ডাক পছন্দ না
বললে অন্তি তাকে বিলাই বলে ডাকা শুরু করবে।
মাথার মত করে শক্ত করে ঝাড়লে বোধ হয়
আর করত না। কিন্তু বিলু কেন যেন পারে না।
"চল যাই। আমার সমস্যা নাই।"
অন্তির ব্যাপারে ভালো একটা দিক হলো ওর
মধ্যে শিশুসুলভ ছটফটে একটা ভাব আছে। আ র
দশটা টিপিক্যাল মেয়ের মত না। বেছে বেছে
ক্লাসের সবকয়টা প্রতিষ্ঠিত ফ্রীকের সাথে তার
খাতির। একমাত্র এই একটা মেয়ের সাথেই খাতির
হওয়ার কারণ, বিলুকে আর কেউ পাত্তা দেয় না।
পছন্দও করে না। ক্লাসে বিলুর একটা ডাকনাম
আছে। জোম্বি। কথিত আছে, কেউ বিলুর সাথে
কোনো ছেলে কথা বলতে আসলেই বিলু নাকি
তার প্রেমে পড়ে যায়। সে নাকি গদগদ হয়ে
কল্পনায় "লাল দুপাট্টা উড় গায়ি" গানে ওই ছেলের
সাথে নাচানাচি শুরু করে। মেয়েরা কথা বলতে
আসলেও যে বিলু চুপ করেই থাকে সে
ক্ষেত্রে কি এক্সপ্লেনেশন তারা দেয় কে
জানে। হয়তো আরো ন্যাস্টি কিছু! কে জানে!
বিলুর জানতে ইচ্ছা করে না। এই সমস্যা তার আজ
কালকের না। অনেকদিনের। বাইরের বিলু যতটাই
শান্ত শিষ্ট বাধ্য, মাথার বিলুটা ততটাই অবাধ্য।
কোনো ভালো কথারও ত্যাড়া একটা জবাব রেডি
থাকবেই।
মা হয়তো ডেকেছেন, "বিলু মামণি খাবার দিয়েছি
খেতে এসো।"
বিলু আসবে, লক্ষী মেয়ের মত খেতে
বসবে, আর মনে মনে বলবে, "কেনো
আসব? তুমি বললেই খেতে বসতে হবে? বাসার
সবকিছু তোমার কথামত হবে নাকি? আশ্চর্য! আমি
যখন বলব তখন খাবার দিবে। যতসব!"
এই পর্যায়ে বিলু টেবিল থেকে প্লেট ছুড়ে
মারবে। আরো কিছু ভাংচুর করা যেতে পারে। বড়
চাচা যে সস্তা মগটা গিফট করেছিল সেটা ভাংগা
যেতে পারে। বিশ্রী একটা রং, দেখলেই বিলুর
মাথা ধরে যায়।
কিংবা, হয়তো পাশের বাসার খালাম্মা গালে হাত দিয়ে
বলল, "বাহ কি লক্ষী মেয়েটা!"
বিলুর মাথায় কথার তুফান ছুটবে, "লক্ষী বলতে
আপনি কি বোঝেন? চুপচাপ সবার কথা মেনে
নিলেই লক্ষী?? আর কথা বললেই অলক্ষী??"
এরপর বুড়িকে একটা ল্যাং মারা যেতে পারে। বুড়ির
উপরের মাড়িতে দুইটা গেজ দাঁত আছে। হাসলে
বেশি সুন্দর লাগে। ওই দাঁত দুইটা ভেংগে গেলে
খারাপ হয় না।
গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকা বিলুর খুব প্রিয়
একটা কাজ। এইসময়ে তার সাথে কেউ কথা বললে
তার ভালো লাগে না। মাথার বিলু তখন বেশি
ক্ষেপে যায়। বিলু তার এই সমস্যাটার নাম দিয়েছে
মাথার বিলু। এইটা তার কাছে কোনো সমস্যা লাগে
না। বরং ভালোই লাগে। বেশ একটা সঙ্গী সঙ্গী
ভাব আছে ব্যাপারটার মধ্যে। বিলুকে সবাই চুপচাপ
বলেই জানে। আসলে ভেতরে ভেতরে সে
যে কত্তগুলি বকবক করে কেউ জানে?!
বিলুর কোনো ভাইবোন নেই। এই নিয়ে বিলুর
মোটামুটি বুঝতে শেখার পর থেকেই দুঃখ।
এরপর, একদিন আকাশ থেকে পড়ার মত একটা ঘটনা
ঘটল। কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হওয়ার মত
ব্যাপার।
বিলুর একটা প্রিয় খেলা ছিল। ওয়াড্রোবের উপরে
ওঠে, ফ্যানের উপর ছেঁড়া কাগজ রাখতে হয়।
তারপর নেমে ফ্যানটা ছেড়ে এক দৌড়ে বিছানায়
গিয়ে বসতে হয়। তারপর নিজেকে বেশ একটা
স্নো হোয়াইট টাইপ মনে হয়। বিলু ডিজনি বইয়ে
পড়েছে, স্নোহোয়াইট তার খুব প্রিয়।
সেদিন কাগজের বদলে তার পাউডার ইউজ করার শখ
জাগলো। মোড়া এনে ওয়াড্রোবের উপর
উঠল। আলমারীর উপর থেকে পাউডারের
বোতলটা নিতেই কোণায় চোখ গেল।
ওইটা কি? আগে তো দেখে নি!
একটা সুন্দর ছোট্ট গোলাপি স্যুটকেস ।
অতদূর হাত যায়ই না। ছোট্ট বিলু অনেক হাঁচড়ে
পাচড়ে নাগাল পেল। যুত করে টান দিতেই পেছন
থেকে মায়ের চিৎকার,"বিলু!!"
ধড়মড়িয়ে চার বছরের শরীরটা নিচে পড়ে
গেল। সাথে স্যুটকেসটাও। বড় চাচুর ভাষ্যমতে,
মাকে নাকি বিয়ের দিনও এত কাঁদতে দেখা যায় নি।
তেমন ব্যাথা তো বিলু পায়নি! মাথার পেছনে একটা
আলু হয়েছিল আর কিছুক্ষণ জ্ঞান ছিল না, আর
কটাদিন জ্বর, ব্যাস এই তো! তাতেই মা কেঁদে
অস্থির। তা ডাক্তারের কাছে নিলেই হত!
ছোটবেলা থেকেই মায়ের কেন যেন খুব
ডাক্তার ভীতি। পারতপক্ষে ডাক্তারের কাছে না
নিয়ে বাঁচে।
পরে অবশ্য বিলু কারণটা বুঝতে পেরেছিল।
সুস্থ হওয়ার পর একদিন বিলু স্যুটকেসটা নিয়ে
খেলতে বসল। খুলে তো তার চোখ
রসগোল্লা! তার পিচ্চিবেলার জামা কাপড় সব রাখা।
মহানন্দে সেগুলো ঘাটাঘাটি করতে বসল। বাপরে
তার পুতুলের জন্য একশোটা জামা পাওয়া গেল
যে! অবাক ব্যাপার, সবচেয়ে ছোট জামা জুতাগুলি
সব দুই সেট করে। মাকে জিজ্ঞেস করার পর মা
কিছুক্ষণ শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন।
-“কি মা? দুইটা ক্যান সব??”
-“তুমি এইটা নিয়ে খেলতে বসছ কেন??”
-“বলো না আম্মু। দুইটা দুইটা কেনো সব??”
মা ইতস্তত করে একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল,
-“আমাকে না বলে এসবে হাত দেওয়া আমার
পছন্দ না বিলি।“
-“আর করবো না।“
বিলু চোখ ফুলিয়ে কাঁদার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
হঠাত করেই মা বলল,
-"তোমার একটা ছোট্ট বোন ছিল মামণি।"
-"বোন ছিল?? সুমন আর প্রমাদের মত??"
-"না মামণি। তোমার একটা আপন বোন ছিল।"
আপন বোন ব্যাপারটা বুঝতে শিশু বিলুর অনেকদিন
লেগেছে। জমজ ব্যাপারটা বুঝতে আরো
অনেকদিন।
২২দিন বয়সে বাচ্চাটা মারা যায়। নিউমোনিয়াতে।
কি আশ্চর্য!! এই তথ্যটা কোনোদিনও বাবা মা
তাকে দেয়নি। বিলু তখনো বুঝত না, কেনো?
এখনো না।
বিলুর মাঝে মাঝে নিজেকে অপরাধী লাগে। মা
বাবা কি বিলুর দিকে বেশি মনোযোগ দিয়ে
ফেলেছিল?? কোনো রাতে কি গায়ে কাঁথাটা
দিয়ে দিতে ভুলে গেছিল?? বেশি কষ্ট হয়েছিল
কি ওর??
কে জানে! যে মানুষটা একটা সময় তার সাথে ছিল,
এই পৃথিবীতে এসেও ছিল, তারপর আবার সে
বোঝার আগে চলেও গিয়েছিল?! ছোট্ট বিলুর
অভিমান হত খুব।
মাথার বিলুটাকে ওর জমজ বোন ধরে নিয়েছে।
বোনটা থাকলে হয়তো এরকমই খুনসুটি লাগতো।
হয়তো... ধুস! এইটা কোনো ঝামেলা নাকি?
উনিশটা বসন্ত এভাবেই তো পার হয়ে গেল। কি
আর এমন হবে?? মাথার বিলু যাই করুক না কেনো,
বাইরের বিলু খুব শক্ত।
মাঝে মাঝে এই সমস্যাটা থাকে না। ওইরকম
কোনো মুহূর্তেই অন্তির সাথে বন্ধুত্ব হয়ে
গেছিল বোধ হয়।
"জামান ভাই, গাড়িটা একটু সাইড করেন।"
অন্তির কথায় ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল বিলু। ভুলেই গেছিল
অন্তিও আছে গাড়িতে। রাস্তার পাশে থামাতে
বললো ক্যান? মজা নাকি? জ্যাম লাগবে না?? কি
আজব। যেখানে সেখানে গাড়ি থামানোর মানে
কি।
মাথার বিলুর ক্যাঁচব্যাচ থামানোর চেষ্টা করতে
করতে আবিষ্কার করল বিলু, গাড়িতে মাত্র ওঠা
ছেলেটা তাকে একটা প্রশ্ন করেছে। এবং,
উত্তরের আশা করছে। এবং, বিলু প্রশ্নটা খেয়াল
করে নি।
চশমার ভেতর দিয়ে কালো চোখ দুইটা ঝিলিক
মারছে। ছেলেটা ভ্রু নাচাল। এখনো বিলুর
উত্তরের অপেক্ষা করছে।
"কি? এহ খুব ভ্রু নাচাও??ভ্রু একারই আছে?? আমার
নাই?? হ্যাঁ?? এহ কি একটা ভাব রে প্রেসিডেন্ট
তুমি? তোমার সব কথার জবাব দেয়া লাগবে??"
মাথার বিলুকে থামানো যাচ্ছে না। বিলু অসহায়
দৃষ্টিতে আশেপাশে তাকালো। অন্তি মেয়েটা
কই গেল?? পুরা ব্যাপারটা কখন ঘটলো? বিলু কি
৩মিনিটের জন্য বিশ্ব ব্রক্ষ্মাণ্ড থেকে উধাও
হয়ে গিয়েছিল নাকি??
অন্তি দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে হাউহাউ করে
পরিচয় করানো শুরু করল "তমাল, এইটা হইল বিলা আর
বিলা এইটা তমাল।"
তমাল বলল, "আমি মাত্রই উনাকে জিজ্ঞেস
করছিলাম। ইনি এত অবাক হয়ে আমার দিকে
তাকিয়েছিলেন As if আমি কোনো আলিয়েন
ঢুকে পড়ছি গাড়িতে।"
মাথার বিলু,"না তুমি তো রূপনগরের রাজপুত্র। তুমি
প্রশ্ন করবা উত্তরে আমি তোমাকে চুমা দিব। আস
আমার রাজপুত্র......"
অনেক কষ্টে বিলু বলল, "আসলে আমি..."
শেষ করার আগেই অন্তি মহাসমারোহে বিলুর
জন্ম জন্মান্তরের জোম্বিগিরির কাহিনী বর্ণণা শুরু
করল। বিলু হাফ ছেড়ে বাঁচল। মাঝে মাঝে এজন্য
অন্তিকে ওর অসম্ভব ভালো লাগে। অন্তি সাথে
থাকলে কারো সাথে মেশাটা সহজ হয়। পুরোটা
ওই সামাল দেয়।
বিলুর মাঝে মাঝে মনে হয় অন্তি এই ব্যাপারটা খুব
উপভোগ করে। এইযে বিলুর ব্ল্যাংক হয়ে যাওয়াটা।
আসলে তো বিলু ব্ল্যাংক হয় না। মাথার ভেতর
সম্পূর্ণ অযৌক্তিক অসংলগ্ন কথা আর সামনে দাঁড়ানো
মানুষটার উত্তরের জন্য অপেক্ষা করা মুখ- বিলু তাল
পায় না।
বিলু মাঝে মাঝে ভাবে এই কথাগুলি কারো সাথে
শেয়ার করা দরকার। কিন্তু কাকে বলবে? কি
বলবে? "হাই, আই এম নট জোম্বি। আমার মাথার
ভেতরে একটা বিশ্রী টেপ রেকর্ডার বাজে।
আমি ওইটা থামাতে থামাতে আপনাদের কারো ধৈর্য
থাকে না, আপনারা সিদ্ধান্তে উপনীত হন, আমি
জোম্বি।"
সেইদিন থেকে তমাল ছেলেটার সাথে পরিচয়।
মিরপুর বেড়িবাঁধে গিয়েছিল ওরা। অস্বাভাবিক সুন্দর
একটা জায়গা। ওখানে একটা ঢালু জায়গার কাছে গাড়ি
সাইড করালো অন্তি। পাশে একটা খুপড়ি চায়ের
দোকান। চা খেতে খেতে বিলু আবিষ্কার করল,
তমাল ছেলেটা বেশি কথা বলে। এর আশেপাশে
থাকলে মাথার বিলুর মেজাজ তাড়াতাড়ি গরম হয়।
অন্তি আর তমালই বেশি বকবক করছিল। বিলুর খুব
ইচ্ছা হচ্ছিল তমালকে বলে, প্লিজ পাঁচটা মিনিট
তোমার জ্ঞান ঝাড়া বন্ধ করবে?? তোমার
কারণে প্রকৃতি দেখতে পারছি না। কানের কাছে
দাদ খুজলীর মলম বিক্রেতা নিয়ে মৌসুমী
ভৌমিকের গান এঞ্জয় করা যায় বলো???
মুখে কিছু বলা গেল না। অন্তির মনোযোগ
বিস্ময়কর লেভেলে চলে গেছে। চত্বরে
যেদিন দুইটা ছেলের মধ্যে মারামারি লাগল, সেদিন
ছাড়া আর কখনো অন্তিকে কোনো বিষয়ে এত
মনোযোগী দেখেনি বিলু।
ছোট করে একটা নিঃশ্বাস ফেলে পাশে তাকাল
বিলু। কি সুন্দর একটা জায়গা। দুইপাশে পানি। আকাশ
ভর্তি মেঘ। ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়ছে। তার একটা
গাড়ি থাকলে প্রতিদিন বিকেলে নিয়ম করে সে
ঘুরতে আসত।
গাড়ি করে ফেরার পথে সেদিন কি বাতাস!! ফুল
ভলিউমে গান ছেড়ে অন্তি আর তমালের সে কি
আনন্দ! সেদিন সামনের সীট থেকে বারবার
ঘুরে চোরা চোখে তমাল বিলুর দিকে তাকাচ্ছিল।
কেমন জানি অস্বস্তি লাগছিল বিলুর। মাথার বিলুর
চিল্লাপাল্লা শুনতে শুনতে জানালার বাইরে তাকিয়ে
বিলুর মনে হল, রাস্তাটুকু শেষ না হলে বেশ হত
না??
(পরের পর্ব আসছে...)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now