বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দুপুর বেলা।
গেদুকে নিয়ে সেনদের আম বাগানের পাশে বসে আছি। এই কয়েকদিন যা গরম পড়েছে তাতে এমন খোলা জায়গায় দুপুরের দিকে বসে থাকলে বেশ ভালো লাগে। ঠাণ্ডা বাতাস, আহ্ শরীরটা জুড়িয়ে যায়। কিন্তু গেদুর সেদিকে যেন খেয়ালই নেই। কিছুক্ষণ ধরেই লক্ষ্য করছি যে ও সেনদের বাগানের দিকে এক দৃষ্টিতে কী যেন দেখছে। বিষয়টা বোঝার জন্য আমিও সেইদিকে তাকালাম। দেখলাম দুইজন পাহারাদার হাতে ইহা বড় বড় লাঠি নিয়ে পায়চারী করছে। বুঝলাম গেদু ওদের দিকেই কটমট করে তাকিয়ে আছে। বাগানে এবার আমের বেশ ভালো ফলন হয়েছে। আর আমগুলোও এখন বেশ বড় বড়। কেউ যাতে চুরি করতে না পারে তাই এই ব্যবস্তা।
.
- মামা, আমরা ভুত হলে খুব ভালো হতো তাই না?
.
কথাটা শুনে চুমকে উঠলাম। ভুত! কেন এই তো মানুষ হয়েই দিব্যি ভালো আছি । তাহলে হঠাৎ গেদুর ভুত হতে ইচ্ছে জাগলো কেন? গেদুর ভুতের প্রতি একটা মহব্বত বা আর যাই বলি না কেন সেটা আছে বৈকি। কিন্তু তাই বলে সরাসরি ভুত হয়ে যাওয়ার বাসনা জাগবে! কেন বাপু, কত কিছুই তো হওয়ার আছে। ডাক্তার হোক, দেশের দশের উপকার হবে। মাষ্টার হোক, তাতেও দেশের কিংবা দশের উপকার হবে। উকিল হতেও তো পারে, তা নয় একেকারে ভুত!
.
- কেন? ভুত কেন?
.
- আরে দেখছো না, বাগানে কত আম অথচ একটাও খেতে পারছি না।
.
- কেন?
.
- তুমি কানা নাকি? দেখছো না দুইটা লোক পাহারা দিচ্ছে।
.
- হ্যাঁ তো? তাতেই তো সুবিধে বেশি।
.
- কেমন?
.
- ওদের বলে দুইটা আম নিয়ে আসি, তুই বস এখানে।
.
কথাটা বলেই বসা থেকে উঠে দাড়িয়েছি তখনই গেদু বললো,
.
- শুনলাম হাবুল নাকি গেছিলো আম চাইতে লোক দুটো ওকে সারাদিন গাছের সাথে বেঁধে রেখেছিলো।
.
গেদুর এই কথাটা শুনে আর উঠতে সাহস হলো না। আবার বসে পড়লাম। নাহ্ গিয়ে আর কাজ নেই। পরে হাবুলের মত আমাকেও বেঁধে রাখলে একটা কেলেঙ্কারি কাণ্ড হয়ে যাবে। তার চেয়ে বরং না যাওয়ায় ভালো। আমি বসে পড়তেই গেদু আবার বললো,
.
- এই জন্যই তো বলছি, আমরা যদি ভুত হতাম তাহলে যত খুশি আম খেতে পারতাম। ওরা দেখতেও পেত না।
.
ভুত কী আসলেই আছে? আর থাকলেও তারা কী আম খায়? কী জানি বাপু কখনো শুনিনি তো। প্রশ্নটা গেদুকে করতেই সে বললো,
.
- ভুতেরাও আম খায়, তুমি জানো না তাই।
.
- খায়! কিন্তু তুই জানলি কীভাবে?
.
- খায় তো, আমি শুনেছি।
.
- কে বলেছে তোকে?
.
- কেন দাদিই তো বলে।
.
- কী বলে বল তো।
.
- একটা গ্রামের আম বাগানে নাকি ভুত থাকতো। আর সেই ভুত আম খেয়ে খেয়ে আঁটি ফেলতো নিচে। আর সেই আঁটি....
.
বুঝলাম ওর দাদি ওর মাথায় ভুতের ভুত ঢুকিয়ে দিয়েছে। আর গেদু একবার গল্প বলা শুরু করলে ওকে আর থামানো বেশ মুশকিল হবে। তাই আটকে দিয়ে বললাম,
.
- চুপ, একদম চুপ। এমন দুপুর বেলা ভুতের কথা বলতে নেই। তাহলে কিন্তু সত্যি সত্যি ভুত আসবে।
.
কথাটা বলা যে কত বড় বোকামি হইছে সেটা বলার পরই বুঝলাম। গেদু আমাকে ভেংচি করে বললো,
.
- হইছে, খুব জানো তুমি। তোমাকে সেইদিন বললাম ভুত দেখবো। দেখালে না দেখালে তাই বলে একটা ভীতু ভুত? আর একটু হলে আমি ভুতটাকে মেরেই ফেলতাম।
.
কথাটা শুনেই পল্টুর সেই করুণ মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠলো। বেচারা আমার আর গেদুর পাল্লায় পড়ে সত্যি সত্যিই ভুত হওয়া যোগাড় হইছিলো।
.
- খুব হয়েছে সাহস দেখানো। এবার চল তো বাড়ি যাবো।
.
- না যাবো না। এখানে বসে বসে ভুতের কথা ভাববো, যদি ভুত আসে তাহলে তাকে দিয়ে আম পাড়িয়ে এনে দুইজন একসাথে বসে খাবো। তবে তুমি ভয় পেলে চলে যাও।
.
এত বড় কথা? বলে না বলে একেবারে আমার সাহসিকতা নিয়ে টিটকেরি? নাহ্ এটা কোনো মতেই সহ্য করা যায় না। বসেই থাকলাম গেদুর পাশে। আর গেদু ভুতের গল্প বলা শুরু করলো। এতদিনে এর ওর মুখে যত গল্প শুনেছে আজ যেন তার সবই যেন বলা চাই। গেদু একের পর এক গল্প বলেই চলছে। থামার কোনো লক্ষণই নেই। কিন্তু তাতেও যখন ভুত এলো না, তখন একটু রাগ করেই উঠে দাড়ালো। তারপর বললো,
.
- তোমার মত ভীতু মানুষ পাশে থাকলে কী ভুত আসবে? ধুর, আমি একা থাকলে ঠিক একটা না একটা ভুত আসতোও। আর এলে তাকে দিয়ে আম পাড়িয়ে এনে খেতাম মজা করে।
.
কথাটা বলেই গেদু ছোট ছোট ধাপে হণ হণ করে বাড়ির দিকে হাটা দিলো? আমি অবাক হয়ে থাকিয়ে থাকলাম সে দিকে। এই ছেলে বলে কী! আমি নাকি ভীতু, আর তাই কোনো ভুত আসলো না। এ অপমান কী সহ্য করার মত? আমিও আর বেশিক্ষণ বসে থাকলাম না। ভুতকে আমি ভয় পাই না, কিন্তু তবুও সত্যি সত্যি হুট করেই একটা ভুত এসে যদি সামনে দাড়ায় তখন? না এখানে একা থাকা ঠিক হবে না।
.
তারপর আর গেদুর সাথে দেখা হলো না। আমার বোনকে প্রশ্ন করতেই বললো,
.
- দেখ কোথাও খেলতে গেছে। সে তো আর বাড়িতে থাকার ছেলে নয়।
.
সে যেখানে যায় যাক গে, ওর কাছ থেকে যত দূরে থাকা যায় ততই ভালো। বিকাল বেলা একবার দেখতে পেলাম। কিন্তু আমাকে দেখেও যেন দেখলো না। যাক বাবা তাহলে এবার মনে হয় বাঁচলাম। সত্যি বলতে কী এই কয়দিনে বেশ অস্থির করে তুলেছিলো। কিন্তু না তা আর হলো না। রাতের বেলা খেয়ে দেয়ে সবে শুতে গেছি দেখি পিছনে দাড়িয়ে আছে গেদুরাম।
.
- কী রে, ঘুমাসনি? আর দুপুরের পর তোকে দেখলাম না যে, কোথায় গিয়েছিলি?
.
গেদু কিন্তু আমার একটি প্রশ্নেরও উত্তর দিলো না। চুপচাপ আমার পাশে এসে বসলো। কিন্তু কোনো কথা বললো না। ওকে দেখে মনে হচ্ছে যে কিছু একটা বলতে চাচ্ছে কিন্তু বলতে সাহস পাচ্ছে না। সাহস পাচ্ছে না!! নাকি মনে মনে কোনো মতলব আটকে সেটাই বুঝতে পারলাম না।
.
- কি রে, বলবি কিছু?
.
এবার অবশেষে শ্রদ্ধেয় গেদুরাম মুখ খুললো। আর যে কথাটা বললো তাতে আমার চমকে উঠার মত অবস্থা। বললো,
.
- মামা, তোমাকে ভুত বানাবো।
.
- এ্যাহ্!! আমাকে ভুত বানাবি?
.
- হ্যাঁ, আমি জানি মানুষ কীভাবে ভুত হয়।
.
- কিভাবে আবার মারা গেলে, তেমনটাই তো শুনেছি।
.
- ধুর তাহলে তুমি কিছুই জানো না। না মরেও ভুত হওয়া যায় তো।
.
- যায়! সে কীভাবে? আর যেভাবেই হোক, আমি বাপু ভুত টুত হতে পারবো না। তুই অন্য কাউকে ভুত বানা যা তো।
.
- পল্টু মামাকে বললাম, সে রাজি তো হলোই না, বরং দৌড় দিলো। হাবুলকেও বললাম সেও রাজি হলো না। হাবুলকে কত বুঝলাম যে তুই ভুত হলে সারাদিন আম খাবো আর তোকে কেউ বেঁধেও রাখতে পারবে না। তবুও রাজি হলো না।
.
পল্টু কী আর এমনি এমনি দৌড় দিয়েছে রে গেদু? আগের বার তো অল্পের জন্য ভুত হওয়া থেকে বেঁচে ফিরেছে। ল্যাড়া কী দুইবার বেল তলায় যায়? মনের কথা মনেই চেপে রেখে মুখে বললাম,
.
- তো তুই ভুত হয়ে যা, তাহলেই তো হয়।
.
- না আমার ভুত হয়ে ইচ্ছে করছে না।
.
- তাহলে কী হতে ইচ্ছে করছে শুনি?
.
- তোমাকে ভুত বানাতে। আর যদি তুমি রাজি না হও তাহলে সবাইকে বলে দিবো তুমি পুকুর পাড়ে বসে বিড়ি ফুঁকছিলে।
.
কথাটা শুনেই চমকে উঠলাম। এটা সত্যি যে লুকিয়ে একটু আধটু বিড়ি ফুঁকি। কিন্তু সেটা তো গেদুর জানার কথা নয়। জানলো কীভাবে? তবে কী গেদু দুপুরের পর থেকে আমার উপরই নজর রেখেছিলো? গোয়েন্দার মত! হতেও পারে, গেদুকে কোনো মতেই ভরসা করা যায় না। একটু শুকনো কাঁশি দিয়ে বললাম,
.
- তো আমাকে কী কী করছে হবে?
.
- কী কী না, বলো কী করতে হবে। কারণ কাজ তো কেবল একটাই বেশি না।
.
- তো কী সেই কাজ?
.
- তোমাকে ভুত হতে হবে।
.
- কিন্তু কীভাবে?
.
- বলছি তার আগে ছাদে চলো তো।
.
- কেন কেন? ছাদে কেন?
.
- সেখানেই বলবো।
.
এই বাড়িটা তিন তলা। কি আর করার সিড়ি মাড়িয়ে এই রাতের বেলা গেদুর সাথে ছাদে আসলাম। পেট পুরে খাওয়ার পর কী এত গুলো সিড়ি মাড়ানো চাট্টিখানি কাজ? তার উপর আজকে বেগুন ভাজি আর ডাল রান্না হয়েছে। একটু বেশিই খেয়ে নিয়েছিলাম। হাপাতে হাপাতে বললাম,
.
- বল এবার।
.
- উহু এখানে না। ঐ কোণায় আমি ভুত হওয়ার ঔষুধ এনে রেখেছি। চলো।
.
ভুত হওয়ার ঔষুধও আজকাল পাওয়া যাচ্ছে নাকি? দুনিয়া এত এগিয়ে গেছে? কই জানতাম না তো। কি আর করার, গেদুর হাত ধরে ছাদের কোণায় এসে দাড়ালাম।
.
- ঐ যে গাছটা দেখছো না?
.
গেদুর ইশারা করা গাছটার দিকে ঝুকে তাকাতেই.........
আর কিছু মনে নেই।
.
জ্ঞান ফিরলো হাসপাতালের বেডে। একটা পা ভেঙেছে। ভাগ্য ভালো নিচে বালি ছিলো তাই প্রানে বেঁচে গেছি। সবাই তো কান্না কাটিতে ব্যস্ত কেবল গেদুকে দেখলাম বেশ বিরক্তিকর চেহারা করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। হবে না আবার? তার তো আমাকে ভুত বানানোর ইচ্ছেটা পূরণ হয়নি। তার বদলে কেবল ভেঙেছে একটি পা।
.
আচ্ছা যদি ভুতই হতাম তাহলে প্রথম কাজটা কী হতো? বেশ কিছুক্ষণ ভেবে তা ঠিক করলাম। প্রথম কাজই হলো গেদুর ঘাড় মটকানো। কিন্তু পরোক্ষণেই ভাবলাম, দরকার নেই বাপু। মানুষ আছি এতেই ভালো আছি। দিব্যি হেটে চলে বেড়াচ্ছি, খাচ্ছি-দাচ্ছি, ঘুমাচ্ছি ভুত হয়ে আর কাজ নেই। প্রানে বাঁচা বেঁচে গেছি এটাই ঢের ভালো।
.
__________ সমাপ্ত
.
গল্পের নামঃ গেদুর ইচ্ছে.....।
.
লেখাঃ Sajib Mahmud Neel
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now