বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গেদি আপার বিয়ে

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X একদিন বিকেল বেলায় খেলার সময় গেদিকে পাচ্ছে না; কারণ কী গেদিকে গতকাল ছেলের বাবা মা দেখতে এসেছিল এবং বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। বিয়ে কি তা না জানলেও শুভ বুঝতে পেরেছে তারা গেদিকে হারিয়েছে। শামীম জানাল এটাকে বাল্য বিবাহ বলে। জানুর কোঠর প্রশ্ন, বাল্য বিবাহ মানে কী? হালিম জানাল, আরে এটা জানস না? বাল্য বিবাহ হলো প্রাইমারি পাস না করে বিয়ে হওয়া। আর বিয়ে হয়ে গেলে সে এই গ্রামে থাকবে না, স্বামীর সাথে চলে যাবে স্বামীর গ্রামে। আমাদের সাথেও খেলতেও পারবে না। আনু জানাল গেদির বিয়ে আগামীকাল তাই রাতে গরু জবাই করবে। আজই বড় বড় কলা গাছ কেটে গেইট বানাতে হবে; নিশান বানাতে হবে। আনুর কথা মত সবাই গেদির বাড়িতে গেল। গেদি চুপচাপ বসে আছে মুড়ায়। বাড়ির অন্যরা খুবই কাজে বেস্ত। মুরুব্বীরা যে যার যার কাজ নিয়ে ব্যস্ত আর মহিলার মহিলাদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। কেউ ফুসরত নেই। শুভ, আনু, জানু, শামীম, আলম,মনির,জাকির প্রভৃতি এখন বেস্ত হয়ে পড়েছে গেইট বানানোর কাজে। কলাগাছ আর নিশান নিয়ে সুন্দর গেইট বানাবে তারা। বিয়ের গেইটে হয় বিয়ের প্রথম ধাম। এখানে ছোটদের কাজ। বড়রা এখানে পরামর্শ দিতে পারে কিন্তু সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। এখানে মিষ্ট খাওয়ানো হয়। অনেকসময় শরবতের পরিবর্তে চুনের পানিও দেওয়া হয়। মিষ্টির ভিতরে মরিচের গুড়া বা কাটা দেয়া হয়। এখানে মুরুব্বীদের ভুমিকা না থাকলেও অনেক কাল্পনিক ঝগড়া হয়। অনেক সময় পাল্টা-পাল্টি শ্লোক বা গান গাওয়া হয়। কনে এখানে উপস্থিত না থাকলেও কনের পক্ষের বিশেষ লোক থাকে;থাকে কনের বান্ধবী। বরের বন্ধু-বান্ধব এখানে বিশেষ পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়। শুভ ও শুভর বন্ধুরা মিলে কলাগাছ এবং নিশান দিয়ে সুন্দর একটা গেইট বানালো। রাত ১২টার দিকে গরু জবাই করা হলো। বিরাট বিরাট কাশের পাতিলে রান্না হলো গরুর মাংস। রান্না হলো মুগ ডাল। দই মুড়ির ব্যবস্থা আগেই করেছে বাড়ির মহিলাগণ। সকালের দিকে একটু ঘুমিয়ে শুরু হলো কাজ। গ্রামের দাওয়াতি লোকজন আসতে শুরু করল। উঠানে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হলো। বরপক্ষের জন্য খাবার রেখে শুরু হলো কনের পক্ষের খানা। খানার সময় একটু পর পর রাস্তার দিকে লক্ষ্য রাখা হয় কখন বর আসবে। দুপুরের দিকে খবর আসলো বরপক্ষ আসতেছে। দৌড়ে গিয়ে গেইট দখল করল ছেলেমেয়েরা। গেইটা একটি চেয়ার এবং একটি টেবিল দিয়ে আটকানো হলো। টেবিলে রাখা হলো মিষ্টি এবং শরবত। এই শরবত মিষ্টি খেয়ে টাকা পরিশোধ করে গেইট পার করতে হবে বরকে। যথারীতি বরকে গেইটে আটকালো শুভ ও তাঁর দল। বরপক্ষ টেবিলের কোন খাবার খাবে না। খাবার কেন খাবে না তা নিয়ে চলল আধাঘন্টা কথা কাটা-কাটি বরপক্ষের অভিযোগ এইগুলো খাবার অযোগ্য। কনের পক্ষের ১০০% নিশ্চয়তা এই খাবারে বেজাল নাই কিন্তু কে কার শুনে। বরপক্ষ ১০০টাকা দিবে গেইট খরচ বাবদ। গেইট খরচ নিয়ে আবার হট্টগোল। তারপরে কিছু মুরুব্বী এসে এখানে সামিল হলো। বর ও কনের পক্ষের মুরুব্বীদের কথা হলো এদেরকে ছেড়ে দাও। কিন্তু ছেলে মেয়েদের কথা হলো টেবিলের খাবার খেতে হবে। একপর্যায়ে কনে পক্ষের একদাদা এসে ছেলে-মেয়েদেরকে অনুরোধ করলো গেইটে বরকে ছেড়ে দিতে। শুভ ও তাঁর দল ১৫০টাকা পেলো এবং গেইট ছেড়ে দিল। বর ও তাঁর বন্ধুদেরকে একটি চৌকিতে বসতে দেয়া হলো। সবাই যখন খানায় মনোনিবেশ করল, ঠিক ঐ মুহুর্তে হালিম বরের জুতা নির্দিষ্ট স্থান থেকে সরিয়ে ফেলল। বরের জুতা হারানোর কোন প্রভাব পড়েনি কিন্তু খাবারের পর জুতা হারানো নিয়ে তুল-কালাম কান্ড। বরের দুলাভাই কনের বাড়ির লোকজনকে কিছু মন্ধ বাক্য বলেছে। খাবারের মাঝখানে জলিল চাচা ছেলে পক্ষের খালুর সাথে কথা কাটি করে গরুর মাংসের ছড়াছড়ি করেছে। লোকজনের হট্রগোল লেগেছে। খাবার প্লেট ছুড়া-ছুড়ি করতে শুরু করছে। এমন সময় গেদির বাবা সবার উদ্দেশ্যে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইলো তারপর হট্রগোল শান্ত হল। খানার শায়ীদারী পরিবর্তন করা হলো। এবার শায়ীদারীর দায়িত্ব পেল বরপক্ষের চাচা এবং চাচাকে সাহায্য করবে শুভ ও তাঁর দল। পরিবেশ শান্ত হলো। বরের জুতা পাওয়া গেল বরপক্ষের লোকদের মোড়ার নিচে কাজেই কনে পক্ষে কিছু মন্দ বাক্য ছুড়া-ছুড়ি করছিল কিন্তু দাদা এসে সব শান্ত করে দিল। দাদার কথায় সবায় শান্ত হলো। বিয়ে পড়ানো হল। এবার বরপক্ষ চলে যাবে কনে নিয়ে। গেদিকে লাল শাড়িতে সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছে শুর বড় বোন কমলা। গেদিদের উঠানে সাজানো পরিবারের অনেক জিনিসপত্র। এই জিনিসপত্রের একটি তালিকা তৈরি করল শুভ। তালিকায় আছে- মোড়া, পিড়ি, লেপ-তোষক, হাড়ি পাতিল, তামা-পিতলের হাড়িপাতিলও আছে। হুক্কা, বদনী, কলসী, কলশি, থালা-বাসন ইত্যাদি। গেদি যাবার সময় খুবই কান্না-কাটি করেছে। শুভ মায়াবী চোখে গেদির কান্না লক্ষ্য করছে। গেদির সাথে গেদির দাদীও আছে। দাদী গেদির সাথে বরের বাড়িতে যাবে। শুভ ভাবছে তাঁর পুতুল খেলার একনিষ্ঠ একজন চিরদিনের জন্য চলে যাচ্ছে। গেদির সাথে আর পুতুল খেলা, বউছি খেলা হবে না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গেদি আপার বিয়ে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now