বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গাব্বু (৬)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (০ পয়েন্ট)

X স্কুল থেকে এসে তিন ভাইবোন হাত-মুখ ধুয়ে ডাইনিং টেবিলে বসে খাচ্ছে। প্রত্যেকদিনই আম্মু এই সময়টাতে তাদের সাথে স্কুল নিয়ে কথা বলেন। আজকেও শুরু করলেন, “আজকে তোদের স্কুল কেমন হল?” মিঠু বলল, “খুবই মজার আম্মু, খুবই মজার।” আম্মু জানতে চাইলেন, “কেন কী হয়েছে?” মিঠু এক চুমুক দুধ খেয়ে বলল, “আমাদের ক্লাসে একটা নতুন ছেলে ভর্তি হয়েছে। এই মোটা। সে প্রিন্সিপাল স্যারকে ভেবেছে দপ্তরি–” মিঠু কথা শেষ না করে হি হি করে হাসতে থাকে এবং বিষম খেয়ে নাক দিয়ে কয়েক ফোঁটা দুধ বের হয়ে আসে। গাব্বু গভীর মনোযোগ দিয়ে মিঠুর দিকে তাকিয়ে থাকে। নাকের সাথে গলার যোগাযোগ আছে, আর গলা দিয়ে যাওয়া জিনিস নাক দিয়ে বের হতে পারে–এরকম একটা সম্ভাবনা আছে সে জানত। চোখের সামনে এত বড় একটা বৈজ্ঞানিক ঘটনা দেখেও সে চুপ করে রইল, বিষয়টা অন্যদের ব্যাখ্যা করে বোঝানোর চেষ্টা করল না, তার মনটা খারাপ তাই কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। আম্মু বললেন, “প্রিন্সিপাল স্যারকে দপ্তরি ভেবেছে?” “হ্যাঁ। ভর্তির কাগজ নিয়ে প্রিন্সিপাল স্যারের অফিসে গিয়েছে, প্রিন্সিপাল স্যার টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে কী একটা কাজ করছিলেন, মোটা ছেলেটা বলল, এই যে দপ্তরি ভাই, প্রিন্সিপাল স্যার কই?” মিঠু কথা শেষ না করে আবার হি হি করে হাসতে থাকে। আম্মু বললেন, “অনেক হয়েছে। এখন হাসি বন্ধ করে খা।” তারপর টুনির দিকে তাকিয়ে বললেন, “তোর স্কুল কী রকম হয়েছে?” টুনি বলল, “প্রত্যেকদিন যে রকম হয় সে রকম।” আম্মু গাব্বুর দিকে তাকালেন, “তোর?” গাব্বু একটা গভীর নিশ্বাস ফেলে বলল, “আমার জন্যে বাসা যে রকম স্কুলও সে রকম।” “তার মানে কী?” “তার মানে হচ্ছে বাসায় তোমরা যে রকম সারাক্ষণ আমাকে জ্বালাও, স্কুলেও সে রকম সবাই আমাকে জ্বালায়।” “আজকে তোকে কে জ্বালিয়েছে?” “সবাই।” আম্মু অবাক হয়ে বললেন, “সবাই?” “হ্যাঁ। লিটন, রত্না, মিলি, রওশন ম্যাডাম, প্রিন্সিপাল স্যার–সবাই।” “এতজন মানুষ তোকে একসাথে কেমন করে জ্বালালো? তুই কী করছিলি?” “আমি কিছু করি নাই।” টুনি বলল, “আম্মু, তুমি গাব্বুর কথা বিশ্বাস কোরো না। নিশ্চয়ই কাউকে দিয়ে সায়েন্স এক্সপেরিমেন্ট করেছে। সেটা করতে গিয়ে কোনো ঝামেলা করেছে।” “করি নাই।” গাব্বু মুখ শক্ত করে বলল, “শুধু–” “শুধু কী?” “শুধু কেমন করে কাতুকুতু দিলেও কাতুকুতু লাগবে না সেইটা দেখতে চাচ্ছিলাম, তখন-তখন-” “তখন কী?” গাব্বু হতাশ হওয়ার মতো করে বলল, “নাহ্, কিছু না।” “শুনি। বল।” “রওশন ম্যাডাম এত ভালো ম্যাডাম–সেই ম্যাডামও আমার কথা বিশ্বাস করতে রাজি হলেন না। উল্টো আমাকে গাব্বু আবার কথা শেষ না করে থেমে গেল। “উল্টো কী?” “নাহ্, কিছু না।” “কিছু না মানে? উল্টো তোকে কী?” “এই উল্টাপাল্টা কথা।” “কী উল্টাপাল্টা কথা?” গাব্বুর সেই কথাগুলো বলতে ইচ্ছে করল না, আবার মনটা খারাপ হয়ে গেল। সে তখন গভীর মনোযোগ দিয়ে একটা কলা খেতে শুরু করল। আম্মু আবার জিজ্ঞেস করলেন, “কী উল্টাপাল্টা কথা?” গাব্বু কলার দিকে তাকিয়ে বলল, “কলার মাঝে পটাশিয়াম থাকে।” আম্মু বললেন, “তার মানে তুই বলবি না?” গাব্বু বলল, “কলাগাছকে মানুষ গাছ বলে। আসলে কলাগাছ কিন্তু গাছ।” আম্মু হাল ছেড়ে দিলেন। গাব্বু খাওয়া শেষ করে উঠে যাওয়ার পর আম্মু টুনিকে জিজ্ঞেস করলেন, “কী হয়েছে স্কুলে? কিছু জানিস?” টুনি বলল, “কী আর হবে? বাসায় যেটা হয় স্কুলেও নিশ্চয়ই সেটাই হয়েছে।” মিঠু বলল, “ভাইয়ার এক্সপেরিমেন্ট। সায়েন্স এক্সপেরিমেন্ট।” আম্মু জানতে চাইলেন, “কী এক্সপেরিমেন্ট?” মিঠু ঠোঁট উল্টে বলল, “জানি না।” ঠিক এরকম সময় পাশের ঘর থেকে ধুপ করে একটা শব্দ হল, মনে হল ভারী কিছু একটা নিচে পড়েছে। আম্মু চমকে উঠে বললেন, “কীসের শব্দ?” টুনি বলল, “কীসের আবার! নিশ্চয়ই তোমার ছেলের কোনো সায়েন্স এক্সপেরিমেন্ট।–” মিঠু বলল, “আমি দেখে আসি।” মিঠুর পিছু পিছু টুনি আর আম্মুও গেলেন, গিয়ে দেখলেন গাৱঁ মেঝেতে কয়েকটা বালিশ রেখেছে, তারপর টেবিলের উপর উঠে সেগুলোর উপর লাফিয়ে পড়ছে। আম্মু চোখ কপালে তুলে বললেন, “কী হচ্ছে, গাব্বু, কী হচ্ছে এখানে?” “কিছু না”-বলে গাব্বু আবার টেবিলের উপর থেকে লাফিয়ে পড়ল। আম্মু বললেন, “কিছু না মানে? দেখতে পাচ্ছি তুই লাফাচ্ছিস আর বলছিস কিছু না।” গাব্বু আবার টেবিলের উপর উঠে লাফ দেওয়ার জন্যে প্রস্তুত হয়ে বলল, “বলছি কিছু না। তার কারণ আমি কী করছি সেটা তোমাদের বলে লাভ নাই। তোমরা বুঝবে না।” টুনি বলল, “বলে দেখ। বুঝতেও তো পারি।” “সময় নষ্ট করে লাভ নাই। তোমরা বুঝবে না।” আম্মু বললেন, “আমার বোঝার দরকার নাই। যদি এভাবে বানরের মতো লাফাবি তা হলে বাসার ভেতরে না–বাইরে। আর শুনে রাখ, লাফ দিয়ে যদি ঠ্যাং ভাঙিস তা হলে কিন্তু আমার কাছে আসবি না।” গাব্বু বলল, “আমার ঠ্যাং পাস্টিকের না যে একটা লাফ দিলেই ভেঙে যাবে।” “খুব ভালো কথা। কিন্তু লাফালাফি ঘরের ভেতরে না–বাইরে।” গা টেবিল থেকে লাফ দিয়ে নিচে নেমে বলল, “ঠিক আছে ঠিক আছে, আমি বাইরে যাচ্ছি। তোমাদের যন্ত্রণায় আমি কিছু করতে পারি না। খালি একবার বড় হয়ে নিই তখন দেখি তোমরা আমাকে কীভাবে যন্ত্রণা দাও। আমার যা ইচ্ছা আমি তখন সেটা করব।” মিঠু জানত চাইল, “বড় হয়ে তুমি কী করবে ভাইয়া? আরও উপর থেকে লাফ দেবে?” গাব্বু বলল, “তুই সেটা বুঝবি না।” তারপর পায়ে জুতো পরে সে গম্ভীর মুখে বের হয়ে এল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গাব্বু (৬)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now