বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নীলিমা আবিরের কথায় কান না দিয়ে আপনমনে ওর জিনিসপত্র গুছাতে ব্যস্ত হয়ে পরে। আবির আবারো বলে- ” Oh, hlw! শুনতে পাচ্ছেন….?” ভ্রু- কুঁচকে ফিরে তাকায় নীলিমা। আবিরের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করে, এভাবে জ্বালাতন করছেন কেন? রেগে যায় আবির, What? কি বলছেন আপনি? আমি আপনাকে জ্বালাচ্ছি??? শান্ত গলায় নীলিমার জবাব, তা নয়তো কি? দেখতেই পারছেন আমি ব্যস্ত আছি। তারপরও ষাড়ের মত চিল্লিয়ে’ই যাচ্ছেন….!!! কি বললেন আপনি? আমি ষাড়? আগের চেয়ে দ্বিগুণ রেগে দাঁতে দাঁত চেপে প্রশ্ন করে আবির। আলমারি’টা বন্ধ করে ফিরে তাকায় নীলিমা। কোমরে হাত রেখে রাগী মুডে জবাব দেয়, নাহ! আপনি ষাড় নন, ষাড়ের মত। উফফ! যা বাচালের পাল্লায় পরলাম না…..!!! কথাটা বলে হাতে ঝাড়ু নিয়ে নীলিমা আবিরের স্টাডি রুমের চলে যাচ্ছিল, পথ আগলে দাঁড়ায় আবির। নীলিমার দিকে রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রশ্ন করে, আমি বাচাল??? উত্তর দেয় নীলিমা- আপনি শুধু বাচাল নয়, আপনি সাংঘাতিক রকমের খাটাশও বটে! নীলিমার ঝাড়ু নাড়িয়ে কথা বলা দেখে সে স্থান ছেড়ে চলে যাচ্ছিল আবির, খাটাশ শব্দটা শুনে আবার ফিরে আসল। ” কি বললেন আমি খাটাশ?” অনেকটা রাগান্বিত ভঙ্গিতে দাঁতে দাঁত চেপে পাল্টা প্রশ্ন করল নীলিমা, ভাই! আপনি আমায় সত্যি করে একটা কথা বলবেন? আপনি কি জন্ম থেকেই এরকম টাইপের? আবিরের রাগটা চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায় এবার। ” আপনার সাহস তো কম নয়, আপনি এখন আমার জন্মের দোষ দিচ্ছেন???” উত্তর দেয় নীলিমা, উল্টাপাল্টা বুঝেন কেন? আমি আপনার জন্মের দোষ দেইনি। আমি জানতে চাচ্ছি আপনি কি জন্মগত ভাবেই এ স্বভাবের অধিকারি নাকি? মানে এই যে মানুষের পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করেন, সেটা আপনার কোন সময়কার অভ্যাস? শৈশবকাল, বাল্যকাল, যৌবনকাল নাকি নাকি এই বয়সের মানে বৃদ্ধকালের….??? ——- আমি বৃদ্ধ???(আবির) —— হ্যা, আপনি বৃদ্ধ? (নীলিমা) —— প্রমাণ…..(আবির) ——- ২বছর আগে দেখেছিলাম চুল পেকে গেছে, আজ দেখলাম বকবক না করলে ভালোই লাগে না আপনার…(নীলিমা) ——- What?(আবির) ——- এত ইংলিশ বলবেন না। কথায় কথায় ইংলিশ বলা মানুষ নীলি পছন্দ করে না। যায় হোক বৃদ্ধ মানুষ যখন, বুঝিয়ে দেয়াটা নীলির কর্তব্য। নীলি শুনেছে বুড়ো হলে মানুষের চুল পেকে যায় এবং সারাদিন শুধু আজাইরা বকবক করে। ঠিক যেমনটা এখন আপনার মধ্যে দেখা যাচ্ছে। সেই হিসেবে আপনার এখন বৃদ্ধ কাল। নীলি আশা করছে, ও আপনাকে বুঝাতে পেরেছে। নীলি চায় ওর কথাগুলো ভুল প্রমাণিত হলেও কোনো কথা বলবেন না আপনি। আর যদি বলেই ফেলেন, তাহলে মনে করবেন আপনি সত্যি সত্যি’ই বৃদ্ধকালে আছেন।(নীলিমা) ——- হে আল্লাহ! আমায় বইসহ উপরে উঠিয়ে নিয়ে যাও…..(আবির) ——- হি, হি, হি, হি…(নীলিমা) Stopped! কানে হাত দিয়ে জোড়ে চেঁচিয়ে উঠে আবির। কেঁপে উঠে নীলিমা, হাসি বন্ধ হয়ে যায়। নীলিমার বা হাতটা মুঠোয় বন্দি করে ফেলে আবির। তারপর চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করে, নীলি এতকিছু জানে তো এটা জানে না কারো বাসায় অনুমতি ব্যতিরেকে প্রবেশ করা, এভাবে চিল্লিয়ে, ভ্রু- নাচিয়ে, দাঁতে দাঁত চেপে কথা বলা একধরনের অভদ্রতা….?!!! আমার প্রশ্ন এখানেই, আত্মসম্মান বলতে যে একটা জিনিস আছে সেটা কি আদৌ নীলির আছে? ——…….. (নীলিমা) আমার তো মনে হয় নাই। থাকলে ভদ্রলোকের বাড়িতে এভাবে অভদ্রের মত আচরণ করত না। ভদ্র মানুষের মত’ই সকালে ঘুম থেকে উঠে চলে যেত। কিন্তু নীলি তা না করে রাতের ভিতর বাসায় খবর দিয়ে জিনিসপত্র নিয়ে আসছে। হা, হা! ওকে দেখে তো আমার ব্যাকরণের একটা প্রবাদ মনে পড়ে গেছে, বসতে দিলেই শুইতে চায়। আসলেই, বাঙ্গালির স্বভাব’ই এরকম। ঠিক যেমনটা এখন নীলি অর্থাৎ আপনার মধ্যে দেখছি। কথাগুলো একনিশ্বাসে বলে আবির থামে। প্রতিউত্তরে কিছুই বলেনি নীলিমা। শুধু আবিরের মুখের দিকে তাকিয়ে ঝাড়ু নিয়ে স্টাডিরুমে চলে গেল। আবির গোসল করে কলেজে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছিল, প্লেটে করে কয়টা পরোটা আর একটু ডাল নিয়ে রুমে প্রবেশ করে নীলিমা। একরাশ বিরক্তির দৃষ্টিতে আবির নীলিমার মুখের দিকে তাকায়। স্বাভাবিক কন্ঠে বলে উঠে নীলিমা, ব্রেকফাস্ট’টা করে যান। খাবারের সাথে রাগ করতে নেই। না খেয়ে চুপচাপ চলে যায় আবির, যাওয়ার আগে শুধু এটুকু বলে যায়- ” বেহায়া মানুষ কোনো কালেই আবিরের পছন্দ ছিল না….” আবির কলেজে চলে যাওয়ার একটু পর নীলিমাও হসপিটালে চলে যায়। যাওয়ার আগে রুমে তালা লাগিয়ে যায়। দিনটি ছিল বুধবার। কলেজের হাফ ডে। বুধবার দিন কলেজ দুপুর ১টা ২০মিনিটে ছুটি হয়ে যায়। অন্যদিন ছুটির পর স্টাফ রুমে বসে আড্ডা দিলেও সেদিন কেন জানি আবিরের আড্ডায় মন বসছিল না। হালকা টিফিন করে সবার থেকে বিদায় নেয় আবির। গেইট খুলে রুমের সামনে এসে থেমে যায়। দরজায় ইয়া বড় তালা ঝুলানো। রাগে, দুঃখে আবির ওর হাতটা দেয়ালে ছুঁড়ে মারে। অতঃপর ছাদে চলে যায়। ছাদ থেকে দেখা যাচ্ছে গেইটের সামনে রিক্সা থেকে কেউ একজন নামছে। এ নীলিমা নয়তো…?!!! দৌঁড়ে নামে আবির ছাদ থেকে। হ্যা, নীলিমায় ছিল। এর’ই মাঝে নীলিমাও সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে। সিড়ির পাশে’ই ময়লা ফেলার ঝুড়ির সাথে পুরনো জুতা রাখার বাক্স রাখা। তার’ই একপাশে পলিথিনে মোড়ে চাবি রাখা। চাবি হাতে নিয়ে মিটমিট হেসে দরজা খুলে নীলিমা। আঁচলে চাবি বাঁধতে বাঁধতে বলে, সংসার চালাতে বুদ্ধি লাগে। সাথে সাথে আবির আঁচল থেকে চাবিটা খুলে নিয়ে আলমারির উপর ছুঁড়ে মারে। জবাবে কিছু একটা বলতে গিয়েও থেমে যায় নীলিমা। লাঞ্চের জন্য দুপুরে তাড়াহুড়ো করে ভাত তরকারী রান্না করে আনে নীলিমা। টেবিলে খাবার পরিবেশন করে আবিরকে ডাক দেয়- ” শুনছেন? খাবার রেডি।” কপালে হাত দিয়ে চোখ বোজে চিন্তাজগতে ডুবে গিয়েছিল আবির, ঘোর কাটে নীলিমার ডাকে। শুয়া থেকে উঠে বসে ভ্রু-কুঁচকে বলে উঠে আবির- ” বেহায়া দেখেছি, তবে আপনার মত বেহায়া দেখিনি।” কষ্ট পায় নীলিমা কিন্তু মুখে প্রকাশ করেনি। আবার আবিরকেও বিরক্ত করতে চায়নি। তাইতো চুপচাপ আবিরের কক্ষ ছেড়ে বের হয়ে যায়। কিছু না মুখে দিয়ে’ই খাবারগুলো ঢেকে রেখে দেয়। সন্ধ্যার পর পড়ার জন্য স্টাডি রুম থেকে বই নিতে আসছিল আবির, তখনি নীলিমাকে বিছানায় গড়িয়ে কান্না করতে দেখে। পেটে হাত রেখে ওহ মাগো, ওহ আল্লাহ’গো বিছানার এপাশ ওপাশ করছে নীলিমা। আবিরের ভেতরটা কেন জানি মোচড় দিয়ে উঠে। বই রেখে ধীর পায়ে আবির নীলিমার পাশে গিয়ে বসে। নরম স্বরে প্রশ্ন করে, কি হয়েছে নীলিমা? অস্ফুট স্বরে জবাব দেয় নীলিমা, গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট আর একটু পানি প্লিজ…!!! আবির ওর রুমে নিয়ে একটা গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট নিয়ে আসে। কিচেন থেকে পানির জগটা আনার সময় কৌতূহলবশত পাতিলের ঢাকনা মেলতে’ই ‘থ’ হয়ে যায়। পাতিল ভর্তি ভাত, তরকারী। না চাইতেও চোখের কোণায় জল চলে আসে আবিরের। গ্লাসে করে একগ্লাস পানি নিয়ে স্টাডিরুমে ঢুকে আবির। গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট আর পানির গ্লাসটা এগিয়ে দিতেই ঢকঢক করে একগ্লাস পানি খেয়ে নেয় নীলিমা। ” আরেক গ্লাস প্লিজ…..” আবির পানির জগটা নিয়ে এসে আরো একগ্লাস পানি এগিয়ে দেয় নীলিমার দিকে। সে পানিটুকুও ঢকঢক করে গিলে ফেলে নীলিমা। আবির আবারো পানি দেয়। এবারো নিমিষেই গ্লাস খালি করে ফেলে। চোখের কোণের জমে থাকা অশ্রু ফোঁটাগুলো একটু একটু করে আবিরের গাল গড়িয়ে নিচে পরছে। কাঁপা হাতে আরো একবার গ্লাস বাড়ায় নীলিমা। আবির জগের অবশিষ্ট পানিটুকু ঢেলে দেয়। এবার একটু পানি মুখে নিয়ে হাতে রাখা ট্যাবলেট’টা খেয়ে সাথে সাথে খাটে হেলান দিয়ে শুয়ে পরে। আবির বই নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে যায়। রাত্রে খাবারের জন্য ডাক দিতেই টেবিলে এসে বসে আবির। খাবার মুখে দেয়ার একপর্যায়ে পাশে দাঁড়ানো নীলিমার মুখের দিকে তাকায় একবার। কিছুটা অস্বস্তিতে পরে যায় আবির। মনে মনে বলে, বুঝলাম না, খাবার’ই তো খাচ্ছি। তার জন্য এমন হা করে তাকিয়ে থাকার কি আছে??? খাওয়া শেষে চলে যাওয়ার সময় বলে যায় আবির, খেয়ে নিন। নীলিমার মুখে রাজ্য জয়ের হাসি। নজর এড়ায় না আবিরের। এই হাসি’ই একদিন আমার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল, পাগলের মত হয়ে যায় আবির। কিছু না বলে ঠাস করে নীলিমার মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দেয়। রাত্রে যে যার মত ঘুমিয়ে পরে। আবির বেডরুমে, নীলিমা স্টাডিরুমে। প্রবলবেগে ঝড় বয়ে যাচ্ছিল। ঝড়ের তান্ডবে সবকিছু কেমন উলটপালট হয়ে যাচ্ছিল। আবিরের রুমের এক জানালা আরেক জানালার সাথে লেগে ঠাস ঠাস শব্দ হচ্ছিল। বাহির থেকে বৃষ্টির ফোঁটা এসে আবিরের রুমের বিছানার চাদর অনেকটা ভিঁজিয়ে দেয়। শুয়া থেকে উঠে বসে জানালাগুলো লাগাতেই স্টাডিরুমের বারান্দার ঐ দিকের জানালার কথা মনে পড়ে। ঐ জানালা তো লাগানো হয়না ২দিন ধরে। এতক্ষণে তো মনে হয় জানালার কাঁচগুলো ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। দৌঁড়ে যায় আবির নীলিমাকে ডাকতে। দরজা ধরতেই খুলে যায়। তাড়াতাড়ি ভেঁজা পর্দাটা উঠিয়ে জানালাগুলো লাগিয়ে নেয় আবির। ” দরজাটা লাগিয়ে ঘুমান, চোর ঢুকতে পারে….” এটা বলে খাটের দিকে তাকাতে’ই ভয়ে চমকে যায় আবির। একজোড়া চোখ ওর দিকে কেমন ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মনে মনে আল্লাহ নাম জপে লাইটটা অন করে আবির। —— একি?!!!! আপনি নিচে গেলেন কেন?(আবির) এমনিতেই যা শীত, আর উপর প্রবলবেগে ঝড়। শীতে মরার যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল নীলিমার। এদিকে এ রুমে গায়ে দেয়ার জন্য পাতলা কাথা ছাড়া কিচ্ছু নেই। আবিরকে ডাক দিতেও ভয় হচ্ছিল কারণ ওর রুমে যেতে মানা। তাই অনেকটা নিরুপায় হয়ে’ই অসহায়ের মত খাটের উপর মোটা করে পাতানো লেপের ভেতর ঢুকে যায় নীলিমা। বিস্ময়ে হতবাক আবির প্রশ্ন করে আবারো- ” খালি খাটে শুইতে গেলে পিঠে ব্যথা পাওয়া যাবে, তাই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। এগুলোর নিচে কেন ঢুকেছেন আপনি?” জবাব দেয় নীলিমা, খুব শীত করছে। তাই….. আবির ওর রুমে গিয়ে ওর কম্বলটা নিয়ে আসে। ” নিন! এবার দয়া করে বিছানা এলোমেলো না করে এর ভিতর থেকে বেরিয়ে আসুন।” নীলিমা নিচ থেকে বেরিয়ে আসে বিছানার উপর। কম্বলটা গায়ে দিয়ে শুতে’ই লাইট’টা অফ করে দেয় আবির। চলে যাবে ঠিক তখনি হাতে টান পরে। ফিরে তাকায় আবির। অনেকটা করুণ নীলিমার জবাব- আমি এর ভেতরে শুধু শীতের জন্য যায়নি, আমার খুব ভয়ও পাচ্ছিল। লাইট’টা জ্বালিয়ে প্রশ্ন করে আবির- তো…???? উত্তর দেয় নীলিমা, আজকে এ রুমেই থাকুন না…. দুপুর হয়ে গেছে তা সত্ত্বেও বিছানা থেকে উঠেনি নীলিমা। সকাল থেকে একটার পর একটা বিরহের গান গেয়ে’ই যাচ্ছে সে। যদিও গান গাইলে ওর মন ভালো হয়ে যায়, তবে আজ কেন জানি গানেও কাজ হচ্ছে না। নিঃশব্দে কেঁদে যাচ্ছে নীলিমা। আর অঝোরে চোখের জল গড়িয়ে নিচে পরছে। বার বার আবিরের বলা রাত্রের কথাগুলো ওকে পীড়া দিচ্ছে, ক্ষত-বিক্ষত করে দিচ্ছে ভেতরটা। রাত্রে অনেক রিকোয়েস্টের পর আবির নীলিমার পাশে শুয়েছিল। আবির নীলিমার ঠিক বিপরীতমুখী হয়ে শুইলেও নীলিমার স্পর্শে ঘুমের মধ্যে সোজা হয়ে যায়। কেন জানি নীলিমার খুব ইচ্ছে হচ্ছিল আবিরের বুকে মাথা রাখতে। ঐ বুকে কান পেতে শুনতে হৃদস্পন্দনগুলো কার কথা বলে? ওর নাকি রাত্রির? যার কথা আবির ওর ডায়েরীর প্রত্যেকটা পাতায় লিখে রাখছে। মনে পড়ে নীলিমার, আবির ওর ডায়েরীর প্রথম পাতায় লিখেছিল____ ” আমার হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দন যার কথা বলে সে রাত্রি। আমার প্রথম প্রেম রাত্রি। আমার প্রথম ভালোবাসা রাত্রি।” আচ্ছা, ও তো এখন ঘুমিয়ে’ই আছে। হৃদস্পন্দন একটু একটু করে উঠা-নামা করছে। এখন তো আমার ওর বুকে মাথা রাখতে কোনো বাধা নেই। আমি তো এখন কান পেতে শুনতে পারি ওর নিশ্বাস-প্রশ্বাস কার কথা বলছে! নীলিমা আবিরের বুকে মাথা রেখে খুব করে শুনার চেষ্টা করছে আবিরের নিশ্বাস ঠিক কার কথা বলছে?! কিন্তু পারছে না নীলিমা। শত চেষ্টার পরও নীলিমা শুনতে পায়নি রাত্রি নাম। তবে কি ও আমায়….(….)….??? না, না….!!! ও তো রাত্রিকেই ভালোবাসে। ডায়েরীতে তো সেটাই লিখল। আচ্ছা, আরেকটু ভালো করে শুনে দেখি তো…..!! নীলিমা কাঁপা হাতে আবিরের পরনের শার্টের বোতামগুলো একটা একটা করে খুলে ফেলে। মাথা রাখে আবিরের প্রশস্ত বুকে। কান পেতে শুনার চেষ্টা করে ঐ বুকে কে আছে….?!!! এবারো ব্যর্থ হয়, হাফিয়ে উঠে নীলিমা। ক্লান্ত নীলিমা আবিরের লোমশ বুকে মাথা রেখে চোখের পানি ছেড়ে দেয়। নড়ে উঠে আবির। মাথা তুলে তাকায় নীলিমা। চোখ যায় আবিরের বুকের প্রশস্ত লোমগুলোর দিকে। ছোট বেলায় দাদির মুখে নীলিমা শুনেছে, বুকে লোমওয়ালা লোকদের নাকি দয়া-মায়া বেশী থাকে। চোখের পানি মুছে নীলিমা আবিরের বুকের লোমগুলোর সাথে এক খেলায় মেতে উঠে। আবিরের বুকের প্রশস্ত লোমগুলোতে নীলিমা ওর হাত বুলাতে থাকে। একবার লোমগুলো হাত দিয়ে শুইয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে তো আবার বিপরীতমুখী থেকে হাত বুলিয়ে লোমগুলো দাঁড় করাচ্ছে। এ এক অদ্ভুত খেলা…! হঠাৎ’ই আবিরের ঘুম ভেঙে যায়। মনে হচ্ছে বুকের ভিতর কেউ আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। চোখ মেলে তাকায় আবির। নীলিমা তখনো আপনমনে আবিরের বুকে হাত বুলিয়েই যাচ্ছে। বুক থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় আবির নীলিমাকে। খাট থেকে উঠে বসে নীলিমা। ভীরু ভীরু চোখে আবিরের দিকে তাকায়। প্রচন্ড রাগ উঠে যায় আবিরের। খাট থেকে নিচে নেমে পরে। তারপর রাগান্বিত দৃষ্টিতে নীলিমার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে, কি মনে করো তুমি নিজেকে? যখন খুশি আমায় লাথি মেরে ফেলে দিবে আবার যখন খুশি বুকে জড়িয়ে নিবে? আমাকে কি তোমার হাতের পুতুল মনে হয়? যখন যেভাবে বলবে, সেভাবেই নাচব আমি??? যদি এসব ভেবে থাকো না, তাহলে ভুল ভাবছো, ভুল….!!! আমাদের মাঝে যে প্রাচীর তুমি তৈরি করে দিয়েছ তা কখনো ভাঙবার নয়। আর সে প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে তোমার আমার কখনো একত্রিত হওয়াও সম্ভব নয়। So, don’t cross your limit…. সেই যে আবির চলে গেল রুম থেকে, তারপর থেকে নীলিমা রুমে পরে আছে। সারা রাত্রি বালিশে মুখ লুকিয়ে কেঁদে সকাল থেকে বিরহের গান গাওয়া শুরু করছে….. কলেজে গিয়েছিল আবির। দুপুরে বাসায় চলে আসল। ইতিহাসের শিক্ষক মামুন স্যারের বিয়ে ঠিক হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষক তাদের নিজ নিজ সহধর্মীনিদের নিয়ে তৈরি হয়ে চলে আসছে। আবির’ই কেবল তৈরি হয়নি। তাই বেলা ১২টায় আবিরকে বাসায় পাঠানো হয় নীলিমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আবির যখন রুমে ঢুকে নীলিমা তখনো আপনমনে গান গাচ্ছে, ” দুরে কোথাও যাব চলে যদি না মনের দোয়ার রাখো খুলে, দুরে কোথাও যাব হারিয়ে যদি না পাই তোমায় আপন করে। আনমনা এ হৃদয় জুড়ে ভালোবাসার হাওয়া বয়ে চলে, গোপন যত মনের কথা বলব তোমায় আমি সারাটি বেলা। এ মনের চাওয়ায় শুধু তুমি আমার, তুমি আমার; দুরে কোথাও যাব চলে যদি না মনের দোয়ার রাখ খুলে….. দিশেহারা মন যে ব্যাকুল চাইতে তোমার প্রাণের আকুল, আঁধারে ডুবে থাকা ভালো লাগে না আর দোটানা….!! তুমি ছাড়া এ প্রহর কাটে না, তুমি ছাড়া আর কিছু ভালো লাগে না। দুরে কোথাও যাব চলে যদি না মনের দোয়ার রাখো খুলে, দুরে কোথাও যাব হারিয়ে যদি না পাই তোমায় আপন করে….” (গানটি অনেক ভালো। আমার অনেক অনেক প্রিয় একটা গান। সবাইকে নিজ দায়িত্বে গানটি শুনে নেয়ার অনুরোধ করা হলো।) নীলিমার গান গাওয়ার মাঝেই আবির রুমে প্রবেশ করে। তাড়াতাড়ি শুয়া থেকে উঠে নীলিমা ওর ডান হাতটা ওড়নায় আবৃত করে ফেলে। ঢেকে ফেলে ওড়না দিয়ে। আবির একটা বিরক্তি ভাব নিয়ে বলে, আমি আপনার হাত কিংবা ঐ হাতের মাঝে লুকিয়ে থাকা কোনো রহস্য উদঘাটন করতে আসিনি। আমি এসেছি মামুন স্যারের বিয়ে, আপনি যাবেন কি না সেটা জানতে। ওয়াও! দেবদাস স্যার বিয়ে করছে তবে? আমি যাব… আমি যাব… বলে লাফিয়ে উঠে নীলিমা। একনিমিষেই ভুলে যায় রাতের কথাগুলো। আবির ওর রুমে চলে যাচ্ছিল, ফিরে আসে আবার। ভ্রু-কুঁচকে নীলিমার দিকে তাকিয়ে বলে যায়- ” আর হাত যদি এভাবে ঢেকেই রাখতে হয়, তবে মোজা পরে নিবেন। মোজা আছে তো?!!!” নীলিমা মাথা ঝাঁকায়, হ্যাঁ! আছে….. — ওকে, ফাইন! সেগুলো পরে নিবেন। দাঁতে দাঁত চেপে কথাটা বলে আবির ওর রুমে চলে যায়। তাড়াতাড়ি শুয়া থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে আসে নীলিমা। অতঃপর ঝটপট লেহেঙ্গা পরে আবিরের পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। চেঞ্জ করছিল আবির। চোখের সামনে হঠাৎ এক সবুজপরীকে দেখে হাত থেকে পাঞ্জাবি পরে যায়। কিছুক্ষণ মন্ত্রমুগ্ধের মত আবির নীলিমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। হঠাৎ’ই চোখ চলে যায় নীলিমার হাতের দিকে। প্রচন্ড রেগে যায় আবির। ” আপনাকে আমি মোজা পরতে বললাম বলে, আপনি মোজা’ই পরলেন?” ভয়ে মাথা নিচু করে ফেলে নীলিমা, আমতা আমতা করে বলে, আপনি’ই তো বলেছেন। দ্বিগুন রেগে হুংকার দিয়ে বলে উঠে আবির, আপনার আর আমার সাথে বিয়ে বাড়িতে যেতে হবে না…. ঠিক আছে বলে জল টলমল চোখ নিয়ে মাথা নিচু করে স্টাডিরুমে চলে যায় নীলিমা। নিচ তলা থেকে আবিরের কাজিন সাইমা আসে। আবিরকে পাঞ্জাবী পরিহিত দেখে চিৎকার দিয়ে ওয়াও মাই ক্রাশ বলে আচমকা আবিরের গালে একটা চুমু দিয়ে দেয়। স্টাডিরুমের সোজাসুজি আবিরের বেডরুম। আবিরের গালে এভাবে চুমু দেয়া দেখে রেগে যায় নীলিমা। সাইমা সুন্দর করে আবিরের চুলগুলো ঠিক করে দিয়ে নাক চেপে ধরে বলে, একদম হিরো হিরো লাগছে তোমাকে। রেগে একদম সাপের মত ফুসে উঠে নীলিমা। স্টাডিরুম থেকে দৌঁড়ে আবিরের রুমে যায়। সাইমা আবির দুজনের বুঝে উঠার আগেই নীলিমা আবিরের পায়ের উপর ভর দিয়ে দাঁড়ায়। তারপর আবিরের মাথার চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে, আবিরের নাকটা ওড়না দিয়ে ঘষা শুরু করে। আবির নীলিমার এমন আচরণে অবাক হয়। অবাকের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে যায় আবির। যখন দেখল ওর’ই সামনে নীলিমা ধাক্কা দিয়ে সাইমাকে ফ্লোরে ফেলে দিয়েছে। সাইমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে নীলিমা আবিরের দিকে ফিরে তাকায়। আবির তখনও হা করে দাঁড়িয়ে বিষয়টা কি হয়েছে বুঝার চেষ্টা করছে। এদিকে নীলিমা?!!! রাগান্বিত দৃষ্টিতেই সাইমার দিকে তাকিয়ে ওর দিকে এগিয়ে গিয়ে টেনে তুলে দাঁড় করায়। সাইমা কিছু বলতে চাইছিল তার আগেই ঠোঁটের সামনে আঙ্গুল খাড়া করে চুপ করার জন্য ইঙ্গিত করে নীলিমা। সাইমা চুপ হয়ে নীলিমার দিকে তাকিয়ে আছে। নীলিমা সাইমার দু’বাহু ঝাকিয়ে বলা শুরু করে___ ” এই মেয়ে! পৃথিবীতে এত ছেলে থাকতে তুই কেন একটা বিবাহিত ছেলের পিছনে লেগেছিস? এসব করে কি লাভ তোর? তোর এতে কি স্বার্থ লুকিয়ে আছে? কেন তুই এভাবে আমার বরের পিছনে লেগেছিস? কেন তুই অন্যের সম্পদের দিকে এভাবে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিস? নূন্যতম লজ্জাবোধও কি তোর মধ্যে নেই? ধূর! কাকে কি বলছি….?!!! নীলিমা সাইমার দিকে একটু দুরে সরে যায়। তারপর আবারো বলতে থাকে, নৈতিকতার যে শিক্ষা মানুষ তার পরিবার থেকে পায় সেটা মনে হয় তোর পরিবার তোকে দিতে পারেনি। তাই তোর এ অধঃপতন। তুই আসলে….(……)….???” পুরো কথা বলতে পারেনি নীলিমা। তার আগেই রুম ছেড়ে বেরিয়ে যায় সাইমা। পিছন থেকে ডাকতে থাকে নীলিমা- ” ঐ শয়তান মাইয়া! চলে যাচ্ছিস কেন? শুনে যা আরো কিছু কথা। যে শিক্ষা তোর পরিবার তোকে দিতে পারেনি সেটা আমার থেকে নিয়ে যা। বজ্জাতের হাড্ডি, কি হলো চলে যাচ্ছিস কেন?” কথাগুলো বলতে বলতেই পিছনে তাকায় নীলিমা। আবিরের চক্ষুদ্বয় রাগে রক্তবর্ণ ধারন করেছে। যেই রেগে তেড়ে আসছিল নীলিমার দিকে, তখনি নীলিমা বলে উঠে- ” খবরদার! একদম সামনে আসবি না। এই মুহূর্তে তোর ছায়া পর্যন্ত আমি সহ্য করতে পারছি না। অনেক সহ্য করেছি। আর নয়! এই মেয়ের সাথে কিসের এত পিরিত তোর? ও কেন তোকে কিস করবে? চুল আচড়িয়ে দিবে? কোন শার্ট পরবি সেটা সিলেক্ট করে দিবে, ও কেন তুই কোন জুতা পরবি সেটা বের করে রাখবে? টাই বেঁধে দিবে? ও কেন তোর জন্য একেকদিন একেক রেসিপি তৈরি করে আনবে? কি হয় ও তোর? বউ?!!! তবে আমি কি??? কেন আমায় বিয়ে করলি? ফুলদানিতে সাজিয়ে রাখার জন্য???” গর্জে উঠে আবির। Hey you! Listen…..(……)……… মুখে আঙ্গুল দিয়ে বলে উঠে নীলিমা, চুপ! একদম চুপ। এটা তোর ক্লাস নয়, বেডরুম। সো, একদম লেকচার দিতে আসবি না। তাহলে কিন্তু খুব খারাপ হয়ে যাবে! বের হয়ে যাবে সুন্দর এই মুখটার আড়ালে লুকায়িত খোলস। নীলিমা স্টাডিরুমে গিয়ে ঠাস করে দরজা বন্ধ করে দেয়। আবির ওর পরনের পাঞ্জাবী’টা খুলে ফেলে দেয়। দাঁতে দাঁত চেপে হাতটা দেয়ালে ছুঁড়ে মারে। তারপর দরজাটা টান দিয়ে বাইরে বের হয়। দরজা মিশছিল না দেখে দরজায় একটা লাথি মেরে নিচে সাইমার রুমের দিকে পা বাড়ায়। ” সাইমা! দরজা’টা খুল। প্লিজ, সাইমা দরজাটা খুল। লক্ষ্মী বোন আমার প্লিজ দরজাটা খুল…..” কথাগুলো বলে আবির যখন দরজায় ধাক্কা দিচ্ছিল তখন পিছন থেকে কেউ একজন আবিরের পিঠে টোকা দেয়। পিছন ফিরে তাকায় আবির। ঝালমুড়ি হাতে সাইমা দাঁড়িয়ে। চমকে যায় আবির- ” তুই? তাহলে ভিতরে কে?” ঝালমুড়ি খেতে খেতে সাইমা বলে, কেউ নেই। দরজায় তালা ঝুলানো আছে কানা। আবির দরজার দিকে তাকিয়ে দেখে জোরেশোরে নিশ্বাস ফেলে। ” উফফ!” পাশ থেকে সাইমা বলে উঠে, নাও! ঝালমুড়ি খেয়ে মাথা ঠিক করো….. আবির সাইমার হাতদুটো চেপে ধরে। প্লিজ বোন আমার, আমায় মাফ করে দে। সাইমা চেঁচিয়ে উঠে, আরে আরে ভাইয়া! কি করছো এসব? ঝালমুড়ি তো পরে যাচ্ছে…..!!! যাক আমি তোকে আবার কিনে দিব। তুই প্লিজ বল আমায় মাফ করছিস কি না। করুণ চোখে আবির সাইমার দিকে তাকিয়ে বার বার একই আকুতি করে যাচ্ছে। সাইমা অত্যন্ত স্বাভাবিক গলায় বলল, আমি তোমাকে ছুঁয়ে বলছি ভাইয়া! আমি তোমার বউয়ের কথায় কিচ্ছু মনে করিনি। আর একটা বাচ্চা মেয়ের কথায় এতকিছু মনে করার’ই বা কি আছে? আবির সাইমার হাত ছেড়ে দেয়। রাগান্বিত গলায় বলে উঠে, ভাবের বাচ্চা ও। ও তো আসলে একটা পাগল। উন্মাদ হয়ে গেছে ও। সবকিছু পেয়েও হারিয়ে ফেলেছে ও। সেই জন্য উন্মাদ হয়ে গেছে ও….. পাশ থেকে সাইমার জবাব, উন্মাদ! হ্যা, উন্মাদ হয়ে গেছে ও। তবে সেটা ভুলের জন্য নয় তোমার ভালোবাসার জন্য। তোমার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য। তোমাকে অন্য কারো সাথে সহ্য করতে পারে না সেই জন্য….. উত্তেজিত হয়ে আবির বলে উঠে, তাই বলে ও আমার সাথে এরকম বাজে ব্যবহার করবে? এটা কিরকম ভালোবাসা সাইমা??? ঝালমুড়ির কাগজটা হাতে মুড়ে দুরে সরে ফেলে দিয়ে সাইমা বলে উঠে, এটাই ভালোবাসা ভাইয়া! খাঁটি ভালোবাসা…. মেয়েরা সবকিছু সহ্য করতে পারে কিন্তু নিজের স্বামীর পাশে অন্য কাউকে দেখতে পারে না। কারণ, ওরা স্বামীর ভাগ অন্য কাউকে দিতে রাজি নয়। ওকে ফাইন! মেনে নিলাম তোর সব কথা। ও আমার পাশে তোকে সহ্য করতে পারেনি তাই আজ আমাকে যাচ্ছে তাই কথা শুনিয়েছে। কিন্তু ঐ সময়..?!!! দুই বছর আগে ও কেন আমার সাথে এমন করেছিল? কেন আমায় চরমভাবে অপমান করে চলে গিয়েছিল? ঐদিন তো আমার পাশে কেউ ছিল না। তবে কেন আমায় এভাবে…..(…..)…..??? আবিরকে থামিয়ে সাইমার জবাব, হতে পারে দুই বছর আগে কেউ ছিল না, কিন্তু তারও আগে হয়তো কেউ ছিল, থাকতে পারে….. হাত উঁচু করে আবির, একমিনিট! তুই কার কথা বলছিস??? জবাব আসে, সেটা তো তুমি’ই ভালো জানো ভাইয়া। আমাকে কেন জিজ্ঞেস করছো? উতলা কন্ঠে আবির বলে, হেয়ালি রেখে বল তুই খোচা মেরে কার কথা বলছিস? দুই বছর আগে কে ছিল আমার জীবনে? সাইমা আবিরের সামনে গিয়ে উত্তর দেয়, সেটা রাত্রি নয়’তো??? আবিরের সুন্দর মুখটা মুহূর্তেই ফ্যাকাসে হয়ে যায়। ঢোক গিলে বলে, ” তুইও ওর কথা….(….)….???” ক্ষাণিক হেসে জবাব দেয় সাইমা, সবাই জানে আমার জানতে অসুবিধে কোথায়? কিছু মনে করো না রাত্রিকে রাত্রি বলে ডাকছি সে জন্য। আসলে ওকে আপু বলতেও আমার ঘৃনা করে। এমন একটা মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা পাওয়ার পরও যে এত্ত বড় বেইমানি করতে পারে সে আর হোক আমার বোন হতে পারে না। আমার আপু হতে পারে না। ইন্ডিয়া থেকে এসে যখন শুনলাম ও তোমার আর ওর বিয়ের কথা বলে, গহনা কিনার কথা বলে ৪লক্ষ টাকা নিয়ে এক্স বয়ফ্রেন্ডের হাত ধরে পালিয়ে গেছে তখন কতটা কষ্ট যে পেয়েছি সেটা ঐ আল্লাহ জানেন! আমি তখন প্রতিদিন নিজেকে তোমার জায়গায় দাঁড় করাতাম, তোমার কষ্টটা উপলব্ধি করার চেষ্টা করতাম। তোমাকে দেখলে আমার গর্ব হতো এতকিছুর পরও তুমি আমাদের সাথে সম্পর্ক রেখেছ। তোমার প্রতি শ্রদ্ধাটা তখন থেকেই বেড়ে গেছে। আর ঐ রাত্রির প্রতি ঘৃণাটা দিনকে দিন গাঢ় হয়েছে। তখন থেকেই দোয়া করতাম আমি, আল্লাহ যেন মানুষটার সাথে ঐরকম মানুষকেই মিলিয়ে দেয়। আর আল্লাহর অশেষ রহমতে পেয়েও গেছ। যেন এক হীরক খন্ড। একটা কথা কি জানো….(……)….??? পিছনে তাকিয়ে থেমে যায় সাইমা। কারণ, আবির ততক্ষণে উদাও হয়ে গেছে। ৪,৫দিন পরের কথা____ সেদিন বিকেলে কলেজ থেকে ফিরে তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে খেতে বসে আবির। ততক্ষণে নীলিমা চেম্বার থেকে বাসায় ফেরে। ক্লান্ত নীলিমা যখন বিছানায় গা টা এলিয়ে দেই তখনি দরজার সামনে এসে দাঁড়ায় আবির- ” আদিবা ফোন দিয়েছিল। ও আসছে, আজকে আপনি আমার রুমে ঘুমোবেন।” নীলিমা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে অন্যদিকে মুখ করে শুয়ে পরে। রেডি হয়ে চলে যাচ্ছিল আবির। ফিরে আসে। দরজার কাছ থেকে বলে- ” বন্ধুর বার্থডে পার্টিতে যাচ্ছি। ফিরতে একটু রাত হবে। আপনারা খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পরবেন।” এবারো নীলিমা পুরো কথাটা শুনে চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলে। রাত্রি ৯টার দিকে আবিরের বোন আদিবা ওর ছেলে আদিত্যকে নিয়ে আবিরের বাসায় আসে। অবাক হয়ে নীলিমা প্রশ্ন করে, সেকি আপু! দুলাভাই আসে নি? মুখটা কালো করে উত্তর দেয় ননাস আদিবা, আর বলো না! ওর হসপিটাল থেকে জরুরী ফোন এসেছে। তারপর কি হয়েছে জানি না। ফোনটা কান থেকে নামিয়েই সবার থেকে বিদায় নিয়ে বিয়ে না খেয়েই চলে গেল। ওর মামা এজন্য অনেক রাগ দেখালো। নীলিমা ননাস আসার পর থেকেই টেবিলে হরেক রকমের খাবার সাজিয়ে ফেলে। আদিবা হেসে বলে, ওরে পাগলি মেয়ে! এসব কেন করতে গেলা? পেটটা আমার একদম ভরা। পেটে জায়গা খালি নেই একটুও। এদিক দিয়েই নাকি তোমার দুলাভাই যাবে, তখন নিয়ে যাবে আমাদের মা ছেলেকে। মা ছেলেকে তাই এখানে ওয়েট করতে বলছে। ও আসলেই আমরা চলে যাব….. ” ওহ! চলে যাবেন? নীলিমার মুখটা কালো হয়ে গেল….” একটা হাসি দিয়ে ননাসের জবাব, যাও তো! আলমারি থেকে বিয়ের শাড়িটা নিয়ে আসো তো। দেখি বাচ্চা নীলিকে বউয়ের সাজে কেমন লাগে….!!! বলা মাত্র’ই নীলিমা দৌঁড়ে গিয়ে একটা লেহেঙ্গা নিয়ে আসে। ভ্রু কুঁচকে ননাসের জবাব, সেকি! লেহেঙ্গা কেন??? নিচের দিকে তাকিয়ে নীলিমার জবাব, ” এখানে তো শাঁড়ি নেই। লেহেঙ্গা’টাই আছে।” মুচকি হেসে ননাস আদিবার জবাব, সমস্যা নাই। এটাও লাল রঙের’ই। তাড়াতাড়ি কয়টা মুখে দিয়ে জটপট লেহেঙ্গা’টা পরে আসো। সাজাতে হবে তো। নীলিমা ডিনার সেরে নিয়ে তাড়াতাড়ি চেঞ্জ করে লেহেঙ্গা’টা পরে আসে। আদিবা নীলিমাকে ওর সামনে বসায়। হাতে লাল রঙের চুড়ি, চোখে গাঢ কালো কাজল, ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক দিয়ে আদিবা নীলিমার চুলগুলো খোঁপায় বেঁধে দেয়। তারপর নীলিমাকে আয়নার সামনে দাঁড় করায়। আয়নায় নিজেকে নিজে দেখেই লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলে নীলিমা। আহ্লাদী স্বরে আদিবা বলে উঠে, ওলে পুতুলবউ’টা লজ্জা পেয়েছেরে….. ফোন বেজে উঠে আদিবার। কলটা রিসিভ করে কথা বলে। কান থেকে ফোন নামাতে নামাতে নামাতেই বলে, তোমার দুলাভাই এসে গেছে। যেতে হবে এখন। তাড়াতাড়ি এখানে একটু দাঁড়াও। কয়টা ছবি তুলি। নীলিমা ড্রেসিংটেবিলের আয়নার সামনে দাঁড়ায়। আদিবা বিভিন্ন এঙ্গেলে নীলিমার অনেকগুলো ছবি তুলে নেয়। তারপর আদিত্যকে ধরে টান দিতেই বলে, দাঁড়াও আম্মু! আদিত্য ওর কাঁধে রাখা ব্যাগটা থেকে এক বিরাট গাধাফুলের মালা বের করে। আরো বের করে অনেকগুলো গোলাপ। এগুলো সে কান্নাকাটি করে ঐ বিয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছিল। অথচ এখন অনায়াসে সেই ফুলগুলো একটা একটা করে ছিঁড়ে আবিরের বিছানায় ছড়িয়ে দিচ্ছে। নীলিমাকে টানতে টানতে বিছানায় বসিয়ে ওর উপরও অনেকগুলো পাপড়ি ছড়িয়ে দেয়। তারপর মায়ের কাছে গিয়ে হাত তালি দিতে দিতে বলে, আজকে মামার বিয়ে! কি মজা, কি মজা…. লজ্জায় মাথানিচু করে ফেলে নীলিমা।আদিবা হেসে দেয়। মুচকি হেসে ছেলেকে কোলে নিয়ে নীলিমার থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায়। আদিবা আপু চলে যাওয়ার পরই নীলিমা চেঞ্জ করার জন্য বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায়। জামা নিয়ে ওয়াশরুমে যাওয়ার আগে একবার ফোনের দিকে তাকায়। ফোনের স্ক্রিনে দেখে নেয় নিজেকে। ফোনটা হাত থেকে রাখার আগে কি মনে করে যেন আবারো স্ক্রিনের দিকে তাকায়। আচমকা মোবাইলের তারিখ’টা দেখে উল্লাসে নেচে উঠে নীলিমা। ” আজ আমাদের ৯ম বিবাহবার্ষিকী?” মনে পড়ে নীলিমার, আদিবা আপুর সাথে ঐদিন হসপিটালে দেখা হয়। আবিরের সাথে সব ঠিকঠাক মত চলছে কি না সেসব কথার’ই একপর্যায়ে আবিরের বোন আদিবা ওর থেকে বিয়ের তারিখ’টা জেনে নিয়েছিল। তারমানে ওনি আজ হুট করে আমার বাসায় আসেননি। ওনি জেনে শুনেই এসে আমায় সাজিয়েছেন। নীলিমা ওয়াশরুম থেকে ওর জামাগুলো নিয়ে আসে। ওর ইচ্ছে আবির আসলে ওকে এ সাজে দেখিয়ে তবেই চেঞ্জ করবে। ” আচ্ছা! বুড়ো এসে আজকেও কি আমায় বকবে নাকি এ সাজে দেখে চমকে যাবে! বুড়ো কি আগের মতই আমার দিকে মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে থাকবে নাকি মুখ ঘুরিয়ে শুয়ে পরবে? আচ্ছা, আগের মত ও আজকেও কি আমার জন্য প্রিয় বেলী ফুল আর একটা কবিতার বই নিয়ে আসবে? ও কি আজও আমায় পূর্বের ন্যায় হাতে লাল রেশমী চুড়ি পরিয়ে দিবে? ভাবতে ভাবতেই ফোনটা বেজে উঠে নীলিমার। মুখে হাসির রেখা নিয়েই ফোনের দিকে ফিরে তাকায়। কি ব্যাপার? আদিবা আপু’তো কেবল গেলেন। ওনি কেন কল দিলেন? কল রিসিভ করে নীলিমা। — আসসালামু আলাইকুম, আপু!(নীলিমা) —– ওয়ালাইকুম আসসালাম। কি ব্যাপার? খুব খুশি খুশি লাগছে যে? ঘটনা কি?(আদিবা) —– ধূর, আপু! কি যে বলেন না…(নীলিমা) — আচ্ছা, আচ্ছা! লজ্জা পেতে হবে না। এখন বলো বুড়ো ফিরছে কি না।(আদিবা) —- আপু, তুমিও???(নীলিমা) — তুমিও’ই তো প্রতিদিন নালিশ করো বুড়ো এটা করছে, বুড়ো ঐটা করছে। প্রতিদিন বুড়ো বুড়ো শুনতে শুনতে আমার যে মুখস্ত হয়ে গেছে। যায় হোক! আর বলব না। এখন বলো, ও পার্টি থেকে ফিরেছে কি না?!!!(আদিবা) —– এখনো ফিরেনি। বলে গেছে তো ফিরতে রাত হবে।(নীলিমা) —– আচ্ছা, বুঝলাম। শুনো… যে কথাটি বলার জন্য ফোন করেছি। আজ কিন্তু বুড়ো ফিরলে বুড়োকে সব খুলে বলবে। দু’বছর আগে কি কারণে চলে গিয়েছিলা আর তার সত্যতা কতটুকু, সব, সব তোমায় আজকে জানাতে হবে, জানতে হবে। আমাদের কথা তো শুনতে চাও না, আবিরের মুখ থেকেই না হয় শুনে নিও ডায়েরীর গোপন রহস্য। ঠিক আছে এখন রাখছি। ভালো থেকো।(আদিবা) —- আপু শুনেন… (নীলিমা) —– হ্যা, বলো…(আদিবা) —— ও শুধু আমার বুড়ো। …(নীলিমা) —– হা, হা, স্যরি। মনে হয় কথার মধ্যে দু’একবার বুড়ো ডেকে ফেলেছি। ওকে, শুভ রাত্রি। (আদিবা) আদিবা কল রাখলে নীলিমা একটা বড়সড় নিশ্বাস ফেলে। ” নাহ! আর নয়। অনেক কষ্ট দিয়েছি, পেয়েছি। আর নয় কষ্ট। আজ’ই সব খুলে বলতে হবে বুড়োকে। জানাতে হবে আসল কথা, জানতে হবে তার সত্যতা।” ফোনটা হাত থেকে রেখে নীলিমা মনে মনে কথাগুলো সাজাচ্ছে। ওর বুড়োর কাছে কথাগুলো ঠিক কিভাবে উপস্থাপন করবে। সোফায় শুয়ে আনমনে কথাগুলো সাজাচ্ছিল নীলিমা। একটা সময় চোখে তন্দ্রাভাব চলে আসে। দরজা আংশিক মেশানো শুধু। নীলিমার চোখটা যখন প্রায় লেগে আসে, তখন’ই রুমে আবিরের আগমন। রুমে এসেই আবির বিছানা ফাঁকা পেয়ে এদিকে ওদিক কাকে যেন খুঁজতে থাকে । হঠাৎ’ই সোফায় চোখ যায়। আবির চোখ বড় বড় করে সোফায় শুয়ে থাকা নীলিমার দিকে তাকায়। মনে হচ্ছে কোনো স্বর্গের অপ্সরী, সবুজ পরী ভুল করে স্বর্গ থেকে ধরার বুকে নেমে এসেছেন। একটু একটু করে আবির সোফায় শুয়ে থাকা ঘুমন্ত পরীটির দিকে এগিয়ে যায়। ” একি! আমার রুমে পরী আসলো কোথায় থেকে?” চোখ দুটো কচলে ভালো করে আবির আবারো ঘুমন্ত মেয়েটির দিকে তাকায়। ” পরী’ই তো!” এদিকে রুমেও কেমন মাতাল করা ফুলের ঘ্রাণ পাওয়া যাচ্ছে। এমনিতেই পার্টিতে বন্ধুরা কি যেন কি খাইয়ে দিয়েছে জোর করে, তারপর থেকে মাথাটা ঝিম ঝিম করছে। এখন রুমে এসে দেখল পরী শুয়ে আছে। সবকিছু’ই আবিরের কাছে কেমন যেন রঙিন মনে হচ্ছে। ” আচ্ছা, এগুলো স্বপ্ন নয়তো? আমি কোনো ঘোরের মধ্যে আছি না’তো?” আবির ঘুমন্ত নীলিমার সোফার পাশে হাটুঘেরে বসে পরে। একটা হাত আবির ওর ভাবনার পরী মানে নীলিমার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আঙুল দিয়ে আবির ঘুমন্ত নীলিমার ঠোঁট ছুঁয়ে দেয়। নীলিমা কেঁপে উঠে। এটা কি স্বপ্ন নাকি সত্যি কিছুই বুঝতে পারছে না আবির। ঘোরের মধ্যেই আবির যখন ওর মুখটা নীলিমার ঠোঁটের খুব কাছে নিয়ে যায়, তখনি জেগে উঠে নীলিমা। চোখ বড় বড় করে আবিরের দিকে তাকায়। আবিরকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে সোফা থেকে উঠে পরে। কাঁপা কাঁপা গলায় বলে, আপনি ফ্রেশ হয়ে আসুন, আমি টেবিলে খাবার দিচ্ছি। নীলিমা দৌঁড়ে কিচেনে চলে যায়। আবিরও নীলিমার পিছু নেয়। পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে নীলিমাকে। একহাতে নীলিমার খোপা খুলে দেয়, নাক ডুবিয়ে দেয় চুলের গভীরে। আচমকা আবিরের এমন আচরণে রীতিমত কাঁপতে থাকে নীলিমা। অনেক কষ্টে আবিরের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়। ” খাবার দিচ্ছি, খেয়ে নিন!” তাড়াহুড়ো করে খাবারগুলো দিয়ে দৌঁড়ে স্টাডিরুমে চলে যায়। হাতমোজা পরে ঘুমিয়ে পরার প্রস্তুতি নেয়। দরজাটা বন্ধ করার জন্য ধরতেই দরজা ঠেলে রুমে প্রবেশ করে আবির। আবিরের চোখের দিকে একবার তাকিয়ে ভয়ে বুকস্লেফের বইয়ের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দেয় নীলিমা। আবির সামনে গিয়ে একহাত দেয়ালে ঠেকিয়ে নীলিমার পথ আগলে দাঁড়ায়। মাথার ছোট্ট চুলগুলো এলোমেলো ভাবে নীলিমার চোখে মুখে এসে পরছে। কাছে গিয়ে আবির সেই চুলগুলোতে ফুঁ দেয়। একটা বাজে স্মেইল নীলিমার নাকে প্রবেশ করে। চোখ বড় বড় তাকায় নীলিমা। রেগে প্রশ্ন করে____ ” আপনি ড্রিংক করেছেন?” মাথা চুলকায় আবির। না মানে সবুজপরীকে দেখে নেশা ধরে গেছে। একধাক্কায় আবিরকে ওর পথ থেকে সরিয়ে দেয়। দাঁতে দাঁত চেপে বলে, ” আপনি এখানেই দাঁড়ান। আমি নেশা কাটানোর ব্যবস্থা করছি এখনি।” নীলিমা ফ্রিজ থেকে তেঁতুলেরটক নিয়ে আসে। আবিরের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে, ” নিন! এগুলো খান। নেশা কেটে যাবে।” আবির তেঁতুলের বয়ামটা ড্রেসিংটেবিলের উপর রেখে এগিয়ে যায় নীলিমার দিকে। ” আমি তেঁতুল খাবো না, তোমাকে খাবো।” ঘাবড়ে যায় নীলিমা, কিসব উল্টাপাল্টা কথা বলছেন? মানুষকে আবার মানুষ খেতে পারে নাকি? আর এদিকে আসছেন কেন এভাবে?” আবির একটা দুষ্টু হাসি দিয়ে বলে, সব’ই যায়। কাছে আসছি তো সেটাই বুঝানোর জন্য। আবির নীলিমার কাছে চলে আসে। নীলিমা আলতো করে চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলে। আবির নীলিমার এলোমেলো চুলগুলো কানের পাশে গুজে দিয়ে ঘাড়ের মধ্যে আলতো করে উষ্ণ ভালোবাসার রেখা টেনে দেয়। পরম সুখে কেঁপে উঠে নীলিমা। চোখ মেলে তাকায়। কাঁপা কন্ঠে বলে, আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে। প্লিজ আগে আমার কথাগুলো শুনে নিন। আবির মুখে কিছুই বলল না। নীলিমার হাত ধরে নীলিমাকে বিছানায় শুইয়ে দিল। কপালে আর ঠোঁটে কিস করল। নীলিমার বুকে মাথা রেখে কিছুক্ষণ শুয়েও থাকল। তারপর নীলিমার একচোখে কিস দিয়ে আরেক চোখে দেওয়ার জন্য এগিয়ে যেতেই বিছানা থেকে উঠে বসে নীলিমা। খাট থেকে সোজা বারান্দায় চলে যায়। আবিরও নীলিমার পিছু নেই। মাতাল আবিরের চোখের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত শান্ত ও স্বাভাবিক গলায় বলে উঠে নীলিমা, ” প্লিজ আপনি আমায় একটু সময় দিন। আমার কথাটা শুনার চেষ্টা করুন। কথাগুলো বলা খুব জরুরী। আপনি কথাগুলো আগে শুনে নিন, তারপর না হয়…..(…..)…..???” পুরো কথা বলতে পারেনি নীলিমা। তার আগেই আবিরের ঠোঁট দুটো নীলিমার নরম ঠোঁট দুটোকে তার ভিতরে নিয়ে গেল। হাত দিয়ে আবির নীলিমার মাথার পিছনের দিকটা শক্ত করে চেপে ধরে। তারপর সজোরে আবির ওর ঠোঁট নীলিমার ঠোঁটের উপর চেপে ধরল। নীলিমা প্রথমে কাঠের পুতুলের মত দাঁড়িয়ে ছিল। তারপর একসময় সেও খামচে ধরল আবিরের দুই কাধ। হাত বাড়িয়ে নিবিড় করে জড়িয়ে ধরল আবিরকে। কিছুক্ষণ পর আবির নীলিমাকে ছেড়ে দিয়ে দ্রুত ওর রুমে চলে গেল। নীলিমা কিছুক্ষণ সে স্থানে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিল। ভাবল, আজ’ই আবিরকে সব কথা খুলে বলতে হবে। আবিরের রুমে গিয়ে তাই চুপ করে বিছানায় শুয়ে পরল। চোখ দুটো বন্ধ করে নীলিমা যখন বড় বড় নিশ্বাস ফেলছে, আবির তখন’ই চুপটি করে বিছানায় এসে বসে। কিছু বলার জন্য চোখ মেলে তাকাতেই ভড়কে যায় নীলিমা। শার্টের বোতাম গুলো একটা একটা করে খুলে ফেলছে আবির। চোখ বড় বড় করে ফেলে নীলিমা, একটা দুষ্টু হাসি দেয় আবির। ভয়ে ঢোক গিলে নীলিমা বলে, ” আপনি আমার কথাটা শুনোন…..” জবাব আসে, আজ আমি তোমাকে শিখাবো ভালোবাসার এক নতুন অধ্যায়। সো, কোনো কথা হবে না। লাইটটা অফ করে ড্রিম লাইটটা জ্বেলে দেয় আবির। অতঃপর…….. সকালে স্টাডি রুমে ড্রেসিংটেবিলের সামনে বসে তোয়ালে দিয়ে ভেঁজা চুলগুলো মুছছিল আর মিটিমিটি হাসছিল নীলিমা। তখনি ঘুম ভাঙে আবিরের। শরীরটা টানা দিয়ে উঠে বসতেই চমকে যায় আবির। নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে আঁতকে উঠে বলে____ ” একি! আমার এ অবস্থা কেন?” আবির ওর বুকে লিপস্টিকের লাল দাগ দেখে ভড়কে যায়। রাত্রে ঠিক কি হয়েছিল বুঝার চেষ্টা করে। অনেক কষ্টে পার্টিতে ড্রিংক করার কথা মনে পড়ে আবিরের। তার বেশী মনে করতে পারে না। তবে কি নীলিমা….(…..)….??? বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় আবির। ততক্ষণে নীলিমা আবিরের জন্য চা বসিয়েছে। ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে আবির নীলিমার জিনিসপত্র আলমারি থেকে বের করে ফ্লোরে ছুঁড়ে ফেলে। চা হাতে নীলিমা রুমে প্রবেশ করে আবিরের এই অবস্থা দেখে ভয়ে কেঁপে উঠে, তবে প্রকাশ করেনি। ” কিছু খুঁজছেন?” রাগান্বিত দৃষ্টিতে আবির নীলিমার দিকে তাকায়। নীলিমার হাতের চা’য়ের কাপটা আবিরের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে, ” এই নিন! চা খেয়ে মাথা ঠান্ডা করে বলুন কি চায় আপনার? আমি খুঁজে দিচ্ছি।” চায়ের কাপটা টেবিল থেকে হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেয় আবির। রাগে রীতিমতো কাঁপা শুরু করছে সে। কাঁপতে কাঁপতেই বলে, ” বা হাতে আপনি আমাকে খাবার দিন। ডান হাতে কি হয়েছে আপনার? পঁচন ধরেছে?” কাঁপা কন্ঠে নীলিমার জবাব, কি হয়েছে আপনার? এভাবে কথা বলছেন কেন? উত্তর দেয় আবির, আপনি এখনি আমার বাসা থেকে বের হয়ে যাবেন। আমি আপনাকে আর সহ্য করতে পারছি না। আবারো প্রশ্ন করে নীলিমা, আমার অপরাধ কি? কি করেছি আমি? সেটা বলুন….. রক্তচক্ষু নিয়ে আবির নীলিমার দিকে তাকায়, আপনি জানেন না কি করেছেন? নাকি স্বীকার করতে চাচ্ছেন না? হা, হা! যে অধিকার এতদিন আমি নিজ থেকে দেইনি, সেই অধিকার কালকে আপনি জোর করে আদায় করে নিলেন, তাই না। লজ্জা করেনি আপনার, একজন অচেতন মানুষের সাথে এরকম কু-কীর্তি করতে? জবাব দেয় নীলিমা, কু-কীর্তি??? পাশে থেকে ব্যাঙ্গাত্বক উক্তি ছুঁড়ে দেয় আবির। ” নাহ! আপনি কু-কীর্তি করেননি, সু-কীর্তি করেছেন।” আপনি ভুল বুঝছেন আমায়। আপনি আমার কথাটা শুনোন…. থামিয়ে দেয় আবির। চুপ। একদম চুপ। আমি আপনার কোনো কথায় শুনতে চাচ্ছি না। দয়া করে, আজকে এই মুহূর্তে এ বাসা খালি করেন। বিদায় হোন সামনে থেকে। চোখের জল লুকিয়ে ভাঙা কাপের টুকরোগুলো কুড়িয়ে বাইরে চলে যায় নীলিমা। বেশ কিছুক্ষণ পর রুমে ফিরে নীলিমা। আবির তখন সোফায় মাথায় হাত দিয়ে শুয়েছিল। সোজা কিচেনে ঢুকে নীলিমা। চুলায় ভাত বসিয়ে তরকারী কুটতে থাকে। চোখের পানিতে ওড়না ভিঁজে একাকার নীলিমার। রান্না শেষে গরম গরম খাবার টেবিলে এনে রেখে ডাক দেয় আবিরকে। খাবারের কথা বলতেই গর্জে উঠে আবির। লজ্জা করে না আপনার? এত কথা শুনার পরও এখনো এখানে দাঁড়িয়ে আছেন? এত বেহায়া কেন আপনি? রুমে ঢুকছিল সাইমা। ওদের মধ্যকার কথা বার্তা শুনে দরজা থেকেই বিদায় নিচ্ছিল সে। ডাক দেয় আবির- ” কিরে বাইরে দাঁড়িয়ে কেন? ভিতরে আয়।” সাইমা ভিতরে ঢুকে। মাথা নিচু করে জবাব দেয়, পায়েস রান্না করছিলাম। ভাবছিলাম তোকে দেই….. বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় আবির। হাসি মুখে বলে, তো আমাকে না খাইয়েই চলে যাচ্ছিস যে? দে। খাইয়ে দে। সোফার পাশে মাথা নিচু করে বসে সাইমা। আবিরের জুড়াজুড়িতে বাধ্য হয়ে আবিরের মুখে পায়েস তুলে দিচ্ছে। আবিরও ফাঁকে ফাঁকে সাইমাকে মুখে তুলে খাইয়ে দিচ্ছে। আমার রান্না করা খাবার অনাদরে পরে আছে আর ঐ শয়তান মেয়ের খাবার খাচ্ছে? রাগে ফুসে উঠে নীলিমা। টেবিলে রাখা পায়েসের বাটি যেখান থেকে দুজনে খাচ্ছে সেই বাটি হাতে নিয়ে ফ্লোরের মধ্যে ছুঁড়ে মারে নীলিমা। আবির সাইমা দুজনেই বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। আবিরকে জড়িয়ে অকথ্য ভাষায় নীলিমা সাইমাকে গালাগাল করতে থাকে। ঘটনার আকস্মিকতায় আবির ঠাস ঠাস শব্দে ৪,৫টা থাপ্পর বসিয়ে দেয় নীলিমার গালে। থাপ্পর খেয়েও উন্মাদের মত নীলিমা সাইমাকে গালিগালাজ করে যাচ্ছে। এবার মুখ খুলে আবির____ ” আপনার উপরটা, বাইরের চেহারাটা যতটা কালো তার থেকে অধিক কালো, অধিক অপরিষ্কার আপনার ভিতরটা। আজ যাকে আপনি বাজে ভাষায় গালিগালাজ করছেন তার নখেরও যোগ্য নন আপনি। আপনি আমার স্ত্রী হবার যোগ্য নন। আমার স্ত্রী হবার যোগ্যতা যদি কেউ রাখে সে সাইমার মত কোনো মেয়ে। যার মনটা আপনার মত নিচু নয়, আকাশের মত উদার।” ……………………………….. আপনি এখনো এখানে দাঁড়িয়ে আছেন? যান। এই মুহূর্তে এই বাসা থেকে বেরিয়ে যান। নীলিমা দৌঁড়ে স্টাডিরুমে গিয়ে দরজাটা বন্ধ করে দেয়। আবিরের দিকে ফিরে তাকায় সাইমা। নিচু স্বরে বলে, ও তোমায় বড্ড বেশী ভালোবাসে ভাইয়া। আজ খুব বেশী বলে ফেলেছ। এর জন্য প্রস্তাতে হবে তোমার। সাইমা চলে যায়। ঘন্টা খানেক পর রুমে ঢুকে নীলিমা। সোফায় মাথায় হাত দিয়ে আবির যে পাশটাই বসে ছিল, তার ঠিক পাশেই আবিরের মুখোমুখী বসে নীলিমা। ফিরে তাকায় আবির। কিছু বলার আগেই মুখ খুলে নীলিমা। আমি চলে যাচ্ছি। আমার জন্য তো আর কারো জীবন থেমে থাকবে না, থাকতে পারে না। হাতের সাদা কাগজটা টেবিলের উপর রাখে নীলিমা। বা হাতে একটা কলম নেয়। তারপর কাঁপা কাঁপা হাতে সাদা কাগজের মাঝখানে বড় অক্ষরে লিখে, নীলিমা। লিখা শেষে কাগজটা আবিরের দিকে এগিয়ে দিতে দিতে বলে, ” এই নিন! ২য় বিয়ে বা ডিভোর্সের সময় প্রথম বউ হিসেবে সাদা কাগজের এই সাক্ষর’টা কাজে লাগবে।” প্রতিউত্তরে কিচ্ছু বলেনি আবির। শুধু কৌতূহলের দৃষ্টিতে নীলিমার মোজা পরিহিত ডান হাতের দিকে তাকায়। নজর এড়ায় না নীলিমার। শেষ বেলায় আবিরের কৌতূহলটা মিটিয়ে দেয়ার জন্য নীলিমা ওর হাত থেকে মোজাটা খুলে কাটা হাতটা আবিরের চোখের সামনে মেলে ধরে। আবিরের চোখ মুখ দেখে বুঝা যাচ্ছে নীলিমার হাতটা দেখে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। উত্তেজিত হয়ে নীলিমার চোখের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল আবির তার আগেই ভেঁজা চোখে জবাব দেয় নীলিমা, ” ভালোবাসার অপরাধে আঙুলটা কেটে নেয়া হয়েছে…..।” শেষ কথাটা শুনে মোচড় দিয়ে উঠে আবিরের ভিতরে। চোখের কোণায় অশ্রুরা এসে ভিড় জমায়। কিন্তু অশ্রুগুলো কেন যেন বাঁধা মানছিল না, বাহিরে বেরিয়ে আসার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। মনে হচ্ছে কিছুক্ষণের ভেতর সমস্ত বাঁধা অতিক্রম করে এরা বাহিরে বের হয়ে আসবে। নিজেকে শক্ত করে আবির কিন্তু আবেগকে কন্ট্রোল করতে পারেনি। আচমকা জাপটে ধরে নীলিমার একটা হাত। প্রশ্ন করে, কি করে, কবে, কখন এ অবস্থা হলো? আমায় বলো নি কেন এতদিন? কে করল এত বড় সর্বনাশ? আমায় শুধু একটা বার বলো…. নীলিমা নিরব। আবিরের একটা প্রশ্নের উত্তরও দেয়নি। এদিকে আবির?! প্রায় কেঁদে দিবে এরকম অবস্থা। নীলিমার হাতটা ছেড়ে দু’গাল স্পর্শ করে নীলিমাকে নাড়া দেয়। প্রশ্ন করে- ” কি হলো? উত্তর দাও…..” একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নীলিমা। আবিরের হাত দুটো গাল থেকে সরিয়ে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। তারপর অত্যন্ত নরম স্বরে বলে- ” আসি…….” বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় আবির। ততক্ষণে হাতের ব্যাগটা টেনে রুম থেকে বেরিয়ে যায় নীলিমা। নীলিমা চলে যাচ্ছে, যাওয়ার আগে সিড়ির প্রত্যেকটা ধাপে ধাপে ওর অশ্রুকণা দিয়ে ওর কষ্টের,ওর ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি এঁকে দিয়ে যাচ্ছে। এদিকে আবির?!!! ‘ থ’ হয়ে পূর্বের ন্যায় সে স্থানেই দাঁড়িয়ে আছে। যেন সে কোনো ঘোরের মধ্যে আছে। ঘোর কাটে সাইমার ডাকে। ” ভাইয়া! তোমার বউ চলে যাচ্ছে তো, আটকাও ওকে। ভাইয়া, ঐ ভাইয়া….” ঘোর কাটে আবিরের। দৌঁড়ে বেডরুম থেকে বারান্দায় গিয়ে নিচে তাকায়। ততক্ষণে নীলিমা রিক্সায় উঠে পরছে। রিক্সা তার আপনগতিতে একটু একটু করে সামনের দিকে এগিয়ে চলছে। একটা সময় রিক্সাটা আবির সাইমার চোখের আড়াল হয়ে যায়। হাঁহাকার দিয়ে উঠে আবিরের ভেতরটা। তাড়াতাড়ি ডায়াল করে নীলিমার মায়ের নাম্বার। রিসিভ করে নীলিমার ছোট বোন লিমা। প্রশ্ন করে লিমা, ” ভাইয়া ভালো আছেন?” প্রতিউত্তরে আবির বলে, নীলিমার হাত কিভাবে কেটেছে? ‘থ’ হয়ে যায় লিমা। এ ধরনের প্রশ্নের জন্য ও মোটেও প্রস্তুত ছিল না। ওপাশে ঘোর নিরবতা বিরাজ করে। আবারো আবিরের তাড়া, কি হলো? বলছ না কেন? ভাইয়া আজকে কলেজে যাননি?কথা ঘুরানোর বৃথা চেষ্টা লিমার। ঝাঁঝালো কন্ঠে আবিরের উত্তর, একদম কথা ঘুরাবেনা। ওর হাত কিভাবে কেটেছে সেটা বলো। ঢোক গিলে লিমা। অস্পষ্ট গলায় জবাব দেয়- কাটেনি, কাটা হয়েছে….. কিহ?!!! চমকে উঠে আবির। উত্তর দেয় লিমা, “সেদিন আপনার ওখান থেকে ফিরে আপু সরাসরি নরসিংদী আমাদের বাসায় আসে। পরদিন ভোরের ট্রেনে আমরা চিটাগাং মামার বাসায় পৌঁছি। ইন্টার্নির জন্য আপু মামাকে সেখানকার কোনো এক হসপিটালের পাশেই বাসা ভাড়া রেখে দিতে বলছিল। তারপর দিন আংকেল(আপনার বাবা) কল করে। ওনার থেকেই জানতে পারি আমরা, আপু আপনাকে যা নয় তা বলে চলে আসছে। সেদিন আমার মা কৌশলে আপুর থেকে জেনে নিতে চেয়েছিল কি হয়েছে আপনাদের মাঝে? কিন্তু আপু নাছোড়বান্দা। ও কিচ্ছু বলেনি, উল্টো মাকে তুই-তুকারি করে কান্নায় ভাসিয়ে দিয়েছে চোখ। পরদিন আংকেল(আপনার বাবা) আবার কল করে। আমাদের জানানো হয়, আপুর শোকে আপনি অসুস্থ হয়ে গেছেন। আমরা যেন যত শিঘ্রয় সম্ভব আপনাকে দেখতে যায়। সেদিন রাত্রে আপুকে আপনার কথাটা জানানো হয়। কি জানি কি কারণে আপু রাগে গর্জে উঠে। মায়ের সাথে চোখ রাঙ্গিয়ে কথা বলে। রেগে যায় মা। কাছেই ড্রেসিংটেবিলে পরে থাকা চাকুটা আপুর হাতে চেপে ধরে। চিৎকার দিয়ে উঠে আপু।মা এতবেশী রেগে ছিল যে আপুর চিৎকার মায়ের কানে পৌঁছায়নি। মা তখনো আপুকে প্রশ্ন করেই যাচ্ছে, কি করেছে জামাই সেটা বল। ও কোনো ভুল করলে সেটাও বল। আপু কিছুতেই আপনার কোনো দোষ স্বীকার করে নি। রাগে দিশেহারা মা শরীরের সমস্ত জোর দিয়ে আপুর হাতে চাকুটা চেপে ধরে। মুহূর্তেই আপুর হাত থেকে আঙুলটাই আলাদা হয়ে যায়। আমরা তখন’ই ঐ রুমে পৌঁছি। আমাদের সবার চোখের সামনে আপু চিতল মাছের মতো তড়পাতে তড়পাতে জ্ঞান হারায়।” এটুকু বলে লিমা হাপিয়ে উঠে। এ প্রান্তে দু’চোখের নোনাজলে গাল ভিঁজে যায় আবিরের। লিমারও চোখটা ভিঁজে আসছিল। অশ্রু মুছে আবারো বলা শুরু করে লিমা- ” পরদিন ভোরে আপুকে রেখে মা আমাদের নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। আসার আগে মামা-মামিকে আপুর সম্পর্কে যা যা বলার সব বলে এসেছে। প্রথম প্রথম কয়েকমাস ওরা আপুকে ভালো ভাবে রাখলেও পরে আপুর উপর নেমে আসে অবর্ণনীয় নির্যাতন। মামি আপুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করত। শারীরিক ভাবে না হলেও আপুকে প্রতিনিয়ত মানসিকভাবে নির্যাতিত হতে হতো। মামা এসবের কিছুই জানতো না, কারণ ওনি দিনের বেশীর ভাগ সময় বাইরে কাজ করে কাটাতেন। তিনমাস পর আপু ঐ বাসা থেকে বেরিয়ে আসে। তাও আসত না। আমার আপু’টা না মাটির মানুষ ভাইয়া। খুব সরল মনের মানুষ। শত কষ্ট, শত অপমানের পরও কারো প্রতি কোনো অভিযোগ নেই আপুর। মামি যদি ওকে কিচেনের এককোণেও জায়গা দিত, তবুও সে পরে থাকত। কিন্তু মামি তা না করে আপুকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। অচেনা শহর। অসংখ্য ছেলেদের অসংখ্য বাজে ভাষা, বাজে ইঙ্গিত শুনে বহু সংগ্রাম করে কপালগুনে আপু হিয়া’পুকে খুঁজে পায়। বাকি ৯মাস ওর সাথেই ছিল। ইন্টার্নি শেষে হিয়া’পু চলে যায় ঢাকায় আর…..(……)….???” এটুকু বলে লিমা থামে। উত্তেজিত কন্ঠে প্রশ্ন করে আবির- ” আর কি?” বলতে শুরু করে লিমা- ” আপু চলে যায় আপনার গ্রামের বাড়িতে।আপনার বাবা মায়ের কাছে। সেদিন আপনার বাবা অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল আপুর থেকে। পা ধরে মাফ চাইতে গিয়েছিল আপু ওর শাশুড়ি মানে আপনার মায়ের। আপনার অসুস্থ মা শুয়ে থেকেই আপুকে লাথি মারে।” হু, হু করে কেঁদে উঠে লিমা। আবির লিমাকে থামিয়ে প্রশ্ন করে, কাঁদছ কেন? তারপর বলো না….. বলতে শুরু করে লিমা- ” আপু সেদিন ঢাকায় ফিরে যায়। হসপিটালে জয়েন করে। শুনেছি আপনার বাসার আশেপাশে’ই থাকত, আপনাকে ফলো করত, দুর থেকে দেখত। কখনো আপনার কাছে যাওয়ার সাহস পায়নি। সাহস করে জিজ্ঞেস করতে পারেনি ডায়েরীর ঐ রাত্রি মেয়েটা কে? কি হয় ও আপনার?” চমকে যায় আবির। – ডায়েরী, রাত্রি??? উত্তর দেয় লিমা, হ্যা! আপনার ডায়েরী, আর সেই ডায়েরীতে লিখা রাত্রির কথায় বলছি আমি। হোস্টেল থেকে ছুটিতে আপু যখন আমাদের বাসায় আসত, তখন আপুকে প্রায় লুকিয়ে একটা ডায়েরী পড়তে দেখতাম। কাঁদতে দেখতাম একেলা ঘরে। আপুর বদলে যাওয়ার শুরু তখন থেকেই। সেদিনও আপু ছুটিতে এসেছিল। শীতের দিন। আপু তখন বাইরে সবার সাথে আগুন পোহাচ্ছিল। সেই সুযোগে আমি আপুর ডায়েরীতে হাত দেই। বিশ্বাস করবেন কি না জানি না ভাইয়া, ডায়েরীটা পড়ে আমার বুকটা কেঁপে উঠেছিল সেদিন। আমার আপু একটু বেশীই চাপা স্বভাবের ছিল। শত কষ্টের পরও চিৎকার করে কাঁদতে পারতো না আবার কষ্টগুলো কারো সাথে শেয়ারও করত না। শুধু নিরবে চোখের জল ফেলত। তখন জানতাম না ডায়েরীর ঐ রাত্রি মেয়েটা কে ছিল, তবে এটুকু বুঝতে পারছিলাম মেয়েটা যেই হোক, মেয়েটাকে আপনি ভালোবাসেন। এতটা ভালো যতটা ভালো আমার আপু আপনাকে বেসেছিল। আর ঠিক এই কারণেই অভিমানে চুপটি করে আমার আপু একটু একটু করে আপনার জীবন থেকে দুরে সরে আসে। সেদিন আপুর ডায়েরীতে আপনি যা পড়েছিলেন সেগুলোও ঠিক আছে। ফুলশয্যার রাত্রের ঘটনাটা মেনে নিতে পারেনি আপু। ভিষণ জেদি আমার এই আপু, বিয়ের পর দিনই নিজের সাথে নিজেই দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করে যে, যেভাবেই হোক ও আপনাকে ওর মায়ায় ফেলবে। আর সেই প্রতিজ্ঞা রক্ষার জন্য’ই ও ছোট ছোট অভিনয় করতে শুরু করে। এই ধরুন- বাচ্চা, শাঁড়ি, কান্না এসব…. কিন্তু সত্যি কথা কি জানেন? আপনার মায়াবী চেহারা আপুকে খুব টানতো। অভিনয় করতে গিয়ে ধীরে ধীরে আপু আপনার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে। এটাই স্বাভাবিক। কারণ আপুও যে রক্ত-মাংসের মানুষ। কোনো অভিনেত্রী তো নয়। আর তাছাড়া আপনার অকৃত্রিম ভালোবাসা আপুকে পাকা অভিনেত্রী বানাতে পারিনি। কোথায় সেই ডায়েরী? আলমারি’তে তো দেখিনি, প্রশ্ন করে আবির। পিছন থেকে কেউ একজন বলে উঠে, এইতো….!!! কলটা কেটে পিছনে ফিরে তাকায় আবির। ডায়েরী হাতে সাইমা ডায়েরী। সেই ডায়েরী, যে ডায়েরীকে কেন্দ্র করে এতকিছু হয়ে গেল। চমকে উঠে আবির, ” তুই? এ ডায়েরী তোর কাছে এলো কিভাবে?” বলতে শুরু করে সাইমা, ” তুমি জানো নিশ্চয়। আজ থেকে ১বছর আগেকার ঘটনা এটা। আমার মা তখন কিশোরগঞ্জ সদরে হসপিটালে ভর্তি ছিল। ওনার শরীর এতটাই দুর্বল ছিল যে জরুরী ভিত্তিতে ৫ব্যাগ রক্তের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তোমার পরিচিত বন্ধুদের মধ্যে ১জনের রক্তের গ্রুপ মায়ের সাথে মিল ছিল। কিন্তু একজনের পক্ষে তো আর ৫ব্যাগ রক্ত দেয়া সম্ভব না। ডাক্তার তোমার বন্ধুর থেকে ২ব্যাগ রক্ত নেয়। বাকি রইল ৩ব্যাগ। ভেবেছিলাম ২ব্যাগ যেহেতু দেয়া হয়েছে সেহেতু পরে দিলেও সমস্যা নাই। কিন্তু হঠাৎ’ই মায়ের শরীর আগের চেয়ে আরো বেশী খারাপ হয়ে পরে। ডাক্তার জানাই রক্ত খুব শিঘ্রয়ই দরকার এবং সেটা ২দিনের ভিতর। উপয়ান্তর না পেয়ে দিশেহারা আমি সেদিন ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপ পেইজে রক্তের বিজ্ঞাপনটা দিয়ে দেই। সেদিন হিয়া নামের একটা মেয়ে ফোন করে জানায়, তার বান্ধবীর রক্তের গ্রুপ “O নেগেটিভ”, আর ওর বান্ধবী রক্ত দিতে ইচ্ছুক। আমি হিয়াকে বলে দিলাম, আপনার বান্ধবীকে বলবেন এই নাম্বারে কল দিতে আর ও যদি কালকে আসে তাহলে যেন সকাল ১১টায় গুরুদয়াল কলেজে আসে, আমি সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকব। সকাল ১০টার ভিতর হিয়ার বান্ধবী চলে আসে। কল করে আমাকে। জানতে পারলাম মেয়েটার নাম নীলিমা। সেদিনের সেই নীলিমা ছিল তোমার বউ। বিয়ের সময় উপস্থিত ছিলাম না তো, তাই চিনতে পারিনি। সেদিন নীলিমা ৩ব্যাগ রক্ত দিয়েছিল। ডাক্তার বলছিল ২ব্যাগ নিতে পারবে ওর শরীর থেকে, কিন্তু ও জানায়- ৩ব্যাগ নিলে ওর কোনো ক্ষতি’ই হবে না। শুধু নাকি একটু মাথা ঘুরবে। নাছোড়বান্দা নীলিমার কথায় সেদিন ডাক্তার ওর শরীর থেকে ৩ব্যাগ রক্ত নিতে বাধ্য হয়। একদিন কোনো রকম ধরে বেঁধে ওকে হসপিটালে রেখে ফলমূল খাইয়ে দিয়েছিলাম। পরদিন বিদায় কালে মায়ের মুখোমুখি হয়। মা ওকে চিনে ফেলে। তারপর আমরা দু’জনে পরিচিত হই। খালার মুখ থেকে নীলিমার সম্পর্কে শুনে যে বিরূপ ধারনা আমার মনে জন্ম নিয়েছিল, নিমিষেই তা আমূল পাল্টে যায়। মাত্র একদিনের পরিচয়ে যে মানুষকে এতটা আপন করে নিতে পারে, চেনাজানাহীন মানুষের বিপদে যে এভাবে সুদুর থেকে ছুটে আসতে পারে, সে আর যায় হোক কারো সাথে প্রতারণা করতে পারে না। নিশ্চয় এখানে আমাদের কোথাও ভুল হয়েছে। সত্যি’ই ভুল’ই হয়েছিল। আমার মনের ধারনাটায় ঠিক হলো। সেদিন তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে নীলিমা এই ডায়েরী কিভাবে যেন সেখানে ফেলে চলে আসে। ডায়েরী পড়ে পুরো ঘটনা বুঝতে না পারলেও কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পেরেছিলাম। উপস্থিত বুদ্ধির জোরে আদিবা আপুর সাথে দেখা করলাম। পুরো ঘটনা খুলে বললাম। আদিবা আপু ডায়েরী ফেরত দিতে নিষেধ করল। অভিমানিকে ফিরিয়ে আনার অন্য পথ বেছে নিল। সেদিন বসন্ত বরন অনুষ্ঠান চলছিল তোমাদের কলেজে। আমরা খুঁজ নিয়ে জেনেছিলাম নীলিমাও ঐদিন অনুষ্ঠানে আসছে। অনুষ্ঠান শেষের ঠিক আগ মুহূর্তে আদিবা আপু কল দেয় নীলিমার ফোনে। কথা বলার একপর্যায়ে জানায়- ” আবিরের কোনো খবর নিস? শুনলাম ও নাকি সাইমা নামের কোনো মেয়েকে ওর বাসায় জায়গা দিয়েছে। ওর সাথে নাকি রঙ তামাশা করে?” ঘুমন্ত ভালোবাসা জেগে উঠে। ভুলে যায় ভয়। প্রতিহিংসায় দগ্ধ নীলিমা সেদিন’ই তোমার গাড়ির সামনে পথ আগলে দাঁড়ায়। তারপরের ঘটনা তো তুমি জানো’ই। গর্জে উঠে আবির, তোরা সব জেনেও আমার থেকে এতকিছু গোপন কেন করলি? উত্তর দেয় সাইমা- ” তুমি তো ওকে পাগলের মতই ভালোবাসো। আমরা ভেবেছিলাম ওকে পেলে প্রথম প্রথম হয়তো রাগ দেখাইবা পরে ঠিক বুকে টেনে নিবা। তারপর না হয় সব খুলে বলা যাবে….” কান্নাজড়িত কন্ঠে আবিরের জবাব, ” আর আমি ওকে বুকে নয় পায়েও জায়গা দিতে পারলাম না। লাথি মেরে তাড়িয়ে দিলাম ওকে।” চোখের কোণে জমে থাকা জলটুকু মুছে সাইমার দিকে ফিরে তাকায়, আচ্ছা পুরো ঘটনা শুনে যে কেউ তো বলবে অপরাধী আমি, তাইনা? উত্তর দেয় সাইমা, শুধু অপরাধী বললে ভুল হবে। মস্তবড় অপরাধী। প্রশ্ন করে আবির, তবে ও কেন ওর হাতের আঙুলটা হারালো? ও তো অপরাধী নয়! তবে কেন সেদিন ও সত্যি’টা প্রকাশ করেনি? একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে সাইমার জবাব, খুব ভালোবাসে তো! তাই ভালোবাসার মানুষটিকে অপমানিত হতে দিতে চায়নি। নিজে ছোট হয়েও ভালোবাসার মানুষটিকে সম্মানের আসনে, সবচেয়ে উঁচুতে বসাতে চেয়েছে। তাইতো আঙুলটা কেটে যাচ্ছে এটা টের পাওয়া সত্ত্বেও মুখ খুলেনি। এটুকু বলেই দৌঁড়ে রুম ছেড়ে চলে যায় সাইমা। কেঁদে দেয় আবির। চোখ থেকে অনর্গল পানি ঝরছে ওর। ” এ আমি কি করলাম? এতটাই ঠুনকো আমার ভালোবাসা? আঘাতের বদৌলতে আঘাত করলাম, এই আমার ভালোবাসা? সামান্য কষ্টের বিনিময়ে দ্বিগুন কষ্ট ফিরিয়ে দিলাম ওকে?” কল করে হিয়া, হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম স্যার। জবাব দেয় আবির, নীলিমা কি তোমাদের বাসায়? উতলা কন্ঠে হিয়ার জবাব, আমি তো সেটাই বলতে ফোন দিয়েছি। এই ভরদুপুরে রৌদ্রের মধ্যে হেঁটে হেঁটে বাসা কেন খুঁজছে ও? আপনার এত বড় ফ্ল্যাটের কোনো কোণায়’ই কি খালি ছিল না নাকি? কিংবা আপনার কিচেন, বারান্দা সেগুলোও কি ফাঁকা ছিল না? ও তো এমনিতেও শুকনো, বাচ্চাদের মতই দেখতে, ওর তো একটু জায়গাতেই চলে যায়। সেই একটু জায়গাও কি স্যার আপনার বাসায় হয়নি??? অত্যন্ত দুঃখে হেসে দেয় আবির- ” লজ্জা দিচ্ছ?” উত্তেজিত কন্ঠে হিয়ার জবাব, ” তওবা! তওবা! লজ্জা কেন দিব স্যার?” দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে আবির, আচ্ছা বাদ দাও। এখন বলো ও কোন এলাকায় আছে? জবাব দেয় হিয়া, ওকে বলছিলাম আমার সাথে আসার জন্য, আসেনি। এদিকে আপনার সাথেও তো মিথ্যে বলা যাবে না। কারণ আপনি তো আমার গুরুজন। আচ্ছা, বলেই দেই। ও সম্ভবত এখন ওর আগে যেখানে ভাড়া থাকত, সেই এলাকায় যাবে। আমি এসএমএসে ঠিকানাটা পাঠিয়ে দিচ্ছি, একটু অপেক্ষা করুন স্যার। —- ওকে, তুমি এসএমএসে পাঠিয়ে দাও। আমি গাড়ি বের করছি। হিয়ার দেয়া ঠিকানা মতেই ঐ এলাকার অলিতে গলিতে নীলিমাকে খুঁজছে আবির। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে আসছে, নীলিমার সন্ধান মেলাতে পারেনি। চিৎকার দিয়ে কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছে আবিরের কিন্তু পারছে না। চোখদুটো বন্ধ করে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে আবির। এদিকে নীলিমা?!!! বাসা খুঁজতে খুঁজতে হয়রান। সবশেষে ফোন করে কলেজ বান্ধবি রিমিকে। অনুরোধ করে বলে- ” প্লিজ, আমার এই উপকারটুকু কর। আমার জরুরী ভিত্তিতে একটা বাসা দরকার। যত টাকায় লাগে দিব। প্লিজ হেল্প মি। কথা বলে দেখ, বাসা খালি আছে কি না। বিপরীতমুখী হয়ে ফোনে কথা বলছিল নীলিমা। হঠাৎ’ই পিছন থেকে কেউ একজন বলে কেউ – ” মনজমিনের সবটুকু জায়গা ফাঁকা পরে আছে, নিবে কি ভাড়া? করবে কি বসত সেখানে
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now