বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ফুলশয্যার রাত ১ম পর্ব

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Hasibul (০ পয়েন্ট)

X Listen Nilima… আমি আপনাকে বিয়ে করেছি, তার মানে এই নয় আমি এখন\’ই আপনার উপর ঝাপিয়ে পরব আমার পুরুষত্ব প্রমাণের জন্য। শরীরের প্রয়োজন তো পতিতালয়ে গিয়েও মেটানো যায়, তার জন্য বিয়ের কোনো দরকার নেই। আমি বিয়ে করেছি। তবে সেটা আমার ইচ্ছেতে নয়, আমার বাবার ইচ্ছেতে। এ বিয়েটা যেহেতু আমার সম্পূর্ণ ইচ্ছের বিরুদ্ধে হয়েছে সেহেতু আমার কাছ থেকে কখনো কোনো Husband type attitude আশা করবেন না। এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে আবির বারান্দার দিকে পা বাড়ায়। কি মনে করে যেন আবার ফিরে আসে। নীলিমা তখনও খাটের উপর চুপটি করে বসে আছে। একবার সেদিকে তাকিয়ে বিরক্তিকর ভঙ্গিতে প্রশ্ন করে, আর খাটে এসব কেন? এসব তাড়াতাড়ি সরান। আমি এসেই ঘুমাবো। ফুলের গন্ধে আমার ঘুম আসে না, তাই এসব ফুলটুল যাতে এসে না দেখি। আবির চলে গেলে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে খাট থেকে নিচে নামে নীলিমা। খাটে চেয়ার রেখে তার উপর দাঁড়িয়ে সবগুলো ফুল টেনে নিচে নামালো। চেয়ারটা আগের জায়গায় রেখে ফ্লোরে সরিয়ে ছিটিয়ে থাকা ফুলগুলো ঝাড়ু দিয়ে একজায়গায় জড়ো করে সবফুল একত্রে একটা বড় কাগজে মোড়ে বারান্দায় রেখে আসে। মিনিট ত্রিশেক পর রুমে আসে আবির। ততক্ষণে নীলিমা রুমটাকে গুছিয়ে ফেলেছে। আবির রুমে আসলে খাট থেকে কিছুটা দুরে মাথা নিচু করে দাঁড়ায় নীলিমা। \” এভাবে মূর্তির মত এখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেন? নিন। শুয়ে পরুন।\” কথাটা বলেই আবির নববধূ নীলিমার দিকে একটা চাদর আর একটা বালিশ ছুঁড়ে দেয়। নীলিমা পায়ের নিচ থেকে চাদর-বালিশটা হাতে তুলে ফ্লোরের একপাশে বিছানা করে আবিরের দিকে তাকায়। আবির তখন ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করে, \” কি হলো? আবারো দাঁড়িয়ে আছেন যে? লাইটটা অফ করে শুয়ে পরুন না এবার। উফফ্, মাথাটা যন্ত্রণা করছে।\” ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে লাইট\’টা অফ করে শুয়ে পরে নীলিমা। বালিশটা মাথার থেকে বেশ ক্ষাণিকটা দুরে। নিশ্চুপ নীলিমা হাতে ভর দিয়ে শুয়ে আছে। গরীব ঘরে জন্ম নেয়ার সুবাধে অসংখ্য মানুষের অসংখ্য কথা হজম করতে হয়েছে ওকে। নীলিমা জানতো, জীবন খুব বেশী প্রেমময় হবে না। তাই বলে এতটা অবহেলা? মেনে নিতে পারছিল না। চোখ দিয়ে অনর্গল অশ্রু গড়িয়ে পরতে শুরু করে। শেষ রাত্রিতে ঘুম ভেঙে যায় নীলিমার। ঘড়িতে তখন সময় তিনটা বেজে ০৯মিনিট। চাদর আর বালিশটা সোফায় রেখে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। অজু করে ড্রয়িংরুমের এককোণে জায়নামাজ পেতে নামাজে দাঁড়ায় নীলিমা। তাহাজ্জদ নামাজ শেষে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করছে নীলিমা। না চাইতেও কেন জানি নীলিমার চোখে জল এসে যায়, নীলিমা শব্দ করে করুণ আর্তনাদে কেঁদে উঠে। নীলিমার করুণ আর্তনাদে এ বাড়ির চার দেয়ালও যেন কেঁপে উঠে। মোনাজাত শেষে জায়নামাজটা ভাঁজ করে কোণায় রাখতে গিয়ে চোখ যায় দোতলায় দাঁড়ানো শ্বশুরের দিকে। যিনি মুগ্ধ দৃষ্টিতে পুত্রবধূর দিকে তাকিয়ে আছেন। নীলিমা উপরে গিয়ে শ্বশুরকে সালাম দেয়। অজুর পানি দেওয়ার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পরে। শ্বশুরটা সে স্থানে দাঁড়িয়েই চোখের জল ছেড়ে দেয়। যদিও রাত্রে তেমন কিছুই হয়নি তবুও গোসলটা সকাল সকাল সেরে নেয় নীলিমা। আবির তখনো গভীর ঘুমে মগ্ন। ড্রেসিংটেবিলে সামনের চেয়ারটাই বসে চুপচাপ তোয়ালে দিয়ে ভেঁজা চুল মুছছিল নীলিমা। ঠিক তখনই আবির জেগে উঠে। নীলিমাকে এভাবে আয়নার সামনে বসে থাকতে দেখে ভ্রু জোড়া কিঞ্চিৎ বাঁকা হয়ে যায় আবিরের। বিছানা থেকে উঠে বসে আবির। নীলিমা তখন চুল আচড়াতে ব্যস্ত। ধীরে কিন্তু রাগান্বিত ভাব নিয়ে আবির একটু একটু করে এগুতে থাকে ড্রেসিংটেবিলের দিকে। ড্রেসিংটেবিলের সামনে গিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে দাঁড়ায় আবির। নীলিমার দৃষ্টি এতক্ষণে আয়নার ভিতর দিয়ে আবিরের দিকে যায়। আবিরের রাগান্বিত চাহনী দেখে ভয়ে কেঁপে উঠে নীলিমা। \”ওনি এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?\” ভয়ে ভয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় নীলিমা। ভীরু চাহনীতে আবিরের দিকে তাকিয়ে ঢোক গিলে নেয় একবার। আবির তখন আর স্থির দাঁড়িয়ে নেই। একপা দু\’পা করে নীলিমার দিকেই এগিয়ে আসছে। এটা দেখে তো নীলিমার কলিজা শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম। মনে মনে আল্লাহু নাম জপছে। আবির নীলিমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার চোখ বুলিয়ে কঠিন স্বরে প্রশ্ন করে, এসব কি শুরু করছেন? নীলিমা কাঁপা গলায় প্রশ্ন করে, কিকিকিকি কি…??? ঝাঁঝালো গলায় আবিরের পাল্টা প্রশ্ন, কিসের গোসল এটা? লজ্জায় নীলিমা মাথা নিচু করে ফেলে। আবারো আবিরের তাড়া, কি হলো? জবাব দিচ্ছেন না যে? নীলিমা তখনো মাথা নিচু করে আছে। কি করে বুঝাবে ও সেটাই বুঝতে পারছে না। কি করে বলবে- \” আর যায় হোক, কেউ অন্তত এটা বিশ্বাস করবে না একটা ছেলে একটা মেয়ে ফুলশয্যার রাত্রে একই রুমে থাকার পরও তাদের মধ্যে কিছুই হয়নি। আর তাইতো….\” কি হলো? চুপ করে আছেন যে? নীলিমার কোনো জবাব নেই দেখে, আবির অট্টহাসিতে ফেটে পরে। আবিরের এমন রহস্যজনক হাসির কারন বুঝতে পারে না ছোট্ট নীলিমা। বোকার মত শুধু ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে আবিরের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর হাসি থামিয়ে নীলিমার মুখের দিকে মুখ নিয়ে যায়। নীলিমা চোখ দু\’টি বন্ধ করে ফেলে। আবির দৃঢ় গলায় বলে, অভিনয়টা তাহলে ভালো\’ই পারেন। Good, Very good…. আমিও এটাই চাই। আমাদের মধ্যকার কথা যাতে বাহিরে না যায় আমি সেটাই চাই। যাক, এ ব্যাপারে তাহলে আমায় আর কিছু বলতে হবে না। নীলিমা চোখ মেলে তাকায়। আবির ওয়াশরুমে চলে যায়। জল ছলছল দৃষ্টিতে নীলিমা আবিরের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। অজপাড়া গায়ের এক নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়ে নীলিমা। সেখানেই ওর বেড়ে উঠা। এতবড় বাড়ি, এত সুন্দর পরিবেশে দাঁড়ানোর সৌভাগ্য নীলিমার আগে কখনো হয়নি। আজ তাই রুম থেকে বের হয়ে প্রত্যেকটা কদমে কদমে মুগ্ধ দৃষ্টিতে নীলিমা এদিক সেদিক তাকাচ্ছে। \” ছমিরের মাইয়্যা নিলীর তো কপাল খুইল্যা গেছে। বড় ঘর থেইক্যা লোক নীলুরে দেইখ্যা গেছে। সামনের মাসেই বিয়া।\” \” শুনেছি পোলার বাপটা নাকি সিদাবিদা। অনেক ভালা।\” \” বড় বইনড্যাও ভালা। খালি শাওরি\’ডাই কিরাম মুখ কালা কইরা আছিল।\” \” জামাইডা পুরা হিরার টুকরা। হুনলাম শহরের বড় কলেজের মাস্টার।\” \” হ, সব\’য় কপাল। কালা অইলে কি অইব, মাইয়্যার কপাল ভালা। কপাল গুনেই এত বড় ঘরের বউ অইতে পারছে।\” নীলিমা শুনেছে। শ্বশুর বাড়ির এমন হাজারো গুনকীর্তন নীলিমা বিয়ের আগেই শুনেছে। আর সেই শুনা থেকেই নীলিমা শ্বশুর বাড়িটা মনের গভীরে কল্পনার তুলিতে এঁকে নিয়েছে। আজ এ বাড়িতে আসার পর মনে হচ্ছে যা শুনেছে, যা কল্পনা করেছে এ বাড়িটা তার থেকেও বহুগুনে সুন্দর। যা দেখে ঘোর লেগে যায় নীলিমার। ঘোর কাটে শ্বশুরের ডাকে। \” কিরে মা? বাড়ি দেখা হলো?\” নীলিমা মাথার ঘোমটা\’টা টেনে মিষ্টি হেসে মাথা ঝাকায়, জি আব্বা! \” হুম! তা পছন্দ হয়েছে তোর শ্বশুর বাড়ি?\” শ্বশুরের প্রশ্নোত্তরে মৃদু মাথা নেড়ে, শাশুড়ির রুমে ঢুকে নীলিমা। শাশুড়ি তখন খাটে হেলান দিয়ে বসে পান চিবুচ্ছে। নীলিমা কাছে গিয়ে সালাম দেয় শাশুড়িকে। আধশোয়া থেকে উঠে বিছানায় বসেন ওনি। মা! বলছিলাম কি সকালের জন্য কি ভাত রান্না করব? নীলিমার শাশুড়ি ভ্রু কুঁচকে নীলিমার দিকে তাকান। চোখে মুখে কেমন বিরক্তির ছাপ ফুটে উঠেছে ওনার। আর সেই বিরক্তিভাব নিয়েই প্রশ্ন করেন নীলিমার শাশুড়ি, কেন? বাপের বাড়িতে সকালে কি কখনো রান্না হয়নি? নাকি বাপ মা শেখায় নি কখনো? বাপ মা তুলে কথা বলাটা নীলিমা একদম সহ্য করতে পারে না। নীলিমা যথেষ্ট প্রতিবাদী মেয়ে। গ্রামে থাকলে এতক্ষণে কেউ বাপ মা তুলে কথা বললে এর উপর্যুক্ত জবাব দিয়ে দিত। কিন্তু আজ পারছে না। কারন, এ বাড়িতে আসার আগে নীলিমার মায়ের শেষ কথা ছিল- মা\’রে! পরের ঘরে যাচ্ছিস। যেখানে খুব ভেবে চিন্তে একেকটা কদম ফেলতে হয়। তাই দয়া করে যত কিছুই হোক মুখে মুখে প্রতিবাদ করিস না। পরে রাগ কমলে বুঝিয়ে বলবি। নীলিমা তাই শাশুড়ির মুখের কথায় কিচ্ছু বলেনি। চুপটি করে নীলিমা রুম থেকে বের হয়ে গিয়ে রান্নাঘরে ভাত বসায়। কাজের মেয়েটা ছুটে এসে কিছু একটা বলতে চাইছিল নীলিমাকে, তার আগেই মেয়েটাকে সরিয়ে নেয় শাশুড়ি। সকাল ০৮টা___ টেবিলে ব্রেকফাস্ট সাজিয়ে রাখছে নীলিমা। নিজেকে কেন যেন আজ ওর বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি নায়িকা সাবানার মতই লাগছে। কিরকম কারো কোনো হেল্প ছাড়াই টেবিলে খাবারগুলো থরে বিথরে সাজিয়ে রাখছে। সবাই এসে টেবিলে বসেই \”থ\” হয়ে যায়। নীলিমার তিন মামী শাশুড়ি সহ, তিন মামা, ননাস, ননাসের জামাই সবাই, সবাই কেমন হা করে একবার খাবার তো আরেকবার নীলিমার দিকে তাকাচ্ছে। শুধু নীলিমার শ্বশুর কিছু না বলেই খাওয়া শুরু করে দিয়েছে। \” কি হলো? তোমরা বসো?!!! দেখো কি মজাই না হয়েছে। নীলিমা খাবার দে তো ওদের প্লেটে।\” শ্বশুরের কথায় কাঁপা হাতে সবার প্লেটে প্লেটে ভাত দেয় নীলিমা। সবার প্লেটে ভাত দেয়া শেষে ভাতের উপর মাছের ঝুল, আলুর টুকরা আর একটা করে মাছ দেয়। হ্যাঁ, নীলিমা রান্না করেছে। ভাত, আলু ভর্তা আর পাতিল ভর্তি পানি দিয়ে মাছের ঝুল তরকারী। পল্লিগ্রামের ১৫বছরের মেয়ে নীলিমা। সবে ক্লাস নাইন থেকে টেনে উঠেছে। পড়ালেখায় ভালো ছিল বলে সবসময় পড়া লেখা\’য় করত। চুলোর আশেপাশে নীলিমা কখনো যায়নি। মায়ের কোনো হেল্প লাগলে নীলিমার মা লিমাকেই ডাকত। তাই রান্না সম্পর্কে নীলিমা কিচ্ছু জানে না। সে\’বার মা নানুর বাড়িতে গিয়েছিল। বোনটার গায়েও প্রচন্ড জ্বর ছিল। তাই বাধ্য নীলিমা সেদিন\’ই প্রথম রান্না করে। আলু ভর্তা, আর ডিম ভাজি। বিকেলে রান্না করেছিল মাছের ঝুলের তরকারী। এটুকুই শিখেছিল নীলিমা সেদিন। আজও তাই ঠিক এগুলোই রান্না করেছে নীলিমা। সবাই খাওয়া শেষে টেবিল ছেড়ে চলে গেলে নীলিমার শাশুড়ি তিক্ত গলায় নীলিমাকে কথা শুনায়___ \” এই মেয়ে! তোমার বাপ মা কি রান্নাও শেখায়নি তোমাকে….(……)….???\” – আহ, আদিবার মা। চুপ করো না। ওকে কেন ধমকাচ্ছ? মা, তুই রুমে গিয়ে দ্যাখ তো আবির উঠছে কি না? নীলিমা মাথা নিচু করে রুমের দিকে পা বাড়ায়। পিছনে ওর শ্বশুর, শাশুড়িকে থামানোর বৃথা চেষ্টা করছে, \” এবার তো একটু শান্ত হও। তুমি কার সাথে রাগ দেখাচ্ছ? ১৫বছরের এই ছোট্ট মেয়ের সাথে?! যার এই সময় ছুটাছুটি করে স্কুলে যাওয়া, খেলাধুলা করার বয়স ছিল তাকে? আরে, এতো এখনো বাচ্চা\’ই আছে। এ রান্না শিখে কি করবে? শুধু অন্তিম যাত্রায় বন্ধুর মুখের দিকে তাকিয়ে ওর শেষ ইচ্ছা পূরন করলাম, যাতে ও মরে শান্তি পায়। আর আমি বুঝি না তুমি কেন ওর পিছনে এভাবে লাগছ! ও বেচারীর কি দোষ? ও তো গিয়েছিল তোমার কাছে আর তুমি কি করছ….(…..)….??? একটু পর থেকেই এলাকার মানুষজন আসা শুরু করবে বউ দেখার জন্য। যে মহিলা ছেলের বউ দেখার জন্য পুরো দুনিয়া ছেকে ফেলেছে সে কি না শেষে অজপাড়া গায়ের কাঠ কাটে কাঠুরিয়ার এমন কালো মেয়েকে পুত্রবধূ করেছে। এ মুখ আমি সোসাইটিতে দেখাব কি করে…..(….)….??? সিড়ির উপরে দাঁড়িয়ে পুরো কথা শুনে চোখের জল ছেড়ে দিয়ে সে স্থান ত্যাগ করে নীলিমা। রুমে ঢুকতেই ভেসে এলো বাথরুম থেকে আবিরের ডাক, মা! আদিবা আপু, কেউ আছ? তোয়ালেটা দিয়ে যাও না একটু। অনেক খুঁজে তোয়ালেটা বের করে অত্যন্ত ধীর গতিতে নীলিমা সামনের দিকে এগুচ্ছে আর শাশুড়ির কথাগুলো ভাবছে। আচমকা শাঁড়ির সাথে পা আটকে হুমড়ি খায় নীলিমা। আবির ঠিক তখনই ওয়াশরুমের দরজা ক্ষাণিকটা ওপেন করে ডাক দিচ্ছিল, লেইট হয়ে যাচ্ছে তো মমম….(….)…??? তার আগেই কেল্লাফতে। হুমড়ি খেয়ে নীলিমা দরজা ঠেলে ভিতরে আবিরের উপর পরে। নাহ! কোনো সিনেমাটিক স্টাইলে ওরা একে অপরের চোখের গহীনে ডুবে থাকেনি। পরা মাত্র\’ই নীলিমা সোজা হয়ে ভয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে থরথর করে কাঁপতে থাকে। আর আবির চোখ বড় বড় করে সেদিকেই তাকিয়ে আছে। নিচের দিকে তাকিয়েই কাঁপা গলায় নীলিমা বলে, মাফ করবেন। আসলে শাঁড়ির সাথে….(…..)….??? পুরো কথা বলতে পারেনি নীলিমা। তার আগেই আবিরের রাগী কন্ঠে ভেসে এলো, যেটা পরে নিজেকেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন না, সেটা না পরলেই কি নয়? – আসলে পায়ের সাথে শাঁড়ি প্যাঁচ লাগছিল তো তাই বুঝতে পারিনি। মাফ করবেন। আবির নীলিমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে মৃদু হেসে বলে উঠে, শাঁড়ির আর কি দোষ? মানুষের দেহের চেয়ে বড় তো দেখি শাঁড়ি। ভীরু চোখে নীলিমা আবিরের দিকে তাকায়। আবিরের বুকের প্রশস্ত লোমগুলোর দিকে দৃষ্টি যায় নীলিমার।আবির কিছুটা লজ্জা পেয়ে সাথে সাথে অন্যদিকে ঘুরে যায়। ভ্যাবাচ্যাকা নীলিমা ভ্রু কুঁচকে বিষয়টা কি হয়েছে বুঝার চেষ্টা করছে। \”আমার তোয়ালে…..\” এতক্ষণে নীলিমা বুঝতে পারে আবিরের হঠাৎ এভাবে ঘুরে যাওয়ার কারন। কোনো কথা না বাড়িয়ে নীলিমা তোয়ালেটা রেখে চলে আসে ওখান থেকে। শরীরটা মুছে শরীরে কোনো রকম তোয়ালে প্যাঁচিয়ে দরজা ধাক্কা দিয়ে রুমে প্রবেশ করে আবির। দরজার ওপাশ থেকে ওহ মাগো করে বেরিয়ে আসে নীলিমা। নীলিমাকে কনুইয়ে হাত রেখে ফ্লোর থেকে উঠতে দেখে কিছুটা ভড়কে যায় আবির। প্রশ্ন করে নীলিমাকে, আপনি? আপনি এখানে কি করে? গাঁধা ফুলের মালা, দেয়ালের সাথে আটকানো। ঐটায় নামাতে গিয়েছিলাম। কাঁপা স্বরে কথাগুলো বলে নীলিমা আবিরের দিকে তাকায়। আবির দরজাটা ধাক্কা দিয়ে মিশিয়ে দেখে দরজার পাশে একটা বড় চেয়ার আর তার পাশে আদিবা আপুর বাচ্চার ছোট চেয়ার রাখা। সেগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে প্রশ্ন করে আবির, তো এগুলো এখানে কেন? আদিত্যর চেয়ার এ রুমে কেন? মাথা নিচু করে নখ চিমটাতে চিমটাতে নীলিমার জবাব, ২চেয়ার একসাথে করে উপরে উঠে মালাটা নামাতে চেয়েছিলাম। আবির এতক্ষণে বুঝতে পারে নীলিমার ওমাগো করে ফ্লোর থেকে উঠার আসল কারন। স্মিতহাস্যে আবিরের জবাব, ঐটাতো উঁকি দিয়েই নাগাল পাওয়া যায়। তার জন্য এত চেয়ারের কি দরকার? আমি তো আপনার মত বড় মানুষ না…!!! আপনি তো বড়, তাই আপনার উঁকি দিলেই চলবে। গলা ছেড়ে হেসে দেয় আবির। মুখে হাসির রেখা নিয়েই প্রশ্ন করে, তাই বুঝি! প্রশ্নোত্তরে \”খেতে আসুন\” বলেই নীলিমা রুম ছেড়ে পালায়। রাত্রের ঘটনা___ বিকেলেই সব মেহমান বিদায় নিয়েছে। এই জন্য রাত্রে ঠিক কি পরিমাণ চালের ভাত রান্না করে তা জানার জন্য নীলিমা শাশুড়ির রুমে যায়। শাশুড়ি তখন স্টার জলসা, জি বাংলা নিয়ে ব্যস্ত ছিল। নীলিমাকে প্রবেশ করতে থেকে নাটকের সাউন্ডটা একটু কমিয়ে ফেলে। ধীর গলায় নীলিমা তার শাশুড়িকে ডাক দেয়। প্রশ্ন করে, মা! বলছি মেহমানরা সবাই তো চলে গেছে, বাসায় তো এখন কয়েকজন আছি, খুব বেশী ভাত লাগবে না মনে হয়। এখন কি পরিমাণ চালের ভাত রান্না করব? প্রশ্ন শুনে নীলিমার শাশুড়ি বন্ধ করে ফেলে টিভি। তারপর চিল্লানো শুরু করে। ওনার চিল্লানো শুনে কাজের মেয়েসহ ছুটে আসে আবিরের বাবা। এসে দেখে নীলিমাকে খুব তিক্ত কথা শুনাচ্ছে ওনার স্ত্রী। পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য আবিরের বাবা নীলিমাকে জিজ্ঞেস করে, কি হয়েছে\’রে মা? উত্তরে নীলিমার শাশুড়ি যা বলে তা শুনে শ্বশুর, কাজের মেয়ে অবাক দৃষ্টিতে শাশুড়ির দিকে তাকিয়ে আছে। ওনার কথা বিশ্বাস করতে যেন ওদের কষ্ট হচ্ছে। হওয়ার\’ই কথা। শাশুড়ির ভাষ্যমতে, নীলিমা ওর শাশুড়িকে নাকি বলেছে যে ওনার বাপের বাড়ির মানুষজন একটু বেশী খায়। এখন তো ওরা চলে গেছে, এখন কি পরিমাণ চালের ভাত রান্না করবে। নীলিমার শ্বশুর কাজের মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলে, যা! তোর ভাবিরে নিয়ে যা। রান্না শুরু কর গিয়ে। আর কোনটায় কি পরিমাণ মসলা দিস সেটা ভালোভাবে দেখিয়ে তবেই রান্না করিস। মাথা নেড়ে নীলিমাকে নিয়ে রুম থেকে চলে যায় কাজের মেয়ে। আদিবার মা এখনো সময় আছে চিন্তাধারা, মন-মানসিকতা পরিবর্তন করো। না হলে তোমায় পরে প্রস্তাতে হবে। ভুলে যেও না, তুমিও একজন মেয়ের মা। জবাবে কিচ্ছু বলেনি নীলিমার শাশুড়ি। শুধু মুখটা কালো করে অন্যদিকে ঘুরিয়ে নেয়। রাত্রে খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষে সবাই সবার রুমে চলে গেলে ভয়ে ভয়ে নীলিমা আবিরের রুমের দিকে পা বাড়ায়। আবির বিছানায় চুপটি করে বসেছিল। নীলিমাকে দেখে কিছুটা নড়ে বসে। \” কি হলো? ঐখানে দাঁড়িয়ে কেন? আসেন।\” ধীর পায়ে নীলিমা রুমে প্রবেশ করে। আবির বিছানায় আর নীলিমা সোফায় চুপটি করে বসে আছে। কারো মুখেই কোনো কথা নেই। এভাবে মিনিট ত্রিশেক অতিবাহিত হওয়ার পর মুখ খুলে আবির বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায়। নীলিমার দিকে তাকিয়ে বলে, রাত তো অনেক হয়েছে। শুয়ে পরুন। আমি একটু বাইরে যাচ্ছি। আবির বাইরে চলে গেলে নীলিমা সোফা থেকে উঠে দাঁড়ায়। খাট থেকে একটা বালিশ নিয়ে রুমের এককোণ ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করে গুটিসুটি মেরে সেখানটায় শুয়ে পরে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া শেষে রাত্রি সাড়ে এগারোটার দিকে বাসায় ফিরে আবির। দরজাটা ফাঁক করে রুমে ঢুকে আবির খাট ফাঁকা দেখতে পায়। \”ও কি তাহলে ঘুমায়নি এখনো?\” হয়তো বাথরুমে গেছে এটা ভেবেই আবির চুপটি করে বিছানার একপাশ খালি রেখে অন্যপাশে গিয়ে শুয়ে পরল। কিন্তু একি? আধ ঘন্টারও বেশী সময় হয়ে গেল, ও আসছে না কেন? বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় আবির। বাথরুমে গিয়ে নীলিমাকে না পেয়ে চমকে যায়। এত রাত্রে কোথায় গেল তাহলে? বাসায় তো সবাই ঘুমিয়ে গেছে। নীলিমা, নীলিমা করে ডাকতে ডাকতে রুমে যায়। কোণায় কিছু একটা নড়ছে, কি ওখানে? আবিরের দৃষ্টি যায় রুমের এককোণে যেখানে নীলিমা গুটিসুটি মেরে শুয়ে ছিল। আবিরের ডাক শুনে শুয়া থেকে উঠে বসে নীলিমা। বাচ্চাদের মত চোখ কচলে আবিরের দিকে ফিরে তাকায় সে। ভয়ে ভয়ে প্রশ্ন করে আবিরকে, কি হয়েছে? আবির মাথা ঝাকিয়ে উত্তর দেয়- না, কিছু না! ওহ, বলে নীলিমা পূর্বের ন্যায় গুটিসুটি মেরে শুয়ে পরে। আবির দাঁড়িয়ে থেকেই প্রশ্ন করে, ফ্লোরে শুয়ে আছেন কেন? প্রশ্ন শুনে, শুয়া থেকেই আবিরের দিকে তাকায় নীলিমা। ইতস্তত আবির বলে, না মানে আপনার কোনো অসুবিধা হবে না তো ফ্লোরে ঘুমাতে? তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে নীলিমার জবাব, আমার বাবার আপনাদের মত এত বড় বাড়ি নেই। আমাদের একটা ছোট্ট ঘর আছে। তার মাঝে বেড়া দেয়া। ঘরে একটাই মাত্র পুরনো চৌকি। বাবা, মা, আর ছোট্ট ভাইসহ আমরা ৫জন সেই চৌকিতেই ঘুমিয়েছি অনেক বছর। তার একটু বড় হতেই আমি আর লিমা ওনাদের থেকে আলাদা হয়ে যায়। আমাদের জন্য ঘরের মাঝখানে বেড়া দিয়ে তার পাশে বিছানা করা হয়। সেই থেকে খেজুর পাতার চাটাই পেতে আমি আমার বোন মাটিতে ঘুমাতাম। সেই মেয়েকে আপনি অসুবিধের কথা বলছেন? চুপ হয়ে যায় আবির। চোখের কোণে অশ্রুরা জড়ো হয়। লাইট\’টা অফ করে চুপটি করে শুয়ে পরে আবির। কপালে হাত রেখে শুয়ে আছে আবির। ওর কানের কাছে বার বার বন্ধুর বলা কথাগুলো প্রতিধ্বণিত হচ্ছে- \” বাবা-বোন-দুলাভাইয়ের সাথে রাগ, প্রথম রাতেই বউয়ের সাথে উঁচু গলায় কথা, ধমক, বালিশ ছুঁড়ে দেয়া এসবের কারন একটাই। আর সেটা হলো মেয়েটা কালো। তোর মনের মত নয়। আমরা বুঝে গেছিরে আবির, যতই মুখে বড় বড় কথা বলিস তুই ঠিক অন্য ৮,১০টা মানুষের মতই। ঘৃণা করিস কালোদের। বাঁকা দৃষ্টিতে দেখিস। শিক্ষিত হলেও তোর মন-মানসিকতা, চিন্তা-ধারা প্রাচীন কালের মানুষের মতই রয়ে গেছে আবির।\” আবির ভাবছে, সত্যি\’ই কি আমার চিন্তাধারা এরকম? আমি কি সত্যি\’ই ওর গায়ের রঙে অসন্তুষ্ট? না, না… এ হতে পারে না। যে আবির কলেজে শত, শত ছেলে মেয়েদের নৈতিকতার শিক্ষা দেয়, মানুষের মত মানুষ হওয়ার শিক্ষা দেয়, সে আর যায় হোক অমানুষ হতে পারে না। আচ্ছা, অমানুষ না হলে আমি ওকে কেন বউ হিসেবে মেনে নিতে পারছি না? ওর অপরাধ কোথায়? কি করেছে ও? কেন আমি ওকে দুরে সরিয়ে দিলাম? এর পিছনে কি কারণ? ওর বয়স নাকি গায়ের রঙ? উত্তর খুঁজে না পেয়ে বিছানায় উঠে বসে আবির। লাইটটা জ্বালিয়ে ধীর পায়ে নীলিমার দিকে এগিয়ে যায়। মনে হচ্ছে ঘুমিয়ে গেছে। আর ঘুমোবে না? এটুকু মেয়ে হয়েও সারাটা দিন যেভাবে শুধু দৌঁড়িয়ে কাজ করছে, তাতে ক্লান্ত হওয়ার\’ই কথা। মাথার বালিশ কনুইয়ের নিচে দিয়ে বেঘোরে ঘুমুচ্ছে নীলিমা। বালিশ ঠিক করতে গিয়ে আবির দেখতে পায় নীলিমার কনুই কেমন কালো হয়ে আছে। মুহূর্তেই সকালের ঘটনার কথা মনে হয়ে যায়। একটা হাসি দিয়ে আবির নীলিমাকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেয়। তারপর গায়ে চাঁদর টেনে দিয়ে, লাইটটা অফ করে চুপটি করে নীলিমার পাশে শুয়ে পরে। সকালে ঘুম ভাঙলে নীলিমা নিজেকে খাটে আবিষ্কার করে। ভড়কে যায় আরো যখন পাশে শুয়ে থাকা আবিরের উপর ওর একটা পা আর একটা হাত উঠানো দেখে। আমি তাহলে ঘুমের ঘোরে হাঁটতে হাঁটতে এখানে এসে পরলাম না তো? নিশ্চয় আমার পুরনো রোগ জেগে উঠেছে। ভয়ে নীলিমার বুক ধুকপুক করছে। দু\’লাফে নীলিমা আবির জেগে উঠার আগে রুম ছেড়ে পালায়। – আসলে পায়ের সাথে শাঁড়ি প্যাঁচ লাগছিল তো তাই বুঝতে পারিনি। মাফ করবেন। আবির নীলিমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে মৃদু হেসে বলে উঠে, শাঁড়ির আর কি দোষ? মানুষের দেহের চেয়ে বড় তো দেখি শাঁড়ি। ভীরু চোখে নীলিমা আবিরের দিকে তাকায়। আবিরের বুকের প্রশস্ত লোমগুলোর দিকে দৃষ্টি যায় নীলিমার।আবির কিছুটা লজ্জা পেয়ে সাথে সাথে অন্যদিকে ঘুরে যায়। ভ্যাবাচ্যাকা নীলিমা ভ্রু কুঁচকে বিষয়টা কি হয়েছে বুঝার চেষ্টা করছে। \”আমার তোয়ালে…..\” এতক্ষণে নীলিমা বুঝতে পারে আবিরের হঠাৎ এভাবে ঘুরে যাওয়ার কারন। কোনো কথা না বাড়িয়ে নীলিমা তোয়ালেটা রেখে চলে আসে ওখান থেকে। শরীরটা মুছে শরীরে কোনো রকম তোয়ালে প্যাঁচিয়ে দরজা ধাক্কা দিয়ে রুমে প্রবেশ করে আবির। দরজার ওপাশ থেকে ওহ মাগো করে বেরিয়ে আসে নীলিমা। নীলিমাকে কনুইয়ে হাত রেখে ফ্লোর থেকে উঠতে দেখে কিছুটা ভড়কে যায় আবির। প্রশ্ন করে নীলিমাকে, আপনি? আপনি এখানে কি করে? গাঁধা ফুলের মালা, দেয়ালের সাথে আটকানো। ঐটায় নামাতে গিয়েছিলাম। কাঁপা স্বরে কথাগুলো বলে নীলিমা আবিরের দিকে তাকায়। আবির দরজাটা ধাক্কা দিয়ে মিশিয়ে দেখে দরজার পাশে একটা বড় চেয়ার আর তার পাশে আদিবা আপুর বাচ্চার ছোট চেয়ার রাখা। সেগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে প্রশ্ন করে আবির, তো এগুলো এখানে কেন? আদিত্যর চেয়ার এ রুমে কেন? মাথা নিচু করে নখ চিমটাতে চিমটাতে নীলিমার জবাব, ২চেয়ার একসাথে করে উপরে উঠে মালাটা নামাতে চেয়েছিলাম। আবির এতক্ষণে বুঝতে পারে নীলিমার ওমাগো করে ফ্লোর থেকে উঠার আসল কারন। স্মিতহাস্যে আবিরের জবাব, ঐটাতো উঁকি দিয়েই নাগাল পাওয়া যায়। তার জন্য এত চেয়ারের কি দরকার? আমি তো আপনার মত বড় মানুষ না…!!! আপনি তো বড়, তাই আপনার উঁকি দিলেই চলবে। গলা ছেড়ে হেসে দেয় আবির। মুখে হাসির রেখা নিয়েই প্রশ্ন করে, তাই বুঝি! প্রশ্নোত্তরে \”খেতে আসুন\” বলেই নীলিমা রুম ছেড়ে পালায়। রাত্রের ঘটনা___ বিকেলেই সব মেহমান বিদায় নিয়েছে। এই জন্য রাত্রে ঠিক কি পরিমাণ চালের ভাত রান্না করে তা জানার জন্য নীলিমা শাশুড়ির রুমে যায়। শাশুড়ি তখন স্টার জলসা, জি বাংলা নিয়ে ব্যস্ত ছিল। নীলিমাকে প্রবেশ করতে থেকে নাটকের সাউন্ডটা একটু কমিয়ে ফেলে। ধীর গলায় নীলিমা তার শাশুড়িকে ডাক দেয়। প্রশ্ন করে, মা! বলছি মেহমানরা সবাই তো চলে গেছে, বাসায় তো এখন কয়েকজন আছি, খুব বেশী ভাত লাগবে না মনে হয়। এখন কি পরিমাণ চালের ভাত রান্না করব? প্রশ্ন শুনে নীলিমার শাশুড়ি বন্ধ করে ফেলে টিভি। তারপর চিল্লানো শুরু করে। ওনার চিল্লানো শুনে কাজের মেয়েসহ ছুটে আসে আবিরের বাবা। এসে দেখে নীলিমাকে খুব তিক্ত কথা শুনাচ্ছে ওনার স্ত্রী। পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য আবিরের বাবা নীলিমাকে জিজ্ঞেস করে, কি হয়েছে\’রে মা? উত্তরে নীলিমার শাশুড়ি যা বলে তা শুনে শ্বশুর, কাজের মেয়ে অবাক দৃষ্টিতে শাশুড়ির দিকে তাকিয়ে আছে। ওনার কথা বিশ্বাস করতে যেন ওদের কষ্ট হচ্ছে। হওয়ার\’ই কথা। শাশুড়ির ভাষ্যমতে, নীলিমা ওর শাশুড়িকে নাকি বলেছে যে ওনার বাপের বাড়ির মানুষজন একটু বেশী খায়। এখন তো ওরা চলে গেছে, এখন কি পরিমাণ চালের ভাত রান্না করবে। নীলিমার শ্বশুর কাজের মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলে, যা! তোর ভাবিরে নিয়ে যা। রান্না শুরু কর গিয়ে। আর কোনটায় কি পরিমাণ মসলা দিস সেটা ভালোভাবে দেখিয়ে তবেই রান্না করিস। মাথা নেড়ে নীলিমাকে নিয়ে রুম থেকে চলে যায় কাজের মেয়ে। আদিবার মা এখনো সময় আছে চিন্তাধারা, মন-মানসিকতা পরিবর্তন করো। না হলে তোমায় পরে প্রস্তাতে হবে। ভুলে যেও না, তুমিও একজন মেয়ের মা। জবাবে কিচ্ছু বলেনি নীলিমার শাশুড়ি। শুধু মুখটা কালো করে অন্যদিকে ঘুরিয়ে নেয়। রাত্রে খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষে সবাই সবার রুমে চলে গেলে ভয়ে ভয়ে নীলিমা আবিরের রুমের দিকে পা বাড়ায়। আবির বিছানায় চুপটি করে বসেছিল। নীলিমাকে দেখে কিছুটা নড়ে বসে। \” কি হলো? ঐখানে দাঁড়িয়ে কেন? আসেন।\” ধীর পায়ে নীলিমা রুমে প্রবেশ করে। আবির বিছানায় আর নীলিমা সোফায় চুপটি করে বসে আছে। কারো মুখেই কোনো কথা নেই। এভাবে মিনিট ত্রিশেক অতিবাহিত হওয়ার পর মুখ খুলে আবির বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায়। নীলিমার দিকে তাকিয়ে বলে, রাত তো অনেক হয়েছে। শুয়ে পরুন। আমি একটু বাইরে যাচ্ছি। আবির বাইরে চলে গেলে নীলিমা সোফা থেকে উঠে দাঁড়ায়। খাট থেকে একটা বালিশ নিয়ে রুমের এককোণ ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করে গুটিসুটি মেরে সেখানটায় শুয়ে পরে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া শেষে রাত্রি সাড়ে এগারোটার দিকে বাসায় ফিরে আবির। দরজাটা ফাঁক করে রুমে ঢুকে আবির খাট ফাঁকা দেখতে পায়। \”ও কি তাহলে ঘুমায়নি এখনো?\” হয়তো বাথরুমে গেছে এটা ভেবেই আবির চুপটি করে বিছানার একপাশ খালি রেখে অন্যপাশে গিয়ে শুয়ে পরল। কিন্তু একি? আধ ঘন্টারও বেশী সময় হয়ে গেল, ও আসছে না কেন? বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় আবির। বাথরুমে গিয়ে নীলিমাকে না পেয়ে চমকে যায়। এত রাত্রে কোথায় গেল তাহলে? বাসায় তো সবাই ঘুমিয়ে গেছে। নীলিমা, নীলিমা করে ডাকতে ডাকতে রুমে যায়। কোণায় কিছু একটা নড়ছে, কি ওখানে? আবিরের দৃষ্টি যায় রুমের এককোণে যেখানে নীলিমা গুটিসুটি মেরে শুয়ে ছিল। আবিরের ডাক শুনে শুয়া থেকে উঠে বসে নীলিমা। বাচ্চাদের মত চোখ কচলে আবিরের দিকে ফিরে তাকায় সে। ভয়ে ভয়ে প্রশ্ন করে আবিরকে, কি হয়েছে? আবির মাথা ঝাকিয়ে উত্তর দেয়- না, কিছু না! ওহ, বলে নীলিমা পূর্বের ন্যায় গুটিসুটি মেরে শুয়ে পরে। আবির দাঁড়িয়ে থেকেই প্রশ্ন করে, ফ্লোরে শুয়ে আছেন কেন? প্রশ্ন শুনে, শুয়া থেকেই আবিরের দিকে তাকায় নীলিমা। ইতস্তত আবির বলে, না মানে আপনার কোনো অসুবিধা হবে না তো ফ্লোরে ঘুমাতে? তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে নীলিমার জবাব, আমার বাবার আপনাদের মত এত বড় বাড়ি নেই। আমাদের একটা ছোট্ট ঘর আছে। তার মাঝে বেড়া দেয়া। ঘরে একটাই মাত্র পুরনো চৌকি। বাবা, মা, আর ছোট্ট ভাইসহ আমরা ৫জন সেই চৌকিতেই ঘুমিয়েছি অনেক বছর। তার একটু বড় হতেই আমি আর লিমা ওনাদের থেকে আলাদা হয়ে যায়। আমাদের জন্য ঘরের মাঝখানে বেড়া দিয়ে তার পাশে বিছানা করা হয়। সেই থেকে খেজুর পাতার চাটাই পেতে আমি আমার বোন মাটিতে ঘুমাতাম। সেই মেয়েকে আপনি অসুবিধের কথা বলছেন? চুপ হয়ে যায় আবির। চোখের কোণে অশ্রুরা জড়ো হয়। লাইট\’টা অফ করে চুপটি করে শুয়ে পরে আবির। কপালে হাত রেখে শুয়ে আছে আবির। ওর কানের কাছে বার বার বন্ধুর বলা কথাগুলো প্রতিধ্বণিত হচ্ছে- \” বাবা-বোন-দুলাভাইয়ের সাথে রাগ, প্রথম রাতেই বউয়ের সাথে উঁচু গলায় কথা, ধমক, বালিশ ছুঁড়ে দেয়া এসবের কারন একটাই। আর সেটা হলো মেয়েটা কালো। তোর মনের মত নয়। আমরা বুঝে গেছিরে আবির, যতই মুখে বড় বড় কথা বলিস তুই ঠিক অন্য ৮,১০টা মানুষের মতই। ঘৃণা করিস কালোদের। বাঁকা দৃষ্টিতে দেখিস। শিক্ষিত হলেও তোর মন-মানসিকতা, চিন্তা-ধারা প্রাচীন কালের মানুষের মতই রয়ে গেছে আবির।\” আবির ভাবছে, সত্যি\’ই কি আমার চিন্তাধারা এরকম? আমি কি সত্যি\’ই ওর গায়ের রঙে অসন্তুষ্ট? না, না… এ হতে পারে না। যে আবির কলেজে শত, শত ছেলে মেয়েদের নৈতিকতার শিক্ষা দেয়, মানুষের মত মানুষ হওয়ার শিক্ষা দেয়, সে আর যায় হোক অমানুষ হতে পারে না। আচ্ছা, অমানুষ না হলে আমি ওকে কেন বউ হিসেবে মেনে নিতে পারছি না? ওর অপরাধ কোথায়? কি করেছে ও? কেন আমি ওকে দুরে সরিয়ে দিলাম? এর পিছনে কি কারণ? ওর বয়স নাকি গায়ের রঙ? উত্তর খুঁজে না পেয়ে বিছানায় উঠে বসে আবির। লাইটটা জ্বালিয়ে ধীর পায়ে নীলিমার দিকে এগিয়ে যায়। মনে হচ্ছে ঘুমিয়ে গেছে। আর ঘুমোবে না? এটুকু মেয়ে হয়েও সারাটা দিন যেভাবে শুধু দৌঁড়িয়ে কাজ করছে, তাতে ক্লান্ত হওয়ার\’ই কথা। মাথার বালিশ কনুইয়ের নিচে দিয়ে বেঘোরে ঘুমুচ্ছে নীলিমা। বালিশ ঠিক করতে গিয়ে আবির দেখতে পায় নীলিমার কনুই কেমন কালো হয়ে আছে। মুহূর্তেই সকালের ঘটনার কথা মনে হয়ে যায়। একটা হাসি দিয়ে আবির নীলিমাকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেয়। তারপর গায়ে চাঁদর টেনে দিয়ে, লাইটটা অফ করে চুপটি করে নীলিমার পাশে শুয়ে পরে। সকালে ঘুম ভাঙলে নীলিমা নিজেকে খাটে আবিষ্কার করে। ভড়কে যায় আরো যখন পাশে শুয়ে থাকা আবিরের উপর ওর একটা পা আর একটা হাত উঠানো দেখে। আমি তাহলে ঘুমের ঘোরে হাঁটতে হাঁটতে এখানে এসে পরলাম না তো? নিশ্চয় আমার পুরনো রোগ জেগে উঠেছে। ভয়ে নীলিমার বুক ধুকপুক করছে। দু\’লাফে নীলিমা আবির জেগে উঠার আগে রুম ছেড়ে পালায়। বাসা থেকে বেশ ক্ষাণিক\’টা দুরে গিয়ে আবির থামে। নীলিমা তখনও দৌঁড়াচ্ছে। নীলিমার জন্য দাঁড়িয়ে ছিল আবির, তখনি আবিরের বাবার ফোন। কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে বলে উঠে- \” এভাবে রাগ দেখিয়ে হনহনিয়ে এক কাপড়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেলি, তো বউয়ের কাপড়-চোপড় কেনার জন্য টাকা কি কিছু আছে সাথে?\” উফফ্! বাবা আমি ভুলে গিয়েছিলাম। প্লিজ বাবা আদিবা আপুকে ফোনটা দাও। উতলা কন্ঠে আবিরের জবাব। এত উতলা হতে হবে না। আদিবা আলমারি থেকে কাপড়-চোপড় বের করছে। তুই মোড়ে একটু দাঁড়া। ঠিক আছে, বাবা! রাখি….. আবির কল রেখে পাশে নীলিমার দিকে তাকায়। নীলিমা এতক্ষণে ওর কাছে এসে পৌঁছেছে আর বড় বড় নিঃশ্বাস ফেলছে। আবির সেদিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে নীলিমাকে, কি হলো হাফাচ্ছ কেন? নীলিমা:- আপনার জন্য\’ই তো…. আবির:- আমার জন্য??? নীলিমা:- তা, নয়তো কি? এভাবে কেউ দৌঁড়ায়? আবির নীলিমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত ভালো করে দেখে প্রশ্ন করে, উচ্চতা কত? নীলিমা:- ৫ফিট, দেড়….. আবির:- এই জন্য\’ই তো……. নীলিমা:- কি? আবির:- দৌঁড়াচ্ছ তুমি, আমি নয়। নীলিমা:-…(মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে) মিনিট পাঁচেক পর সেখানে উপস্থিত হয় আবিরের বোন আদিবা। নীলিমার হাতে কাপড়ের ব্যাগটা দিয়ে আবিরের হাতে কিছু টাকা তুলে দেয়। অতঃপর বিদায় নেয় আদিবা…… আরো মিনিট দশেক হেঁটে তবেই বাসস্টপে পৌঁছতে হবে ওদের, কারণ এখানে গাড়ি-ঘোড়া পাওয়া যায় না। তাই আবির আবারো হাঁটা শুরু করলে পিছন দিয়ে দৌঁড়ানো শুরু করে নীলিমা। কিছুদুর গিয়েই থেমে যায় আবির। ফিরে তাকায় নীলিমার দিকে। নীলিমা দৌঁড়ে এসে আবিরের সাথে একত্রিত হলো। দাও, ব্যাগটা আমার কাছে দাও। নীলিমা হাত বাড়াতেই আবির ব্যাগটা নিয়ে নেয়। তারপর গম্ভীর কন্ঠে বলে, এবার হাঁটো….. পিছনে যাতে না পরো। নীলিমা:- আজ ছোট বলে…..???? আবির মুচকি হেসে পাশে ফিরে তাকায়। নীলিমা তখন আবিরের সমানে সমানে থাকার জন্য দৌঁড়াচ্ছে রীতিমত। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ি থেকে বের হলেও প্রচন্ড জ্যামে আটকে থাকার কারনে আবির নীলিমাকে নিয়ে সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকায় নিজ বাসায় পৌঁছে। ক্লান্ত আবির ব্যাগটা আলমারির ভিতর ঢুকিয়ে রেখে বিছানায় ধপাস করে শুয়ে পরে। এদিকে নীলিমা কৌতূহলী দৃষ্টিতে রুমের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে তাকাচ্ছে ঠিক যেমনটা রাস্তায় করেছিল। জীবনের প্রথম শহরে এসেছে, তাই অবাক দৃষ্টিতে বিশ্ব রোডের নিচে দাঁড়িয়ে ঘুরঘুর করছিল নীলিমা। চালককে ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে আবির নীলিমার এ হেন আচরণ দেখে মিটিমিটি হাসছিল। নীলিমার তাতে কোনো খেয়াল নেই। ও তখনও গোল হয়ে যাওয়া রাস্তার দিকে ঢ্যাব ঢ্যাব করে তাকিয়ে। কাছে গিয়ে ছুঁয়ে দিতেই হুশ হয় নীলিমার। আরেকবার এভাবে ঘুরঘুর করতে গিয়ে গাড়ি চাপা পরছিল, অল্পের জন্য বেঁচে গেছে। ভাগ্যিস, আবির টান মেরে কাছে নিয়ে আসছে। এটা রুম, বিশ্ব রোড না। ঘুর ঘুর করা রেখে, ফ্রেশ হয়ে আসো। আবিরের কথায় ঘোর কাটে নীলিমার। যাচ্ছি বলে দরজা দিয়ে বাহির হয়ে আরেক বাসার রুমে প্রায় ঢুকে পরছিল, দরজার সামনে থেকে আবির গিয়ে নীলিমাকে টেনে আনে। তারপর ওয়াশরুমের কাছে নিয়ে যায়। আবির:- এটা ওয়াশরুম, আর যেখানে ঢুকছিলা ঐটা বেডরুম। সদ্য বিবাহিত এক দম্পতি ঐখানে ভাড়া থাকে। নীলিমা:- আসলে আমি জানতাম না…(মন খারাপ করে) আবির:- ইটস ওকে। নীলিমা:- আপনিও কি এখানকার ভাড়াটিয়া??? ফিরে তাকায় আবির। একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলে, এটা আমার বাবার ফ্ল্যাট বাসা। কিনে ভাড়া দিয়ে রাখছে। সারাদিনের জার্নি, ক্লান্ত শরীর নিয়ে আবির কিচেনে যেতে পারবে না বলে বাহির থেকে খাবার কিনিয়ে আনল। বিরিয়ানির প্যাক। নীলিমার হাতে একটা দিয়ে আবির খাওয়া শুরু করল। নীলিমা ঢ্যাব, ঢ্যাব করে আবিরের দিকে তাকিয়ে আছে। আবিরের তাতে কোনো খেয়াল\’ই নেই। পানি খেতে বোতল নেয়ার সময় হাত বাড়ালেই আবির নীলিমাকে আগের মতই বিরিয়ানির প্যাক হাতে নিয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখতে পায়। আবির:- কি হলো? দাঁড়িয়ে আছ যে? খাবে কখন? নীলিমা:- এখন। আবির:- হুম, বসো…. নীলিমা খেতে খেতে আবিরকে প্রশ্ন করে, আপনার বাবার তো মাশাআল্লাহ অনেক সম্পত্তি আছে। তাহলে আপনি এত কিপ্টা কেন? What? বিস্মিত চোখে আবির নীলিমার দিকে ফিরে তাকায়। কিপ্টা মানে? কি বলতে চাচ্ছো তুমি? নীলিমা ভয়ে ঢোক গিলে। তারপর আমতা আমতা করে বলে, না মানে আপনার বাসায় প্লেট নেই তো তাই বলছিলাম। অবাকের চূড়ান্ত সীমায় আবির, কে বলল প্লেট নেই? আমার যতগুলো খাবার প্লেট আছে, ততগুলো প্লেট কোনো ব্যাচেলর ছেলের নেই। তাহলে এসবে খান কেন? নীলিমা ওর হাতে রাখা বিরিয়ানির প্যাকটা দেখিয়ে বলে। এতক্ষণে আবির আসল ঘটনা বুঝতে পারে। কোনো রকম হাসি আটকিয়ে বলে, এই শখ হলো আর কি! তাই খেলাম আজকে….. খাওয়া দাওয়া শেষে আবির নীলিমাকে রুমে বসতে বলে, উপরে ভাড়াটিয়াদের রুমে যায়। আবির:- আসব? রিতু:- জ্বি, ভাইয়া আসুন। আবির:- আড্ডা দিচ্ছিলে নাকি? মিতু:- খেয়েছি তো, তাই একটু….. হেনা:- ভাইয়া বসুন।(চেয়ার টেনে দিয়ে) আবির:- আসলে তোমাদের তো বলেছি\’ই সকালে ফোনে তোমাদের ভাবির সম্পর্কে। ও আসছে আজকে আমার সাথে। এখন তোমরা কি সিদ্ধান্ত নিলা? রোসা:- ভাইয়া আমি তো বেডে একা একা\’ই থাকি। ভাবি থাকতে পারবে। আমার কোনো সমস্যা হবে না। আবির:- ওকে, তোমরা তাহলে পড়াশুনা করো। পরে না হয় ওকে দিয়ে যাব। আবির রুমে চলে আসল। নীলিমাকে ভালো ভাবে বুঝিয়ে শুনিয়ে কিছুক্ষণ পর ওদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে চলে আসল। পরদিন রাত্রিবেলার ঘটনা___ ডিনার করে আবির একটু বাইরে গিয়েছিল, বাইরে থেকে এসে দেখে নীলিমা মুখ ভার করে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। প্রশ্ন করে আবির, কি হলো? মন খারাপ? মন খারাপ করে উত্তর দেয় নীলিমা, আমি ওদের সাথে থাকব না। আবির:- কিন্তু কেন? নীলিমা:- ওরা কিসব কথা বলে, হাসাহাসি করে। আমার ভাল্লাগে না। আবির:- ওরা পড়াশুনা করে একটু মজা করে। আর কথা কিন্তু তুমিও কম পারো না। তাই প্লিজ, আর কোনো অজুহাত নয়, চলো। আবির নীলিমাকে একরকম জোর করেই উপরে রুমে দিয়ে আসে। রুমে এসে শুইছিল আবির। প্রায় ঘন্টাখানেক বিছানায় ছটফট করে উঠে বসে আবির। কোনো ভাবেই ভালো লাগছে না দেখে ছাদে যায়। ছাদ থেকে ফেরার সময় অনেক হাসাহাসির আওয়াজ আসে রুম ঐ মেয়েদের রুম থেকে। কিসের এত হাসি এটা বলার জন্য দরজার কাছে যেতেই আবির থমকে যায়। কিসব উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করছিল ওরা নীলিমাকে। রোসা:- তোদের একটুও লজ্জা নেই? এই ছোট্ট মেয়েকে কি সব আজেবাজে প্রশ্ন করছিস তোরা? রিতু:- আজেবাজে নয়, তাই না ছোট আপু? আসো, বসো এখানে। মিতু:- আচ্ছা, নীলিমা এবার একটু বলো তো বাসর রাত্রে কি হয়েছিল তোমাদের মাঝে? নীলিমা:- কি হবে?(বোকার মত) হেনা:- মানে কিভাবে শুরু করছ….?!!! রিতু:- হ্যাঁ, হ্যাঁ! বলো বলো…. নীলিমা:- কি শুরু করব? আমি ফ্লোরে ঘুমাইছি, আর ওনি খাটে। মিতু:- ইয়া আল্লাহ! তোমরা আলাদা ঘুমিয়েছিল? তোমাদের হয়নি…? নীলিমা:- আপু আমি আপনাদের কথা বুঝি না। আর আমার ঘুম পেয়েছে। ঘুমাবো… নীলিমা উঠতে গেলে ওকে টান দিয়ে হেনা বসিয়ে দেয়। তারপর আবারো প্রশ্ন করে, বলছি তোমার বর কি তোমার শাঁড়ির আচল ধরে টান দেয়নি? বোকা মেয়ে লাফিয়ে উঠে বলে- হ্যাঁ, আপু! দিয়েছে তো। কালকে সকালে ওনি আমার আঁচল ধরে টান দিয়েছিল। সবাই একসাথে বলে উঠল, ওয়াও! রোসা বিছানা থেকে লাফিয়ে উঠে বলল, ওরে কেউ আমারে মাইরালা। চুপ কর এলিয়েন! শুয়ে আছিস, শুয়ে থাক। কথা বাড়াইস না। পাশ থেকে রিতুর জবাব। তোরা কি মানুষ নাকি অন্য কিছুরে? এই ছোট বাচ্চাটার পিছনে কেন লাগছিস? কি লাভ তোদের এসব করে?(রোসা) আমরা যা ইচ্ছে তাই করব। তুই কেন শুনছিস এসব? তুই কানে তুলা দিয়ে শুয়ে থাক। রোবটের বাচ্চা রোবট….(রিতু) রেগে যায় রোসা। বিছানা থেকে উঠে, নীলিমার হাত ধরে। বোন তুমি ভাইয়ার রুমে থাকো, ঐটা বেশ নিরাপদ। তবুও এখানে আর এসো না। কথাটা বলে দরজা খুলে রোসা। দরজার সামনে আবিরকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নীলিমার সাথে সাথে কেপে উঠে রোসাও। কিছু একটা বলতে যাবে রোসা তার আগেই নীলিমার হাত ধরে টানতে টানতে ওকে রুমে নিয়ে যায় আবির। রাগান্বিত গলায় বলা শুরু করে, রেগে গিয়ে শাঁড়ির আঁচল ধরে টান দিয়েছিলাম, সেটাও ওদের বলতে হলো। বলি তোমার কি নূন্যতম কমন সেঞ্ছ বলতে কিচ্ছু নাই? মন খারাপ করে নীলিমার জবাব, ওরা আমায় জিজ্ঞেস করছে তাই বলছি…… দাঁতে দাঁত চেপে আবির বলে, তাই বলে এসব কথাও তুমি বলে দিবে? গোপনীয়তা বলতে কি কিচ্ছু বুঝো না তুমি? মাথা নিচু করে নখ চিমটাতে চিমটাতে নীলিমার জবাব, আমি তো মিথ্যে কিছু বলিনি। তারপরও ধমকাচ্ছেন কেন? ধমকাবো না তোমায়, চুমু দিব। ওরা ব্রেন ওয়াশ করছে, আর তুমি কি না….। ভুলটা আমার\’ই হয়েছে। যাক। ড্রিম লাইট\’ টা জ্বালিয়ে বিছানার মাঝখানে কোলবালিশ রেখে তার একপাশে নীলিমাকে শুতে বলে আবিরও শুয়ে পরে। মুখটা কালো করে কিছুক্ষণ পর নীলিমাও শুয়ে পরে। পরের দিন ক্লাস টেনের একসেট বই আর প্রতি বইয়ের জন্য নোট কিনে আনে আবির। বই দেখে আবিরের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে নীলিমা, এগুলো আমার? হ্যাঁ, তোমার। তোমায় পড়াশুনা করতে হবে এখন থেকে। বাসায় বসেই পড়বা, পরীক্ষার সময় আমিই নিয়ে যাব তোমাদের স্কুলে। চোখগুলো ছলছল করে নীলিমার। মনে হচ্ছে এখনি কেঁদে দিবে।আর হ্যাঁ, এখন থেকে কথা একটু কম বলার চেষ্টা করবা। অযথা বকবক না করে বইয়ে মনোযোগ দিবা। কাজ হবে যেটা। নীলিমা আচ্ছা বলে মাথা ঝাঁকায়। ৬,৭দিন পরের ঘটনা____ আবির কলেজ থেকে ফিরে। বাসায় ফিরে আবির নীলিমাকে কিছুক্ষণ পর পর পেটে হাত বুলাতে দেখে। কিছুটা অবাক হয় আবির। প্রশ্ন করে নীলিমাকে, নীলিমা তোমার শরীর খারাপ? মাথা ঝাঁকিয়ে না বলে নীলিমা। রাত্রে খাবার খেয়ে শুয়েছিল আবির। পাশ থেকে নীলিমা বলে উঠে, শুনছেন! আমি পেটে হাত দিয়েছিলাম কেন জানেন? মাথা উঁচু করে নীলিমার দিকে তাকায় আবির। প্রশ্ন করে, কেন? উত্তর দেয় নীলিমা, দেখছিলাম বাবু আছে কি না পেটে। চমকে উঠে আবির, What? কিসের বাচ্চা? কার বাচ্চা? নীলিমার উত্তর, কার আবার আমার। বিয়ে হয়েছে বাচ্চা হবে না??? কিছুটা ঘাবড়ে গিয়ে প্রশ্ন করে আবির, বিয়ে হলেই বুঝি বাচ্চা হয়? পন্ডিতের মত জোর গলায় বলে উঠে নীলিমা- না, না! শুধু বিয়ে হলেই হবে না। এক বিছানায় থাকতেও হয়। আমার এক ভাবিরও তো বাচ্চা হয়ছে বিয়ের পর। ওনিও ভাইয়ার সাথে একবিছানায় থাকত। তার কয়দিন পরেই ওনার বমি হতো, মাথা ঘুরত। এরপরে লাবিব হয়েছে…. আমিও তো গতকাল বমি করছি, আমারও তো গাড়ি থেকে নামার সময় মাথা ঘুরছে।(নীলিমা) নীলিমা, কাল তুমি জার্নি করছিলা। আমার সাথে ঘুরতে গিয়েছিলা। তাই….. পুরো কথা বলতে পারেনি আবির, তার আগেই গড় গড় করে বলতে থাকে নীলিমা, আমি মোটেও গাড়িতে উঠলে বমি করি না, মাথাও ঘুরে না। আমার কেন জানি মনে হচ্ছে আমার পেটে বাবু আছে। বাচ্চা মেয়ের কথায় দম ফাটানো হাসি আসছিল আবিরের। কিন্তু হাসতে গেলে কারন বলতে হবে পুচকিটাকে। আবির চাচ্ছে না বাচ্চা মেয়েটার মগজে পোকা ঢুকাতে। চাচ্ছে না বলেই হাসি আটকানোর জন্য অন্য পাশে ঘুরতেই নিচে পরে যায়….


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২২৭৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ফুলশয্যার রাত ৪র্থ পর্ব
→ ফুলশয্যার রাত ৩য় পর্ব
→ ফুলশয্যার রাত ২য় পর্ব
→ ফুলশয্যার রাত ১ম পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now