বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

***ফটোগ্রফার***

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Sumon Al Hasan (০ পয়েন্ট)

X Writing by #md sumon al hasan.Part-7 (End) . দুজনেই চুপ-চাপ পাশাপাশি বসে অাছি। কারো মুখে কথা নেই। নিজ থেকেই রিহানকে বল্লাম কি হলো চুপ করে অাছেন কেনো, কিছু বলেন? =অাপনি অামার অতীত সম্পর্কে কিছুই জানেননা। বছর দুই অাগে একটা মেয়ের সাথে অামার সম্পর্ক ছিলো। -এখন সম্পর্ক নেই কেনো? =ওর বিয়ে হয়ে গেছে। -অাপনাকে বিয়ে করেনি কেনো? =ওর বাবা অামাদের সম্পর্কটা মেনে নেয়নি। -উনি যদি অাপনাকে সত্যি ভালোবাসতেন তাহলে অাপনাকে ছেড়ে অন্য কাউকে বিয়ে করতেননা। ছেড়ে যাবার জন্য একটা সম্পর্কে অনেকগুলো কারণকে টেনে অানা যায় কিন্তু কাছে অাসার জন্য একটা কারণই যথেষ্ট। কি হলো কি ভাবছেন? =ভাবছি ওর মতো করে অাপনিও যদি..... পরের কথা গুলো বলার অাগে নুহা অামার ঠোঁটে একটা অাঙ্গুল দিয়ে বল্লো কখনো যাবেনা ছেড়ে। অাচ্ছা অামি অাপনাকে যে ওয়াচটা দিয়েছি সেটা পরেননি কেনো? =এই ওয়াচটা তো এখনো ভালো অাছে। -না ভালো নেই। এই ওয়াচটার বেল্টটা ছিড়ে গিয়েছে। =কিন্তু ওয়াচ তো চলছে। নুহা অামার হাত থেকে ঘড়িটা খুলতে খুলতে বল্লো অামি জানি এই ঘড়িটা যতদিন অাপনার কাছে থাকবে ততদিন অাপনি ঐ ঘড়িটা পরবেন না তাই এইটা অামার কাছে থাক। কিছুক্ষণ পর নাঈম অার মিম কথা বলতে বলতে অামাদের দিকে এগিয়ে অাসতে লাগলো। ওদের দুজনকে বেশ প্রাণবন্ত মনে হলো। নুহা অামাকে বল্লো অাচ্ছা অামি যা ভাবছি অাপনিও কি তাই ভাবছেন? অামরা ওদের দিক থেকে নজর সরিয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসতে লাগলাম। এটা হলো 4G ভালোবাসা বুঝতে হবে নাঈম অার মিম অামাদের কাছে এসে বল্লো চল এবার উঠা যাক, রোদের তিব্রতা ক্রমশ বেড়েই চলছে। বসা থেকে উঠে অামরা হাটতে লাগলাম। নাঈম অার মিম সামনে অামি অার নুহা পেছনে। গরমে কপাল বেয়ে ঘাম টপ টপ করে পড়ছে। নুহা দাড়িয়ে ওর ওরনা দিয়ে অামার কপালের ঘাম মুছে দিলো। দিয়া বাড়ি থেকে বের হয়ে রিক্সা নিয়ে অামরা উওরা চলে অাসলাম। দুপুরের লাঞ্চটা উওরাতে শেষ করে নুহা অার মিমকে একটা সি এন জি তে উঠিয়ে দিয়ে অামি অার নাঈম বাসে ঝুলতে ঝুলতে বাসায় চলে অাসলাম। -------- সন্ধ্যার দিকে ফোনটা অনবরত ভাইব্রেট করতে লাগলো। বাসায় ফেরার পর নুহার সাথে কথা বলতে বলতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি মনে পড়ছেনা। বিছানার পাশ থেকে ফোনটা হাতড়িয়ে নিয়ে দেখি নুহার কল। ফোন রিসিভ করার পর ফোনের ওপাশ থেকে নুহা বল্লো কি মিস্টার ফটোগ্রাফার এখনো ঘুমোচ্ছেন নাকি? =মাত্র ঘুম ভাঙ্গলো। বিছানা থেকে উঠে নুহার সাথে ফোনে কথা বলতে বলতে বারান্দায় এসে দেখি নাঈম বারান্দার কোনে রাখা ঘুণধরা চেয়ারটাতে বসে ফোনে কথা বলছে। বারান্দা থেকে বের হয়ে ছাদে উঠে পড়লাম। অনেকক্ষণ নুহার সাথে কথা বলার পর ছাদ থেকে নেমে রুমে এসে দেখি নাঈমের ফোনটা কানের সাথে এখনো লেগে অাছে। ডিভান টাতে বসে সিগারেট জ্বালিয়ে নাঈমের দিকে তাকিয়ে অাছি। নাঈম ফোন কেটে অামাকে বল্লো কিরে এভাবে তাকিয়ে অাছিস কেনো? =মিমের সাথে লাইন মারছিস তাইনা? ~লাইন মারছিনা কথা বলছিলাম =উল্টিয়ে পাল্টিয়ে একি কথা, যাই হোক চল তোকে নিয়ে একটা যায়গায় যাবো। ~কোথায় যাবি। =বাসার কাছেই একটা টং দোকানে চরম চা বানায় পুরা পিউর গরুর দুধের চা। ~ওকে চল। =তুই কি এমনেই বের হবি? ~কেনো কি হয়েছে? =প্রেমে পড়লে মাথা ঠিক থাকেনা শেষবারের মতো প্রমাণ করে দিলি, উল্টা গেন্জি পড়ে অাছিস। গেন্জি ঠিক করতে করতে বল্লো তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে এমন হয়েছে বাসা থেকে বের হয়ে অামি অার নাঈম হাটতে লাগলাম। ------------ দুমাস পর সকাল বেলা অনবরত কলিং বেলের শব্দ শুনে ঘুমটা ভাঙ্গলো। বিছানা থেকে উঠে চোঁখ কচলাতে কচলাতে রুম থেকে বের হয়ে এসে দরজা খুলে দেখি নুহা ট্রলি ব্যাগ নিয়ে এসে হাজির। কিছু না বলে ব্যাগটাকে টেনে ড্রইং রুমে রেখে রুমে ঢুকে পড়লো। দরজা বন্ধ করে অামিও ওর পেছন পেছন এসে জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢেলে ওর দিকে এগিয়ে দিয়ে বল্লাম বাসায় কি কোন সমস্যা হয়েছে? গ্লাসের সবটুকু পানি খেয়ে নুহা বল্লো বাসা থেকে বের হয়ে এসেছি। =বুঝলাম বাসা থেকে বের হয়ে এসেছো কিন্তু কেনো? -অাজ বিকেলে ছেলে পক্ষ দেখতে অাসছে অামাকে, বাসায় অনেকবার তোমার কথা বলেছি তবুও তারা ছেলে পক্ষদের অাসতে বলেছে, তাই বাসার সবার সাথে সব সম্পর্ক শেষ করে তোমার কাছে চলে অাসছি। =তোমার বাবা অাটকায়নি? -বাবা দুইটা চয়েস দিয়েছে, প্রথম চয়েস ছিলো তাদের পছন্দকরা ছেলেকে বিয়ে করা অার দ্বিতীয় চয়েস ছিলো বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়া। =বুঝলাম। এখন কি করবে? -বিয়ে করবো। =থাকবো কোথায় অামরা? -এখানে থাকবো। =তাহলে নাইম কোথায় থাকবে? -অাপাদত ড্রইংরুমে। =নাশতা করেছো তুমি? -না। =তুমি থাকো অামি নাশতা নিয়ে অাসছি। -বাহির থেকে নাশতা কিনে অানতে হবেনা তুমি শুধু অাটা অার ডিম কিনে অানো। =ডিম ফ্রিজে অাছে। -তাহলে অাটা কিনে অানো যাও। রুম থেকে বের হতে যাবো এমন সময় নুহা পিছন থেকে বল্লো এই তুমি ব্রাশ করেছো? =না। ইশারা দিয়ে নুহা ব্রাশ করতে করতে যেতে বল্লো। বিকেলে নাঈম অফিস থেকে বাসায় অাসার পর রুমের অবস্থা দেখে বল্লো এসব কি? =রুম থেকে তুই অাজ নির্বাসিত ~সেটা বুঝলাম কিন্তু কাহিনী কি সেটা বল? নাঈমকে সব কিছু বুঝিয়ে বল্লাম। নাঈম সব কিছু শুনার পর বল্লো চল। =কোথায়? ~কাজি অফিসে। ভাবিকে বল ওর পরিচিত দুজনকে অাসতে। =কেনো? ~কাজি অফিসে বিয়ে করতে সাক্ষী লাগে। নুহাকে বলার পর নুহার ওর দুই বান্ধবিকে ফোন দিলো। বাসা থেকে বের হয়ে অামরা রিক্সা নিয়ে কাজি অফিসের সামনে এসে সাক্ষীদের জন্য অপেক্ষা করছি। একটু পর মিম অার নুহার অারেকটা বান্ধবি অাসলো। কিছুক্ষণের মধ্যে বিয়ে কার্য শেষ হবার পর নাঈম মিষ্টি বিতরণ করলো। মিম অার নাঈম এই মুহুর্তটাকে আলোকচিত্রে বন্ধি করার জন্য যখন ক্যামেরার কথা বল্লো তখন রিহান বল্লো তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ক্যামেরা অানতে ভুলে গিয়েছি। নুহা একটা মুচকি হাসি দিয়ে ব্যাগ থেকে ক্যামেরাটা বের করে বল্লো যানতাম তুমি ভুলে যাবে। তাই নিজ দ্বায়িত্বে নিয়ে এসেছি। বুঝতে হবে ফটোগ্রাফারের বউ হয়েছি ক্যামেরার কথা কিভাবে ভুলি অতপর রিহান নুহার সাংসারিক জীবনের শুরু। --------সমাপ্ত--------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ***ফটোগ্রফার***

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now