বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
Writing by #md sumon al hasan.Part-6
.
খুব সকাল সকাল ঘুমটা ভেঙ্গে
গেলো। নাঈম এখনো নাক
ডাকছে কিন্তু অাজ ওকে
লাথি দিতে ইচ্ছে করছেনা।
ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে
এসে নাঈমকে জাগালাম।
অাজ নাঈমের অফিস নেই,
ভাবছি ওকে নিয়েই
দিয়াবাড়ি যাবো। নাঈম
ফ্রেশ হবার পর একসাথে
নাশতা করার জন্য বাহিরে
বের হলাম। ভালোবাসা
দিবসের ভালোবাসা এখনো
তেমন একটা জমে উঠেনি।
ব্যস্ত নগরীর রাস্তায় স্কুল
কলেজ গামী দু চার জন
ছেলেমেয়ে, গোলাপ হাতে
তাদের চলাচল বেশ উপভোগ
করছি।
নাশতা করতে করতে
নাঈমকে বল্লাম দিয়াবাড়ি
যাবার কথা। ভালোবাসা
দিবসের দিন বাসায় একা
বসে থাকার চেয়ে
কাবারের হাড্ডি হওয়াও
অনেক ভালো মনে মনে
নাঈম ভাবতে লাগলো।
=কিরে কি ভাবছিস?
~ভাবছিলাম কাবাবের
হাড্ডি হবার কথা
=তুইও পারিস বটে। যাইহোক
নুহাকে কি দেয়া যায়
বলতো?
~নুহা কে?
=অারে যার সাথে দেখা
করতে যাবো ওর নাম নুহা।
~ও অাচ্ছা।
=এখন বল কি দিবো ওকে?
~গোলাপ ছাড়া দেয়ার
মতো অামার মাথায় অার
কিছুই অাসতেছেনা।
=ওকে তাহলে গোলাপ ই
দিবো।
নাঈম বল্লো এখানে অার
সময় নষ্ট না করে চল বাসায়
গিয়ে দিয়াবাড়ি যাবার
প্রস্তুতি নেই।
=ওকে চল।
বাসায় এসে রেডি হয়ে দুজন
একসাথে বের হলাম। বাসার
গলি পেরিয়ে মেইন রোডের
পাশে দাঁড়িয়ে অামি নাঈম
লোকাল বাসের জন্য
অপেক্ষা করছি। নাঈম
অামাকে ইশারা দিয়ে
ফুলের দোকান দেখালো।
দু কদম এগিয়ে গিয়ে একগুচ্ছ
লাল গোলাপ কিনলাম।
---------
মিমের বাসায় এসে বসে
অাছি অাধা ঘন্টা হবে, এমন
ভাবে সাজুগুজু করতেছে যে
মনে হচ্ছে অাজ ওকে ছেলে
পক্ষ দেখতে অাসবে। এইতো
হয়ে গেছে দুই মিনিট বলে
বিশ মিনিটের ও বেশি হয়ে
গেছে এখনো হারামজাদীর
সাজুগুজু শেষ হয়নি।
>শেষ চল।
-সমস্যা নেই অারেকটু
লাগাই নিতে পারিস।
>অার কোথায় লাগাবো?
-যেখানে বাকি অাছে।
মিম অাবারো অায়নায় মুখ
দেখে বল্লো ঠিক অাছে তো
অার লাগাইতে হবেনা।
অবশেষে অামরা বাসা
থেকে বের হলাম। রিক্সার
জন্য বাসার সামনে দাঁড়াই
অাছি এমন সময় রিহান ফোন
দিলো, ফোন রিসিভ করার
পর রিহান বল্লো কোথায়
অাপনি এখন?
-বাসা থেকে বের হয়েছি
রিক্সার জন্য অপেক্ষা।
অাপনি?
=লোকাল বাসে ঝুলতেছি।
-খুব কষ্ট হচ্ছে তাইনা।
=সমস্যা নেই অভ্যাস অাছে।
কথা বলতে বলতে একটা
খালি রিক্সাকে দাড়
করিয়ে দুজন উঠে পড়লাম।
রিহানের সাথে কথা বলা
শেষ করার পর মিমকে বল্লাম
তোর সাজুগুজু দেখার জন্য
রিহান ওর বন্ধু নাঈমকে
সাথে নিয়ে অাসছে।
>তাই নাকি?
-হুম।
>অামি তো ভাবছিলাম
তোদের মাঝে অামাকে
কাবাবের হাড্ডি হয়ে
থাকতে হবে।
রিক্সা থেকে নেমে ফুলের
দোকান থেকে এক গুচ্ছ লাল
গোলাপ কিনে একটা সি এন
জি নিয়ে সোজা
দিয়াবাড়ির দিকে রওনা
দিলাম। অাধা ঘন্টা পর
দিয়া বাড়ি এসে রিহানকে
ফোন দিলাম। ফোন রাখার
পর মিম বল্লো ওরা কোথায়?
-বাস থেকে নেমে রিক্সা
নিয়েছে।
>ও অাচ্ছা।
মিম অার অামি এই ঠাডা
পরা রোদের মধ্যে ছাতা
মাথায় দিয়ে বট গাছের
নিচে বসে অাছি। ভাগ্যিস
মিমের বাসা থেকে মনে
করে ছাতাটা নিয়েছিলাম
নইলে এই ঠাডাপরা রোদে
এতক্ষণে শুকাই শুটকি হয়ে
যেতাম।
কিছুক্ষণ পর রিহানকে
দেখতে পেলাম একটা
ছেলের সাথে কথা বলতে
বলতে এগোচ্ছে। হাতে এক
গুচ্ছ গোলাপ। মিমকে বল্লাম
রিহান অাসতেছে।
মিম বল্লো কোনটা?
-চকলেট কালারের শার্ট।
হাতে গোলাপ
>এখন যে কানে ফোন ধরে
হাটতেছে ঐ টা?
-হুম।
অামার ফোনটাও বেজে
উঠলো, ফোন রিসিভ করার
পর রিহান বল্লো অামি
অাসছি কোথায় অাপনি?
-নাক বরাবর সোজা হাটতে
থাকেন, অামি অাপনাকে
দেখছি
ছাতাটা মিমকে ধরিয়ে
দিয়ে গোলাপ গুলো হাতে
নিয়ে ফোনে কথা বলতে
বলতে অামরাও ওদের দিকে
এগিয়ে গেলাম। রিহানের
সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে
ফোনটা কান থেকে
নামানোর পর রিহান
অামাকে দেখে ভ্রু কুঁচকে
বল্লো অাপনি?
মিম পাশ থেকে বল্লো
রিহান ভাইয়্যা অাজ
ভ্যালেন্টাইন'স ডে সো নো
রাগ নো ফাইট।
নাঈম বল্লো রাগ, ফাইট
মানে কি অামি তো কিছুই
বুঝতে পারছিনা? তোরা কি
পূর্বপরিচিত নাকি?
মিম নাঈমকে বল্লো এদিকে
অাসেন অামি অাপনাকে
ওদের গল্পের শুরুটা কি
ভাবে হয়েছে সেটা বলছি।
মিম অার নাইম সামনের
দিকে কথা বলতে বলতে
হাটতে লাগলো।
-----------
মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অাছি
দুজন, কি বলবো কুছুই বুঝতে
পারছিনা। নুহা হাতের
ফুলগুলো অামার দিকে
এগিয়ে দিয়ে নরম স্বরে
বল্লো হ্যাপি
ভ্যালেন্টাইন'স ডে।
থ্যাংকস বলে নুহার হাত
থেকে ফুলগুলো নিলাম।
অামার হাতের ফুলগুলো
এগিয়ে দিয়ে বল্লাম ইটস্ ফর
ইউ।
থ্যাংকইউ সো মাচ।
নুহা বল্লো চলুন ঐ দিকটায়
যাই। পাশাপাশি দুজন এক'পা
দু'পা হাটতে লাগলাম।
কিছুটা পথ যাবার পর নুহা
বল্লো সকালে নাশতা
করেছেন?
=জ্বি করেছি। অাপনি?
-করেছি। অাচ্ছা অাপনি
কি সেইদিনের জন্য এখনো
অামার উপর রেগে অাছেন?
=সেদিনের কথা অামার
মনেই ছিলোনা। অাজ
অাপনাকে দেখে অাবার
মনে পড়লো। অামি তো
অাপনার কথা ভুলে
গিয়েছিলাম, কিন্তু অাপনি
ভুলে যাননি কেনো?
নুহা দাঁড়িয়ে পড়লো,
অামার চোঁখের দিকে
তাকিয়ে বল্লো অামি ভুলে
যেতে পারিনি কারন
সেদিনের সেই মুহুর্তটার পর
থেকে অামি অাপনাকে
ভালোবেসে ফেলেছি।
চলবে......
পরের পর্বে গল্পটি শেষ হয়ে
যাবে
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now