বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
Writing by #md sumon al hasan.Part-2
.
মেয়েটা এতো বেলা করে
যে কিভাবে ঘুমায়। যে
গাড়ি দিয়ে জামাই ওরে
বিয়ে করে নিয়ে যাবে সেই
গাড়ি দিয়ে অাবার ফেরৎ
দিয়ে যাবে।
নুহা? এই নুহা?
-উফ কানের পাশে ঘ্যানর
ঘ্যানর কইরোনা তো।
=নুহা উঠ? তোকে দেখতে
ছেলেপক্ষরা এসেছে।
লাফিয়ে বিছানা থেকে
উঠে বড় বড় চোঁখ করে অাম্মুর
দিকে এক ট্রাক রাগ নিয়ে
তাকিয়ে অাছি।
=এমনে তাকিয়ে অাছিস
কেনো?
-তুমি অাবারো এই কাজ
করেছো? তোমাদের কতবার
বলেছি অামার এখন বিয়ে
করার ইচ্ছে নেই।
=বিশ্বাস কর মা অামার
কোনো দোষ নেই তোর
বাবা অামাকে কিছু না
বলেই তার অফিসের এক
কলিগের বোনের ছেলেকে
অাসতে বলেছে।
-ছেলে কি একা অাসছে
নাকি পুরো ফ্যামিলি?
=পুরো ফ্যামিলি নিয়ে
অাসছে।
-ওদের কে গিয়ে বলো
অামার অনেক জ্বর অাসছে,
দেখা করতে পারবোনা।
পাগলামো করিসনা মা, তুই
ফ্রেশ হয়ে তাড়াতাড়ি
রেডি হ বলে অাম্মু রুম থেকে
চলে গেলো।
খুন করতে ইচ্ছে করছে সব
গুলারে।
বাথরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে
এসে রুমে বসে রইলাম। একটু পর
মৃধা এসে বল্লো অাপু তুমি
এখনো রেডি হওনাই?
-তুই কি কানা দেখতেছিস
না?
+চল না অাপু তোর জন্য সবাই
অপেক্ষা করছে।
এমন সময় অাম্মু অাবার
অাসলো রুম এ।
=তুই এখনো রেডি হোস নি?
-না।
তোর রেডি হতে হবেনা
বলে খাটের পাশ থেকে
ওরনাটা নিয়ে ঘোমটার
মতো করে মাথায় দিয়ে
হাত ধরে নিয়ে গেলো
ড্রইংরুমে।
ড্রইংরুমে যাবার পর এক মাঝ
বয়সী মহিলা বল্লো বসো
মা?
(ঢং দেখে বাঁচি না।
অামার বাসায় এসে
অামাকেই বলতে বসতে) মনে
মনে বলতে লাগলাম।
অনিচ্ছা সত্যেও মহিলার
পাশে গিয়ে বসলাম।
বরাবরের মতো শুরু প্রশ্নের
উওর দেয়ার পর্ব। সবশেষে
ভদ্র মহিলা বল্লো মা
তোমরা চাইলে দুজন একা
কথা বলে নিতে পারো।
এতে করে কিছুটা হলেও দুজন
দুজনকে জানতে পারবে।
(মনে মনে বল্লাম অাপনি না
বল্লেও অামি নিজেই
বলতাম এই কথা)
-জ্বি অাচ্ছা।
মহিলা তার ছেলেকে বল্লো
যা বাবা ওর সাথে গিয়ে
কথা বল।
অামি ড্রইংরুম থেকে উঠে
ভেতরের রুমে অাসলাম,
ছেলেটাও অামার পিছন
পিছন অাসলো। ছেলেটা
রুমে ঢুকার পর দরজা বন্ধ করে
টেবিলের উপর থেকে একটা
পেনসিল নিয়ে ছেলেটার
কাছে গিয়ে কলার চেপে
ধরে বল্লাম এইটা চিনোছ?
ছেলেটা কাঁপতে কাঁপতে
বল্লো পেনসিল।
-এইটা একদম গলার ভিতর
ঢুকাই দিবো। এই বেটা তোর
তো এখনো ঠিকমতো দাড়িও
ওঠেনাই বিয়ে করতে
অাসছিস কোন সাহসে?
ছেলেটা কাঁপতে কাঁপতে
বল্লো অা অা অাম্মু বলেছে
তাই।
-এখান থেকে যাবার পর তুই
তোর অাম্মুকে বলবি
অামাকে তোর পছন্দ হয়নাই
না না এই কথা বল্লে তোর
অাম্মু সন্দেহ করবে বলবি তুই
এখন বিয়ে করবিনা। মনে
থাকবে তো?
-জ্বি থা থা থাকবে।
-এখানে যা যা হয়েছে তা
যদি তুই কাউকে বলিস
তাহলে তোরে খুজে বের
করে এই পেনসিল দিয়ে তোর
গলা ফুটা করবো মনে
রাখিস।
ছেলেটা তোতলাতে
তোতলাতে বল্লো জ্বি অা
অা অাচ্ছা ব ব বলবোনা।
-মুখটা এমন করে রাখছিস
কেনো হাস? না হাসলে একদম
গলা ফুটা করে ফেলবো।
ছেলেটা ভয়ে ভয়ে হাসি
দিলো। কলার ছেড়ে দিয়ে
টিস্যু বক্স থেকে দুটো টিস্যু
বের করে দিয়ে বল্লাম ঘাম
মুছ। ছেলেটা মুখ অার গলা
মুছতে লাগলো। ছেলেটার
দিকে এক গ্লাস পানি
এগিয়ে দিয়ে বল্লাম পানি
খাঁ। ছেলেটা পানি
খাওয়ার পর বল্লাম এখন
হাসি মুখে অামার পিছে
পিছে অায়। দরজার কাছে
এসে ওরনা ঠিক করে মাথায়
দিয়ে দরজা খুলে
ছেলেটাকে নিয়ে বের হয়ে
অাসলাম।
কিছুক্ষণ কথা বলার পর
তারা বাসায় ফিরে
জানাবে বলে চলে গেলো।
উফ একটা পেরা থেকে
মোটামুটি বাঁচলাম।
তারা যাবার পর অাম্মু
বল্লো কি বলেছিস
ছেলেটাকে?
-কই কিছু বলিনিতো।
=তুই কিছু বলা ছাড়া ছেড়ে
দিবি এটাও অামাকে
বিশ্বাস করতে হবে?
-কইরোনা তোমাকে
বিশ্বাস করতে বলছে কে?
অামার খুদা লাগছে
অামাকে খেতে দাও। অাম্মু
নাশতা দেয়ার পর খেয়ে
মিম কে ফোন দিলাম। ফোন
রিসিভ করার পর ফোনের
ওপাশ থেকে মিম বল্লো
কিরে অাজ ভার্সিটিতে
এলিনা কেনো?
-অার বলিস না সকাল সকাল
এক পেরা এসে হাজির
হয়েছে।
>কিসের পেরা?
-তুই এখন কোথায় অাছিস
সেটা বল?
>বাংলা একাডেমির
সামনে।
-অামি অাসতেছি তুই থাক।
>অাচ্ছা।
ফোন রেখে রেডি হয়ে
বাসা থেকে বের হবার সময়
পিছন থেকে অাম্মু বল্লো
এখন অাবার কোথায়
যাচ্ছিস?
-ক্লাসে।(ডাহা মিছা কথা)
বাসার সামনে থেকে একটা
রিক্সা নিয়ে সোজা
বাংলা একাডেমি
অাসলাম। মিম দাঁড়িয়ে
অাছে রিক্সা থেকে নেমে
রিক্সাওয়ালাকে ভাড়া
দিয়ে ওর কাছে গিয়ে
বল্লাম মেজাজ পুরা অাগুন
হয়ে অাছে কোল্ড ড্রিংক
খাওয়া।
>অাচ্ছা চল।
কোল্ড ড্রিংক খেতে খেতে
মিম বল্লো কি হয়েছে এবার
বল?
-অারে বলিস না সকাল
সকাল ছেলেপক্ষ অাসছে
অামারে দেখতে।
>তারপর
এক এক করে সব কিছু বল্লাম
মিমকে। হারামজাদি
অামার কথা শুনে ৩২টা দাঁত
বের করে হু হু করে
হাসতেছে।
>বুঝলাম এখন বল কালকে হঠাৎ
চলে গেলি কেনো?
-ভালো কথা মনে করেছিস।
কাল অারেক কাহিনী
হয়েছে।
>কি কাহিনী?
-একটা ছেলেকে ভুল বুঝে
অনেক কিছু বলে ফেলেছি।
রাতেও ঠিকমতো ঘুমোতে
পারিনি।
>পরের বার দেখা হলে সরি
বলে দিস।
-এখানেই তো সমস্যারে।
>কেনো?
-অারে ছেলেটাকে অামি
চিনিনা।
>বুঝিনাই বুঝাই বল।
তোর জন্য যখন অপেক্ষা
করছিলাম তখন একটা ছেলে
ছবি তুলছিলো। অামি
ভাবছি অামার ছবি তুলছে
তাই অনেক কিছু বলছি
এমনকি থাপ্পড় ও মারছি।
>হায় হায় বলিস কি?
ছেলেটা তোকে কিছু
বলেনি?
-ও ও অামারে একটা থাপ্পড়
মারছে।
>ইস মিস করেছি দুর্দান্ত
একটা মোমেন্ট।
-মজা নিচ্ছিস?
>না না মজা নিবো কেনো,
তারপর কি হলো সেটা বল?
-কি অার হবে ছেলেটা চলে
গেছে।
>অাহারে। যাইহোক
থাপ্পড়ে থাপ্পড়ে কাটা-
কাটি হয়ে গেছে ভুলে যা।
-এটাইতো সমস্যা ভুলতে যে
পারছিনা। ভুল করার পরও
অামার মুখের দিকে
তাকিয়ে টিচাররা পর্যন্ত
কোনদিন অামাকে
মারেনি কিন্তু এই ছেলে
অামার চোঁখের দিকে
তাকিয়ে অামাকে থাপ্পড়
মেরেছে।
>তোর কথা গুলো অামার
কাছে সুবিধার মনে হচ্ছেনা
ছেলেটার প্রেমে পড়িস নি
তো অাবার?
-মনে হয় এবার পড়েছিরে।
বার বার ছেলেটার মুখটা
চোঁখের সামনে ভেষে
উঠছে। চলো সেখানে
যাবো?
>কোথায়?
-যেখানে ছেলেটাকে
দেখেছিলাম।
>তোর কি মনে হয় থাপ্পড়
খাওয়ার পর ছেলেটা
অাবার সেখানে অাসবে?
-অাসতেও তো পারে চলনা?
>অাচ্ছা চল।
.
.
চলবে................
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now