বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ফরেন ক্যাডার

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মফিজুল (০ পয়েন্ট)

X আফ্রিকা যাচ্ছিলাম। জীবিকার সন্ধানে। আমার মতো হাজার-হাজার মানুষ, প্রতিদিন পাড়ি জমায় প্রবাসে। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকার বিমান বন্দরে অপেক্ষা করছিলাম ফ্লাইটের সময়ের। ফ্লাইট ডিলে হচ্ছিল, বৃষ্টির কারণে। ওয়েটিংরুমে অপেক্ষা করছিলাম। আমার পাশেই আমার মতো একজন পাশে এসে বসলেন। তিনিও আমার মতো প্রবাসী। মাথায় চুল নেই। আমার চেয়ে ১০ বছরের বড় তো হবেনই। সময় কাটানোর জন্য তার সাথে কথা বলছিলাম। আমি বললাম, আমার নাম আজিজুল হক শাওন। আর আপনার? তিনি জানালেন, শাহ আলম। তার জীবনের গল্প শুনতে চাইলাম। তিনি হাসলেন, বললেন, গল্প অনেক বড় ও বেদনার। আমিও বলে দিলাম, আমারও প্রচুর বড় সময়। নো প্রবলেম। এক পর্যায় জোরাজুরিতে রাজি হলেন। তিনি বলতে থাকেন, আমার জন্ম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের পাশে এক চায়ের দোকানের ছেলে হিসেবে। ছোট বেলা থেকে বড় কিছু হতে চাইতাম। প্রথমত, ইউনিভার্সিটির ছেলেদের দেখে, রাজশাহী ইউনিভার্সিটিতে পড়ার শখ হলো। কিন্তু বললেই কি হয়? তার জন্য দরকার, পড়ালেখা। আমাদের ছিল অনেক বড় ফ্যামিলি। চার বোন আর আমি একজন। বাবা'কে সাহায্য করতে হতো। তবে, সৌভাগ্য ক্রমে পড়ালেখার সুযোগ হয়েছিল। সরকারী স্কুলে ভর্তি হলাম। স্কুল থেকে এসে বাবার সাথে দোকানে বসে থাকতাম। ভার্সিটির ছেলেদের বিভিন্ন জিনিস এনে দিতাম। নাম দিলো ছটু হিসেবে। রাতের বেলা পড়তাম। সকাল বেলায় দোকানে চলে যেতাম। স্কুলের ২০ মিনিট আগে স্কুলে যেতাম। এভাবে করতে করতে এসএসসি পাশ করলাম। তারপর, এইচএসএসি। দু'টোতেই A+ পেলাম। আমার সাথে সব ছেলেমেয়ারা ভার্সিটির কোচিং-এ ভর্তি হলো। কিন্তু আমি পারলাম না। আমি মেসে চলে গেলাম। কারণ বাসায় থেকে পড়াশুনা করা সম্ভব নয়। তারপর, টিউশনি পড়িয়ে, ভার্সিটির জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকলাম। কীভাবে যেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে গেলাম। তারপর, জীবনে নতুন মোড় এলো। একদিন ক্লাসে স্যার বললেন, কে কী হতে চাও? সেদিন অনেকের মুখ থেকে শুনলাম, ক্যাডার শব্দটি। আমিও তাদের থেকে শুনে বলে দিলাম, ক্যাডার হবো। কিন্তু বাস্তবতা যে এত কঠিন ছিল, তা আমার জানা ছিল না। ভার্সিটি শেষ করলাম। রাত-দিন এক করে পড়তে থাকলাম, ক্যাডার হওয়ার জন্য। প্রথম পরীক্ষায় প্রিলিতেই ফেল করলাম। টিউশনি ছিল, সেগুলো দিয়ে চলে যাচ্ছিলাম কোনো রকম। আমি আবার রাত-দিন এক করে পড়তে থাকলাম। মেসের সবাই আমার জন্য ঘুমাতে পারত না। অনেকের গাল-মন্দও শুনতাম। দেখতে দেখতে বিসিএস এক্সাম চলে এলো। প্রিলি পরীক্ষা দিলাম। পাশ করলাম। কিন্তু রিটেনে পারলাম না। নিজের প্রতি খুব ঘৃণা হতে থাকল। হয়ত আমার পরিশ্রমে ঘাটতি ছিল। নইলে ফেল করতাম না। তাই ১৭ ঘণ্টা করে পড়াশুনা করতে থাকলাম। পাগলের মতো। পরের বার প্রিলি- রিটেন দুটোতেই চান্স পেলাম। কিন্তু ভাইভা'তে পারলাম না। আরো ঘৃণিত হলাম। কিন্তু হাল ছাড়লাম না। তারপর, একইভাবে পড়াশুনা করতে থাকি। কিন্তু পরেরবারও একই ঘটনা। কোনোমতেই আমি মৌখিকে চান্স পাচ্ছিলাম না। দেখতে দেখতে আমি চলে এলাম জীবনের শেষ বিসিএস পরীক্ষায়। এটা যদি না হয়, তাহলে আমার স্বপ্ন কখনোই সত্যি হবেনা। আমি এবার পাগলের মতই পড়তে থাকলাম। কম্বলের নীচে ফ্লাশ লাইট জ্বালিয়ে পড়াশুনা করতাম। যাতে, রুমমেটদের সমস্যা না হয়। আমার অবস্থা দেখে, বন্ধু-বান্ধব সবাই পাগল ভাবত। শুধু একটা জিনিস নিয়েই পড়েই আছি। সবাই টাকা উড়াত, প্রেম-ভালবাসা ছাড়া কিছুই বুঝতনা। কিন্তু আমি ছিলাম, স্রোতের বিপরীত। যায় হোক, শেষবার প্রিলিতে চান্স পেলাম। তারপর, রিটেনেও। কিন্তু বাবা হার্ট এটাক করলেন। একমাত্র ছেলে হওয়ায় বাবা'কে দেখাশুনা আমার উপর পড়ল। ভাইভা'র আগে পড়াশুনা করতে পারলাম না। অনেক কষ্টে পরীক্ষা দিলাম। যেদিন রিজাল্ট দিলো, সেদিন নাম খুঁজলাম। কিন্তু পেলাম না। আমি হেরে গেলাম জীবনের কাছে। পরিবার না থাকলে, হয়ত সেদিন আত্মহত্যাও করতাম। আমার মন এতটাই ক্যাডারের স্বপ্নে বিভোর ছিলো যে, অন্যকিছুকে ফিকে মনে হচ্ছিল। বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে পুরোদিন কেঁদেছিলাম। তারপর, কষ্টে, ক্যাম্পাসের সেই চায়ের দোকানে চা বিক্রি করতে থাকলাম। কারো সাথে কথা বলতাম না। স্যার, বন্ধু-বান্ধব অনেক বুঝালো, অনেক অপশনেই আছে আমার। কিন্তু তাদেরকে বুঝাতে পারলাম না আমি যে হেরে গেছি। হার হওয়া মানুষকে যে, অন্য কিছুতে মানায় না। তাই চা বিক্রি করতেই থাকলাম। তিনি নিশ্চুপ হয়ে গেলেন। ভাইয়ের কথা শুনে আমার চোখ ছলছল করছে। যারা এত কষ্ট করে, তাদের তো বেদনা হবেই। যাদের চেষ্টাও নেই, তাদের কষ্টও নেই। তাকে সান্ত্বনা দিলাম। পরিবার'কে দেখা, সেটার জন্য আপনি বিজয়ী। প্রবাসী হলেই যে হেরে গেলেন, তা কিন্তু নয়। আরো বললাম, ক্যাডার হলেই যে সুখী তা কিন্তু নয়। এই দেখুন, আমি প্রবাসী। আমার কোনো কিছু চাওয়ার নেই। এতেই আমি সুখী। সুখী হওয়াটাই জীবনের বড় কিছু। ক্যাডার-ম্যাডার এগুলাতো জীবনের কয়েকটা অপশন মাত্রই। আমি ভাইয়া'কে আমার কার্ড দিলাম, আরো বলে দিলাম, কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে, বলার জন্য। অবশ্যই আমি চেষ্টা করবো সাহায্য করার। ছোট ভাই হিসেবে কিন্তু না বলতে পারবেন না। প্রবাসে বাঙালি মানেই ভাই- ভাই। আমার বোরখার দোকান, আপনার জন্য উন্মুক্ত। আপনার পরিবারের জন্য বোরখা ফ্রি দিবো। মন খারাপ করবেন না, ভাইয়া। বুকে শক্তি রাখুন। এটাই অনেক কিছু। ফ্লাইটের সময় হয়ে গেল। কিন্তু ভাইয়ের হাতে অন্যরকম পাসপোর্ট। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার পাসপোর্ট অন্য রংয়ের যে। উনি মুচকি হেসে বললেন, আমি ফরেন ক্যাডার! তাই ভি.আই.পি পাসপোর্ট! আমি আকাশ থেকে পড়লাম। জিজ্ঞাসা করলাম, ফেল করেও কীভাবে ক্যাডার হলেন?! উনি বলতে থাকেন, আমি চায়ের দোকানে চা বিক্রি করেই আসছিলাম। হঠাৎ পত্রিকায় দেখি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২৭ তম বিসিএস এর ভাইবা ক্যান্সেল করে দিয়েছেন। কারণ, দুর্নীতি হয়েছিল সেটি। যারা রিটেনে চান্স পেয়েছিল, তাদের ভাইবা এক্সাম আবার নেওয়া হবে। কয়েকমাস পর, আবার নেওয়া হলো আর আমি ৩য় হলাম পুরো বাংলাদেশে। ছুটিতে ছিলাম। ছুটি শেষে আবার কাজে যোগদান দিতে যাচ্ছি।। আমি অবাক হয়ে উনার দিকেই চেয়ে রইলাম। #সত্য_ঘটনা_অবলম্বনে। #ফরেন_ক্যাডার। #আজিজুল_হক_শাওন


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ফরেন ক্যাডার

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now