বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ফিরে দেখা...

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X ও চাঁদের দিকে চেয়ে আছি,রাত কি শেষ হবার নয়! রংধনুর সাতরং কি রং হারিয়েছে! বিমর্ষতা কি আমার হৃদয়ে ছাপ ফেলে গেছে! ভালবাসা কি আমায় শেষ করেছে! হবে হয়ত, আমি যে তাতে অন্ধ, আমি যে পাগল, আমি যে নিমগ্ন তাতে...ভালবাসি অনেক বেশি,অনেক অনেক,নিজের চেয়েও বেশি... . সে কি জানেনা নাজিমের আর্তনাদ,জানেনা এ চাঁদ একা সে ছাড়া,বুঝতে পারে না, আমার অাত্ন চিৎকার... হা, পারে সে সব বুঝতে পারে, তার প্রতিটি স্পন্দন নাজিমের নামেই হয়,প্রতিটি নিঃশ্বাস নাজিমকে ঘিড়ে... সে আর ফিরবে না,সে হয়ে আছে রাতের জোৎসা,অন্ধকার রাতের আঁধার, নিমগ্নতার সাথী, স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি,দিনের আলো...সে যে আমার রিমি, আমার... . ফিরে দেখি দুইবছর আগে... . আমার সবে অনার্স শেষ হয়েছে, বাবার কম্পানিতেই কিছুদিনের মাঝে জয়েন করতে হবে,ভাবছি বাবার সাথে কাজ করার পর, নিজেই কোন একটা ব্যাবসা করব আর সাবলম্বী হয়ে বিয়ে করব কিন্তু বাবা আর আম্মুর পারিবারিকভাবে বিয়ে দেবার চাপটা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে.. মেয়েটি অবশ্য বাবার বন্ধুর মেয়ে, নাম:রিমি,দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়ে,চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা,দেখতে কতটা সুন্দর তা ভাবতে পারি না,তবে চশমাটা না থাকলে সবকিছুকে হার মানাত,ব্যবহারও খুব ভাল,সবসময় নরম গলায় থাকে...সবকিছু আমার কাছে ভালই লাগে,আর রিমিকে নিয়েও আমার প্রোবলেম নেই,তবে বিয়েটা করলে আমার স্বপ্নটা শেষ হবে ভেবে রাজি না... . আজ আমি ল্যাপটপটা নিয়ে বসে কিছু কাজ করছি, ঠিক এমন সময়... ---আম্মু:বাবা নাজিম,তুই তো জানিস তোর আঙ্কেলের মেয়ের সাথে তোদের বিয়ে অনেক আগেই ঠিক হয়েছে,তো কি ভাবলি বাবা... ---আমি:আম্মু,একটু সময় দিলে হয়না... ---আম্মু:নাহ্, হয়না... ---আমি:আমার ইচ্ছা তো জানোই... ---আম্মু:হুম,সব বিয়ের পরে করবি... ---আমি:যা করার কর(অভিমান নিয়ে)... ---আম্মু:লক্ষী ছেলে আমার(মাথায় হাত বুলিয়ে)... ---আমি:নিরবে,ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে... এদিকে আম্মু খুশি মনে চলে যাচ্ছে আর আমার কিছুটা মনখারাপ হলেও রিমির জন্য ভালই লাগছে... . পরদিনই রিমিদের বাসায়, বিয়ের কথা ঠিকঠাক করার জন্য...অতপর রিমির সাথে কিছুকথা বলার সুযোগ... . ছাদে রিমি আর আমি, দুজনেই নিরব মনে, কেউ কথা বলছে না,রিমি আমার দিকে তাকাতেও লজ্জা পাচ্ছে,আমি মাঝে মাঝে রিমির দিকে তাকাচ্ছি.. নিরবতার দরজা ভেদ করে... ---আমি:রিমি আমায় পছন্দ হয়? ---রিমি:নিবর,(কোন ইশারাও নেই)... ---আমি:বিয়েতে কি রাজি? ---রিমি:নিরব,মাথা নাড়িয়ে "হ্যা" সূচক ইঙ্গিত... ---আমি:মেনে নিতে পারবে আমায়? ---রিমি:নিরব,মাথা নাড়িয়ে "হ্যা" সূচক ইঙ্গিত আবারও... ---আমি:তোমার কোন প্রশ্ন থাকলে করতে পার... ---রিমি:নেই,চলেন এবার(কথা বলছে এবার)... বুঝতে পারলাম রিমির স্ব-ইচ্ছাতেই বিয়ে হবে,এখন অনেক ভাল লাগছে... তিনদিন পর সোমবারে আমার বিয়ে ঠিক হল... . অনেকটা আনন্দ,কিছুটা ভয়, আর বন্ধুদের মজা সবমিলিয়ে আমি রিমিদের বাসায় বিয়ের জন্য যাচ্ছি, লজ্জা পাচ্ছি...নিজেকে হাদা হাদা মনেহচ্ছে... যাইহোক,বিয়ে করতে আসছি,এমনটা হবে... শালীদের সাথে ফাজলামি আর পিচকুদের সাথে ভালই মজা করতাছি,যেহেতু কবুল বলা শেষ দুজনেরই,শেষ সময়ে করাই যায়... . অতপর খাবার পর্বে, রিমি তো খায়না,এত লজ্জা পায় কোথা থেকে,আমার তো অসম্ভব ক্ষুধা লাগছে,রিমিকে ছাড়া নিজেও খেতে পারছি না, শালীরাও জ্বালাচ্ছে...পুরা বিপদে আছি... . খাবার পর্ব শেষে... রিমির বিদায় বেলা,রিমি কাঁদছে, একবার মায়ের বুকে অারেকবার বাবার বুকে মাথাগুজে কাঁদছে,সে কি কান্না... মেয়েরা হয়ত বিদায়ের দিনেই বেশি কান্না করে,আজ রিমিকে দেখে বুঝতে পারছি.. ---এত চোখের জল আসে কোথা থেকে!!! ---কোথায় রাখে এত আবেগ!!! ---বাবা মাকে হয়ত মেয়েরাই বেশি ভালবাসে!!! রিমি প্রায় হাফ ঘন্টা চোখের জল ছড়িয়েছে,গাড়ির ভেতর থেকেও মায়ের দিকে জলভরা নয়নে তাকিয়ে আছে... আমি রিমিকে নিয়ে ভাবছি,এত ভালবাসে যে নিজের বাবা মাকে সে হয়ত সারাজীবন আমাকেও এমন ভালবাসবে... রিমির জলভরা অশ্রু আমার মানুষত্বকে বলে চলছে,"রিমিকে কখনও কষ্ট দিস না নাজিম"... বাসায় আম্মু আর আন্টিরে সাদরে রিমিকে বরণ করে নিল...আমি শুধু আম্মুর কানের কাছে বললাম,কিছু খাবার দিতে রিমির জন্য... . বাসর ঘড়ে রিমি আমি আম্মুর থেকে খাবার নিয়ে প্রবেশ করলাম,ভদ্রতার সহিত রিমি খাট থেকে নিচে নেমে আসতেই ওর সামনে খাবারের প্লেট এগিয়ে,রিমি কিছুটা আশ্চর্য,কিন্তু ক্ষুধা নিয়ে আছে এটা বোঝা যাচ্ছে... খাবে না খাবে না করতে করতে দুজনের খাওয়া শেষ, অতপর রিমির বায়না শুনে আমি পুরাই থ খেয়ে গেছি.. ---রিমি:আজ আপনি আমায় গল্প শুনাবেন... ---আমি:অবাক চোখে চেয়ে আছি রিমির পানে(ভাবছি, যে কথা বলে না সে কথা বলছে)... ---রিমি:কি হল আপনার(চশমা খুলে)... ---আমি:না,কিছু না... ---রিমি:তো গল্প বলেন... ---আমি:কি গল্প শুনবেন? ---রিমি:ভৌতিক গল্প... ---আমি:হুম(কি বলে,দেখে মনেহয় ডরপুক, এখন কি দেখছি)... অতপর গল্প বলতে বলতে ঘুমিয়ে গেছি কখন তা বলতে পারব না... সকালে রিমির ডাকেই ঘুম ভাঙ্গে... ঠিক এমন করে শুরু হয় আমাদের পথচলা... রিমিকে প্রায় রাতেই গল্প অথবা কবিতা শোনাতে হয়,চশমার মোটা ফ্রেমের আড়ালে রিমি যে কত জেদি তা কেউ জানেনা আমি ছাড়া, কথার নয়ছয় হলেই নালিশ দেয় বাবাকে, যার জন্য কিছুটা বকা শুনতে হয়... বকা শুনিয়ে পাগলীটা অবশ্য আদরও করে... ঠিক এমন করেই আমাদের বিবাহের দেঢ় বছর পেরিয়ে গেছে... আমি অফিসে আজ রিমির সাথে বেড়ানোর কথা আছে,পাগলীটার কথা ভাবছি... কিছুক্ষণ পর রিমির ফোন,রিসিভ করতেই... ---আপনি কোথায়? ---অফিসে.. ---কিছু মনে আছে!!! ---কি?(মজার ছলে)... ---বাবাকে বলব নাকি? ---আসছি... রিমির সাথে বেরিয়েছি,রিক্রা চলছে নিজ গতিতে...বাহ্ চারপাশ ভালই লাগছে (রিমি থাকলে ভাল লাগে)... . হালকা বাতাসে দুলছে তার চুল, আমি চেয়ে আছি তার দিকে, চোখে চোখ পড়তেই মাঝারী মাপের চিমটি কাঁটছে... . কিছুক্ষণ পরেই নিজের অজান্তে পিছন থেকে ধেঁয়ে আসা ছোট্ট কারগাড়ির ধাক্বা... একসাথে ছিটকে পড়লাম তিনজন,রিক্রাচাল ক সামনের দিকে রিমি আর আমি বাঁপাশে... এরপর আর কিছুই মনেপড়ে না... তিনদিন পর সুস্থ হয়ে, জানতে পারলাম,আমার রিমি নেই... ---সে হারিয়ে গেছে শূণ্যতায়... ---ফাঁকা করে গেছে নাজিমের হৃদয়... ---চলে গেছে ওপারে,একা রেখে আমায়... রিমি চলে গেছে আমার বিশ্বাস হয়না, ---ঐ তো রিমি,আমার রিমি... ---ঐ তো মোটা ফ্রেমের চশমা পড়ে রিমি হাসছে... ---রিমি তো আমায় ডাকছে... ---না,রিমি যায় নি,সে তো পাশেই আছে... পাগলের প্রলাপ বলছিলাম,আম্মু কাঁদছে আর বাবার চোখে জলের কণা... আমায় নিয়ে আসা হল রিমির কবরের পাশে, কিছু বলতে পারছি না... চেয়ে আছি তার শয্যিত মাটির দিকে,দুচোখে জল ঝড়ছে... রিমি যেন আমায় শান্তনার ছলে বলছে "পাশেই থাকব তোমার,গল্প শুনব, চেয়ে দেখব সবসময়"... . "হ্যা" রিমি আমার পাশে আছে,সবসময় আছে...আমি যে রিমিতে পাগল... আজ আমাদের বিয়ের দ্বিতীয় বার্ষিকী,আজ পাগলীটাকে অনেক মনে পড়ছে,যেজন্য আমি... . ও চাঁদের দিকে চেয়ে আছি,রাত কি শেষ হবার নয়! রংধনুর সাতরং কি রং হারিয়েছে! বিমর্ষতা কি আমার হৃদয়ে ছাপ ফেলে গেছে! ভালবাসা কি আমায় শেষ করেছে! হবে হয়ত, আমি যে তাতে অন্ধ, আমি যে পাগল, আমি যে নিমগ্ন তাতে... ভালবাসি অনেক বেশি,অনেক অনেক,নিজের চেয়েও বেশি


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ফিরে দেখা...

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now