ফিরে আসার গল্প(সুমু)
X
"ফিরে আসার গল্প"
ক'দিন ধরে বেশ মজে আছি।কাজল বাসায়
নেই।
রাগ করে বাবার ওখানে চলে গেছে।
দিনগুলো
বেশ আরামেই যাচ্ছে।এখন বুঝছি যে
আসলেই
মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীন। কিন্তু বাবুটাকে খুব
মিস করছি।বেচারিও হয়ত বাবাকে মিস করছে।
কিন্তু এখনও কথা না বলতে পারায় বুঝাতে
পারছেনা।
কাজল গিয়েছে ১সপ্তাহের উপরে চলছে।
দিনগুলো খুব স্বাধীনভাবেই কাটাচ্ছি। সকালে
উঠে বাজার করতে হচ্ছেনা।দুপুরে কেউ বারবার
টেলিফোন করে লাঞ্চ করো লাঞ্চ করো
বলছেনা।
রাতে মশারী টাঙাতেও হচ্ছেনা।ইনডেপেন
ডেন্ট
লাইফ।আহ শান্তি।
কাজলকে যে প্রয়োজন তা এখন আমি কিছুটা
কিছুটা টের পাচ্ছি।সেদিন রাতে হালকা শীত
লাগছিলো। আমি বারবার বলছিলাম "কাজল
ফ্যানটা অফ করো "।কিন্তু একসময় বুঝতে পারলাম
কাজল আমার পাশে নেই।তারপর সারারাত
ঘুমাতে পারিনি।কাজলের স্মৃতিগুলো ঝেকে
ধরেছিলো আমাকে।একসময় এই
মেয়েটাকে
একনজর
দেখার জন্য কত ঝড় তোফান উপেক্ষা করেছি।
একবারের গল্প বলি।
আমি রাত ২ টার সময়
কাজলদের বাসার সামনের রাস্তায় দাড়িয়ে
আছি।বারবার ফোন করছি কাজলকে ।
-কাজল" ঘুমিয়ে পড়েছো?
-হুমমমম...
-জানালাটা খুলে একটু দেখোনা।
-কেনো?
-আহা, দেখইনা....
-ওকে...
-হুমমমম...
-তুমি এখানে কেনো?
-তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করছে তাই।
-পাগল নাকি....
-হুম। তোমার জন্য।
-যাও প্লিজ। যাও।দাড়োয়ান দেখলে
কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।
সেদিন দাড়োয়ান আমাকে দেখলেও ব্যাটা
আমাকে ধরতে পারেনি।আমি এক দৌড়ে
চিপাগলিতে ঢোকে যাই।আমাকে আর পায় কে।
বোঝেন, কত বড় রোমিও ছিলাম আমি। কিন্তু
এই
কাজলকে ছাড়া কিভাবে আমি ২ সপ্তাহ
থাকলাম বুঝতে পারছিনা।আসলে ভুলটা আমারই
ছিল।দিনদিন কেমন হয়ে যাচ্ছিলাম আমি।
বদমেজাজি টাইপ।মাঝে মাঝে খুব খারাপ
ব্যবহার করতাম।কাজলকে গিয়ে নিয়ে আসতে
হবে।আসলেই কাজলকে ছাড়া আমি থাকতে
পারছিনা।এখন ঘুমও হয়না।দুপুরে অফিসে
টেলিফোনের দিকে চেয়ে বসে থাকি।
কখন
কাজলফোন দিয়ে বলবে "লাঞ্চ
করেছো"।
কেউ
বলেনা।
কদিন ধরেই ভাবছি কাজলকে নিয়ে আসবো।
কাজলও তো ফোন দিতে পারতো। আজ
চলেই
গেলাম।কাজলের বাবা দরজা খুলে দিয়েছেন।
-আসসালামুআলাইকুম...
-ওয়ালাইকুম....আসো বাবা। ভিতরে আসো
-জ্বি, কাজল কোথায়?
-আছে বাবা।ওর রুমেই আছে।
-আমি যাবো?
-যাও।
আমি দরজা খুলেই দেখি কাজল কাঁদছে।
হয়তো
আমি এসেছি বুঝতে পেরেছে আগেই।
আমি
আস্তে আস্তে গিয়ে বিচানার পাশে দাড়ালাম।
কাপা কাপা কন্ঠে বললাম -
-কাজল, আই এম সরি।আসলে আমারই ভুল......
কথাটা শেষ করার আগেই কাজল আমাকে
জড়িয়ে ধরেছে।মেয়েটা কাঁদছে।খুব
কাঁদছে।
আমি
চোখদুটো বুড়ো আঙুল দিয়ে মুছে দিলাম।
আমি গাড়ি ড্রাইভ করছি।কাজল পাশের সিটে
বসে।তার কোলে বাবু।বাবু ঘুমুচ্ছে।কাজলের
চোখমুখ ফোলা।মেয়েটা হয়তো অনেক
কান্নাকাটি করেছে।এখন তার মুখে একটা খুশির
চাপ পড়েছে।ফিরে আসার খুশি।আমরা বাসায়
যাচ্ছি। ভালোবাসার নীড়ে।রাস্তা ফাঁকা।
গাড়ি চলছে আপন গতিতে।রাস্তাকে বলতে
ইচ্ছে
করছে "রাস্তা, তুমি তাড়াতাড়ি শেষ হও। আমরা
ক্লান্ত। ঘুমাবো।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now