বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ফেয়ার্স কেয়ার

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X . সকাল সকাল মায়ের বকুনি খেয়ে বাড়ী থেকে বের হয়ে ফুটপথ দিয়ে ধরে হাঁটছি। ইদানিং মায়ের বকুনি খাওয়াটা দৈনিক রুটিনে পরিণত হয়েছে। তবে বেশ ভালোই লাগে। যতই বকুক। মা বলে কথা! আমি আমার মাকে অনেক ভালোবাসি। এসব কথা ভাবছি আর ফুটপথ ধরে হেঁটে চলেছি। এক কথায় বলতে পারেন গন্তব্যহীন রাস্তা। বেকার বলে কথা। ওহ্। পরিচয়টা দিতে একদম ভূলে গিয়েছি। আপনারা তো জানেন আমি একটু বেশী কথা বলি। আমি আখলাক। বিএ পাশ করে ৩ বছর ধরে বেকার বসে আছি। এটাকে উদ্দ্যেশ্য করেই প্রতিদিন মায়ের মুখ থেকে রুটিন মাফিক ঝাড়ি খেতে হয়। আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। আর মধ্যবিত্ত মানে তো জানেন। পকেটে ১০ টাকা নিয়ে হাজারটা স্বপ্ন দেখা। . . ঘুষ দিতে পারিনা বলে এখনো একটা চাকরী জোগাড় করতে পারলাম না। একমাত্র বাবার আয়ে পুরো সংসারটা চলে। বাবারও বয়স হয়েছে। আমিও চাই ভালো একটা চাকরী করে বাবাকে শান্তিতে রাখতে। কিন্তু কিছুই করতে পারিনা। . . মাথার মধ্যে হাজারটা চিন্তা নিয়ে ফুটপথের গন্ডী পেরিয়ে একটা যাত্রী ছাউনিতে এসে বসলাম। . . . কিভাবে একটা কাজ জোগাড় করতে পারি তাই ভাবছিলাম। হঠাৎ ৯ বছরের একটা ছেলে এসে বললো,,, ভাইয়া আমাকে ৫টা টাকা দাও। সকাল থেকে কিচ্ছু খায়নি। আমার ওর চেহারা দেখে বেশ মায়া হলো। গায়ে একটা ছেড়া জামা আর নোংরা হাফপ্যান্ট। মানিব্যাগ বের করে দেখলাম মাত্র ২০টাকার একটা নোট পড়ে আছে। আমি টাকাটা ওকে দিয়ে দিলাম। . . ছেলেটি টাকা নিয়ে চলে গেলো। কাছে এক টাকাও নেই। কীভাবে কী করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। . . দেখলাম ছেলেটি আবার ফিরে এসেছে। ১৫টাকা ফেরৎ দিয়ে বললো,,, আমার ৫টাকার বেশী লাগবে না। আপনি টাকা ফেরৎ নিন। . . সত্যি বেশ অবাক হয়েছিলাম! এটাকেই হয়তো মানবতা বলে। আমি আর কোনো কথা বলার শক্তি পায়নি। বাকরুদ্ধ অবস্থায় ছেলেটির নিষ্পাপ পায়ে চলে যাওয়া দেখলাম। . . আজকাল ফুটপথের বাচ্চাগুলোর মাঝে যে মানবতা আছে ,,, আমাদের সমাজে উচ্চ পদস্থ মানুষের মাঝে তার ছিটে ফোটাও নেই। . . ছাউনিতে বসে আনমনে এসব ভাবছিলাম। হঠাৎ ফোনের শব্দে কল্পনা থেকে বাস্তব জগতে ফিরে এলাম। . . ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখি অচেনা নাম্বার। ...... - হ্যালো, কে বলছেন? বেশ মিষ্টি নারী কন্ঠে জবাব এলো, > আমার পরিচয় জেনে লাভ নেই। তবে আজ থেকে আপনার বন্ধু। আর ছোট বাচ্চাটাকে সাহায্য করার জন্য ধন্যবাদ। - আমি ওকে সাহায্য করলাম আপনি জানলেন কী করে? > আমি সব জানি। আপনার চাকরী দরকার? -হ্যা। কিন্তু আপনি কে বলুন তো? > বেশী কথা বলেন ক্যান? বললাম তো আপনার বন্ধু(ধমকের সুরে)। আপনার আজ থেকে চাকরী হলো প্রতিদিন বিকালে এই খানে এসে আমার সাথে ফোনে কথা বলবেন। বেতন আমি দিবো। -মজা করলেন? এইটা একটা চাকরী হলো। > যা বলছি তাই করবেন। এখন রাখি। বাই। - কিন্তু.... কথা শেষ হওয়ার আগেই লাইন কেটে গেলো। কী করবো কিছুই বুঝতেছি না। ভাবলাম হয়তো কেউ মজা করেছে। কিন্তু আমি ছেলেটাকে সাহায্য করলাম এটা সে জানলো কী করে? . . মনের মধ্যে রহস্য নিয়ে বাড়ী চলে আসলাম। ...... রাতে ঘুমাতে যাবো এমন সময় আবার ফোন আসলো। সেই একই নম্বর থেকে। ফোন রিসিভ করলাম। - হ্যালো। > বন্ধু বলছি। - আপনার কী কোনো নাম নেই? > হ্যা। আমি মহুয়া । আর আপনি আখলাক। ঠিক বললাম তো? - আপনি আমার নাম জানলেন কী করে? > আমি সব জানি। কালকে ঠিক সময়ে চাকরীতে জয়েন দিয়েন। বাই। . . বেশ অদ্ভূদ একটা বন্ধু। যাই হোক, কথা বলতে খারাপ লাগছে না। আর যদি এটা একটা চাকরীর মধ্যে পড়ে তাহলে তো বেশ ভালোই। . . এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি নিজেই জানি না। . . . সকালে ফোনের শব্দে ঘুম ভাঙলো। আপনার কী মনে করেছেন? মহুয়া ফোন করেছে? নাহ্। আমার এক কাজিন ফোন করেছে। অনেক দিন পর ফোন করলো। তাই একটু সময় নিয়েই কথা বললাম। ...... ...... বিছানা ছেড়ে উঠে একটু ফ্রেশ হলাম। আম্মুর ঝাড়িটা আজ মিস করলাম। ব্রেকফাস্ট করে চলে গেলাম বন্ধু মহলে একটু আড্ডা দিতে। বেশ কিছুক্ষণ আড্ডার আসর শেষ করে চলে আসলাম বাসায়। খাওয়া দাওয়া করলাম ডাউল আর ডিম দিয়ে। আমার প্রিয় খাদ্য। . . খেয়ে একটা দারুণ ঘুম দিলাম। ঘুম থেকে উঠলাম ৪:৩৯ মিনিটে। একদম ভূলে গিয়েছিলাম যে আজ আমার চাকরীতে জয়েন করার কথা। প্রথম দিন যদি দেরী করি তাহলে সমস্যা আছে। তাই দ্রুত চলে গেলাম সেই চিরচেনা ছাউনীর আশ্রয়ে। . . ছাউনীতে যাওয়া মাত্র ফোন বেজে উঠলো। মহুয়া ফোন করেছে। -হ্যালো। >সকালে কাজিনের সাথে এত্ত কথা বলার দরকার কী? কথা শুনে একদম ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। -আপনি এসব জানছেন কী করে বলুন তো? >সেটা শুনতে হবেনা। আর একটা কথা। আমারও কিন্তু ডিম ডাউল প্রচন্ড পছন্দের খাবার ছিলো। আপনার সাথে একদম মিল। হি হি হি হাসিটা শুনে প্রাণটা একেবার জুড়িয়ে গেলো। তবুও একটু ভাব নিয়া কইলাম, -এত্ত হাসেন ক্যা? >সমস্যা নাকি? -নাহ্। যত্ত পারেন হাসবেন। হাসলে মন ভালো থাকে। >জ্বি।ধন্যবাদ। . . এভাবেই আমাদের ফোনে কথা চলতে থাকে আর আমার চাকরী। . . . আজ ১ তারিখ। মহুয়ার সাথে কথা বলছি আজ ৩০ দিন হলো। যথা সময়ে পৌঁছে গেলাম আমার কর্মক্ষেত্র ছাউনিতে। ঘড়ির কাঁটা ৫টা ছোঁয়ার জন্য ছুটে চলেছে। এমন সময় মহুয়ার ফোন। এর মধ্যে আমাদের বন্ধুত্বটা আপনি থেকে তুমি ওর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। - হ্যালো, মহুয়া। > আখলাক আজ তোমাকে একটা কথা বলতে চাই। - অবশ্যই। কী হয়েছে বলো। > আমি মৃত। আজ থেকে ২ মাস আগে একটা গাড়ী এক্সিডেন্টে আমি মারা যায়। তোমাকে সেই বস্তির ছেলেটাকে সাহায্য করতে দেখে আমার ভালো লাগে। তোমার সাহায্যের উদারতা আমার মন ছুঁয়ে যায়। তাই তোমার সাথে বন্ধুত্ব করি। কথাটি শুনে আমি চোখের জল আটকাতে পারিনি। তবুও নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে বললাম, - তোমাকে যে কী বলবো বুঝতে পারছি না। > তোমার কাছে একটা অনুরোধ আছে। আমাদের এই বন্ধুত্বটা চিরদিন টিকিয়ে রাখবো। -অবশ্যই। আর আমি একটা চাকরী পেয়েছি। > আমি জানি। আর তোমার চাকরীর বেতনটা তোমার পাশেই রাখা আছে। আমি পাশে তাকিয়ে দেখলাম সত্যি একটা টাকার ব্যাগ আছে। মৃদু একটা হাসি দিয়ে মহুয়াকে ধন্যবাদ জানালাম। সেই থেকে এখনো টিকে আছে আমাদের গভীর বন্ধুত্ব। মহুয়া এখনো আমাকে আগের মতোই ফোন করে খেয়াল রাখে। আর আমিও শত ব্যস্ততার মাঝে প্রতিদিন বিকালে চাকরী পালন করতে যাই যাত্রী ছাউনিতে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ফেয়ার্স কেয়ার

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now