বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ফেরিওয়ালা

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ আরাফাত রহমান রাজু (০ পয়েন্ট)

X বাণী কন্ঠে একমাত্র আদরের মেয়ে রেনু।মা বাবা দুজনে রেনুকে খুব ভালোবাসতেন।কিন্তু রেনু না পারে কথা বলতে না পারে শুনতে অর্থাৎ সে এক বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে।রেনু চায় সবার সাথে মিলেমিশে খেলাধুলা করবে, সবার সাথে দুষ্টুমি করবে,কিন্তু তার ইচ্ছে গুলো ইচ্ছেই থেকে যাবে, কারণ তাকে সব মেয়েরা ভয় পায়, সব ছেলেরা ভয় পায় কারন সে বোবা মেয়ে তাই। যাহোক রেনু একদিন নদীর তীরে বসে রয়েছে।নদীর স্রোতের শব্দ প্রকৃতির নিস্তব্ধতার শব্দ যেন ওকে আনন্দিত করে তোলে।নদীর সাথে প্রকৃতির সাথে যেন কথা বলছে নদীর স্রোতের সাথে সে কথা বলছে প্রকৃতির বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ যেন রেনুর সাথেও কথা বলছে। চুপ করে রেনু বসে থাকতো। রেনুর বাবা-মা রেনু কে নিয়ে খুবই চিন্তিত, কেননা রেনু এখন বড় হচ্ছে তার সমস্যা হচ্ছে,তাই বাণীকন্ঠ ঠিক করে সে কিছুদিনের জন্য বিদেশ যাবে, এবং সে বিদেশে চলে গেল। প্রতিদিনের মতো রেনু নদীর তীরে বসে নদীর সাথে কথা বলছে।আর ওই নদীর পথ দিয়ে যাচ্ছিল এক ফেরিওয়ালা।রেনু ফেরিওয়ালাকে দেখে দৌড়ে গিয়ে তার সামনে দাঁড়ালো।ফেরিওয়ালা রেনু কে বলল তোমার কী কিছু লাগবে?রেনু শুধু তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে, যেন কিছু একটা বলছে।ফেরিওয়ালা বুঝতে পারলো রেনুর সমস্যা,তাই ফেরিওয়ালা তার ঝোলা থেকে কিছু বাদাম দিল। ফেরিওয়ালা বলল তোমার পয়সা দেবার কোন প্রয়োজন নেই,আমি ভালোবেসে তোমাকে এটা দিয়েছি তুমি এটা খেতে পারো।রেনু বাদাম নিয়ে ফেরিওয়ালাকে জড়িয়ে ধরল।এভাবে প্রতিদিন ফেরিওয়ালা রেনুকে কিছু-না-কিছু দিত।তাদের মাঝে বেশ গভীর বন্ধুত্ব হয়ে যায়।ফেরিওয়ালা রেনুকে অনেক ভালোবাসতো।কিন্তু রেণুর মা ওদের বন্ধুত্ব ভালো চোখে দেখতে পারত না,কারণ তার ধারণা ফেরিওয়ালা তার মেয়েকে চুরি করে নিয়ে যাবে। তাই রেণুর মা একদিন রেনুর সাথে নদীর পাড়ে যায়,এবং সেই ফেরিওয়ালার সাথে দেখা হয় তাকে বলল: তুমি আমার মেয়ের কাছ থেকে দূরে থাকো, তুমি আমার মেয়েকে চুরি করে নিয়ে যাবে। ফেরিওয়ালা বলল,না..না..আপনি ভূল ভাবছেন ও আমার মেয়ের মতো।আমার মেয়ের মতো আমি ওকে ভালোবাসি।আমি ওকে চুরি করে নিয়ে যাব না।আসলে আমারও একটি মেয়ে ছিল ঠিক রেনুর মত,কিন্তু সাত বছর বয়সেই ও' মারা যায় তাই আমি রেনু কে আমার মেয়ের মতো ভালোবাসি।কিন্তু রেনুর মা এখনো তার কথা বিশ্বাস করেনি তাই রেনুকে নিয়ে ওখান থেকে চলে যায় এবং ঘরে বন্দী করে রাখে।ফেরিওয়ালা ও প্রতিদিনের মতো সেই পথ দিয়ে যায় কিন্তু রেনুকার দেখতে পায়না। ফেরিওয়ালা তার ছোট ভাইকে কিছু টাকা ধার দিয়েছিল,সেই টাকা নেওয়ার জন্য ফেরিওয়ালা তার ভাইয়ের কাছে যায়।কিন্তু তার ভাইয়ের সব অস্বীকার করে এবং মিথ্যা মামলায় ফেরিওয়ালাকে ফাঁসিয়ে দেয়।তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায় এবং তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওদিকে....... রেনু প্রতিদিনের মতো নদীর পাড়ে গিয়ে বসে থাকে। কিন্তু সে আর ফেরিওয়ালাকে দেখতে পায় না। প্রায় কয়েক দিন সে নদীর তীরে গিয়ে বসে থাকে। কিন্তু ফেরিওয়ালার কোন খবর পায় না। বাণীকন্ঠ বিদেশ থেকে ফিরে এলো এবং তাদেরকে বললো চলো আমরা কলকাতায় যাব।রেনু বুঝতে পারল তারা এই গ্রামে বেশিদিন থাকবে না‌।রেনু ফেরিওয়ালার কাছ থেকে বিদায় নিতে পারল না কারণ ফেরিওয়ালা এখনো কারাগারে।বাণীকন্ঠ রেনু এবং রেণুর মা চলে গেলে কলিকাতায়। তিন মাস পরে........ ফেরিওয়ালা জেল থেকে ছাড়া পায়। এবং সে সেই নদীর পাড় দিয়ে যায় কিন্তু সেও রেনুকে দেখতে পায় না। ফেরিওয়ালা বেশ কয়েকদিন যাবৎ নদীর পাড় দিয়ে যায় তারপরও রেনুকে দেখতে পেল না। ফেরিওয়ালা হতাশ হয়ে সে নদীর পথ দিয়ে যাওয়া ছেড়ে দেয়। [এভাবেই শেষ হয়ে গেল রেনু আর ফেরিওয়ালার বন্ধুত্ব তারা আর কখনো একে অপরের সঙ্গে দেখা করতে পারে নাই]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ফেরিওয়ালা
→ ফেরিওয়ালা বাহরাম
→ ফেরিওয়ালা বাহরাম-শেষ অংশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now