বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
জানালার গরাদটা মেললেই নীল আকাশটা দেখা যেত। সে অনেক কাল আগের অবস্থা। এখানে সেটা খোললে দেখি জানালার গা ঘেসা আরেকটা জানালা।আকাশটা যখন ও ধারের বাড়িটা বন্ধ করে দিল খুব মনে খারাপ হয়েছিল। অফিস থেকে ফিরে রোজ ওদিকে চেয়ে থাকতাম। আর তারপরেই একদিন হঠাত্ জানালা খোলে মন ভাল হয়ে গিয়েছিল.. ।
তারপর ... । আবার .. আবারও আরেকদিন মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল ।
আজকাল জানালা খোললে ওধারে জানালা অধিকাংশই বন্ধ পাই ।মাঝে মাঝে ঐ জানালাটা খোলে একটা চার পাঁচ বছরে মেয়ে বসে মুখ গোমরা করে। হয়তো আমার মত আকাশ খোঁজে।
শরীরে প্রচন্ড জ্বর। অফিস থেকে ছুটি ছিল দুদিনের। আমি আজ নিয়ে সাত দিন অফিস কামাই করছি। কোন ফোনও দেইনি। কেন জানি ইচ্ছেও হয়নি। চাকরিটা হয়তো যাবে। যাকনা!
এই দুর্লভ চাকরির বাজারে এমন চিন্তাও দু একবার উকি মারে মাথায়। বড় একটা পরিবর্তন এসেছে আমার মধ্যে। সে ঘটনার পর থেকেই।
মুখ অবধি লেপ দিয়ে ঢেকে ঘুমানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছিলাম। এমন সময় জ্বরের ঘোরেই কীনা জানিনা , হঠাত্ মনে হল কেউ আমায় ডাকছে।
একবার নয়। একটানাও নয়। কেমন সংকোচ জড়ানো কন্ঠে ,হঠাত্ হঠাত্ !
আমি কান পেতে শুনলাম, অভি..অভি ...
বড় মিহি সে স্বর। কম্বল সরাইনি। তাও মনে হচ্ছে আমার পায়ের কাছে বসে আছে কেউ। বড় দুটানায় পড়ে গেলাম। মন বলছে এ বাস্তব নয়। এ কোন স্বপ্ন। কিন্তু ...!
প্রচন্ড শীতে একটু আগেও আমি কাঁপছিলাম। এখন কোথ্থেকে যেন একরাশ গরম হাওয়া আমাকে ঘিরে ধরেছে। টপ টপ করে ঘাম ঝরে পড়ে বালিশটা চপচপে হয়ে ভিজে গেছে। বিদঘুটে গন্ধ আসছে সেখান থেকে। সাহস করেই কম্বলটা সরিয়ে ফেললাম। তাকালাম পায়ের দিকে। একরাশ অন্ধকার ওখান তাল পাকিয়ে আছে। চুপচাপ নিঃস্তব্দতা চারদিকে। কেউ নেই। কেউ ডাকছেনা। গরমটাও কেটে গেছে। হাড় শিরশিরে শীত ঝাকুনি দিয়ে শরীর কাপিয়ে দিল ।
এই আমি , কিছুখন আগে গরমে ঘামছিলাম কি ? আর কে ডাকছিল আমায় ? স্বপ্নকি ?
নাকি সত্যিই কেউ ছিল । কিংবা হয়তো এখনও আছে। আমার পায়ের একপাশে বসে অবাক হয়ে দেখছে আমায়। লাইটটা কি জ্বালাব ? বাতির ঝুলানো সুইচটা লাল টিমটিমে আলো জ্বলে। হাত বাড়ালাম ওদিকে। তবে জ্বালাতে আর পারলাম না। তার আগেই সেই মিহি স্বরটা আবার ভেসে এলো ,
: আলো জ্বালিওনা অভি। আলোতে আমার খুব চোখ জ্বলে।
সত্যিই তাহলে কেউ আছে। আমি তাহলে ভুল শুনিনি। অন্ধকারের গাঢ়তা কমে এসেছে। এখনও তাকে ঠিক স্পষ্ট দেখা যাচ্ছেনা। একটা ষোড়শী মেয়ের অবয়ব। ছায়া ছায়া অবয়বটাই কেমন মায়া মায়া ভাব।
গরম হাওয়াটা আবার ফিরে এসেছে। এটা কি আমার ভয় ?
ভয়ে আমি কেপে উঠি। সাতদিনের জ্বরে শরীরে যা একটু খেয়ে দেয়ে মাংস চড়িয়েছিলাম তাতো গেছেই এখন মনে হচ্ছে মাথাটাও গেছে। ফকফকে কুয়াশা ঢুকে অদক্ষ নাবিকের মত জাহাজ চালাচ্ছে। আর তার ফলেই আমি এসব দেখছি। এ তোমার ভ্রম অভি। বড়জোর কয়েক মিনিট এসব চলবে। কিংবা ধরো পুরো রাত ।
সকালে আলো ফুটবে ,দেখবে জ্বর তোমার ভাল হয়ে গেছে। গোসল করে তুমি অফিসে যাবে , বন্ধের কারন দেখিয়ে এপ্লিকেশন দিবে। পাস হলে নতুন মাসের বেতনাটা উঠিয়ে নিয়ে আসবে। রুমের ভাড়াটা বাকি। সেটা পরিশোধ করবে।
আমি ভ্রমটাকে কাটাতে চাচ্ছি। সবকিছু স্বাভাবিক চিন্তা করতে চাচ্ছি। ঐ যে আমার পায়ের কাছে অন্ধকারের উপর আরেকটা গাঢ় কালো ছায়া ফেলে একটা মেয়ে বসে আছে ও আসলে আমার ভ্রম।
: আমি তোমাকে কিছু কথা বলব অভি।
মিহি স্বরটা আবারো গরম হাওয়ায় ভর দিয়ে কানে আসল। সংকোচে আছে যেন। স্বরে তার দুটানা ভাব। থেমে থেমে কথা বলছে।
: অনেক আগেই বলতাম কথাটা তোমায়,সময় পাইনি। শুনবে ?
: বলো !
নিজের স্বর শুনে নিজেই অবাক হয়ে গেলাম। আমার পায়ের কাছে বিছানায় অন্ধকারে যে বসে আছে তাকে কি আমি চিনি ? তাহলে তুমি করে বললাম কেন ?
: আমার কোন দোষ ছিলনা অভি । আমি তোমাকে ছেড়ে যেতে চাইনি । কিন্তু ..
আবারো সংকোচ। আবারো দ্বিধা। ভয় আমার কেটে গেছে। এখন সেখানে এসে ভর করেছে একরাশ রাগ।আমার সাথে কথা বলতে গিয়ে কেন থেমে যাও তুমি ? আমার সাথে কেন এত দ্বিধা , এত সংকোচ।
অন্ধকারে ছায়াটা এবার একটু নড়ে। আরেকটা এগিয়ে অসে আমার দিকে। আমার কোমরের কাছে এসে বসে সে। যেন আমার মুখটা দেখতে চায়। বুঝতে চায় আমি ওর কথা বিঃশ্বাস করছি কীনা।
ছাই করব বিঃশ্বাস তোমায় ! ভেবেছ কি চিনিনি তোমায় ? এতখন ভান ধরেছিলাম। আর ভান নয় ! কি বলতে আবার এসেছে তুমি ?
: তুমি কি আমার কথা বিঃশ্বাস করছ অভি ?
: তোমার কি মনে হয় ?
স্বরটা আবার চুপ।
: আমি কিন্তু যেতে চাইনি। আমার মোটেও ইচ্ছে ছিলনা ।
: তাহলে গিয়েছিল কেন ?
আবার চুপ। একরাশ অন্ধকার চারদিকে। ঘনকালোতে যেন সে কিছু খোঁজে বলে মনে হয় আমার। কম্বলের বাইরের একটা হাত বেরিয়েছিল আমার। একটা শীতল বরফঠান্ডা হাতের ছোঁয়া পেলাম সেখানে ।
: আর যাবনা অভি। আমি ফিরে এসেছি । একেবারে । চিরদিনের জন্য । তুমি আমাকে ক্ষমা করো ।
: কি হয়েছিল সেদিন ?
ওর বরফ শীতল হাতটা চেপে ধরে বলি ।
: কবে ?
: যেদিন চলে গেলে ?
: কিচ্ছু মনে নেই।বাবার সাথে বসেছিলাম প্লেনের সিটে। হঠাত্ মনে হল সব কাঁপছে। তারপর সব অন্ধকার !
আমিও কিছু জিজ্ঞাসা করলামনা। ওর হাতটায় আরেকটু শক্ত করে চেপে ধরলাম। তারপর বললাম ,
: সত্যিই আর যাবে না তো ?
: না যাব না ! সত্যিই আর যাবনা ।
: অফিস ফেরত জানালা খোলে বসলে আবার তোমায় দেখতে পাবো বলছ ?
: হু ।
অন্ধকারেও মনে হল ওর ঠোটে আলোর মত একটা হাসি ফুটে আছে ।
***
সকালে জ্বরটা সত্যিই সেরে গেছে। মুখ ধুয়ে আয়নায় সামনে দাড়িয়ে দাঁত ব্রাশ করতে গিয়ে মনে পড়ল কথাটা। দ্রুত পায়ে গিয়ে জানালাটা খোললাম। ওপাশের জানালায় সেই গোমরামুখী চার পাঁচ বছর বয়সী মেয়েটা বসে আছে। আমাকে দেখে গাল ভরা হাসি ফুটে উঠল ওর মুখে ।
আমি হাত নাড়লাম । মিথ্যা বলেনি ও । সত্যিই ফিরে এসেছে ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now