বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আসসালামু আলাইকুম।।
গল্পঃ ♦ফেইসবুক♦
লেখকঃ
*-----------------------------------------
আমার নাম বাপ্পারাজ।বাবার একমাত্র সন্তান। আমার মা নেই।আমি কিন্তু বাংলা সিনেমার বিখ্যাত ছ্যাকাগুরু বাপ্পারাজের মতো না। এমনকি প্রেমময় যুবকও না। আমি আমিই।তবে আমি হলাম ফেইসবুক পাগলা মানুষ। সারাদিন ফেইসবুক নিয়েই থাকি।ফেইসবুক ছাড়া কিচ্ছু বুঝিনা। তো একদিন বিকেলবেলা ফেইসবুক চালাচ্ছিলাম।এমন সময় আমার শ্রদ্ধেয় আব্বাজান এসে দরজায় কড়া নারে––
আব্বাঃ বাপ্পা সোনা ও বাপ্পা সোনা ঘরে আছুনি??
আমিঃ জ্বি আব্বা আছি ঘরে আহো।
আব্বাঃ তোরে একখান কথা কওয়ার জন্য আইছিলাম
আমিঃ খাড়াও তার আগে আমি একখান কথা কই। তোমারে না কইছি আমারে রাজ কইয়া ডাকবা এই বাপ্পা নামটা কেমন জানি
আব্বাঃ শুন্ তুই যহন ছোট ছিলি তহন খালি বাপ বাপ করতি তাই বাপের লগে আরেকটা প যোগ কইরা বাপ্পা রাখছি আর ওইসময় রাজা মিয়া নামের একটা গায়কের ভক্ত ছিল তোর মা তাই রাজ সে রাখছে। বুঝলি
আমিঃ হুম বুঝলাম তা কি কওয়ার লাইজ্ঞা আইছ?
আব্বাঃ দেখ দেশটা তো ডিজিটাল হইছে তাই আমাদেরও তো ডিজিটাল হইতে হইব নাহলে তো দেশের মান সম্মান থাকবনা তাই তুই ওই পেসবুক না ফেসবুক কি যেন একটা আছে ওইটার একাউন্ট খুইল্লা দিবি
আমিঃ কি! তুমি ফেইসবুক চালাইবা
আব্বাঃ আমি বুড়া মানুষ আছি আর কয়েকদিন। মইরা গেলেই তো টুসস জীবনের একটা স্বাদ আহ্লাদ তো আছে ।তাছাড়া আমার বাইল্যকালের বন্ধু আলমগীরও তো ফেইসবুক চালায়।
আমিঃ আচ্ছা কাল খুলি দিমু নি
আব্বার কথায় আব্বারে ফেইসবুক একাউন্ট খুইল্লা দিতে হয়। আব্বার নাম মোঃ আবুল কিন্তু ফেইসবুক আইডিতে লিখা আবুল★star★। তার ইচ্ছাতেই লিখা হইছে। এই ফেইসবুক পাওয়ার পর থেকে আব্বা আমার থেকে বড় ফেইসবুক পাগলা হয়ে গেছে। বিভিন্নভাবে আমাকে জ্বালাতনও করে।
একদিন আমি আর আমার বাপ একই টেবিলে বসে খাচ্ছিলাম।আমি আবার খাওয়ার সময়ও ফেইসবুকে ঘুরাঘুরি করি।এমনসময় দেখি আব্বা আমাকে মেসেজ দিল, কি করো আমার বাপ্পা সোনা বাবু? এটা দেখার পর আমার মাথায় রক্ত উঠার মত অবস্থা তাও শান্ত হয়ে একটা হাসির ইমুজি দিয়ে বলি, ভাত খাই তুমি কি কর এটা বলার পর আব্বাজান টেবিল থেকে উঠে আমাকে একটা চড় দিয়ে বলল,হারামজাদা তুই দেহস না খাইতাছি আবার জিজ্ঞাসা করোছ। আমিও বলতে থাকি, তুমি দেখনা আমি খাইতাছি আবার জিজ্ঞাসা কর। এটা বলার পর আব্বা শান্ত হয়ে বলল, ওহ তুই এইখানে বসে বসে ভাত খাস আমি মনে করছিলাম মাছি মারতাছছ। ছরি মাই ডিয়ার পোলা ।
আরেকদিন আমি আর আমার আব্বা সোফায় বসে ফেইসবুক চালাচ্ছিলাম এমনসময় আব্বা আমায় লিখে, এক কাপ চা দেতো বাপ্পা সোনা বাপ্পু।আমি অসংখ্য চায়ের ইমুজি দিয়ে দিলাম।তখন সে লিখল, এডি কি দিলি? আমি লিখলাম,, কেন আব্বা চা ।এরপর আব্বাজান বসা থেকে উঠে আমাকে ঠাস করে চড় দিয়ে বলল, তোরে কইছি এক কাপ চা দিতে এডি দিতো তো কই নাই। আমি বললাম, তাহলে মুখে বলতে
আব্বাঃ ফেসবুক থাকতে মুখ কেন ।
।
।
কাল সকালে ভার্সিটিতে একটা গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস আছে তাই আব্বাজানকে বললাম,
আমিঃ কাল ৮:৩০ এ ঘুম থেকে ডাক দিও
আব্বাঃ আইচ্ছা
এরপর সকালে ঘুম থেকে উঠে এলামের দিকে তাকিয়ে দেখি সকাল ১০ টা বাজে।। আমি চিল্লাইয়া আব্বারে ডাকি
আব্বাঃ কি হইছে এত চিল্লাস ক্যান?
আমিঃ তোমারে কইছি ৮:৩০ এ ডাক দিতে দেওনাই ক্যান?
তখন আব্বা মোবাইল বের করে আমাকে দিকে নিয়ে এল।দেখি ফেইসবুকে বড় করে স্ট্যাটাস দেওয়া,,"""সকাল আটটা বাজে তাড়াতাড়ি উঠে পড় আমার বাপ্পা সোনা বাপ্পু। তোমার দেড়ি হ'য়ে যাচ্ছে""""
আর এই স্ট্যাটাসে সবাই হা হা হা রিয়েক্ট দিছে। এটা দেখে আমার পাগল হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা।
আজ শুক্রবার। লুঙ্গি আর গেঞ্জি পড়ে বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়ে বাজারে যাইতাছিলাম। এমন সময় একটা লোকের সাথে ধাক্কা খাই।লোকটিকে পেছন থেকে দেখি।সে সামনে তাকাতেই আমি টাস্কি৷ খাই।এত আমার আব্বাজান।কিন্তু ওনার গায়ে লুঙ্গি আর ফতুয়া নাই। প্যান্ট- শার্ট, চোখে সানগ্লাস মাথায় ক্যাক পড়ে কমরে হাত দিয়ে আছে।
আমিঃ আব্বা আমি তোমার পোলা লুঙ্গি পইড়া ঘুইরাবেরাই আর তুমি শার্ট প্যান্ট,, ক্যাপ ,সানগ্লাস পড়ে কই যাও
আব্বাঃ আমি বুড়া মানুষ।আছি কয়েকদিন মইরা গেলেই টুসস।জীবনের একটা স্বাদ আহ্লাদ আছে তো।
আমিঃ হুম বুঝলাম কিন্তু এরকম শারুখ খান সাইজ্জা কই যাও?
আব্বাঃ আমার ফেসবুক ফেরেন্ড রহিমা বেগুন এর সাথে দেখা করতে।
আমিঃ ফেইসবুক ফ্রেন্ড রহিমা বেগুন আব্বা ফেইসবুক ফ্রেন্ড বুঝলাম কিন্তু রহিমা বেগুন আমার মনে হয় বেগম হবে। টাইপ করতে হয়ত ভূল হয়েছে
এটা বলার পরই আব্বা আমাকে একটা চড় দিয়ে শাকিব খানের মতো বলতে লাগল,,
আব্বাঃ এ আকাশ-বাতাস মিথ্যা হয়ে যেতে পারে, করিমের চায়ের দোকান মিথ্যা হয়ে যেতে পারে,আমাদের রাস্তা মিথ্যা হয়ে যেতে পারে, মিথ্যা হয়ে যেতে পারে বিরিয়ানি আলু পরটা কিন্তু ফেইসবুক কখনো মিথ্যা হবে না সে কখনো ভূল করবেনা আমার সঙ্গে বেইমানি করবে না বুঝলি বাপ্পা!!!!
আমিঃ ওহ আচ্ছা তাহলে রহিমা বেগুনই ঠিক
আব্বাঃ হুম এখন তুই আমারে হুন্ডা কইরা তার বাড়ি নিয়া যা পথ আমি চিনাই দিমু।
আমিঃ তাহলে লুঙ্গি খান পালটাই আসি
আব্বাঃ না যেভাবে আছছ সেভাবেই নিয়া যাবি আর গান গাইতে গাইতে যামু
আমিঃ আচ্ছা
আমি হুন্ডা করে আব্বাকে নিয়ে যাচ্ছি। আব্বা আমার পিছনে বসে আছে আর হাত ওপরে করে তালি দিতে দিতে গান গাচ্ছে।। সাথে আমাকেও গাইতে হচ্ছে
আব্বাঃ এই পথ যদি না শেষ হয় তবে কেমন হবে তুই বলত
আমিঃ তুমিই বল
আব্বাঃ যদি পৃথিবীটা সপ্নের দেশ হয় তবে কেমন হবে তুই বলত
আমিঃ তুমিই বল
আব্বাঃ লা!লা!লা!লা! লা! লা!
এরপর আব্বাকে তার রহিমা বেগুনের বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আমি নিজের বাড়িতে আসি।ফ্রেশ হয়ে ফেইসবুকে ঢুকি দেখি একটা মেয়ে ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট পাঠাইছে নাম সুইটি। একসেপ্ট করলাম।প্রফাইলে ইংল্যান্ডের ছবি দেওয়া। ভাবলাম ইংল্যান্ডেে থাকে কিন্তু পরে দেখি না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে।। তার সাথে প্রতিদিন কথা হত।তাকে আমার ভালোই লাগে এভাবে এক মাস কাটে।সুইটিকে দেখার জন্য আগ্রহ জাগে। তাই তাকে আমাদের বাসায় ইনভাইট করি।
আজ শুক্রবার। কিন্তু আগের ওই শুক্রবারের মতো এই শুক্রবার আব্বা আর রহিমা বেগুনের না। আজ এই দিনটা আমার আর সুইটির। সে আসবে ১১ টায়। এখন ১০:৪৫ বাজে।আর পনেরো মিনিট বাদে তার সাথে দেখা হবে।আমার খুব আনন্দ হচ্ছে।পনেরো মিনিট শেষ হতে চলল।হঠাৎ দরজায় কলিং বেল বাজে।আমি নাচতে নাচতে দরজা খুলতে যাই কিন্তু দেখি আব্বা আমার আগেই দরজা খুলার জন্য যাচ্ছে। আমি আব্বার পিছে পিছে যাই।দরজা খুলে আমরা দুজনেই ‘থ’। দেখি একটা বয়স্ক মহিলা ফুটপাতের শাড়ি পড়া। মুখে মেকআপ ভরা। ছাতা হাতে নিয়ে আমার দিকে এগিয়ে আসছে। এসে আমাকে বলল,
"""" মেরি বাপ্পারাজ। ওগো আমার রাজা আমি তোমার রাণী সুইটি"""
এরপর আমার আব্বার দিকে তাকিয়ে বলল,, এই বুইড়া ব্যাটা কেডা?
আমার বাপজান রেগে আগুন হয়ে তার সামনে যেয়ে হতভাক হয়ে যায়।
আব্বাঃ এই তুমি আমাগোর কাজের মেয়ে সখিনার মা জরিনার শাশুড়ী সরিষা খাতুন না । ওইদিন বস্ত্র দান তহবিলে তোমারে দেখছি।
এরপর আব্বাজান মাটিতে বসে কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে বলল,""""""ওরে বাপ্পারে তুই কি করলি রে তুই আমগোর বংশের মান সম্মান ডুবাইলিরে।। শেষ পর্যন্ত কাজের মেয়ে সখিনার মা জরিনার শাশুড়ী সরিষা খাতুনের লগে ফেইসবুকে ইটিস পিটিস করস!!!!!!!!!!!!"""""""""
আমি আর এগুলো দেখতে পারছিনা মাথা ঘুন্না দিয়া আব্বার ওপর পইড়া গেলাম। এরপর সব ইতিহাস....................
★★ সমাপ্ত★★
[ বিঃদ্রঃ ভূল ক্রটি ক্ষমা করলে করবেন না করলে নাই আমার ঠেকা পড়েনা আর গল্পটি শুধুই কাল্পনি।। কেউ সিরিয়াসলি নিবেন না যে নিবে তাকে অভিশাপ দিচ্ছি ✋ ✋
""" আতা গাছে তোতা পাখি ডালিম গাছে মৌ
যে আমার গল্প সিরিয়াসলি নিবে তার ভাইজ্ঞা যাবে বউউউ"""
So ⚠ সাবধান⚠
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now