বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ক্লাস থেকে বের হয়ে এক বন্ধুর বাসায় আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি বড় চাচার ফোন।ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে ফোনটা রিসিভ করলাম।
,
,
বড় চাচা : নুসরাত বললো, তোমাকে নাকি কপি করার অপরাধে ম্যাডাম ক্লাস থেকে বের করে দিয়েছে,,,,
,
আমি : না চাচা ইয়ে মানে,,
বড় চাচা : এখনি বাসায় আসো তুমি,,
আমি : আচ্ছা চাচা আসতেছি,,
,
,
আমার অপকর্মের খবর যত তাড়াতাড়ি ভাইরাল হয়,আমার মনেহয় অপরাধি গানও ততো তাড়াতাড়ি ভাইরাল হয় নাই।কি আর করার, বাপ্পারাজ স্যারের মতো মলিন চেহারা নিয়ে বাসায় গিয়ে মারুফ স্যারের মতো নুসরাতকে এই কুত্তার বাচ্চা বলে আধা ঘন্টার মতো ওয়াশ করার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু বড় চাচা পাশে থাকার জন্য বিলাই এর বাচ্চার মতো চুপ চাপ রইলাম।দেখি সবাই বসে আছে,নুসরাত ও বসে আছে।আমাকে দেখে আবার বান্দরটা মিট মিট করে হাসতেছে।ইচ্ছে করছিল চড় মেরে ওর দাঁত ভেঙে দিতে।বড় চাচা আমাকে দেখে দাঁড়িয়ে গিয়ে,,,
,
,
বড় চাচা : শুনো সবাই গাধাকে যদি অনবরত ২৪ ঘন্টা করে ১২ মাস ৩৬৫ দিন কেউ বেত দিয়ে আঘাত করতে থাকে তাও সে ঘোড়া হবে না।সে গাধাই থাকবে।আমাদের গাধাটাও ঠিক তেমনই,ওর আর পড়ালেখা করার দরকার নাই। ও কাল থেকে অফিসে বসবে।
,
বড় চাচা বাবাকে লক্ষ্য করে বলল তোমার কিছু বলার আছে??
,
বাবা : না ভাইজান, আপনার সিদ্ধান্তই শেষ সিদ্ধান্ত
,
নুসরাত : বড় চাচা আমি একটা কথা বলতে চাই,,বলবো?? বড় চাচির অনইচ্ছা সত্ত্বেও নুসরাত আগ বাড়িয়ে বড় চাচাকে প্রশ্ন করে বসলো।
বড় চাচা : হ্যা বলো,
নুসরাত : চাচা এখনকার দিনে মেয়েদের আকাঙ্খা অনেক বেশি।আমাদের মেঘ এর তো কোনো ভালো গুন নেই।তার মধ্যে যদি আরো বয়স বেশি হয়ে যায় তাহলে তো আর বিয়েই করানো যাবে না।আমড়া কাঠ দিয়ে তো এমনিতেই কোনো কিছু করা যায় না। তারমধ্যে যদি তা পচে যায় বুঝতেই তো পারছেন।
,
আগুনে পেট্রোল ঢালার ওস্তাদ এই মেয়েটা, ৩য় বিশ্বযুদ্ধের কারণে যদি তেলের বাজার আকষ্মিক বেড়ে গিয়ে লিটারের দাম এক কোটি তে গিয়ে দাঁড়ায় তাহলে সে ট্রাম্পের গাড়ি থেকে থেকে তেল চুরি করে আগুনে তেল ছিটাবে এ নিয়ে কোনো প্রকার সন্দেহ পোষন করছি না আমি। নুসরাত এর কথাটা শুনার পর সবাই খিক খিক করে অট্টোহাসিতে ফেটে পরলো।যেনো ঠাকুমার ঝুলির সকল দত্য গুলা আমার বাসায় এসে পরেছে।বড় চাচা নুসরাত এর দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকানোর সাথে সাথে বাসার সবাই চুপ হয়ে গেলো।এখন মনেহচ্ছে কোনো কবরস্থান এ আছি। মানুষের কোনো সাড়া শব্দ নাই।পরক্ষনে বড় চাচাও খিক খিক করে হাসতে হাসতে বলল তুমি যুক্তিসংগত কথা বলেছ নুসরাত। সাথে সাথে বাসায় যেনো বিয়ে বাড়ির আনন্দ লেগে গেলো, বাড়ির কাজের মেয়েটা পর্যন্ত হাসতেছে। আইনস্টাইন চাচার ছোট মেয়ের এক্স বয়ফ্রেন্ড বিজ্ঞানী কুদ্দুস ঠিকই বলেছিলো, দুনিয়াতে দুই ধরনের মানুষের কোনো দাম নেই
১.ভালো মানুষ
২. কালো মানুষ
,
পরক্ষনে বড় চাচা যে কথা বললেন তা শুনে আমি রুমে বসে বসে সাকি সাকি গানে নাগিন ডান্স করতেছি।
,
ফিডব্যাক
বড় চাচা : নুসরাত এর কথা আমলে নিয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি মেঘ এর বিয়ে দিবো।
,
আমি : চাচা আমি এখনো বি বি এ শেষ করিনি,,
বড় চাচা: তুমি আগামী ১০ বছরেও শেষ করতে পারবে না।আর আমি তোমার সিদ্ধান্ত চাই নি।
বাবা: ভাইজান তাহলে তো মেয়ে দেখতে হবে।
বড় চাচা : তার প্রয়োজন নেই,,
আমি : তাহলে আমাকে কি ছেলে বিয়ে করাবেন নাকি।আমি কিন্তু ঐ টাইপের ছেলা না।আমি এগুলা মানবো না। বাড়ি থেকে পালিয়ে যাবো।
,
আমার কথা শুনে আবার সবাই হাসতে শুরু করলো
বড় চাচা : থাপড়াইয়া সব কটা দাঁত ফেলে দিবো তোমার।মেয়ে দেখতে মানা করেছি কারণ মেয়ে আমি আগে থেকে দেখে রেখেছি তোমার জন্য।
বাবা : ভাইজান কে সে,,
বড় চাচা : আমাদেন নুসরাত,,
,
ফাস গিয়া বিল্লি জাল মে, বিশ্বাস করেন ভাই আমার মনে হইতে ছিল আমি ১০০০ কোটি টাকার লটারি পাইছি।বেচারা নুসরাত ইদুরের ঔষধ খেয়ে বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে তা দেখতে আমি তার রুমে যাচ্ছি।আপনারা আবার উকি দিবেন না তাহলে নুসরাত রাগ করবে।।
সমাপ্ত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now