বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বাংলা ভাষায় কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের অনুরাগী পাঠকের কাছে এ বড়ো সুখের সময়।
প্রায় সবক’টি প্রধান ওয়েবজিন তো বটেই, বাজারে চলতি তথাকথিত মূলধারার পত্রপত্রিকায় এখন নিয়মিত বা অনিয়মিত ব্যবধানে প্রকাশিত হচ্ছে কল্পবিজ্ঞান সংখ্যা। হ্যাঁ, একথা ঠিক যে সেইসব সংখ্যায় অনেক সময় কল্পবিজ্ঞান চাপা পড়ে যাচ্ছে ফ্যান্টাসি বা অপবিজ্ঞানের আড়ালে। অনেক ক্ষেত্রে মৌলিক সাহিত্যের নামে বিদেশি লেখাজোখার অক্ষম অনুকরণ বা হনুকরণ-ই লাঞ্ছিত করছে পাঠকের মনকে।
তবু, অনেক-অনেক দিন পর বাংলা ভাষায় কল্পবিজ্ঞান চর্চা এক বিরাট সংখ্যক লেখক, পাঠক, ও রসবেত্তার কৌতূহলের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কিন্তু, কয়েকজন মানুষের শ্রম, মেধা, ও অকৃপণ ভালোবাসার ভিতের ওপর গড়ে ওঠা সেই কৌতূহল নিবৃত্ত করার জন্য আজকের পাঠকের কাছে ঠিক কেমন লেখা পৌঁছচ্ছে?
বা, আরো কর্কশ ভাবে বলতে গেলে, কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের জন্য পাঠকের মনে তৈরি হওয়া এই চাহিদার কথা মাথায় রেখে, বড়োবাজারি ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাই সমীকরণ অনুযায়ী বাজারে ঠিক কী প্রোডাক্ট সরবরাহ করা হচ্ছে?
আজকের ‘বইয়ের খবর’ তেমনই দুটি প্রোডাক্টের সঙ্গে পাঠকের পরিচয় করিয়ে দিতে চায়, যারা আজকের, তুলনামূলকভাবে সচেতন, এবং ফ্যান্টাসি ও কল্পবিজ্ঞানের তফাৎ জানা পাঠকের জন্য বাজারে এসেছে।
আগে আসা যাক ‘পত্র ভারতী’ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০১৭-য় প্রকাশিত ১৫২ পৃষ্ঠার হার্ডকভার, পবিত্র আচার্য-র বই “সংকীর্ণ পালানোর পথ”-এর কথায়।
বইটির বিষয়বস্তু কী?
চল্লিশ থেকে ষাটের দশকের পৃথিবী জুড়ে ব্যাপ্ত এই বই। এতে, কোল্ড ওয়ার এবং আসন্ন নানা ভূ-প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ধ্বংসের মুখোমুখি মানবজাতিকে নতুন করে সব শুরু করার একটা সুযোগ দেওয়ার জন্য জেমস লঙ নামক এক বিজ্ঞানী খুঁজে বের করলেন মনুষ্য বসবাসোপযোগী অন্য এক গ্রহ। সেই গ্রহে সত্যিই মানুষ বাঁচতে পারে কি না, তা জানার জন্য তিনি সেখানে টেলিপোর্ট (??!!) করলেন নিজের কুকুরকে, এবং এক বাঙালি সুপারম্যানকে। রুদ্র নামের সেই সুপারম্যানটি সফরের আগে নিজের গ্রামের সার্কাসের তাঁবু থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের এক জনজাতি-অধ্যুষিত গ্রামে, এবং সফরের পরে সেই গ্রহে গিয়ে কী ধরণের অ্যাডভেঞ্চার করল, ইতিমধ্যে কে যেন কাকে কেন খুন করে ফেলল, কারা যেন সমানে কফি খেল আর অসংলগ্ন ভঙ্গিতে মিটিং করল, এবং শেষে আক্ষরিক অর্থে “কী হইতে কী হইয়া গেল”, এই নিয়ে রচিত হয়েছে এই উপন্যাসটি।
কল্পবিজ্ঞান বা বিজ্ঞান পরে হবে, আগে বরং লেখকের সৃষ্ট কেন্দ্রীয় চরিত্র রুদ্রের সঙ্গে আপনাদের আলাপ করিয়ে দেওয়া যাক:
শঙ্করের রাজ সংস্করণ রুদ্র ঘাসের গায়ে পরম আদরে হাত বোলায়,
আশেপাশের গ্রামের সবক’টা স্কুলের মধ্যে সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট করে,
‘হাতের কাজ’ হিসেবে নক্ষত্রের কোরনা ধরে শক্তি উৎপাদন করে,
প্রায় সমস্ত রকমের খেলাধুলোয় চ্যাম্পিয়ন,
নিজের বানানো টর্চের আলো সার্কাসের খাঁচা থেকে বেরোনো বাঘের চোখে ফেলে বাঘকে শান্ত করে,
অ্যাডভেঞ্চার করার জন্য যেতে চায় “কোনো অজ্ঞাত স্থানের অজানা রহস্যের মধ্যে”,
নিজে পদার্থবিদ্যার ছাত্র হয়েও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতপূর্ব বিভাগীয় প্রধানের একটি অত্যন্ত সরল চিঠি পেয়ে উত্তেজনায় সারা রাত ঘুমোতে পারে না,
অক্টোবর মাসে জলপাইগুড়ির বনাঞ্চলে পাহাড়ি পাতার পোশাক পরা ‘খোলামেলা’ মেয়েদের সঙ্গে কাঁচা শালপাতার চুরুট আর মহুয়া সহযোগে নৃত্যগীত আদি উপভোগ করে,
পিস্তলের গুলি করে এমন এক নেকড়েকে তাড়ায় যে নাকি ওই গ্রামে এসে নীলগাই মেরে গেছে ক’দিন আগে,
জল ছাড়া মরুভূমিতে পাঁচ দিন ঘুরে বেড়ায়,
সুপারম্যান হয়ে যায় (ব্যাখ্যাটা সরাসরি লেখকের ভাষাতেই দিলাম: “বিস্ময়ে হতবাক হয়ে আবিষ্কার করল সে দৌড়তে পারছে অসম্ভব জোরে। প্রফেসরের যন্ত্রে অবনির্মিত হওয়ার অন্তিম পর্যায়ে শক্তির ভরে রূপান্তরের সময়ে গঠনগত ত্রুটির জন্যে রুদ্রর শরীরে দানবিক শক্তি বৃদ্ধি হয়েছে। হাত-পা সব ধাতব-শক্ত হয়ে গেছে। শরীরে দানবিক শক্তি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি বেড়ে গেছে কয়েক লক্ষ গুণ। … ওর দূরদৃষ্টি এখন মরুভূমি ছাড়িয়ে নিকটবর্তী জনপদের দিকে”, ইত্যাদি-ইত্যাদি।
এই ভয়াবহ ভাষায়, যে জিনিস এক পাতায় বলা যায় তাকে পনেরো পাতা জুড়ে ফেনিয়ে, এলিয়েন-এর ফেসহাগার আর টি-রেক্সের কম্বো অফার টাইপের ভিনগ্রহী দানব বানিয়ে, জেমস প্যাট্রিক কেলি-র “থিংক লাইক আ ডাইনোসর” থেকে টেলিপোর্টেশনের তত্ত্ব নিয়ে তাতে অকৃপণ গঞ্জিকাধূম্র প্রয়োগ করে, বিজ্ঞানের জগতে রাজনীতি আর কূটনীতির পাশাখেলা দেখানোর জন্য সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক ও অবান্তর একের পর এক অধ্যায়ের অবতারণা করে, উইকিপিডিয়া থেকে তোলা তথ্য যেখানে-সেখানে পূতিগন্ধময় বর্জ্যের মতো নিক্ষেপ করে, গল্পের মাথামুণ্ডু লোপ করে, কখনও ম্যালথুসের জনবিস্ফোরণ তত্ত্ব, কখনও বিগ ব্যাং, কখনও বিগ ক্রাঞ্চ, কখনও মিটিওরাইট ইমপ্যাক্টের ডুমসডে থিওরি আউড়ে লেখক যা বানিয়েছেন তা যে কতটা হাস্যকর, ক্লান্তিকর, এবং কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের অনুরাগী কোনো পাঠকের কাছে কতটা যন্ত্রণাদায়ক, তা একমাত্র এই বইয়ের হতভাগ্য পাঠকই বুঝবেন।
যে সময়ে ‘অ্যারাইভাল’-এর মতো গভীর চিন্তনের পরিচায়ক সিনেমা এই কলকাতাতেও দর্শকের দ্বারা সমাদৃত হচ্ছে, সেখানে এমন একটি বস্তুর উৎপাদন ও পরিবেশন থেকে আশঙ্কা হয়, লেখকের মতে বাঙালি পাঠকের পিটুলিগোলাই প্রাপ্য, দুধ নয়।
বহু মানুষের শ্রমে ও তিতিক্ষায়, অবশেষে যখন বাংলায় কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যকে পাঠক সিরিয়াসলি নিতে শুরু করেছেন, তখন এই সম্পূর্ণ অপাঠ্য লেখাটি প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে মাথায় পড়া বিষ্ঠাবৎ ঠেকল।
যদি একান্তই ম্যাসোকিস্টিক প্রবণতার দ্বারা তাড়িত হন, তাহলেই দেড়শো টাকা গাঁটগচ্চা দিয়ে এই বইখানা পড়বেন, নইলে নয়!
তিন দিন ধরে রিসাইকল হওয়া বাসি তেলে ভাজা শিঙারাও ঠাণ্ডা করে খেলে যেমন অবস্থা হয়, উপরোক্ত বইটি পাঠান্তে আমার মানসিক অবস্থা তেমনই হয়েছিল। রাগে যখন বাংলা কল্পবিজ্ঞান রচয়িতাদের নিয়ে মাথায় রীতিমতো নিহিলিস্ট গোছের ভাবনা আসছে, তখন আর একটি নাতিস্থূল, এবং একেবারে সাম্প্রতিক বইয়ের সন্ধান পেলাম নিজের বুকশেলফে। পরবর্তী গ্যাজর-গ্যাজর সেটি নিয়েই।
মন্তব্য;-সংরক্ষিত so friends (no news is absolutely good news)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now