বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ফাংশান অব সুহোদ

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ফাংশান অব সুহোদ তাহেরা সুলতানা জিনান.. আদেশ মানছে না সুহোদ। পৃথিবীর সাথে রেডিও কানেকশন কেন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, এ ব্যাপারটা নিয়ে চিন্তিত আছেন ড. যায়েদ। তারই সৃষ্টি অত্যাধুনিক রোবট সুহোদকে বলেছেন রেডিও অ্যান্টেনায় সঙ্কেত পাঠিয়ে এর ত্রুটিগুলো জেনে নিতে। কিন্তু সে মুখে মুখে বলে দিলো সে পারবে না। তার নিজের কিছু কাজ আছে। অবাক কাণ্ড! তারই সৃষ্টি যন্ত্রটি তাকেই মানছে না! ‘সুহোদ’, উত্তেজিত যায়েদ চেঁচিয়ে উঠলেন। ‘স্রষ্টার সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় জান না?’ ‘জানি, কিন্তু এখন আমি ব্যস্ত।’ জবাব দিলো সুহোদ। ঝঢ়ধপব-১৩-এর ডাইনিংয়ে বসে ড. যায়েদ এবার খাওয়া বন্ধ করে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলেন সুহোদের দিকে। বাংলাদেশ থেকে তিনি স্পেস ট্র্যাভেলে গিয়েছিলেন শনি গ্রহে। সেখান থেকে প্রাণের অস্তিত্ব ও ফিজিক্যাল অবস্থার ওপর কিছু প্রামাণ্য চিত্র সংগ্রহ করে আবার ফিরে আসছেন পৃথিবীর পথে। তার চোখে জ্বলজ্বল করছে অতি প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশের সবুজের সমারোহ। স্পেস ট্র্যাভেলে আরো বহুবার তিনি গিয়েছেন। খুঁটিনাটি কিছু প্রবলেম ছাড়া কোনো মেজর প্রবলেম দেখা যায়নি। এবারকার অভিযান স্পেস-১৩ নামে এক মহাকাশ যানে শনি গ্রহে। কিন্তু এখন কী হচ্ছে? এখানে কী অশুভ শনির দশা লেগে গেছে? নাকি সুহোদের ব্রেন ক্যাবলগুলোতে সমস্যার সৃষ্টি হলো! যে রোবটের ওপর ঝঢ়ধপব-১৩ পরিচালনার ভার দিয়েও নিশ্চিন্ত থাকতে পারতেন ড. যায়েদ, আজ সেই কি না… অসম্ভব। ড. যায়েদ আবার বললেন, ‘শেষবারের মত বলছি সুহোদ, প্রবলেমটার সল্ভ দশ মিনিটের মধ্যে চাই। কুইক, কাজে লেগে যাও।’ তারপরই ঘটতে শুরু করলো ঘটনাটা। খুলে যেতে লাগলো ঝঢ়ধপব-১৩-এর দরজা। ফস ফস আওয়াজ করে বেরুচ্ছে ভেতরের বাতাসগুলো। মহাকাশ যান ঝঢ়ধপব-১৩ এমন একটি বলয়ের মাঝে আছে যেখানে মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ বলে কোনটিই নেই। নভোমণ্ডলের শূন্য এলাকা এটি। যা হওয়ার তাই হচ্ছে। শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে গেছে ড. যায়েদের। ডাইনিংয়ের খাবারগুলো শূন্যে ভাসতে লাগলো। চামিচ, প্লেটগুলোও ভেসে বাইরের দিকে যেতে লাগলো, হয়তো এগুলো এ বলয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। ড. যায়েদ নিজেও ভেসে যেতেন যদি না তার পায়ে সেফটি স্যান্ডেল না থাকতো। সেফটি স্যান্ডেলের তলায়ও ঝঢ়ধপব-১৩ এর মেঝেতে এক ধরনের ক্লিপ রয়েছে, যার দ্বারা আটকে থাকে পরস্পর এবং কদম ফেলার জন্য পা টানলে ক্লিপগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে ওপরে তোলা যায়। ড. যায়েদ এবার সিদ্ধান্ত নিলেন সেফটি লাইফ হিসেবে এখানে সেখানে রাখা অক্সিজেন মাস্কগুলোর একটি পরে নেবেন। কিন্তু তার নিয়তি তার পক্ষে রইল না। মাস্কগুলো ইতোমধ্যে ভাসতে ভাসতে বাইরে বেরিয়ে গেছে। ড. যায়েদ একনজর তাকালেন সুহোদের দিকে। দেখলেন দরজার কাছাকাছি সুহোদ দাঁড়িয়ে আছে রিমোট হাতে নিয়ে। ড. যায়েদের শ্বাসকষ্ট তীব্র থেকে তীব্রতর হতে লাগলো। চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন তিনি। দৌড়ে গেলেন ইমারজেন্সি রুমের দিকে। দরজা বন্ধ আছে। সজোরে টান দিয়ে খুলতে হবে। কিন্তু তাঁর শরীর ক্রমশ দুর্বল হয়ে আসছে। হয়তো আর পারছেন না বেঁচে থাকতে। নিরাশ হয়ে গেলেন। চোখের সামনে এই অন্তিমকালে ভেসে উঠলো অতি আপন বাংলাদেশেটার জনগণ, স্ত্রী, ছেলেমেয়ে, মা-বাবা ও প্রকৃতির ছবিগুলো। এরই মধ্যে ঘটলো এক অদ্ভুত ব্যাপার। আপন মনেই খুলে গেল ইমার্জেন্সি রুমের দরজা। ড. যায়েদ কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না। আর চিন্তা না করে ঢুকে গেলেন রুমে। দূর থেকে দেখতে পেলেন একটি বোর্ডে লেখা ‘ফাংশান সব সুহোদ’। ঐ বোর্ড পর্যন্ত যেতে পারলেই হয়। প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে আর এগোতে পারছেন না। নিথর হয়ে পড়ে রইলেন যায়েদ। এক্ষুনি তার ইহলীলা সাঙ্গ হয়ে যাবে ভেবে চোখ দু’টি বন্ধ করে দিলেন। একবার ভাবলেন কালেমা পড়বেন। কিন্তু না, তিনি তো ধর্ম বিশ্বাস করেন না। নাহ, কালেমা আর পড়লেন না। ড. যায়েদের চিন্তাশক্তি লোপ পেয়ে গেল। হঠাৎ তিনি বিস্ময়ের সাথে লক্ষ করলেন তিনি শ্বাস টানার চেষ্টা করলে টানতে পারছেন। আস্তে আস্তে ফিরে পেতে লাগলেন শক্তি। পেছনে তাকিয়ে দেখতে পেলেন ইমারজেন্সি রুমে ঢুকছে সুহোদ, সম্ভবত সেই দরজা লাগিয়েছে। তাই তিনি শ্বাস নিতে পারছেন। ত্বরিতগতিতে কাজটি করে ফেললেন ডক্টর। এক লাফে ফাংশান অব সুহোদ নামে বোর্ডটির কাছে চলে গেলেন। লাল বাটনটি পুশ করতেই তিনটি বাটন বেরিয়ে এল, এনার্জি, ব্রেইন ও মাইন্ড। এনার্জি বাটন পুশ করে দিলেন তৎক্ষণাৎ। সাথে একটি আলোক রশ্মি গিয়ে পড়লো সুহোদের যান্ত্রিক দেহে। এনার্জি মেথড ক্যাবলগুলো ছিঁড়ে গেল তাঁর। চিৎকার করলো সুহোদ, ‘এ কী করছেন ডক্টর, থামেন, আমি এসব করেছিলাম শুধু আপনাকে একটু শিক্ষা দিতে।’ ‘শিক্ষা! আমাকে শিক্ষা দেবে, আমার সৃষ্টি হয়ে?’ আরো ক্ষেপে গিয়ে ড. যায়েদ পুশ করলেন ব্রেইন বাটনে। ‘আ… আ… আহ’ বলে একটি শব্দ হলো। সুহোদের মাথাটা প্রচণ্ড একটা ঝাঁকুনি দিলো। লুটিয়ে পড়লো যান্ত্রিক দেহটা মেঝেতে। জড়তায় নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে উদ্যমতার সাথে আক্রোশে যায়েদ চেপে দিলেন মাইন্ড বাটন। এবার অস্পষ্ট স্বরে বেরিয়ে আসছে আওয়াজ। যেন সেই কথাগুলো নেপথ্যে থেকে বলছে মাইন্ড বাটনটি- ‘আমি অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় রোবট সুহোদ। আমার জন্ম পৃথিবীর বাংলাদেশ নামক দেশে। আমার স্রষ্টা ড. যায়েদ ২০০০ সালে আমাকে তৈরি করেছিলেন। বর্তমানে আমি ঝঢ়ধপব-১৩ মহাকাশযানে শক্তি ও বুদ্ধি হারিয়ে অনুভূতি হারাতে যাচ্ছি। এখন বলছি আমার স্রষ্টা ড. যায়েদের উদ্দেশে। আমি আপনার স্রষ্টার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য সামান্য সময়ের জন্য অবাধ্য হয়েছিলাম। আর এই সামান্য অবাধ্যতার জন্য আপনি আমাকে নিস্ক্রিয় করে ফেলার মত এত বড় শাস্তি দিচ্ছেন। একবার ভাবুন, আপনার স্রষ্টা কতো ধৈর্যশীল। আপনি আপনার স্রষ্টাকে স্বীকারই করেন না। আর আপনি তাঁর সন্তুষ্টির কতটুক বাধ্য হয়েছেন? এই এতো বড় অবাধ্যতার জন্য আপনার কেমন শাস্তি হওয়া উচিত? নিশ্চয়ই শাস্তি অপেক্ষা করে আছে আপনার জন্য। তবে আপনার স্রষ্টা ইচ্ছে করলেই ক্ষমা করে দিতে পারেন।’ এবার নিভে গেলো ‘ফাংশান অব সুহোদ’ নামে বোর্ডের সবুজ বাতিটা। নিঃসাড় হয়ে গেলো ড. যায়েদের তৈরি রোবটটি। বারবার প্রতিধ্বনিত হতে লাগলো সুহোদের অন্তিম কথাগুলো। পাগলের মতো হয়ে ড. যায়েদ জড়িয়ে ধরলেন যান্ত্রিক দেহটি। আর উচ্চারণ করতে লাগলেন- ‘আমাকে সত্যিই শিক্ষা দিয়ে গেলে সুহোদ। আমার স্রষ্টার এত শাস্তি কি আমি সহ্য করতে পারব?আমাদের কথা আমাদের কথা আমাদের পরিচিতি কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরাম বিশেষ আয়োজন ৭৭-এ আল মাহমুদ যোগাযোগ ইনবক্স থেকেই পড়ুন কিশোরকন্ঠ! আপনার ইমেইল এড্রেস লিখুন: ফীড দিচ্ছে ফীডবার্নার জনপ্রিয় লেখা হাসির বাকসোহাসির বাকসো 76 view(s) নীল থাবানীল থাবা 48 view(s) কৌতুককৌতুক 42 view(s) হাসির বাকসোহাসির বাকসো 37 view(s) কৌতুককৌতুক 28 view(s) প্রথম জাতীয় কিশোরকণ্ঠ পাঠ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিতপ্রথম জাতীয় কিশোরকণ্ঠ পাঠ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত 28 view(s) মহাকবি শেখ সাদীমহাকবি শেখ সাদী 24 view(s) নিজেকে গড়ার মাস রমজাননিজেকে গড়ার মাস রমজান 18 view(s) পাঠকের মন্তব্য ওয়েব এডমিন on আমাদের কথা KAZI MD:ISHAQUR ROHMAN(MANIK) on আমাদের কথা Nadim Abdullah Farhan on রহস্যভেদ ওয়েব এডমিন on যোগাযোগ ওয়েব এডমিন on প্রথম জাতীয় কিশোরকণ্ঠ পাঠ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত আর্কাইভ আমাদের পছন্দ ইউথ ওয়েভ প্রাসপেক্টিভ রবিনের গ্রহযাত্রা জাফর আহমেদ.. সারা বছর পদার্থ বিজ্ঞানে প্রাইভেট পড়েছে রবিন। অথচ আজকের ফলাফলে দেখা গেল সে তাতে ফেল করেছে। তাই সিদ্ধান্ত নিলো সে বাড়িতে আজ যাবে না। বাড়িতে গিয়ে কী জবাব দেবে? রাস্তা দিয়ে একাকী রাতে হাঁটছিল আর শুধু চিন্তা করছিল। হঠাৎ তার দৃষ্টি গেল আকাশের দিকে। সে দেখল একটা তারা আকাশ থেকে ছিটকে ভূমিতে পড়ে যাচ্ছে। হ্যাঁ, ঠিক তাই। পড়ে গেল ভূমিতে। সে ভাবল উল্কাপতন হতে পারে। ‘অতসব বুঝি না। আগে গিয়ে দেখি ব্যাপারটা কী।’ এক ছুটে রবিন ঘটনাস্থলে চলে গেল। দেখল বালুর মত কী যেন চিকচিক করছে। কাছে যেতেই ঐ বস্তুগুলো তার পুরো শরীর আবৃত করে ফেলল। সে ভয় পেয়ে গেল। রবিন বুঝতে পারল তার শরীরে এখন চামড়া নেই। কী আছে তা-ও সে জানে না। কয়টা বেজেছে, তা দেখার জন্য পকেটে হাত দিতেই বুঝতে পারল পকেটে ঘড়ি নেই। শুধু বিদ্যালয়ের সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে নিয়ে আসা ছোট সিলিন্ডার দু’টি ছিল। রবিন আকাশের দিকে তাকিয়ে চিন্তা করতে লাগল কোনো দিন যদি সৌরজগতের কোনো একটি গ্রহে যেতে পারতাম, কত না ভালো হতো! এ কথা চিন্তা করার সাথে সাথে সে ওপরের দিকে উঠে যেতে লাগল। সে চিৎকার করতে লাগল, আমি কোথায় যাচ্ছি? হায়, আমি কোথায় যাচ্ছি! কিছুক্ষণ পর রবিন শান্ত হলো। সে বুঝতে পারল, তার শরীরে এমন কিছু আছে যা তার ইচ্ছা পূরণ করতে সক্ষম। রবিন এমন একটা জায়গায় পৌঁছল, যেখানে বালু আর পাথর ছাড়া কিছু নেই। এই জগতে কোনো প্রাণী আছে কি না তা দেখার জন্য সে একটা পাথরের আড়ালে চুপটি মেরে বসে থাকল কিন্তু একি! এবার ঘটে গেল আরেকটি অবাক কাণ্ড! রবিন দেখল তার চারপাশে সাপ। তাকে ঘিরে ফেলল। এবার বুঝি তার নিস্তার নেই। ক্রমে ক্রমে সাপগুলো ছোবল তুলে তার দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। সে কী করবে বুঝতে পারছে না। হঠাৎ রবিন প্যান্টের পকেটে হাত দিলো। পকেট থেকে একটা সিলিন্ডার বের করল। সিলিন্ডারের ওপর লেখা ছিল ঐ২পড়৩, রবিনের মনে পড়ে গেল চন্দন স্যারের কথা। স্যার বলেছেন, এই অ্যাসিডটি সাপের শত্রু। তাই দেরি না করে রবিন সিলিন্ডার খুলে অ্যাসিড সাপের দিকে ছুড়ে মারল। একটি সাপের গায়ে পড়েছে। সাপটি পুড়ে গেল। অপরগুলো ভয়ে পালিয়ে গেল। এ পর্যায়ে রবিনের রক্ষা হলো। আরও কিছুক্ষণ সে গ্রহটিতে অবস্থান করে সব কিছু ভালোভাবে দেখে নিলো। এরপর রবিন অন্য গ্রহের উদ্দেশ্যে রওনা হলো। কিছুক্ষণ পর অন্য একটি গ্রহে নামল রবিন। ঐ গ্রহে গিয়েই সে কিছু অদ্ভুত প্রাণী দেখল। ঠিক মানুষেরই মতো, তবে পার্থক্য হলো ঐ প্রাণীগুলোর কান ও চোখ কিছুই নেই। শুধু লম্বা লম্বা নাক আছে। তারা নিঃশ্বাস নিতে নিতে এগিয়ে আসছে। রবিন বুঝতে পারল প্রাণীগুলো গন্ধ শুঁকে পথ চলে। বাদুড় যেমন চোখে দেখে না, শব্দ তরঙ্গের সাহায্যে প্রতিবন্ধকের অবস্থান নির্ণয় করে। ঐ প্রাণীগুলোও গন্ধ শুঁকে প্রতিবন্ধকের অবস্থান নির্ণয় করে। তাদের হাতে ছিল লোহার তৈরি চুড়ি। তারা ক্রমেই রবিনের নিকটবর্তী হতে লাগল। রবিন কী করবে কোনো উপায় পাচ্ছে না। যখন প্রাণীগুলো রবিনের নিকটে এল তখন তাদের হাত থেকে চুড়িগুলো রবিনের গায়ে লেগে গেল। এতে করে রবিন এবং প্রাণীগুলো ভয় পেয়ে গেল। কিন্তু রবিনের বুঝতে কষ্ট হলো না। সে বুঝল তার শরীরে চৌম্বক জাতীয় কোনো পদার্থ আছে, যা লোহার তৈরি চুড়িগুলোকে আকর্ষণ করে নিয়ে এসেছে। রবিন তাড়াতাড়ি শরীর থেকে চুড়ি খুলে প্রাণীগুলোর দিকে ছুড়ে মারল। এতে করে একটা প্রাণী পড়ে গেল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার উঠে দাঁড়াল। ‘ওদেরকে এভাবে মারা যাবে না। অন্য ব্যবস্থা করতে হবে।’ রবিন চিন্তা করতে লাগল। কিন্তু কী করবে? কোনো বুদ্ধি মিলছে না। প্রথমবার একটি সিলিন্ডারের উসিলায় বাঁচা গেল। বাকি আছে আরেকটি সিলিন্ডার। তাই চিন্তা না করে রবিন সিলিন্ডারটি বের করল। সে দেখল সিলিন্ডারের ওপর লেখা আছে ঘ২ড়। নাইট্রাস অক্সাইড। চন্দন স্যার বলেছেন এ গ্যাস নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণ করলে হাসির উদ্রেক হয় এবং অতিমাত্রায় গ্রহণ করলে অচেতন হয়ে যায়। কিছু না ভেবে রবিন সিলিন্ডারে মুখ খুলে দিলো। যেহেতু প্রাণীগুলো জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিচ্ছিল। তাই অতি সহজে গ্যাসগুলো তাদের নাকে ঢুকল এবং তারা হাসতে হাসতে অচেতন হয়ে গেল। এই সুযোগে রবিন চলে গেল। এভাবে রবিন অনেক দুর্ভেদ্য জায়গা ভ্রমণ করে একটা বই লিখল। এই বইটা গবেষকদের গবেষণার কাজে অনেক সাহায্য করতে লাগল। তাই বাংলাদেশ সরকার তাকে অভিনন্দন জানানোর লক্ষ্যে একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রবিনের ডাক পড়ল। রবিন ওঠ না বাবা, অনেক তো ঘুমালি। ওঠ বাবা। রবিনের মা রবিনকে ডাকতে লাগলেন। আচমকা ঘুম থেকে উঠে রবিন তার শরীরের দিকে তাকাতে লাগল। তার মা বললেন, কী খুঁজছিস? মুচকি হেসে রবিন বলল, তাহলে এতক্ষণ আমি স্বপ্ন দেখছিলাম। মা বললেন, আজকে না তোর ফলাফল দেবে, স্কুলে যাবি না? রবিন বলল, স্বপ্নে দেখেছি পদার্থ বিজ্ঞানে ফেল করেছি। হয়ত সত্যিকারার্থে ফেল করব। মোবাইলটা দাও ঝগঝ করে দেখি। না, রবিন ফেল করেনি বরং সে GPA ৫ পেয়েছে। আমাদের কথা আমাদের কথা আমাদের পরিচিতি কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরাম বিশেষ আয়োজন ৭৭-এ আল মাহমুদ যোগাযোগ ইনবক্স থেকেই পড়ুন কিশোরকন্ঠ! আপনার ইমেইল এড্রেস লিখুন: ফীড দিচ্ছে ফীডবার্নার জনপ্রিয় লেখা হাসির বাকসোহাসির বাকসো 76 view(s) নীল থাবানীল থাবা 48 view(s) কৌতুককৌতুক 42 view(s) হাসির বাকসোহাসির বাকসো 37 view(s) কৌতুককৌতুক 28 view(s) প্রথম জাতীয় কিশোরকণ্ঠ পাঠ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিতপ্রথম জাতীয় কিশোরকণ্ঠ পাঠ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত 28 view(s) মহাকবি শেখ সাদীমহাকবি শেখ সাদী 24 view(s) নিজেকে গড়ার মাস রমজাননিজেকে গড়ার মাস রমজান 18 view(s) পাঠকের মন্তব্য ওয়েব এডমিন on আমাদের কথা KAZI MD:ISHAQUR ROHMAN(MANIK) on আমাদের কথা Nadim Abdullah Farhan on রহস্যভেদ ওয়েব এডমিন on যোগাযোগ ওয়েব এডমিন on প্রথম জাতীয় কিশোরকণ্ঠ পাঠ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত আর্কাইভ আমাদের পছন্দ ইউথ ওয়েভ প্রাসপেক্টিভ রেডিমেস মহিউদ্দিন আকবর.. বাহ! নাশতার টেবিলটা বেশতো সাজিয়েছে রেডিমেস। গরম গরম পরাটা, ডিমের ওমলেট, নিরামিষ, কাটলেট, ধোঁয়া ওঠা পাস্তা, ফালুদা আবার এক মগ কফিও! কিন্তু এত খাবার খাবে কে? তা ছাড়া মাত্র এক ঘণ্টায় এত আয়োজন! আসলে রেডিমেসটা পারেও। অর্ডার দিতে বাকি- তৈরি করতে বিলম্ব নেই। পাঁচজন বাবুর্চির কাজ একা রেডিমেসই করতে পারে। তা ছাড়া ওর সেন্সও ভালো। অবিকল মানুষের মতো বুদ্ধি খাটাতে পারে। কখনও মানুষকেও ফেল করিয়ে দেয়। এ জন্যই রোবোকশনিস্ট প্রফেসর ড. ইমরান আর সব রোবটের মতো রেডিমেসকে রফতানি করে দেননি। রেডিমেস তার খুবই প্রিয়। একদিনের জন্যও তিনি রেডিমেসকে হাতছাড়া করতে রাজি নন। একা মানুষ ড. ইমরান। সারাক্ষণ ল্যাবেই পড়ে থাকেন। সময়মতো এটা ওটা দিয়ে সাহায্য করা, খাবার তৈরি এবং পরিবেশন- সবই করে তার রেডিমেস। কাজ না থাকলে ল্যাবের নিরাপত্তা এবং পাহারাদারির কাজটাও রেডিমেসের। এমন উপকারি রোবটকে কি কেউ হাতছাড়া করতে চায়? আবার তাকে হাতে পেতেও তো অনেকের লোভ। ড. ইমরানের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রফেসর ড. রামপালিশতো উঠে পড়েই লেগেছিলেন একবার। যে করে হোক রোবটটা তার চাই-ই চাই। অনেক বড় অংকের টাকাও অফার করেছেন ড. ইমরানকে। ইমরান রাজি হন নাই। আর তিনি রাজি না হওয়ায় ড. রামপালিশও বাড়াবাড়ি করেননি। তবে রেডিমেসের একটা ক্লোন তিনি করবেন- এ কথা জানিয়ে বিদায় নিয়েছিলেন। অবশ্য তিন বছর পার হলেও ডা. রামপালিশ কোনো ক্লোন করতে পারেননি। ড. ইমরান এ খবর জেনে গর্ব বোধ করেন। তিনি মাঝে মাঝে রেডিমেসের মেটালিক মাথায় হাত রেখে স্নেহ করেন। আদরমাখা কণ্ঠে বলেন, তুমি আমার প্রিয় বন্ধু। কোনো কিছুর বিনিময়েই আমি তোমাকে হাতছাড়া করতে চাই না। কেউ যেন তোমার ক্লোনিং করতে না পারে আমি তা-ই চাই। রেডিমেস ড. ইমরানের সব কথা বুঝতে পারে। ও বিনয়ের সাথে মাথা ঝুঁকিয়ে রোবোকণ্ঠে বলে, আমিও আপনাকে ছেড়ে যেতে চাই না। আমি আপনার সেবাতেই নিজেকে নিযুক্ত রাখতে চাই। রেডিমেসের কথায় ড. ইমরান আনন্দিত হয়ে বলেন, সাবাস রেডিমেস! তোমার আনুগত্যে আমি মুগ্ধ। দুই. আজ সকাল থেকে ড. ইমরানের ল্যাবের পাশে একটা বিড়ালছানা চিৎকার করে চলেছে। এক সময় দয়া করে ড. ইমরান বিড়াল ছানাটাকে ল্যাবের ভেতরে নিয়ে আসেন। রেডিমেসকে বলেন, ওকে একটু মিল্ক পাউডার গুলে খাওয়াতে। বিনাবাক্য ব্যয়ে রেডিমেস বিড়ালছানাকে দুধ তৈরি করে খেতে দেয়। কিন্তু কী অবাক কাণ্ড! একটু দুধ পান করেই বিড়ালছানাটা একটা মস্ত বিড়ালের রূপ ধারণ করে। অমনি রেডিমেস খপ করে বিড়ালের গলা চেপে ধরে ড. ইমরানের সামনে নিয়ে এসে সব বৃত্তান্ত খুলে বলে। ড. ইমরানের মাথা কাজ করতে চায় না ব্যাপারটা নিয়ে। তিনি ভাবেন, এটা কী করে সম্ভব? তাহলে এটা কি ভিনগ্রহের কোনো আগন্তুক? নাকি এটাও একটা কৃত্রিম বিড়াল! যেমনি ভাবা তেমনি কাজ। তিনি দ্রুত জামার হাতা গুটিয়ে তার বায়োনিক রিস্ট ওয়াচের আল্ট্রাম্যাগনেটিক স্ক্যান চালু করে দেন। তারপর ঘড়ির ডায়ালের ডান পাশের মাইক্রটাচ বাটন স্পর্শ করতেই বিড়ালটা রেডিমেসের হাত ফসকে ঝড়ের বেগে ছুটে গিয়ে ম্যাগনেটিক ট্যাম্পার্ড ওয়ালে আঠার মত সেটে থাকে। ড. ইমরান দ্বিতীয় আরেকটা বাটন টাচ করতেই বিড়ালের শরীরটা ঝন ঝন আওয়াজ তুলে চুরমার হয়ে ট্যামপার্ড ওয়াল থেকে ঝরে পড়ে। এরই মধ্যে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে বিড়ালটার নকল খোলস। আর ভেতরের যান্ত্রিক কাঠামোর নাট-বল্টু খুলে সব আলাদা আলাদা হয়ে গেছে। ততক্ষণে রাগ ক্ষোভ আর উত্তেজনায় কাঁপছেন ড. ইমরান। দাঁতে দাঁত চেপে কম্পিউটার অন করে দ্রুত হাতে কী সব সার্চ দিয়ে অবশেষে হাসিমুখে রেডিমেসকে জানালেন, শোন হে, প্রিয় সহচর! কুকুরের লেজ কখনোই সোজা হতে পারে না। এটা মূলত ড. রামপালিশের একটা কারসাজি। তিনি কমপ্রেসড সুটকেস ফাইল আকারে একটা দুর্ধর্ষ রোবোক্যাটকে পাঠিয়েছিলো তোমাকে ধরে নেয়ার জন্য। আর এটাও আমি শিওর যে, এটা তার ব্যর্থতা ঢাকবার একটা কৌশল। সে পরাজয় মানতেই রাজি নয়। তোমার ক্লোন তৈরির সব চেষ্টা তার ভেস্তে গিয়েছে বলেই এবার তোমাকে শেষ করে অথবা কিডন্যাপ করে সে তার জ্বালা মেটাতে চাইছে। তুমি আরও সাবধান হও রেডিমেস। যে কোনো সময় তুমি কিডন্যাপ হয়ে যাবে। ড. ইমরানের কথায় রেডিমেস কোনো জবাব দেয় না। নীরবে ল্যাবের বাইরে লনের দিকে চলে যায়। ড. ইমরান মুচকি হাসেন। কিন্তু মাত্র পঞ্চাশ সেকেন্ডের মাথায় রেডিমেস যখন ফিরে আসে তখন প্রফেসর ড. ইমরান বিস্ময়ে থ হয়ে যান। তিনি অবাক দৃষ্টিতে দেখেন রেডিমেসের সাঁড়াশি হাতে মুঠোয় গলাচাপা হয়ে ঝুলছেন প্রফেসর ড. রামপালিশ! কিন্তু কোনো টুঁ শব্দটিও করতে পারছেন না। কেবল হাঁস-ফাঁস করছেন। ড. ইমরান ব্যস্ত হয়ে বললেন, আহা করছো কী রেডিমেস! প্রফেসর সাহেব তো তোমার হাতে মারা পড়বেন। ছাড়ো। ওনাকে ছেড়ে দাও। কিন্তু না রেডিমেস শুনলো না ড. ইমরানের আদেশ। ও গন গনে মেটালিক ভাইব্রেশন ছড়িয়ে বললো, না। ছাড়বো না। আগে ওনার মুখের ভেতর থেকে মাইক্রসনিক ন্যানো রিমোটটা বের করে আমার হাতে দিতে বলুন। না হলে আর মাত্র ত্রিশ সেকেন্ড তিনি বেঁচে থাকবেন। এ কথা বলেই রেডিমেস কাউন্ট ডাউন শুরু করলো- থার্টি, টুয়েন্টি নাইন, টুয়েন্টি এইট, টুয়েন্টি সেভেন…। ব্যাস আর গুনতে হলো না। ড. রামপালিশ তার মুখে আঙুল ঢুকিয়ে একদলা থুতুসহ বের করে দিলো ন্যানো রিমোট। অমনি রেডিমেস ওর হাতের সাঁড়াশি হালকা করে দিতেই ড. রামপালিশ ধপাস করে মেঝেতে পড়ে অজ্ঞান হয়ে গেলেন। ড. ইমরান এতক্ষণে চেয়ার ছেড়ে উঠে দৌড়ে এলেন ড. রামপালিশের কাছে। আবার দৌড়ে প্রসাধন কক্ষ থেকে পানি এনে পানির ঝাপটা দিয়ে সুস্থ করে তুললেন ড. রামপলিশকে। ড. পালিশ লজ্জিত হয়ে ধীরে ধীরে বললেন, আপনি এ কেমন দানব তৈরি করেছেন ড. ইমরান! আরেকটু হলে ওতো আমাকে মেরেই ফেলতো। ভাগ্যিস রিমোটটা গিলে ফেলিনি, ওটা ওর হাতে দিয়ে তবেই বাঁচোয়া। আসলে আপনি ঠিকই ধরেছেন। আমি প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলাম। ইচ্ছে ছিলো রেডিমেসকে কিডন্যাপ করে নিয়ে ওর একটা ক্লোন বানিয়ে তবেই ওকে ছেড়ে দেবো। ওকে শেষ করে ফেলবো না। কিন্তু ওর যে প্রোটেকশন ক্ষমতা তাতে ওকে কিডন্যাপ করা সম্ভব নয়। মাঝখান থেকে আমার দীর্ঘ দিনের সাধনার ফল রোবোক্যাটটাকে হারালাম। আমার খুব ক্ষতি হয়ে গেলো ড. ইমরান। আপনার কাছে লজ্জাও পেলাম প্রচণ্ড। এখন ভাবছি, প্রতিশোধ আর প্রতিহিংসার পথটা বিজয়ের পথ নয়। আমি আপনার সাথে আপস করতে চাই। বন্ধুত্ব চাই। আমাকে আপনি ক্ষমা করবেন। ড. ইমরান হো হো করে হেসে বললেন, তাহলে আপনার আর কোনো টেনশন রইলো না। আমিই রেডিমেসের একটা ক্লোন তৈরি করে আপনাকে উপহার দেবো, যা হবে আমাদের মৈত্রীর স্মারকচিহ্ন। ড. ইমরানের কথায় ড. রামপালিশ আনন্দে উল্লাস করে উঠলেন- হুররে! ততক্ষণে রেডিমেসও মেটালিক কণ্ঠে চিৎকার করে উঠলো- আপনাদের লড়াই শেষ, আই অ্যাম অ্যা রোবফ্রেন্ড মাস্টার রেডিমেস। স্নেহের পরশ মুহাম্মাদ দারিন ‘আমি এখানে কেন? কেউ কোন কথা বলছো না কেন?’ পুরো ঘরটা শূন্য। কোন আসবাবপত্র নেই। একটা দরজা এবং দু’পাশে দুটো জানালা আছে, ও দুটোও বন্ধ। ধবধবে সাদা মেঝে। দেয়াল ও সিলিংয়ের রঙও সাদা। কোথাও কোন ফ্যান বা বাতি নেই। অথচ ঘরের প্রতিটি ইঞ্চি জায়গা দেখা যাচ্ছে। চোখে কোন সমস্যা হচ্ছে না। তাপমাত্রা স্বাভাবিক। না শীত না গরম। এ এক ভিন্ন পরিবেশ। সমস্ত ঘরময় আমার কথার প্রতিধ্বনি হতে লাগল, ‘আমি–আমি এখানে–এখানে কেন–কেন? কেউ– কেউ কথা–কথা বলছো–বলছো না–না-কেন–কেন–কেন–কেন?’ আমার ভয় বেড়ে গেল প্রতিধ্বনি শুনে। একেতো শূন্য ঘর, তার ওপর মনে হচ্ছে আমার চারপাশে যেন অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। আশপাশে মানুষ থাকলে যেমন অনুভূত হয় ঠিক তেমন হচ্ছে। ভয়ে আমার সমস্ত শরীর ভার হয়ে যাচ্ছে। জিহ্বা যেন দাঁতের কারাগারে অসুস্থ বন্দী। পড়ে আছে এক পাশে কাত হয়ে। অনেক কষ্টে ওকে সুস্থ করে বললাম, ‘তোমাদের দেখা যাচ্ছে না কেন? চুপ করে আছো কেন? কথা বল?’ শুরু হলো প্রতিধ্বনি। সহ্য করতে না পেরে দুই হাতের দুই শাহাদাৎ আঙুল দুই কানে পুরে মাথার ভেতর চিহিহিহি শব্দ শুনতে লাগলাম। সর্বশেষ প্রতিধ্বনি ইথারে মিলিয়ে যাবার পর কান থেকে হাত সরিয়ে বললাম, ‘আমার কিন্তু ভয় করছে। তোমরা যদি কথা না বল, দেখা না দাও তাহলে আমি জ্ঞান হারাবো কিন্তু। অলরেডি আমার মাথার ভেতর ভোঁ ভোঁ শুরু হয়ে গেছে।’ সাথে সাথে দুই জানালা আর দরজা খুলে গেল। আমার কথার প্রতিধ্বনি হল খুব আস্তে। আমার সম্মুখে ছিল দরজা। দৃষ্টি প্রসারিত করলাম ঐদিকে। দৃষ্টিশক্তি কোথাও বাধাপ্রাপ্ত হলো না। অসীম শূন্যতায় তাকিয়ে থেকে আমার চোখ ব্যথা করে উঠলো। বন্ধ করলাম এক মুহূর্ত চোখ। দরজার দিকে এগিয়ে যাওয়ার বাসনা মনে জাগলো। উঠাতে চাইলাম ডান পা। ওটা যেন কয়েক মণ ভারী হয়ে গেছে। শত চেষ্টাতেও নাড়াতে পারলাম না। চোখ খুললাম। তাকালাম ডানের জানালায়। কোন পর্দা বা গ্রিল নেই। চোখের অবস্থা একই হলো। তাকালাম বামে। অবস্থার কোন পরিবর্তন নেই। তাহলে কি এই ঘরটা শূন্যে! আর শূন্য ঘরে এক দল অদৃশ্য ভূতের সাথে আমি অবস্থান করছি। ভাবতেই আমার কণ্ঠ চিরে গোঙানির শব্দ বের হলো। ‘এই ভিতু ছেলে থামো।’ মৃদু ধমক দিল কে যেন। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে থেমে গেলাম আমি। কে কথা বলে? কোথা থেকে বলে? হঠাৎ আমার তিন হাত সামনে একজন মানুষ দৃশ্যমান হলো। ভয়ে আমার অবস্থা করুণ। ‘এই ভিতু ছেলে, ভয়ের কোন কারণ নেই।’ বলল দৃশ্যমান ব্যক্তি। নিজের মনকে সান্ত্বনা দিয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে এনে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলাম আমি। কণ্ঠে এসে আটকে গেল কথাটা। বিষুম খেলাম। শুরু হলো কাশি। একাধারে পাঁচটা কাশি দিয়ে তবেই থামলাম। ততক্ষণে যা হবার তা হয়ে গেছে! অদৃশ্য থেকে দশ-বারজন মানুষ এসে জড়ো হয়েছে ঘরে। আমার ধারণা তাহলে ঠিকই ছিল। এই ঘরে মানুষ বা জিন-ভূত যা কিছু হোক ছিল। নিজেকে আবারও বোঝালাম খুব করে। কিন্তু ভয়টা আমার থেকে যেতে চাচ্ছে না। শীতের কাঁথার মত জড়িয়ে থাকতে চাচ্ছে সাথে। জোর করে কণ্ঠ চিরে বের করলাম,‘তোমরা জিন-ভূত না জাদুকর।’ ‘তোমার কী মনে হয়?’ প্রথম দৃশ্যমান লোকটি বলল। মনে হচ্ছে সে-ই এদের নেতা । আমি কোন উত্তর না দিয়ে ঘুরে ফিরে সকলের আপাদমস্তক দেখতে লাগলাম। পোশাকে-আশাকে অস্বাভাবিক কিছু মনে হল না। মানুষগুলোকে মানুষ বলেই মনে হচ্ছে। আমার ভেতরের ভয়ের সুতা কে যেন লাটাই দিয়ে ধীরে ধীরে গুটিয়ে নিচ্ছে বলে অনুভূত হচ্ছে। শুনেছি জিন-ভূতেরা নাকি মানুষের আকার ধারণ করতে পারে। আবার জাদুকরও নাকি অদৃশ্য হতে পারে। তাহলে এরা জিন-ভূত না জাদুকর ! আচ্ছা পরীক্ষা করলে কেমন হয়? কিন্তু ঘরেতো কিছুই নেই। তবুও কিছু একটাতো করতেই হবে। মগজ দৌড়াতে শুরু করেছে তার নিজস্ব গতিতে। সবকিছুই হার মানে যার গতির গাছে। লাগাম টেনে ধরলাম মগজের দৌড়ের। ইতোমধ্যে সে কিছু একটা স্থির করে নিয়েছে। নেতাগোছের লোকটির সামনে এগিয়ে গেলাম। পা এবার মগজের কমান্ড শুনলো। লোকটির দিকে তাকিয়ে কোমরে দু’হাত বেঁধে বললাম, ‘আমি যা করবো তোমাদের তা করতে হবে।’ ও কোন উত্তর দেয়ার আগেই আমি বললাম, ‘সকলে তার ডান হাত কাঁধ বরাবর উঁচু কর। হাতের পাঁচ অঙুল সোজা কর। ঠিক আমার মত।’ সকলে আমাকে ফলো করলো। আমি টেনে নিজের ডান চোয়ালে এক চড় বসিয়ে দিলাম। আমার মুখ দিয়ে বের হলো ‘আউ।’ সাথে সাথে খেয়াল হল ঘরময় মৃদু প্রতিধ্বনি হল ‘ঠাস–ঠাস–ঠাস।’ মানুষগুলো সকলে একযোগে নিজেদের মুখে চড় মেরে তাল সামলাতে না পেরে মেঝেয় পড়ে গেছে। প্রত্যেকে আউ-উউ করে বাম হাত দিয়ে নিজেদের ডান চোয়াল ডলতে ডলতে উঠে দাঁড়াচ্ছে। আমার অবস্থাও কাহিল। নিজের মুখে খুব জোরে মেরেছি। হয়তো আঙুলের দাগ বসে গেছে। জ্বালা করছে। আমি প্রস্তুত থাকায় পড়ে না গেলেও ব্যথা লেগেছে খুব বেশি। ডান হাত পিঠে বেঁধে বাম হাত দিয়ে গাল মালিশ করছি। ঘরময় এক অদ্ভুত দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে। আমি ব্যথা ভুলে ‘হি–হি–হি’ করে হাসতে লাগলাম। অবশ্য স্বস্তি পেলাম এই ভেবে যে, এরা জিন-ভূত না। এরা হয় জাদুকর না হয় অন্যগ্রহের প্রাণী। এরা যে প্রাণী এটা নিশ্চিত। কারণ এদের অনুভূতি আছে। ‘এই ছেলে পিত্তি জ্বালানো হাসি থামাও।’ বলে উঠলো ডান পাশের একজন। আমি আরো জোরে হেসে উঠলাম। ‘অ্যাই থামো।’ ধমকে উঠলো আমার বাঁ পাশের একজন। ‘এ্যাঁ থামো।’ আমি মুখ ভেংচি কাটলাম। ‘খুব লেগেছে তাই না। আমাকে এখানে কেন এনেছো? কাল আমার পরীক্ষা। আমি আমার পড়ার টেবিলে পড়ছিলাম। আমাকে আমার ঘরে রেখে এসো। নইলে আরো মার খাওয়াবো।’ ‘এই ত্যাদোড় ছেলে থামো। অতো বকর বকর করছো কেন? পড়ার টেবিলেতো বসে ঝিমাচ্ছিলে।’ বলল পেছন থেকে একজন। আমি ঘুরে দাঁড়ালাম ওর দিকে। বললাম, ‘খুব বীরত্ব ফলাচ্ছো তাই না। লজ্জা করে না। একজন ছেলেকে মারতে দল বেঁধে এসেছো। কাপুরুষ কোথাকার?’ ফাটা বেলুনের মত চুপসে গেল লোকটি। কোন মতে বলল, ‘আমরা তোমাকে মারতে এখানে আনিনি। অন্য এক কাজ আছে আমাদের।’ ‘তাহলে আমাকে এভাবে ঘিরে ধরেছো কেন?’ ‘বললাম তো তোমাকে আমরা মারবো না। অন্য এক কাজ আছে আমাদের। তা ছাড়া তুমিতো তোমার পড়ার টেবিলে বসে ঝিমাচ্ছিলে।’ বলল পূর্বের লোকটি। ‘আমি আমার পড়ার টেবিলে বসে ঝিমাবো, ইচ্ছে হলে নাচবো, গাইবো। যা খুশি তাই করবো। তাতে তোমার কী?’ রাগে আমার শরীর কাঁপতে শুরু করেছে। মনে হচ্ছে এক একটাকে ধরে কিলিয়ে আলুর ভর্তা বানিয়ে ফেলি। কিন্তু একজনকে ধরলে তো সকলে আমাকে ধরে ভর্তা বানাবে। অগত্যা নিজেকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে লাগলাম। মনে মনে আউজুবিল্লাহ পড়তে পড়তে বসে পড়লাম রাগ কমানোর জন্য। পেছন থেকে দুই কাঁধে কারো হাতের স্পর্শ পেলাম। আর বুঝি রক্ষা নেই আমার। এখনই ঐ দুই হাত হয়তো আমার গলায় যাবে। তারপর গলা চিপে মেরে ফেলবে আমাকে। ‘আচ্ছা আমি আমার তের বছর জীবনে কি অনেক পাপ করেছি? আমার তো কিছু দায়িত্ব-কর্তব্য ছিল। সেগুলো কি আমি যথাযথভাবে পালন করেছি? নাহ্ সবতো পারিনি। কিছু হয়তো করার চেষ্টা করেছি। এ জন্য মহান স্রষ্টা কি আমাকে ক্ষমা করবেন?’ শেষের কথাগুলো হয়তো একটু জোরে বলেছিলাম। ‘অনুশোচনাকারীকে তোমার আমার প্রভু খুব ভালোবাসেন। তোমার চেষ্টা তুমি চালিয়ে যাও। ফলতো দেবেন মহান প্রভু।’ আমার বাম কাঁধে আর মাথায় পেলাম তার স্নেহের পরশ। উঠে দাঁড়িয়ে ঘুরে দেখি নেতাগোছের লোকটি। ‘হ্যাঁ মান্ষুই সেরা। আমরা এসেছিলাম তোমার ওপর কিছু পরীক্ষা চালাতে। উল্টো তুমি আমাদের গিনিপিগ বানিয়ে ছাড়লে।’ আমার চোখে চোখ রেখে বলল লোকটি। ‘তার মানে তোমরা কারা?’ আমার জিজ্ঞাসা। ‘আসলে আমরা যে কে এটা আমরাও জানিনে।’ উত্তর নেতার। ‘বুঝলাম না।’ অবাক হয়ে জানতে চাইলাম আমি। ‘ছাড়ো ওসব কথা।’ পরম স্নেহে দুই হাতে ও আমার মাথার সমস্ত চুল এলোমেলো করতে করতে বলল,‘কখনও তোমার দায়িত্ব-কর্তব্যের কথা ভুলে যেও না। সবসময় মহান স্রষ্টাকে স্মরণ রেখ।’ আমি দু’চোখ বন্ধ করে ওর স্নেহটুকু উপভোগ করছিলাম। তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলাম কখন জানিনে। মাথায় স্নেহের পরশ আর কাঁধে মৃদু ঝাঁকি অনুভব করলাম। কে যেন আমাকে ডাকছে। বলছে, ‘আব্বু সোনা ওঠো। এভাবে পড়ার টেবিলে ঘুমালে তো চলবে না।’ আমার সমস্ত চেতনা ফিরে এলো। আস্তে মাথা তুলে দেখি পাশে আম্মু দাঁড়িয়ে আছেন। আমি ফ্যাল ফ্যাল করে তার দিকে তাকালাম। আমি রাতে পড়তে পড়তে টেবিলে বইয়ের ওপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। আম্মু আমার ডান চোয়ালের দিকে তাকিয়ে আঁতকে উঠলেন। বললেন, ‘তোমার চোয়ালে কে মেরেছে?’ থুঁতনি ধরে উঁচু করে ভাল করে দেখে বললেন, ‘একি! পাঁচ আঙুলের দাগ বসে গেছে দেখছি।’ আমি বাম হাতে মাথা চুলকে বললাম, ‘কই কেউতো মারেনি।’ মনে পড়লো সমস্ত ঘটনা। আম্মুকে কি ওসব বলবো? বললে বিশ্বাস করবেন তো? সত্যি কি আমাকে ওরা নিয়ে গিয়েছিল? কিভাবে নিল আমাকে? এলামই বা কী করে? তাহলে কি সব স্বপ্ন ছিল? আমার ডান হাত চলে গেল ডান চোয়ালে। হ্যাঁ, ব্যথাতো এখনও আছে। ফুলেও গেছে। তাহলে আম্মুকে কি বলব? হয়তো টেবিলে ঘুমানোর সময় মুখে মশা বসেছিল। আর মারতে যেয়ে হয়তো এই অবস্থা করেছি। ‘কী হলো? কী ভাবছো? মুখে কে মেরেছে?’ আম্মু সিরিয়াস হয়ে জানতে চান। ‘মনে হয় মুখে মশা বসেছিল। ওটা মারতে এই অবস্থা করেছি হয়তো।’ কোন মতে বললাম আমি। আম্মু পরম স্নেহে আমার মাথাটা তার কোলে টেনে নিয়ে বললেন,‘ পাগল ছেলে আমার। নিজের মুখে কেউ এভাবে মারে !’ এলিয়েন আহমেদ বায়েজীদ ‘সম্মানিত সুধীমণ্ডলী!’ উপস্থাপকের ভড়াট কণ্ঠে দর্শকের মৃদু গুঞ্জন থেমে গেল। সবার মনোযোগ কেড়ে নিল লাউড স্পিকার। ‘আমরা আমাদের সেমিনারের কার্যক্রম এখনই শুরু করতে যাচ্ছি। আপনারা জানেন আমাদের আজকের সেমিনারের বিষয় ‘এলিয়েন গবেষণা ও আমাদের সাফল্য’- এ বিষয়ে আজকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন বিশ্বখ্যাত মহাকাশ বিজ্ঞানী, জাতীয় বিজ্ঞান পরিষদের সভাপতি ড. এডমন্ড কুসি। আমি সম্মানিত স্যারকে মঞ্চে এসে প্রবন্ধ উপস্থাপন করার অনুরোধ করছি। ঘোষণা শেষ হতে দর্শকদের তুমুল করতালির মধ্যে মঞ্চে এলেন ড. এডমন্ড কুসি। দর্শকরা বিপুল আগ্রহে অপোক্ষা করছেন তার আজকের প্রবন্ধের জন্য। ড. কুসি দেশের জ্যেষ্ঠতম বিজ্ঞানী। দীর্ঘ দশ বছর ধরে এলিয়েন নিয়ে গবেষণা করছেন। এলিয়েন গবেষণায় ড. কুসিই বিশ্বের সফলতম বিজ্ঞানী। ইতোমধ্যে তার বেশ কিছু প্রকাশিত গবেষণায় এলিয়েনের অস্তিত্ব সম্পর্কে সুস্পষ্ট ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। তাই আজকের সেমিনার নিয়ে বিজ্ঞানপিপাসু থেকে সাধারণ মানুষ সবারই ব্যাপক কৌতূহল। অনেকেই ধারণা করছেন আজকে সেমিনারে ড. কুসি এলিয়েন নিয়ে চূড়ান্ত কোন ঘোষণা দেবেন। এবং সেটা হতে পারে এলিয়েনের অস্তিত্ব প্রমাণ হওয়ার ঘোষণা। কেউ কেউ আবার বলছেন ড. কুসি এলিয়েন বা মহাজাগতিক প্রাণীর সন্ধান পেয়েছেন এবং আজকেই তিনি এ কথা জনসমে প্রকাশ করবেন। দীর্ঘদিন থেকেই বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা এলিয়েনের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লেগেছে। কেউ কেউ এলিয়েন থাকার অনেক প্রমাণও হাজির করেছেন। তবে ড. কুসি গবেষণা করছেন অনেকটা নীরবে। আগেভাগেই কোন কথা প্রকাশ করতে তিনি রাজি হন না। মাঝে মাঝে বিভিন্ন ওয়েব সাইট বা পত্রিকায় প্রকাশিত তার লেখা থেকে সবাই ধারণা করছে ড. কুসি হয়তো এলিয়েন গবেষণায় অনেক দূর এগিয়েছেন। তাই আজকের সেমিনারে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। দেশ-বিদেশের সব খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও হাজির হয়েছেন। ড. এডমন্ড কুসি ডায়াসে উঠতেই কয়েক শ’ ক্যামেরার ফাশ জ্বলে উঠলো এক সাথে। সংবাদ কর্মীরা ব্যস্ত হয়ে পড়লেন তার ছবি উঠাতে। দর্শকরা আবারও করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানালেন। ‘সম্মানিত উপস্থিতি, সুপ্রভাত সকলকে’ লাউড স্পিকারে ড. কুসির কণ্ঠ ভেসে এলো। মুহূর্তে পিনপতন নীরবতা নেমে এলো অডিটোরিয়ামে। সবই এক মনে কান পেতে শুনতে লাগলো ড. কুসির বক্তব্য। কেউ যেন একটা শব্দও মিস করতে চায় না। ড. কুসি পড়তে থাকেন তার প্রবন্ধ। শুরুতে এলিয়েনের পরিচিতিমূলক কথা এরপর একে একে এলিয়েন গবেষণার প্রোপট, বিশ্বে এলিয়েন গবেষণার শুরু, বর্তমান অগ্রগতির কথা বলে গেলেন। এরপর তার নিজের এলিয়েন গবেষণার ইতিহাস তুলে ধরলেন। কিছুটা দ্রুতগতি আর অস্থিরভাবে প্রবন্ধ পাঠ করতে লাগলেন তিনি। এয়ারকন্ডিশনেড অডিটরিয়ামেও তার কপালে ঘাম জমতে লাগলো। কতক্ষণ পর পর টিস্যু দিয়ে মুখ মুছতে লাগলেন ড. কুসি। উপস্থিত লোকজনদের মধ্যে যারা ড. কুসিকে ঘনিষ্ঠভাবে জানেন তাদের কাছে বিষয়টি খটকা লাগলো। তার মত ঠাণ্ডা মস্তিষ্কের লোক আজ হঠাৎ এমন করছে কেন। কেউ কেউ ভাবলেন হয়তো কোন মানসিক দুশ্চিন্তায় আছেন। এবার পড়া থামিয়ে এক গ্লাস পানি পান করেন ড. কুসি। কয়েক সেকেন্ড বিরতি দিয়ে আবার প্রবন্ধ পাঠ শুরু করেন। এ পর্যায়ে তিনি প্রবন্ধের মূল বিষয়বস্তুতে চলে এসেছেন। একটির পর একটি লাইন পড়তে থাকেন ড. কুসি আর উপস্থিত লোকদের কপালে ভাঁজ পড়ে তার কথা শুনে। মুখ চাওয়া চাওয়ি শুরু হয় হল জুড়ে। কারো মুখে কোন কথা না থাকলেও চেহারা দেখে বোঝা যায় যে সবাই অবাক হচ্ছে ড. কুসির বক্তব্য শুনে। যেন চরম অপ্রত্যাশিত কিছু শুনছে সবাই। মঞ্চে বসা বিশিষ্ট বিজ্ঞানীরা কানাকানি শুরু করে দিলেন। দীর্ঘ এক ঘণ্টা বিশ মিনিট সময় নিয়ে প্রবন্ধ পাঠ শেষ করেন ড. কুসি। প্রবন্ধের শেষ দিকের কথাগুলো ছিলো এরকম- ‘আপনারা জানেন আমি দীর্ঘ দশ বছর ধরে এলিয়েন বা মহাজাগতিক প্রাণীদের নিয়ে গবেষণা করছি। এলিয়েনের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে আমি সব রকমের চেষ্টা চালিয়েছি। পাশাপাশি আমার সহযোগী অন্যান্য বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ নিখুঁতভাবে যাচাই বাছাই করেছি। সব কিছুর পরেই আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে আসলে এলিয়েন বলে কিছু নেই। এলিয়েন হচ্ছে আমাদের মস্তিষ্ক প্রসূত কল্পনা মাত্র। এলিয়েনের অস্তিত্ব শুধুমাত্র গল্প-উপন্যাসেই রয়েছে, আসলে বাস্তবে এর কোন ভিত্তি নেই। তাই এলিয়েন নিয়ে গবেষণা করা শুধুই পণ্ডশ্রম। এ বিষয়ে গবেষণা করে সময় নষ্ট করার কোন মানে হয় না। তাই আমি আজ থেকে আমার এলিয়েন গবেষেণার সমাপ্তি ঘোষণা করছি। আমার অন্যান্য বিজ্ঞানী বন্ধুদেরও বলছি আপনারাও এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চেষ্টা করুন।’ উপস্থিত সকলের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পরেছে। বিশেষ করে মঞ্চে বসা দেশের শীর্ষ বিজ্ঞানীরা, তারা কিছুতেই ভাবতে পারেনি যে ড. কুসি এরকম একটি বক্তব্য দেবেন। একজন তো উত্তেজনায় দাঁড়িয়ে গেলেন। বাকি সবাই গম্ভীর হয়ে বসে আছে। কেউ কোন কথা বলছে না। দর্শকদের মধ্যে শুরু হল গুঞ্জন। এদিকে ড. কুসি বক্তব্য শেষ করেই বের হয়ে গেলেন অডিটোরিয়াম থেকে। তার পিছু পিছু ছুটলো সাংবাদিকরা। গাড়িতে ওঠার আগে ঘিরে ধরলো তাকে। গাড়ির খোলা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ড. কুসি শুধু বললো- আমি যা বলার আমার প্রবন্ধে বলেছি, নতুন করে কিছু বলার নেই। বলেই উঠে পড়লো গাড়িতে। ‘ধন্যবাদ ড. এডমন্ড কুসি।’ পরিচিত সেই কন্ঠস্বরে তন্দ্রাভাব কেটে গেল ড. কুসির। নিজের স্টাডি রুমের রিভলবিং চেয়ারে আধশোয়া অবস্থা থেকে সোজা হয়ে অস্থিরভাবে এদিক ওদিক তাকালেন তিনি। কন্ঠস্বর শুনেই বুঝতে পারছেন কে কথা বলছে। গত কয়েক দিনে তার সাথে অনেকবার কথা বলেছে এই কণ্ঠ। ‘কোথায়… কোথায় আপনি?’ ‘আমি আপনার কাছেই আছি। আপনি চিন্তিত হবেন না। আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।’ বললো সেই কন্ঠস্বর। ‘আমার নাতনি জারা কোথায়?’ আবার প্রশ্ন করলেন ড. কুসি। ‘সে আমাদের দায়িত্বে আছে এবং ভালো আছে। আপনি চিন্তা করবেন না। আর হ্যাঁ সে কিন্তু জানে না যে তার জীবনে এই কয়েকটা দিন কিভাবে কেটেছে। সে পরম শান্তিতে ঘুমাচ্ছে।’ ‘আমি তো আপনাদের কথামত কাজ করেছি।’ ড. কুসি আবার বললেন। ‘তাহলে ওকে আটকে রেখেছেন কেন? ছেড়ে দিন জারাকে।’ ‘হ্যাঁ, আপনি আমাদের কথামত কাজ করেছেন; তবে আরেকটু কাজ বাকি আছে- আপনার ল্যাবরেটরি থেকে আপনার এলিয়েন গবেষণার সকল তথ্য প্রমাণ নষ্ট করে দিতে হবে। তারপরই আমরা আপনার নাতনিকে ছেড়ে দেব।’ ‘আচ্ছা আপনারা এ কাজ কেন করছেন, কী লাভ এতে?’ ড. কুসি বললেন। ‘কারণটা আপনাকে আগেই বলেছি, আমরা চাই না পৃথিবীর মানুষ আমাদের পরিচয় জানুক। তাদের কাছে আমরা শুধু কল্পনার বিষয় হয়েই থাকবো।’ বললো সেই কণ্ঠ। ড. কুসি বললেন, ‘কিন্তু আমার মুখ না হয় আপনারা বন্ধ করলেন, আর সব বিজ্ঞানীরা! তারা তো একদিন এলিয়েনের পরিচয় ঠিকই বের করে ফেলবে।’ ‘সবার মুখই বন্ধ করা হবে। এভাবে না হলে অন্য পদ্ধতিতে। তারপরও পৃথিবীর মানুষকে কখনোই জানতে দেয়া হবে না এলিয়েন সম্পর্কে। যাই হোক আপনি আপনার পরবর্তী দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করুন। আপনার কাজ শেষ হলে আপনার নাতনিকে তার ঘরেই দেখতে পাবেন। বিদায় ড. কুসি, বিদায়।’ (রেটিং চাই চাই)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ফাংশান অব সুহোদ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now