বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

(ফ্যান ফিকশন—মিসির আলি) ভাষা

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X আমি অনেক বাঙ্গালিকে চিনি,যারা ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ মিনারে আসে শুধুমাত্র অন্যান্যদেরকে দেখার জন্য । উদাহরনস্বরূপ মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের কথা বলতে পারি । তিনি তার একাধিক লেখায় ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ মিনারে দাঁড়িয়ে থাকার কথা লিখেছেন । বিশ্বের আর কোন দেশের মানুষ এইরকম ভাবে দল বেধে কোন নির্দিষ্ট জায়গায় এত বেশি সংখ্যায় শ্রদ্ধা দেখাতে আসে না । এটাকে কেউ যদি পাগলামি বলে-তাহলে তাই । কিন্তু এই পাগলামি দেখেই মুহাম্মদ জাফর ইকবাল সারা বছরের জন্য চার্জড আপ হয়ে যান । তিনি ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে চুপচাপ শহিদ মিনারের এক কোনে দাঁড়িয়ে থাকেন । আর সকল মানুষের মুখের দিকে তাকান । এভাবেই পার করে দেন ঘন্টার পর ঘন্টা । একবার ভেবেছিলাম মিসির আলি সাহেবকে ডেকে নিয়ে যাব ফুল দিতে । পরে ভাবনাটা বাতিল করে দিলাম । মিসির আলি সাহেবের ইদানিংকার রুটিন হল তিনি ১১ টা বাজার সাথে সাথেই ঘুমিয়ে যান । সকালে উঠে মর্নিং ওয়াকে বের হন । কিছুক্ষন ফ্রি হ্যান্ড এক্সরসাইজ করেন । ডাক্তার তাকে কঠোর আদেশ দিয়েছেন , ঝড় বর্ষা সাইক্লোন সুনামি যা-ই হোক না কেন , সকালের প্রথম এক ঘন্টা শুধুমাত্র তার স্বাস্থ্যের জন্য বরাদ্দ । মিসির আলি ডাক্তারের কথা মেনে নিয়েছেন । তবে রাতে ঘুমানোর আগে তাকে একটা মেসেজে আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম । রাতে আর মেসেজের রিপ্লাই আসেনি । তার মানে মিসির আলি সাহেব ঘুমাচ্ছেন । তার স্বাভাবিক রুটিন অনুযায়ী লাইফ চলছে । সকালে কিছুটা দেরি করে ঘুম ভাংলে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি ,মিসির আলি সাহেব মেসেজ দিয়েছেন । বাংলা অক্ষরে তিনি লিখেছেন ,শহীদ দিবস অমর হোক । কিছুটা লজ্জা পেলাম । আমার মোবাইল দিয়ে বাংলা লেখা যায় । কিন্তু অভ্যাসের কারনেই কাল আমি ইংরেজি অক্ষরে লিখেছিলাম , amar vai er rokte rangano ekushe februari,ami ki vulite pari ? মিসির আলি'র সাথে দেখা হল দুপুরের পরে । বইমেলায় যাওয়ার পথে তার কোয়ার্টারে একটা ঢু মেরে যাব ভাবছিলাম । তার দেখা পেয়ে গেলাম বাসার সামনেই ,চায়ের দোকানে । আমাকে দেখে বললেন , ফেসবুকে যারা ইংরেজি অক্ষরে বাংলা লেখে তাদেরকে বলে মুরাদ টাকলা । মোবাইলে যারা বাংলা লেখে ইংরেজি অক্ষরে ,তাদেরকে কি বলা হয় ? আমি বললাম , ঠিক জানিনা মিসির আলি সাহেব । আমি গতকালের মেসেজের জন্য খুবই দুঃখিত । -আপনার দুঃখিত হওয়ার কিচ্ছু নাই । ২১ ফেব্রুয়ারি নিয়ে এর চেয়েও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা আমার আছে । পুরান ঢাকায় অনেক জায়গায় বাংলা আর উর্দু মেশানো সাইনবোর্ড দেখেছি ২১ ফেব্রুয়ারির জন্য । হ্যা ,সেই উর্দু ভাষা , যার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেই আমরা বাংলাকে প্রতিষ্ঠা করেছিলাম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে -আচ্ছা , এক সময় কি পৃথিবীর সব মানুষের ভাষা এক ছিল ? - মানুষের ষরযন্ত্র আগে এত ডেভেলপড ছিল না । মাংস পুড়িয়ে খাওয়ার পর থেকেই মানুষের ভোকাল কর্ড ডেভেলপ করে । তবে তার আগেই মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে । তাই একেবারে প্রথমে একটা মাত্র ভাষা ছিল ,এটা বলা বোধ হয় ঠিক হবে না ।প্রাচীন মিশরে সবচেয়ে ডেভেলপড ভাষা ছিল । ভাষাটার নাম ছিল হায়ারোগ্লিফিকস । এই ভাষায় কোন বর্তমান সময়কার অক্ষরের মত কোন অক্ষর ছিল না । ছবিওয়ালা অক্ষর একে একে সব কথা বুঝানো হত । তবে শুধু ছবি একেই মনের ভাব প্রকাশের ইতিহাস আরো অনেক দিনের পুরোনো । বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় লোকাল লোকাল লুয়াঙ্গুয়েজ গড়ে উঠেছে । মানুষের মুখে মুখে বদলে যায় ভাষার ধ্বনি । আজ আমি আপনি যে ভাষায় কথে বলতেছি ,৫০ বছর পরের মানুষের কাছে এই ভাষা দুর্বোধ্য হবে । শেক্সপিয়ারের নাটক পড়েছেন ? কতগুলো শব্দ আপনি বুঝতে পারেন ? আমি মাথা নেড়ে স্বীকার করলাম ,শেক্সপিয়ারের মূ ইংরেজি নাটক আমি পড়ি নি । বাংলা অনুবাদ আমি পড়েছি শুধু মাত্র -শেকস্পিয়ার তার নাটকগুলো লিখেছিলেন ১৬০০ সালে । সেই সময়ের ইংরেজি ল্যাঙ্গুয়েজের সাথে এই সময়কার ইংরেজির আকাশ পাতাল পার্থক্য । রবীন্দ্রনাথের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য ।তার গানগুলোও কিছু কিছু ক্ষেত্রে দুর্বধ্য হয়ে গেছে বর্তমান সময়ে এসে । এই জায়গায় এসে আমি মিসির আলিকে চ্যালেঞ্জ করলাম । বললাম ,আমার মনে হয় রবীন্দ্রসঙ্গীত স্ট্যান্ডার্ড বাংলা হিসেবে ঠিক আছে । আমি এখন পর্যন্ত এমন কোন শব্দ পাইনি যেটার অর্থ আমি বুঝি না -বেশ । আপনাকে একটা গানের লাইন বলি ।‘এসো নীপবনে /ছায়াবিথী তলে এসো করো স্নান নবধারাজনে/এসো নীপবনে’ । আচ্ছা এখানে নীপ শব্দের অর্থ কি ? আমি আমতা আমতা করতে লাগলাম । আসলেই নীপ মানে কি মনে পড়ছে না । সম্ভবত আমি কখনোই জানতাম না যে নীপ শব্দের অর্থ কি । -পারলেন না তো ? নীপ শব্দের অর্থ কদম গাছ । এইরকম অনেক শব্দ আছে রবীন্দ্রনাথের ,যেগুলো আমরা অনেক কম ব্যবহার করি । কোন কোন শব্দ একেবারেই ব্যবহার করি না । এইজন্য ভাষা দিন দিন দুর্বোধ্য হয় -যে শব্দ গুলো অপ্রচলিত হয়ে যাচ্ছে ,সেই শন্দগুলো বর্তমান সময়ের প্রচলিত শব্দ দিয়ে রিপ্লেস করলেই তো হয়ে যায় -ঠিক বলেছেন । বর্তমান সময়কার শব্দ দিয়ে রিল্পেস করলেই ভাষাটা ঠিকে থাকে । কিছু কিছু জায়গায় এরকম করাও হয়েছে । যেমন ধরুন , একটা রবীন্দ্রসঙ্গীত আছে না ? ‘মায়াবন বিহারিনী হরিনী/গহন স্বপন সঞ্চারিনী/কেন তারে ধরিবারে করি পন ? অকারন’ । এই গানের সেকেন্ড অন্তরায় আছে ‘থাক থাক নিজ মনে দূরেতে/আমি শুধু বাশরীর সুরেতে’ মনে পড়েছে ? -হ্যা মনে পড়েছে ।থাক থাক নিজ মনে দূরেতে/আমি শুধু বাশরীর সুরেতে/পরশ করিব ওর তনুমন /অকারন /মায়াবন বিহারিনী । -ঠিক ধরেছেন । এখন কথা হচ্ছে এই লাইনগুলোতে ২ টা শব্দ রিপ্লেস করা হয়েছে । মুল রবীন্দ্রসঙ্গীত স্বরলিপিতে অন্য দুটো শব্দ ছিল । মূল স্বরলিপিটা ছিল এইরকম-থাক থাক নিঝুম নিধুরেতে । এই শব্দ দুটো রিপ্লেস করে বসানো হয়েছে থাক থাক নিজ মনে দূরেতে । বুঝেছে ? আমি বিস্মিত হলাম । আসলেই ব্যাপারটা জানা ছিল না মিসির আলিকে বললাম,আর কোন উদাহরন দেখাতে পারবেন এইরকম? -সবচেয়ে বড় উদাহরন হিসেবে আপনি দেখতে পারেন খনার বচন গুলো । খনা ৮০০ সালের দিকে এই বচন গুলো দিয়ে গিয়েছেন সেই সময়ের প্রচলিত ভাষায় । যেহেতু খনার বচন সব সময় মানুষের কাজে লাগে,তাই তারা সব সময় উখে মুখে এটি চালু রেখেছে । প্রতি সেঞ্চুরিতে মানুষের মুখের ভাষার সাথে মেলানোর জন্য খনার বচনের ভিতরে শব্দ বা শব্দাংশ রিপ্লেস করেছে । আমি যখন ছোটবেলায় বইয়ে খনার বচন পড়েছি ,তখন পড়েছি ষোলো চাষে তুলা/ তার অর্ধেক মূলা/বিনা চাষা ধান/তার অর্ধেক পান’ / এই শেশ জীবনে এসে দেখছি সেই একই বচন হয়ে গেছে ষোল চাষে তুলো/তার অর্ধেক মুলো/বিনা চাষে ধান/তার অর্ধেক পান’ । এভাবেই গত ৪০ বছরে এইটুকু চেঞ্জ হয়েছে । ১০০ বছর পরে আরো বেশি চেঞ্জ হবে । ২০০ বছর পরে চেঞ্জ হবে আরো অনেক বেশি । আর কালচারাল কারনে আপনি যদি চেঞ্জ না করে , তাহলে ভাষাটা দিন দিন দুর্বোধ্য হয়ে যাবে । মানুষজন কোন কাজেই সেই ভাষা ব্যবহার করবে না । রবীন্দ্রসঙ্গীতের ভাষায় কেউ কথা বলে না । ধর্মগ্রন্থ যে ভাষায় লেখা হয়েছে ,বেদ এর সংস্ক্রৃত ভাষার প্রচলন ধর্মীয় কাজের ভেতরেই সীমাবদ্ধ । আমজনতার দৈনন্দিন জীবনে কোন কাজেই আসে না এটি । -মাথা ঘুরাচ্ছে আপনার জ্ঞানের অথা শুনে । ভাষা বিশয়ক কোন গল্প থাকলে আপনি সেই গল্প বলেন -তাহলে শোনেন । এই মামা আরো ২ কাপ চা দিও চা নিয়ে মিসির আলি জমিয়ে বসে গল্প বলা শুরু করলেন । আমি গিয়েছিলাম বগুড়ার সরিকান্দি গ্রামে । আমার এক স্টুডেন্ট বগুড়া আজিজুল হক কলেজের প্রফেসর । অনেক দিন ধরেই সে আমাকে দাওয়াত দিচ্ছিল তার বাড়িতে যাওয়ার জন্য । গত শীতে কোন কাজ ছিল না বলে হঠাৎ করেই চলে গেলাম তাদের এলাকায় । আমাকে দেখে অনেক খুশি হয়েছিল । এই বুড়ো বয়সে কয়েকটা দিন একটু আরাম আয়েশে কাটিয়ে দিয়ে এসেছিলাম । ওখানে আওয়ার দ দিন পরে ওসমান (আমার স্টুডেন্ট) একদিন আমার কাছে এসে বলল ,স্যার আমাদের গ্রামে একটা অদ্ভূত ঘটনা ঘটেছে । জমির মুন্সীর মেয়েলে জিনে ধরেছে । সন্দ্যাবেলা চুল ছেড়ে দিয়ে সে বাথরুমে গিয়েছিল । বাথরুমের জিন তখনই তার ঘাড়ে ভর করেছে । এখন সে সারাক্ষনই আরবিতে কথাবার্তা বলে । কথাবার্তা খাওয়াদাওয়া মোটামুটি ঠিকঠাক ই করতেছে । কিন্তু সবকিছুই একটু বেশি বেশি । একজন মেয়ে যে পরিমান ভাত খায় ,তার প্রায় দ্বিগুন খাচ্ছে ।স্বাভাবিক অবস্থায় ও যে পরিমান কাজ করতে পারত, তার চেয়ে অনেক বেশি কাজ করছে । ২ জন মিলে আগে যে লাকড়ির বোঝা ক্যারি করত ,এখান একাই সেই কাজ করছে আমি বললাম, ইন্টারেস্টিং । চলো একবার যাওয়া যাক ইংরেজি ভাষার উৎপত্তি ইংল্যান্ডে । বিশ্বের বিভন্ন মানুষ নিজেদের উচ্চারনে ইংরেজি বলে । আমেরিকান ইংলিশ,অস্ট্রেলিয়ান ইংলিশ,চাইনিজ ইংলিশ,ইন্ডিয়ান ইংলিশ এর সাথে মূল ইংল্যান্ডের ইংলিশের আকাশ পাতাল পার্থক্য । ক্রিকেট ম্যাচ দেখার সময় কমেন্ট্রি শুনলেই আপনি পার্থক্য ধরতে পারবেন । জিওফ বয়কটের ইংলিশ হল খাটি ইংল্যান্ডের । ইয়ান বিশপের উচ্চারন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ইংলিশ । অস্ট্রেলিয়ার কমেন্টেটরদের কাছ থেকে আপনি অস্ট্রেলিয়ান ইংলিশ পাবেন । একই ভাবে রমিজ রাজা,সৌরভ গাঙ্গুলিদের কাছ থেকে আপনি ইন্ডিয়ান ইংলিশ শুনতে পারেন । ব্যতিক্রম আছে । সুনীল গাভাস্কার ইংল্যান্ডের ইংলিশ উচ্চারনে কমেন্ট্রি করেন । আরবি ভাষাটাও সেই রকম । মূল সৌদি আরবের উচ্চাওন এক রকম । ইরানের আরেক রক । মিশরের আরেক রকম । বাংলাদেশের বড় বড় মসজিদের ইমামরা (যেমন বায়তুল মোকাররম) সৌদি আরবের উচ্চারনে তেলাওয়াত করেন । তবে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ নির্ভর করে ইন্ডিয়ান উচ্চারনের উপরেই । আরো বেশি করে বললে, নোয়াখালি উচ্চারনের উপরেই , কারন বাংলাদেশের হুজুরদের একটা বড় অংশ আসে নয়াখালি থেকে । এই হুজুররা যে বাচ্চাদের আরবি শেখায় তাদের এ্যাক্সেন্ট টাও নোয়াখালি এ্যকসেন্ট হয় । আমি জিনে পাওয়া মেয়েটার সাথে দেখা করার জন্য পা’জামা পাঞ্জাবি পরে বের হলাম । কয়েকদিন শেভ না করার ফলে আমার মুখে হালকা দাড়িও ছিও । আ আমার চেহারায় বেশ একটা ভাব গাম্ভীর্য ছিল । নির্দিষ্ট বাড়িতে উপস্থিত ছিলাম । রোগী উঠানের মাঝখানে আপন মনে মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে সুর করে কিছু একটা বলে যাচ্ছে আরবি ভাষায় আর একটা খুটির চারপাশে চক্রাকারে ঘুরছে ।একজন ওঝা এসেছে জিন তাড়াতে , সে সরিশার তেল ,ঝাটা, গজারি লাঠি, শুকনা মরিচ রেডি করতেছে রোগির ওপরে অত্যাচার করার জন্য । রোগিকে দেখেই অনুমান করলাম সিজোফ্রেনিয়া পেশেন্ট । সিজোফ্রেনিয়া রোগের কোন বাংলা নাম নেই । সকল জিনে ধরা/ভূতে ধরা/মা কালির আসর এই রোগের অন্তর্ভূক্ত ।দেখা যায় ,যে এলাকায় শিক্ষার হার কম,সেই এলাকার কমবয়সী রা এই রোগে আক্রান্ত হয়। অশিক্ষিত মানুষদের মস্তিষ্ক তুলনামূলকভাবে নতুন,অদ্ভুত বিষয় সহজে গ্রহন করতে পারে না। কোন নির্দিষ্ট ঘটনা বা তথ্য(কোন ভূত তাড়ানোর দৃশ্য,কোন প্যারানরমাল এক্টিভিটিজ,কোন ধর্মীয়/ সামাজিক মিথ অথবা এমঙ্কিছু যা সে ব্যাখ্যা করতে পারছে না) এই কিশোর কিশরীদের মস্তিষ্ক যখন আলোড়িত করে,তখন সে সর্বক্ষন এটা নিয়ে চিন্তা করতে থাকে।চিন্তা করে যখন কোন সলুশন পায় না তখন মস্তিষ্কে এম্ফেটামিন হরমোন নিসৃত হয়।এম্ফেটামিন আবার ডোপামিন নামক আরেক হরমোনকে নিঃসরনের প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।এই ডোপামিনের প্রভাবেই রোগি কাল্পনিক কথা শোনে,অবাস্তব জিনিস দেখে এবং অসম্ভব কাজ করতে পারে। ধরা যাক ,কোন তরুনী দুপুরে গোছলের পরে বকুল গাছ তলায় বসেছিল।বিকালে তার মা তাকে ডেকে বল্ল,কেন সে বকুল তলায় বসেছিল?সে কি জানে না গোছলের পরে ভেজা চুলে বকুল তলায় বসলে জিনের নজর লাগে?তরুনী যদি অশিক্ষিত এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয় তাহলে এ ঘটনায় ওই তরূনীর মনে বেশ শক্ত একটা ভয় ঢুকে যাবে।(সে কুসংস্কার মুক্ত হলে একটুও ভয় পাবে না)রাতে হয়তো তার পরিবারের বয়স্ক দাদী নানী কারো কাছ থেকে সে কিছু জিনে ধরার গল্প শুনল,জিনে ধরলে মানুষ কি করে সে বিষয়ে তার কিছু ধারনা হল।এখন তার কাছে ভয়টা অনেক শক্ত হয়ে গেথে যাবে।তার ব্রেনে ডোপামিনের কাজ শুরু হয়ে গেছে। পরের কয়েক দিনের মধ্যেই তার সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশী।এবং আক্রান্ত হয়ে সে সেই সব আচরন করার চেষ্টাই করবে ,যে কাজের ইনফরমেশন গুলা তার মাথায় আছে।(দাদীর কাছে শুনেছে জিনে ধরলে পুরুষ কন্থে কথা বলে।সে চাইবে গলা মোটা করে কথা বলতে।তার পাশের ঘরের আচারের ওপর হয়তো তার লোভ ছিল।সে আদেশ করবে আমাকে ওই ঘর থেকে আচার এনে খেতে দাও ইত্যাদি)। এও রকম পরিথিতিতে রোগির শরিরে হরমোন বেড়ে যায় বলে সে স্বাভাবিক শক্তির চেয়ে কিছুটা বেশি শক্রিসম্পন্ন কাজ করতে পারে । একবস্তা লাকড়ির জায়গায় ২ বস্তা লাকড়ি অনায়াসে উচু করতে পারবে সে এই সময়ে । কিন্তু আপাতভাবে মানুষের পক্ষেই অসম্ভব এমন কিছু করতে পারবে না সে । একটা মানুষ হয়ে সে একটা হাতিকে উচু করতে পারবে না । একই কারনে সে স্বাভাবিক অবসথার চেয়ে বেশি খাদ্য গ্রহন করতে পারে । যে কোন ভাবেই হোক, তার মাথায় ইন ইনফর্মেশন্টা ছিল যে জিনে ধরলে আরবিতে কথা বলতে হয় । তাই সে ক্রমাগত আরবি বলার চেষ্টা করছে । আমি একটু মনোযোগ দিয়েই বুঝলাম সেগুলো কোন আরবি বাক্য গঠন করছে না । এলোমেলোভাবে সে কিছু আরবি বা অন্যান্য ভাষার শব্দ বা অর্থহীন শব্দ সুর করে বলার চেষ্টা করছে । আরবি জানা যে কোন লোক একটুখানি শুনলেই বুঝতে পারবে । আরবি তেলাওয়াত সে অতীতে শুনেছে বলেই এই মুহুর্তে তার মুখ দিয়ে আরবি বের হচ্ছে । সে অদি হিন্দু ফ্যামিলি থেকে আসত তাহলে সে সংস্ক্রৃত আবৃত্তি করত । আমি ওঝাকে তার কর্মকান্ড থামাতে বললাম । মেয়েটার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বললাম, আম্মা আসসালামু আলাইকুম মেয়েটার মুখ উজ্জ্বল হয়ে গেল । বলল ,ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমতুল্লাহে ওয়া বরকাতুহু আমি বললাম,কেইফ আল হাল , বিশুদ্ধ আরবি উচ্চারনে । মেয়েটা চুপ করে থাকল । এই উচ্চারনে সে কিছু শোনেনি । আমি এবার নোয়াখালির উচ্চারনেই বললাম ,কেইফ আল হাল । মানে হচ্ছে তুমি কেমন আছো । সে এবারো চুপ করে থাকল । তার ঘাড়ে যে জিন আছে সে কোন ধরনের আরবি ভাষাই বোঝে না । আমি আরবিতে আরো কয়েকটি কথা বলে নিশ্চিত হলাম । মেয়েটার ব্রেনে অল্প কয়েকটা আরবি সেন্টেন্স এবং অর্থ স্টো্রড ছিল (যেমন আসসালামু আলাইকুম) সেইগুলোই সে সমমত কাজে লাগাতে পারে । আমি বেশ কিছুক্ষন ধরে কিছু দোয়া কালাম পড়ে তার মাথায় ফু দিয়ে বললাম । মা তুমি ঘরে যাও । তোমার আর কোন ভয় নেই । তোমার সাথে আর কোন জিন নেই । যে ছিল আমি তাকে তাড়িয়ে দিয়েছি । আর কোনদিন আসবে না । তারপরেও কোন সমস্যা হলে আমাকে ডেকো । মেয়েটার ভিতরে গ্রামিন সংকোচবোধ ফিরে এসেছে । সে মাথায় লম্বা করে ঘোমটা দিল । আমার পা ছুয়ে সালাম করল । তারপরে ঘরে ফিরে গেল ওই গ্রামে আরো দুই দিন ছিলাম ।মেয়েটা সম্পূর্ণ সূস্থ হয়ে গিয়েছিল । কিন্তু এই দুই দিনের মাঝে অন্যান্য অনেকে আমাকে পীর মনে করে পানি পড়া তেল পড়া চাইতে এসেছিল । কিছুতেই তাদেরকে বোঝান যাচ্ছিল না । শেষে আমি গ্রাম ছেড়েই পালালাম


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ (ফ্যান ফিকশন—মিসির আলি) ভাষা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now