বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নিহিনের মুখ টা কেমন বিষন্ন মনে হল । অন্যান্য দিনে ওর চেহারায় যে উজ্জলতা থাকে আজ তার ছিটে ফোটাও নাই । কেমন মুখ অন্ধকার করে বসে আছে ।
নিহিনকে হাসিখুশি অবস্থায়ই ভাল লাগে খুব । এমন একটা প্রানবন্ত মেয়ে যদি মুখ অন্ধকার করে বসে থাকে তাহলে কি ভাল লাগে ? কিন্তু আমি কারনটা জিজ্ঞেস করতে পারছি না । কারন আমার জানা । আমার কারনেই ও এমন ভাবে বসে আছে । বললাম
-কোন কথা বলবে নাকি এরকম চুপ করেই থাকবে ?
-কেন আমার পাশে বসে থাকতে ভাল লাগছে না ? এখন তো ভাল লাগবেই না । আমিতো পুরানো হয়ে গেছি ।
-আরে এটা কি ধরনের হল ?
নিহিন আমার দিকে তীব্র চোখে তাকিয়ে বলল
-তাহলে কাল রাতে তুমি ঐ কথা কেন বললা ? কেন বললা বল ?
আমি কি জবাব ? আমিই কেবল জানি আমি কেন বলেছি !
আমি বললাম
-চল বাইরে যাই । এখানে অনেক ভীড় ! চল মিন্টু রোডে যাই । চা খেয়ে আসি ।
নিহিনের চোখের তীব্রতা খানিকটা কমল । চুপচাপ উঠে দাড়াল ।
-চল ।
নিহিন কে ভাল করে দেখলাম এতোক্ষনে । আমার আগেই এসে বসে ছিলতো তাই ভাল করে দেখতে পারি নি !
নিহিনের পছন্দের পোষাক । কালো জিন্সের সাথে কালো টিশার্ট ! সাথে ধবধবে সাদা স্কার্ফ !
প্রথমদিন ঠিক পোষাকটাতেই দেখেছিলাম ওকে ! সেদিন টিউশনীতে গিয়েছিলাম । আমার ছাত্রের বাসা ছতলায় । আমি লিফটের মধ্যে ঢুকে ছয় বাটনে চাপ দিলাম । লিফটের দরজা বন্ধ হবে ঠিক এমন সময় কালো টিশার্ট আর কালো জিন্স পরা একটা মেয়ে লিফটের দিকে স্টপ স্টপ বলতে বলতে দৌড়ে আসছে ।
আমি লিফটের দরজা বন্ধ হওয়া থেকে আটকালাম । মেয়েটা কেমন উড়তে উড়তে লিফটের মধ্যে ঢুকে পরল । দরজা বন্ধ হতেই মেয়েটা চার নম্বর বাটন চাপল । বুঝলাম মেয়েটা বাড়িয়ালার মেয়ে ।
আমার দিকে তাকিয়ে বলল
-থ্যাঙ্কিউ ।
আমি কোন মতে একটু হাসার চেষ্টা করলাম । ভেবেছিলাম আর কোন কথা হবে না কিন্তু মেয়েটা আবার আমাকে জিজ্ঞেস করল
-ছয় তলায় যাবেন ?
-জি !
আমার গলার স্বর আমার কাছেই যেন কেমন মনে হল । ঠিক বুঝলাম না এমন কেন হচ্ছে । আসলে মেয়েদের সাথে ঠিক মত কথা বলার অভ্যাস নাই তো তাই হয়তো এমন হচ্ছে ।
-ছতলায় থাকেন আপনি ?
-জি না । টিউশনী ।
-ও !
মেয়েটা হয়তো আরো কিছু বলতে যাচ্ছিল কিন্তু ততক্ষনে চারতলায় পৌছে গেছে লিফট । মেয়েটা একটু হেসে লিফট থেকে বের হয়ে গেল ।
নিহিন আস্তে আস্তে হাটছিল । আমি বললাম
-রিক্সা নেবো?
-কেন আমার পাশে হাটতে ভাল লাগছে না ?
নাহ । আজকে এই মেয়েটার কি হয়েছে ? এমন ভাবে কথা কেন বলছে ! আক্রমনের মনভাব প্রতিটা কথায় !! বললাম
-মিন্টুরোড এখান থেকে বেশ খানিকটা দুরে । তোমার হাটতে কষ্ট হবে ।
-আচ্ছা আমার হাটতে কষ্ট হবে এটা তুমি দেখতে পাচ্ছো আর কাল যে তুমি আমাকে কষ্ট দিলে সেটার কিছুর হবে না ।
আমি কি বলবো ? নিহিন বার বার ঐ একই কথা বলছে । বললাম
-নিহিন প্লিজ ঐ কথাটা আর বল না । তোমার কি মনে হচ্ছে আমি কথাটা ইচ্ছে করে বলেছি ?
-তাহলে কেন বলেছো ? বল ।
আমি ভেবেছিলাম ঐ দিনের পর মেয়েটার সাথে আমার আর দেখা হবে না কিন্তু দেখা হল ঐ দিনই আবার দেখা হল । টিউশনী থেকে বের হয়ে লিফট ঢুকতে যাবো মেয়েটাকে আবার দেখতে পেলাম । ছাদ থেকে নামছে ।
বাসাটা ছয়তালায় । আর লিফটটা এই ছয়তলা পর্যন্ত আছে , ছাদ পর্যন্ত যায় নি । মেয়েটা নিশ্চই ছাদে গিয়েছিল হাওয়া খেতে !
আমি আগে মেয়েটাকে ঢুকতে দিলাম লিফটে ।
-আপনার সাথে আবার দেখা হয়ে গেল !
এই বলে মেয়েটা হাসল ।
আমিও একটু হাসার চেষ্টা করলাম । আমি ভেবেছিলাম মেয়েটা চার তলা নেমে যাবে , কিন্তু নামল না । আমার সাথে নিচ তলা পর্যন্ত নেমে এল । আমি যখন লিফট থেকে বের হতে যাবো তখন মেয়েটা বলল
-আমার কেন জানি মনে হচ্ছে আপনার সাথে আমার আবার দেখা হবে !
আশ্চর্যের বিষয় ! ঠিক একই কথা যেন আমার মনে হচ্ছিল । মেয়েটার সাথে আমার আবার দেখা হবে ! কিন্তু মেয়েটাকে তো আর এই কথা বলতে পারলাম না ।
লিফট থেকে বের হয়ে মেয়েটা আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল
-আমি নিহিন !
হাত ধরবো ? মনে মনে বললাম ! মনের ভিতর কেমন একটা অনুভূতি হল ! একটা মেয়ের হাত ধরবো ?
নিহিন মিন্টু রোড়ের ফুট পাট ধরে ! আমি ওর পাশাপাশি হাটছি । নিহিনের মুখটা যেমন গম্ভীর ছিল তেমনটা আর নাই । ওখান কেমন একটা আনন্দের আভা দেখা যাচ্ছে ওর চেহারায় ! আসলে এই মিন্টু রোডটা আমার যেমন প্রিয় ওর ও তেমন প্রিয় । আমরা প্রায় দিনে এই রাস্তায় হেটে বেড়াতাম । গল্প করতাম । বিশেষ করে ডিবি অফিসের সামনে যে চায়ের দোকানটা আছে, ওখানকার চায়ের দোকানের চা ওর খুব পছন্দ ।
আমার মনে প্রথম যেদিন ওর সাথে এখানে চা খেতে এসেছিলাম । একে বারে হঠাৎ করেই । আমি টিউশনী থেকে বের হচ্ছিলাম । গেট দিয়ে বের হতে যাবো ঠিক তখনই দেখলাম নিহিনের গাড়ী গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকছে ।
আমার দিকে চোখ পড়তেই নিহিন মিষ্টি করে হাসল । আমি হাসলাম । ঐদিন লিফটের ভিতরে দেখা হবার পর প্রায় দিনই আমাদের দেখা হয়ে যেত ! টিউশনীতে ঢোকার অথবা বের হবার সময়
একদিন তো আলবেইকের মধ্যে দেখা হয়ে গেছিল ।
প্রতিবারই একটু হাসি দুএকটা কথা হত । ভেবেছিলাম নিহিন হযতো গাড়ি থেকে নামবে না । কিন্তু নিহিন গাড়ি থেকে চট করে নেমে পড়ল । আমাকে বলল
-বাসায় যাচ্ছেন বুঝি ?
-জি ।
-আমি মনে মনে আপনাকেই খুজতেছিলাম ।
আমি অবাক হলাম ওর কথায় ! নিহিনের মত একটা মেয়ে আমাকে খুজছে ! এটা খানিকটা অবিশ্বাস্য ! হয়তো বলেছে কেবল কথার কথা !
নিহিন বলল
-এখনই কি বাসায় চলে যাবেন ?
না সমস্যা নাই !
-তাহলে চলুন চা খেয়ে আসি !
-চা ??
নাহ এই মেয়েটার আচরন খানিকটা অদ্ভুদই !! সাধারনত মেয়েরা এমন আচরন করে না ! কিন্তু এই মেয়েটা করছে ! আর আমার প্রতি বেশ ভালই আগ্রহ দেখাচ্ছে !
কিন্তু কেন ??
নিহিন যখন আমাকে এই মিন্টু রোডে নিয়ে এল আমি ঠি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না ঢাকার মত শহরে এমন একটা জায়গা আছে !! নিহিন বলল যে এখানে সব ভিআইপি লোকরা থাকে ! তাই এমন সুন্দর জায়গাটা !!
ঐদিনই নিহিন আমার মোবাইল নাম্বার নিলো ! দুজনের মাঝে অনেক কথা হল !!
সত্যি বলতে কি ওমন সুন্দর একটা রাস্তায় নিহিনের মট মেয়ের পাশাপাশি বসতে কি পরিমান ভাল যে লাগছিল !! মনে হচ্ছি যেন আমি স্বপ্নের মধ্যে আছি !
যখন আমি বাসায় আসলাম বুঝলাম যে আমি নিহিনের প্রেমে পরেছি!
এবং খুব ভাল ভাবেই উপলব্ধি করলাম বিষয় টা । নিহিন মেয়েটা এই কয়দিনে আমার মনের মাঝে একটা দৃঢ় আসন নিয়ে বসেছে ! আমি আমার মন থেকে কিছু তেই ওকে দুর করতে পারছি না ।
দুই:
নিহিনের চা খাওয়ার ধরন টা আমার খুব ভাল লাগে !
কেবল চায়ের কাপটা দুহাত দিয়ে এমন ভাবে ধরে যে খুব মূন্যবান কিছু ! তারপর অল্প অল্প করে চায়ের কাপে চুমুক দিবে ! একবার চুমুক দেওয়ার পর কয়েক সেকেন্ড বিরতি তারপর আবার !
ডিবি অফিসের সামনে যে চায়ের দোকানটা আছে সেখানে বসার কোন ব্যবস্থা নাই ! লোকজন দাড়িয়েই চা খায় !
আমি আর নিহিন চায়ের দোকানের ফুটপাতের উপর বসে আছি ! বসে বসে চা খাচ্ছি ! একটু আগে নিহিনের মুখটা কেমন অন্ধকার ছিল তা এখন পুরোপুরি কেটে গেছে ! নিহিন আনন্দের সাথে চা খাচ্ছে ! আর আমি তাইয়ে আছি ওর দিকে ! কেন জানি ওর চা খাওয়া দেখতে বেশ ভাল লাগছে ! নিহিন আমার দিকে তাকিয়ে বলল
-খাচ্ছ না কেন ?
-তোমার চা খাওয়া দেখছি !
-তোমরা ছেলেরা এমন ঢং করতে জানো না?
-কেন এই কথা কেন বললা ?
-কেন বললাম বুঝলা না ? কাল রাতে তুমি আমার সাথে কেমন আচরন করেছ তোআমর মনে আছে ? আর এখন এমন ভাব করছো যে আমার কত ভালবাসো !
নিহিনের কথায় খানিকটা কষ্ট লাগলো ! আজ এই অপ্রিয় প্রসঙ্গটা ও অনেক বার তুলেছে ! ইচ্ছে করেই তুলেছে !
অবশ্য ওকে দোষ দেওয়া যায় না !
ঐদিনকার পর নিহিনের সাথে আমার সম্পর্কটা খুব দ্রুতই ভাল হয়ে উঠল ! আমি যেমন আগেই উপলব্ধি করেছিলাম যে নিহিনের প্রেমে পড়েছি, কদিন পর আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম নিহিন নিজেও আামর উপর দুর্বল হতে শুরু করেছে ! ওর আচরনে সেটা স্পষ্ট ধরা পড়তে শুরু করলো ! একদিনতো হঠাৎ করে ও বলেই ফেলল ।
আামদের ঘোড়াঘুড়ির মেইন স্পট ছিল এই মিন্টু রোডটাই ! প্রা্ই প্রতিদিন আমরা এখানে আসতাম । টিউশনীর পরে অথবা আগে ! ঐদিন টিউশনী ছিল না । তাই পুরো বিকেলটাই আমাদের ছিল । হাটছিলা আর গল্প করছিলাম ! হাটতে হাটতে ডিবি অফিসের সামনে চলে এলাম । এখনে বড় করে সাইনবোর্ডে লেখা আপনার পরিচয় দিন । সাইনবোর্ডটার সামনে আসতেই নিহিন হঠাৎ করে একটা কাজ করে ফেলল ! যে পুলিশটা গেটের কাছে দাড়িয়ে ছিল তাকে সরাসরি বলল
-আামর নাম নিহিন । সাদিয়া আফসান নিহিন ! তারপর আমাকে আমাকে দেখিয়ে বলল
-ও আমার বয়ফ্রেন্ড । ওর নাম অপু ! অপু তানভীর ।
একথা বলেই নিহিন আমার দিকে ঘুরে চলে এল ।
এভাবে হঠাৎ করেই কোন মেয়ে যদি কাউকে তার নাম বলে যে কেউ অবাক হবে ! ঐ পুলিশ লোকটাও অবাকে হল । তার থেকে বেশি অবাক হলাম আমি । এমনটা কেউ করে নাকি ! আমার কাছে আসতেই বললাম
-এটা কি করলে ?
নিহিন হেসে বলল
- দেখছো না লেখা আছে আপনার পরিচয় দিন ! তাই আমার তোমার পরচয় দিয়ে এলাম ।
আমি খানিকটা চমকালাম নিহিনের কথা শুনে ।
মেয়েটা বলল কি ?
বয়ফ্রেন্ড ?
নাকি আমি ভুল শুনলাম ? আমি নিহিনের দিকে তাকিয়ে বললাম
-কি বললে তুমি ?
-কি বললাম ?
নিহিন হাসল কেবল ।
-একটু ফান করলাম ।
-না ফান করলে ঠিক কিন্তু কি বললে ? ঐ পুলিশটাকে কি বললে ?
-আমি আমার পরিচয় দিলাম ।
-আর আমাকে কি বললে ?
-অপু !
-তার আগে কি বললে ?
নিহিন এইবার কেমন একটা মিশকি হাসি দিলো । তারপর বলল
-কেন তোমার ভাল লাগে নি কথাটা শুনে ?
আমি চট করেই কিছু বলতে পারলাম না । কেবল নিহিনেয় দিকে তাকিয়ে রইলাম । নিহিন আমার হাতটা ধরে বলল
-জানো কোথা থেকে কি হয়ে গেল কিছুই বুঝলাম না । কিভাবে তোমাকে ভাল লাগতে শুরু হল তাও বুঝলাম না । কেবল মনে হল তুমি আপন কেউ !
নিহিন চা খাওয়া বন্ধ করে আমার দিকে তাকাল । চায়ের কাপটা আমার দিকে বাড়িয়ে বলল
-তোমার কাপ দাও ।
আমার তখনও অর্ধেক চা খাওয়া বাকী । নিহিন এই পাগলামোটা প্রায়ই করে । আমার খাওয়া চায়ের কাপে চুমুক দিতে নাকি ওর অনেক ভাল লাগে ।
ঐ দিনের পর নিহিনের সাথে যোগাযোগ বেড়ে গেল আরো বহুগুনে । আগে তো টিউশনীতে যাওয়ার আগে কিংবা পরে দেখা হত । ঐ দিনের পর আগেও দেখা করতে হত আবার পরেও দেখা করতে হত !
ঘটনাটা গত পরশু দিনের । নিহিনের সাথে কথা বলে টিউশনীতে ঢুকেছি । পড়াচ্ছিলাম ঠিক এমন সময় কলিংবেল বেজে উঠল । আমার বেশি পাত্তা দেবার কথা নয় অনেকেই তো আসতে পারে কিন্তু বাড়ির কাজের মহিলাটা যখন দরজা খুলে দিল আমি ধাক্কার মত খেলাম ।
নিহিন ?
নিহিন !
আমি যে ঘরটাতে বসে পড়াই সদর দরজা থেকে সেটা খুব ভাল করে দেখা যায় । নিহিন সরাসরি এই ঘরেই এসে হাজির ।
-তুমি এখানে ?
স্টুডেন্টের সামনে কেমন একটা অস্বস্তি লাগছিল । কিন্তু নিহিনকে দেখলাম একদম স্বাভাবিক । বলল
-তুমি এতো দেরি কেন করছো ? তাই চলে এলাম ।
তারপর নিহিন যা করলো তা দেখে আমার অস্বস্তির সীমা থাকলো না । সামনে চায়ের পেয়ালা ছিল । স্টুডেন্টের বাসায় রেগুলার চা আর কি ! নিহিন আমার স্টুডেন্টের সামনেই ঐ চায়ের কাপ তুলে চুমুক দিয়ে ফেলল ।
এই মেয়েটার কি সাধারন কমন সেন্স বলে কি কিছু নেই ? কার সামনে কি আচরন করা উচিত্ এটাও কি বোঝে না ।
আর কি কান্ড করে ফেলে ভেবে আর পড়ালাম না । নিহিনকে নিয়ে বের হয়ে এলাম ।
নিহিনের চা খাওয়া শেষ হয়েছে । আমাকে বলল
-তুমি সত্যি করে বলত কালকে তুমি ঐ কথাটা কেন বললে ? আমাকে কি তোমার আর ভাল লাগছে না ?
-ছিঃ এসব কি ধরনের কথা ? তুমি জানো তোমাকে আমি কি পরিমান পছন্দ করি ।
-তাহলে কেন বললে বল ? আমি শুনতে চাই ।
আমি ভেবেছিলাম আন্টি নিহিনের ব্যাপারটা কিছু মনে করবে না । কিন্তু পরদিন আন্টি আমাকে ফোন করে আসতে বলল । আমার পড়ানো ছিল না । আমি ভেবেছিলাম অন্য কিছু বলবে হয়তো ! কিন্তু নিহিনের ব্যাপারটা নিয়ে কথা তুলল ! আমাকে খুব পরিষ্কার ভাবে বুঝিয়ে দিল যে আমার অবস্থান টা কোথায় আর নিহিন কোথায় !!
তার সাথে এই ইঙ্গিতও দিল যে আমি যদি এটা বদলাই তাহলে হুতো আমার আর এখনে টিউশনি করানো হবে না ! মোটামুটি আমার খরচের অর্ধেকটা আসে এখান থেকে । যদি এই টিউশনীটা হাত ছাড়া হয়ে যায় তাহলে আমার কি হবে কে জানে ??
আমি আন্টিকে আচ্ছা বলে নিচে নেমে এলাম । মেইন গেট দিয়ে বের হচ্ছিলাম দেখলাম নিহিনের গাড়ি ঢুকছে !!
আমার তখন আন্টির কথাটা কেন জানি ঠিক মনে হল ।
নিহিন ওর আই ফোন নিয়ে ব্যস্ত ছিল তাই আমাকে লক্ষ্য করে নি !
সত্যি ওর অবস্থান আর আমার অবস্থান কত পার্থক্য !!
ওর হাতে আইফোন আর আমার হাতে চাইনিজ মাইফোন !! ও যেখানে ল্যান্ডক্রুজারে চড়ে আমি সেখানে চড়ি মেগাসিটি বাসে...
আমি কি ভেবে নিহিনকে ভালবাসলাম !!
আশ্চর্য !!
রাতে নিহিন ফোন দিছিল আমি ওর সাথে মোটামুটি খারাপ ব্যবহারই করলাম ! সরাসরি বললাম আমার সাথে আর যোগাযোগ না করতে !!
কিন্তু নিহিনের সামনে কথা গুলো কেন জানি বলতে পারলাম না ! নিহিন আবার বলল
-কই বল? কি কারন ? আমি জানতে চাই তুমি আমার সাথে কেন এমনটা করলে ?
-আমি আসলে............
-কি বল ।
আমি কোন কথা বলতে পারি না । কেবলই নিহিনের দিকে চেয়ে থাকি !!
এমনটা কে হয় ! আমি নিহিনকে হারাতে চাই না কিছুতেই ! কিন্তু ওকে পাবার স্বপ্নও আমার দেকতা সাহস হয় না ! বারবার মনে হয় আহা চলুক না যেমন চলছে ! যতদিন না যও হারিয়া যায় আমার কাছ থেকে ওর পাশাপাশি থাকি কিছুক্ষন....। এটাই বা কম কিসের..............
আমার কথা:
জীবনটা যদি গল্পের মত হত কত ভাল হত ! গল্পে আমি যেমন টা চাই ঠিক তেমনটাই হয়, কিন্তু বাস্তব জীবনে তেমনটা হয় না মোটেও!
বাই অপু তানবির
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now