বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এটা গল্প হলেও পারতো
নাজিয়া ইসলাম
১।।
প্রায় আধ ঘন্টা হলো শুয়ে ফ্যানের দিকে
তাকিয়ে আছে নুজহাত, এতক্ষন কস্ট হচ্ছিলনা
তবে এখন চোখ খুলে রাখতে কস্ট হচ্ছে।
রিতিমত যুদ্ধ করছে সে চোখের সাথে তবুও
একটু পর পর বন্ধ হয়ে আসছে, আর যখনই বন্ধ
হচ্ছে তখনই মনে হচ্ছে যেন কেউ তাকে
নিচের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে, কোন এক
অতল গহ্বরে, যেখান থেকে আর ফিরে আসা
যাবেনা কখনো।
নুজহাত শুনেছিল, মারা যাবার আগে নাকি আল্লাহ
মানুশের নিচের দিকটা অবশ করে ফেলে্ন, কারন
মৃত্যু যন্ত্রনাটা নাকি এতটাই বেশি হয় যে সে সময়
পা দুটো অবশ না করলে হয়তো মৃত্যুপথযাত্রি
উঠে ছুটোছুটি শুরু করতো।
নুজহাতের এ মুহুর্তে মনে হচ্ছে তার পায়েও
কোন অনুভুতিই নেই, তার নিচের দিকটাও অবশ
হয়ে গেছে। চেস্টা করলেও কখনো আর
উঠে দাড়াতে পারবেনা সে, হয়তো সে মারা
যাচ্ছে। হুম, আধা ঘন্টা আগে নুজহাত ঘুমের ওষুধ
খেয়েছে, গুনে গুনে বিশটা, আরোও দশটা ছিল
তবে কেন যেন সেগুলো খেতে পারেনি,
হয়তো মনের কোন এক কোনে বেচে
থাকার ক্ষিণ ইচ্ছে ছিল। তবে সে এটাও জানতো
বিশটাতেই সে শেষ হয়ে যাবে কোন ব্যাথা ছাড়া
কোন কস্ট ছাড়া, তবুও মনের কস্ট গুলো পিছু
ছাড়ছে না, হয়তো সেই চাইছেনা।
মানুশ বড়ই অদ্ভুত, সে কি চায় নিজেই জানেনা তাই
মরবার জন্যই এত আয়োজন তবুও যেন মনে
একটু বাচবার আশা।
২।।
বিগত চার মাস নুজহাতকে যেই দেখেছে অন্য
এক নতুন নুজহাতকে দেখেছে, অনেক হাসি খুশি
নুজহাতকে দেখেছে, উচ্ছল নুজহাতকে
দেখেছে, যে অতি ক্ষুদ্র কিছুতেই খুব বিষ্মিত
হয়ে যেত। সবাই জানতো, বাহ বেশ আছে
তো মেয়েটি! তার কাছের মানুশগুলো অবাক হত
আবার খুশিও হত।
তবে মাঝে মাঝে হঠাত এসে যাওয়া অভিমানের দু
ফোটা অস্রুর সাক্ষী ছিল কেউ কেউ, তবে তা
ক্ষনিকের নামমাত্র।
কিন্তু কেউ ভাবতে পারবেনা, তার ঠোটে ওই
হাসি আনতে তার নিজের সাথে কতটা যুদ্ধ করতে
হয়েছে, কতবার তার নিজেকে বোঝাতে
হয়েছে যে, হেরে গেলে তো চলবেনা!
সে সময়টায় তার বিষ্ময় ভরা মুখ দেখে কেউ
বুঝতে পারেনি যে মেয়েটি অনেক আগেই
বিস্মিত হওয়া ভুলে গেছে। তার সবচেয়ে
কাছের মানুশ, তার মাও কখনো ধরতে পারেনি তার
মেয়েটি ভালো নে্ই, তাই হয়তো মাঝে মাঝে
অবাক চোখে তাকিয়ে থাকতো, ভাবতো যে
মেয়েটি একটু কিছুতেই কেদে চোখ ফুলিয়ে
দরজা ভেজিয়ে বসে থাকতো সে কবে কবে
এত কঠিন হয়ে উঠলো!
কাদা ভুলে গিয়েছিল সে, মন খুলে একা অনেক
কাদার চেস্টা করেছে সে, তবুও এক ফোটা
পানিও আসেনি তখন দু চোখে।
যে বিন্দুতে ভর করে তার বৃত্ত তৈরি হত সে
কেন্দ্রই যে হারিয়ে গিয়েছিল তার! কার জন্য
কাদবে! কস্ট গুলো তখন রাগে পরিনত হয়েছে
জেদে পরিনত হয়েছে, একসময় অনুভুতি
গুলোও ক্লান্ত হয়েছে।
৩।।
আর কস্ট হচ্ছেনা নুজহাতের, বরং কেমন যেন
শান্তি শান্তি লাগছে, মনে হচ্ছে যেন চার মাসের
জমা্নো ঘুম সে এখন ঘুমিয়ে নিতে পারবে, এই
ঘুম থেকে তার আর কখনো জেগে উঠতে
হবেনা। এবার ঘুমালে, সপ্নকে বাস্তব ভেবে
একটু পর পর তার ঘুম ভাংবেনা আর কোনদিন, ঘুম
ভেঙ্গে অবাক চোখে আশপাশে কাঊকে
খুজে বেড়াতে হবে না, কলিং বেলের
আওয়াজে ধরফর করে উঠে দরজার ওপাশে উকি
দিতে হবেনা।
কিন্তু এখন যে ঘুমানো যাবে না, দু বছর আগে
ফিরে যেতে হবে! সেই দু বছরের কাটানো
প্রতিটা দিনের মত আর একটা দিনও হয়তো তার
জীবন ফিরে আসবেনা কখনো, তাইতো তারই
ফিরে যেতে হবে সেই দিন গুলোতে,
শেষবারের মত, শেষবারের মত প্রতিটা দিনের
প্রতিটা মুহুর্তের প্রতিটা ভাবনার কথা সে আবার
ভাবতে চায়। সে চাইলেই সব কেমন যেন আজও
বাস্তব হয়ে ধরা দেয় চোখের সামনে………
কি যেন কি এক নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়
মেয়েটি।
৪।।
ছেলেটার নাম মৃদুল, পরিচয় চার বছর আগে
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর। কিভাবে কিভাবে পরিচয়
থেকে বন্ধুত্ব তা মনে করতে পারলোনা
নুজহাত। তবে কিভাবে সে বন্ধুত্ব থেকে আলাদা
অনুভুতির জন্ম তার প্রতিটা দিন প্রতিটা ক্ষন দিব্যি
মনে পড়ছে।
পুরনো সেই অনুভুতি গুলো কি এইমাত্র এক
টুকরো হাসি টেনে গেল তার ঠোটে!
স্মৃতিরা অনেক পুরোনো, প্রায় চার বছর
আগের, তবু মনে হল যেন মাত্র কিছু সময়
আগের ঘটে যাওয়া সব।
ক্লাসে সারাক্ষনের টুকরো টুকরো খুনসুটি,
মুখে না বলে হাজার কথা বুঝে নেয়া, সারাদিন
পাশাপাশি সাথে সাথে থাকবার অজুহাত খুজে নেয়া,
মুঠোফোনে একটুক্ষন কথা বলার আবোল
তাবোল টপিক ঘেটে বার করা আর পরীক্ষার
আগের রাত জেগে দুনিয়ার সবথেকে
অপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে ফেসবুকে
আড্ডা……
তবু এতশতর মাঝেও কেউ কাউকে কখনো
তাদের বলা হয়নি “ভালোবেসে ফেলেছি”!
বলতে পারলে হয়তো তাদের গল্পটা অন্যরকম
হতে পারতো!
হঠাত করেই একদিন হারিয়ে ফেলল ছেলেটাকে,
সেই অন্যরকম অনুভুতিটাকেও থামিয়ে দেয়া হল।
একে অন্যকে বন্ধু ছড়া অন্য কিছু ভববার
সুজোগ আর উপায় কোনটাই আর নেই তখন,
আর নিয়মানুযায়ী আগের সখ্যতায় ভাটা পড়ল
অনেকটা, বন্ধুত্ব ছিল ঠিকই তবে দুজনেই তখন
আগের থেকে আলাদা আলাদা নতুন মানুশ।
কারন, বিয়ে হয়ে গিয়েছিল নুজহাতের।
৫।।
উপরওয়ালা প্রত্যেকটা মানুশের জীবন কেমন
যেন এক একটা ভিন্ন ভিন্ন গল্প উপন্যাসের মত
সাজিয়ে পাঠিয়েছেন। আর নুজহাতের গল্প সে
তখনও লিখেই চলছেন।
বিয়েটা টেকেনি নুজহাতের, কার সাথে বিয়ে হয়,
কেন হ্য়, কেনই বা ভেঙ্গে যায় সে এক আলাদা
গল্প তাই দুইটা মেশাচ্ছিনা এখানে।
হঠাত করে হারিয়ে যাওয়া মৃদুল নামের ছেলেটা
নাটকীয় ভাবে হঠাত করেই আবার চলে আসে
নুজহাতের গল্পে, চলে আসে নুজহাতের
জীবনে। নতুন করে নুজহাতকে চেনায় সে,
ভাবতে শেখায়, কল্পনা করতে শেখায়
ভালোবাসতে শেখায়, আবার হাসতে শেখায়।
৬।
ঘুম ভরা চোখেও কোত্থেকে একরাশ পানি
চলে আসে, উপচে পড়তে চায়, একসময় তারা
কিনার খুজে নিয়ে বেয়ে নামতে লাগে,
ঠোটে তখনো মৃদু হাসি নুজহাতের, জীবনে
কাটানো সবচেয়ে সুন্দর দিন গুলো যে তার
চোখের সামনে!
হঠাত পাশে ফেলে রাখা মুঠোফোনের
মেসেজটোন বেজে ঊঠলো, চোখের
সামনে নিয়ে দেখে সোনিয়ার মেসেজ, “কি
করিস?”
কেন যেন মিথ্যে বলতে ইচ্ছে হলনা, তাই
লিখে পাঠালো, “শুয়ে আছি রে, অপেক্ষা করছি
মৃত্যুর, আর ভালো লাগছেনা কিছু, বড্ড ক্লান্ত
হয়ে গেছি”।
ফোনটা বন্ধ করে আবার পাশে রেখে দিল।
কেন পাঠালো এই মেসেজ! অবচেতন মনে
কি সে চাইছে খবরটা মৃদুল পর্যন্ত পৌছাক! নাহ,
মোটেও না! আর শুনলেও হয়তো মৃদুলের
তাতে কোন ভাবান্তর হবেনা, হবে কি? আর
ভাবতে পারছেনা নুজহাত।
৭।।
কল্পনার আকাশে উড়েছে দুজন, কখনো
বাস্তবে হেটেছে, কেও পড়লে অপরজন
সামলে নিয়েছে, আবার উঠে দাড়িয়েছে, আবার
চলেছে। সময় যতই পার হচ্ছিল নুজহাত ততই যেন
আস্টে পৃষ্ঠে জড়িয়ে যাচ্ছিল মৃদুলের সাথে,
একসময় অনুভব করতে লাগলো বুঝতে পারলো
মৃদুলকে ছাড়া আর কোন কিছুই কখনো সম্ভব
নয়।
একটা মেয়ে সব সময় নির্ভরতার আশ্রয় চায়, আর
নুজহাতের সে ঠিকানা ছিল মৃদুল।
ভালোবাসার মানুশকে হারানোর ভয় থাকাটা ভালো
কিনা মন্দ আমি জানিনা, নুজহাতও জানতোনা। তবে
বেচারি ভয়ে দিন দিন কুকড়ে যাচ্ছিল, মৃদুলকে
জীবনে পাবার ইচ্ছা যেমন তার প্রকট হয়ে
উঠছিল ঠিক তেমনই প্রকট হয়ে উঠছিল তাকে
হারাবার ভয়।
৮।।
সিনেমা, গল্প বাস্তবেও দেখা যায় প্রেম
ভালোবাসায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় মা বাবা,পরিবার,সমাজ। আর
নুজহাতের বাধা নুজহাত নিজেই। এতটা ভালোবাসায়
জড়িয়ে গিয়েছিল যে, আশে পাশের পরিবেশ,
বাস্তবতা এমনকি মৃদুল নিজেও যে একটা আলাদা মানুশ
তার কিছু নিজস্বতা আছে, কল্পনার জগত আছে তার
কিছু আলাদা বাস্তবতা আছে সবই ভুলতে বসেছিল
নুজহাত।
ধীরে ধীরে বুঝতে পেড়েছিল বড্ড বড় ভুল
করে ফেলেছে সে, একটা মানুশকে বন্দী
করে ফেলেছিল, যেন কাউকে জেলখানায় বিনা
দোষে আটকে রাখার মত।
মৃদুলের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল নুজহাত, তার
রাগ আর তার জেদ। তারপরেও সব কিছুর
পেছনের কারনটা কিন্তু ভালোবাসাই ছিল, হয়তো
অতিরিক্ত ভালোবাসাটাই ভুল ছিল, হয়তো!
তবে তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।
৯।।
এবার কিছু নিজের ভাবনার কথা বলি, জানিনা কে
কিভাবে নেবে, তবে আমার কিন্তু মনে হয়
ভালোবাসা আসলে একেক জনের কাছে
একেক রকম, সবার কাছে তার সংগাটাও ভিন্ন ভিন্ন,
আর সবার ভালোবাসার পদ্ধতিটাও আলাদা, কারোটার
সাথে কারোটা মিলবে না।
আর একটা কথা কি, আমার মনে হয় ভালোবাসা
কখনো মেপে মেপে দেয়া যায়না, সত্যিকারের
ভালোবাসলে কেউ ওই ১০০ ভাগের মধ্যে ৩০
ভাগ নিজের কাছে রেখে ৭০ ভাগ দেয়না,
নিজের পুরোটা উপড়ে দেয়। তাই কারো যদি
মনে হয়, নাহ ছেলেটা অথবা মেয়েটা আমাকে
কম ভালোবাসে তাহলে তার ভাবনায় ভুল আছে,
বুঝতে হবে হয়তো ছেলেটার অথবা
মেয়েটার ভালবাসার ক্ষমতাই অতটুকু, অথবা হয়তো
সে ভালোবাসাটা বোঝাতে পারছেনা যেভাবে
অপরজন চাইছে।
আর হ্যা রাগ হচ্ছে ভালবাসার সবচেয়ে উতকৃস্টতম
বহিঃপ্রকাশ,আমার মতে।(আমার আবার রাগ বেশি কিনা
তাও কাভার করলাম)
তবে ইদানিংকার কমার্শিয়াল প্রেমে ঘাপলা আছে
সো উপরের বানী সমগ্র ঘাপলাবাজ প্রেমিক
প্রেমিকাদের জন্য প্রজোয্য নয়!
১০।।
এই মুহুর্তে সব এলমেলো হয়ে যাচ্ছে
নুজহাতের কাছে, মৃদুলের মুখটাও আবছা হয়ে
এসছে, পুরোপুরি মনে করতে পারছেনা!
চোখ মনে পড়ছে, নাক, চুল,ঠো্ট তার চশমা সব
মনে পড়ছে তবে সব সাজিয়ে মৃদুলের মুখ সে
মনে করতে পারছেনা!
হাল ছেড়ে দিয়ে মায়ের মুখ মনে করার চেস্টা
করলো, হ্যা চোখ বন্ধ করেও স্পস্ট একে
ফেলতে পারছে মার মুখটা, শান্ত লাগল মন কিছুটা।
মায়ের কথা ভাবতেই মার ডাক শুনতে পেল, আকুল
হয়ে ডাকছে তার মা তাকে, ডেকেই যাচ্ছে।
আবার কোথায় যেন দৌড়ে যাচ্ছে আবার ফিরে
আসছে, কিছুক্ষন পরে বুঝতে পারলো
ফোনে তার বাবাকে খবর দেয়া হল তারপর তার
ভাইকে, সবশেষে তনুকে।
১১।।
ঘুম যেন আকড়ে ধরে গিলে খেতে চাইছে
নুজহাতকে, তবুও ভাবনার মুক্তি নেই, কিভাবে সব
শেষ করে দিয়ে চলে গেল ছেলেটা! মুখ
কঠিন করে বলে গেল সে আর সম্পর্ক
রাখবেনা। আর ছেলেটাও সত্যি তার কথা রাখতে
পারলোও!
এরপর কেটে গেছে চার মাস, ফিরে আসেনি
মৃদুল, কোন কথাও হয়নি দুজনের আর কখনো
অথচ সামনা সামনি মুখোমুখি হয়ছে অনেকবার।
আজো সেগুলো ভেবে অবাক হয় নুজহাত,
কোন যুক্তি তর্ক দিয়েও সে মেলাতে পারেনা
গত দুই বছর আর গত চার মাস।
ভালোবাসা এভাবেও মরে যেতে পারে তার
আজো বিশ্বাস করতে কস্ট হয়। মাঝে মাঝেই
ভেবছে হয়তো ছেলেটা ভালই বাসেনি
কখনো নুজহাতকে, তবে মন সায় দেয়নি তার,
ভালোবেসেছে একসময় অনেক
ভালোবেসেছে মৃদুল তাকে, অস্বীকার
কিভাবে করবে!
আবার ভেবেছে, আগে ভালবাসতো হয়তো
এখন আর বাসেনা, তাই তো সে ফিরে আসেনি।
এরপর আর কোন যুক্তি তর্ক খাটেনা!
১২।।
অশান্ত এক শান্তিতে চোখ বন্ধ করলো নুজহাত।
মোটা গলায় কখনো আবছা, কখনো স্পস্ট কিছু
কথা কানে ভেসে আসছে তার। কে যেন
বলছে ওয়াশ করতে হবে, জলদি ওয়াশ করতে
হবে, মার কান্নার শব্দও পাচ্ছে সে। চোখ
দুটো খুব খুলতে ইচ্ছে করছে, মাকে একটু
দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে। আশেপাশের মানুশ
গুলোকেও দেখতে ইচ্ছে করছে যদি
ভীড়ের মাঝে সেই আবছা মুখটা দেখতে পাওয়া
যায় সে আশায়। কানে আসলো কেউ একজন
বলছে, মৃদুলকে ফোন দে মৃদুলকে!
অক্লান্ত মন তখনো ভাবছে, ছেলেটা কি একটি
বারের জন্য হলেও আসবে? নুজহাত তখনো
দোটানায়! আসলেই সে ছেলেটাকে আজ
অবধি বুঝে উঠতে পারেনি, সে বলতে পারছেনা
জোড় করে যে মৃদুল আসবেই অথবা সে
আসবেনা!
মৃদুল মাঝে মাঝে অভিমান করে বলতো
নুজহাতকে, “আসলে তুমি আমাকে বুঝতেই
পারোনা”
নুজহাতের খুব ইচ্ছে হচ্ছে এখন যদি মৃদুলকে
বলতে পাড়তো, “আমি হয়তো তোমাকে বুঝিনা,
তবে তোমাকে খুব বেশি ভালবাসি আর এটাই কি
যথেষ্ঠ না আমাদের একসাথে থাকবার জন্য?”
১৩।।
আমার মনে হয় যারা ভালবাসার মানুশটাকে নিজের
জীবনে পায় তারা খুব ভাগ্যবান।
এবার গল্পটা সহজভাবে শেষ করি,
হয়তো এমন হয়েছিল নুজহাত বেচে ছিল, তবে
তার না চাওয়া কোন এক অপেক্ষা কখনো শেষই
হবারই ছিলনা তাই হয়তো মৃদুল আসেইনি।
অথবা, হয়তো মৃদুল এসেছিল, ততক্ষনে ক্লান্তি
ছুটি দিয়েছে নুজহাতকে।
(নুজহাত মৃদুলের জন্য আত্বহত্যা করতে
চেয়েছিল ভাবার কোন কারন নেই, তা হলে সে
চার মাস অপেক্ষা করতোনা, অনেক আগেই
চলে যেতে পারতো। মেয়েটা ক্লান্ত ছিল,
অনুভুতিগুলো বড্ড গোলমেলে হয়ে গিয়েছিল
তার মাথায়, নিজেকেই অপরিচিত লাগছিল তার)
*সমাপ্ত*
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now