বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এনিম্যান-(১৩,১৪,১৫)

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X “রালফ তোমার চাকরি নেই?” “না।“ “কতোদিন থেকে চাকরী নেই?” “জানি না । অনেক দিন।” “জানি না।” “কেন তুমি জান না রালফ? তোমার জানতে হবে।” “আচ্ছা।” “তোমার চাকরী নেই তার কারণ অন্যায়ভাবে তোমাকে বরখাস্ত করাহয়েছে।” “তাই?” “হ্যা, রালফ।” “আচ্ছা” “রালফ, তোমাকে শুধু আচ্ছা বললে হবে না। তোমাকে কিছু একটাকরতে হবে ।” “করব।“ “হ্যা রালফ । আমাদের দেশের নাম কী বল দেখি রালফ।” “ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা |” “এই দেশটা কার জন্যে রালফ?” “কার জন্য?” “আমাদের জন্য রালফ। আমাদের যাদের গায়ের রং সাদা তাদেরজন্যে । আমরা যারা জেসাসকে বিশ্বাস করি তাদের জন্য।” “হ্যা। আমাদের জন্যে।” “বল দেখি এই দেশটা কার জন্য?” “আমাদের যাদের গায়ের রং সাদা তাদের জন্য |” “অন্যেরা আমাদের দেশে এসে আমাদের চাকরী নিয়ে নিচ্ছে ।” “তাই?” “হ্যা রালফ । তুমি দেখছ না তোমার চাকরী নিয়ে নিচ্ছে। তোমাকেবরখাস্ত কর দিচ্ছে । এখন তুমি খেতে পাও না । তোমার একটা ভালো গাড়ী নাই। তোমার গার্লফ্রেন্ড নাই।" “নাই । কিছু নাই ।” “বুঝেছ রালফ। তোমাকে প্রতিশোধ নিতে হবে।বুঝেছ?” “বুঝেছি।” "তোমার কাছে বন্দুক আছে রালফ?" “নাই । বন্দুক নাই।” “তুমি বন্দুক দিয়ে গুলী করতে পার রালফ?” “পারি । রাইফেল দিয়ে গুলী করতে পারি । গুলী করতে আমার খুবভালো লাগে । গুলীর শব্দ আমার খুব ভালো লাগে । রাইফেল দিয়ে গুলীকরলে যে বারুদের গন্ধ বের হয় সেটাও ভালো লাগে । গুলী খুব ভালোলাগে।” “চমৎকার রালফ । আমাদের সবার রাইফেল ভালো লাগে ৷” “রাইফেল দিয়ে গুলী করব।” “অবশ্যই করবে রালফ । অবশ্যই তুমি গুলী করবে । তোমাকেরাইফেল দিব । গুলী ভরা ম্যাগাজিন দিব । তুমি গুলী করবে আর গুলীকরবে।" “গুলী করব ।” “কাকে গুলী করবে রালফ?” “কাকে করব?” “এই যে এই মেয়েটাকে করতে পার।” “এই মেয়েটা তো ছোট।” “কিন্ত তার গায়ের রং দেখেছ রালফ?” “দেখেছি।” “কী মনে হয় রালফ? গায়ের রং কী তোমার আমার মত সাদা?” "না। সাদা না।” “তার মানে বুঝেছ? এই মেয়েটা আর তার ভাই আর তার বোন আরতার মা আর তার বাবা সবাই আমাদের দেশে এসেছে । এখন তারাআমাদের চাকরী নিয়ে আমাদের বরখাস্ত করে দেয় রালফ | কাজটা কী ঠিকহচ্ছে রালফ।" “না” “তুমি ঠিক বলেছ রালফ | কাজটা ঠিক হচ্ছে না । এখন কী করতেহবে বল |” “গুলী।” “কাকে গুলী করবে?" “জানি না । মনে হয় এই মেয়েটাকে।” “হ্যা তোমাকে আমি আরো বলব । কিন্তু বলার আগে তুমি এটাখাও।” “এটা কী?” “একটা ড্রিংক” “এটা খেলে কী হয়?” “তুমি নিজেই দেখবে রালফ। এটা খেলে সবকিছু ভালোভাবে বোঝাযায়।” রালফ ড্রিংকটা খেলো, খেয়ে বলল, “ড্রিংকটাতে খুব ঝাঝ মনে হচ্ছে,মাথা থেকে মনে হচ্ছে আগুন বের হচ্ছে । “সব ঠিক হয়ে যাবে রালফ, আগে আবার এই মেয়েটার ছবিটা দেখ ।চেহারাটা মনে রাখ।” “মনে রাখছি ।” “গুলী করতে হবে ।” “কোথায় গুলী করবে রালফ?” “তুমি বল ।” “মাথায় | মাথায় আর বুকে।” “ঠিক আছে ।” “কী রকম রাইফেল তুমি চাও রালফ?” “সেমি অটোমেটিক |” “ঠিক আছে, তুমি তাই পাবে । আসো এই ছবিগুলোর দিকে তাকিয়েথাকো । মেয়েটার ছবি। চেহারাটা মনে রাখো । রালফ।” “মনে রাখছি।” “গুলী করতে হবে ।” “চমৎকার।” “বললাম তো।” “আবার বল।” “গুলী করতে হবে।” “চমৎকার। মেয়েটার ছবিগুলোর দিকে তাকাও রালফ। চেহারাটামনে রাখো।” “ঠিক আছে।” “তোমার এখন কেমন লাগছে রালফ “খুব ভালো লাগছে।” ১৪. জন আর তিষা তাদের ল্যাপটপের সামনে বসে আছে । গত কয়েকদিনমিশকার সাথে কথা বলে তারা অনেক কিছু ভিডিও করেছে । সেখান থেকেকেটে কেটে বিভিন্ন অংশ জুড়ে দিয়ে তারা দুই মিনিটের একটা ক্লিপ তৈরীকরেছে । দুজনে বসে এখন তারা সেটা দেখছে । তিষার কোলে মিশকা বসেআছে যখনই ল্যাপটপে তার ছবি ভেসে ওঠে মিশকা আনন্দে আটখানা হয়ে যায় । সে হাততালি দেয় এবং হাত নেড়ে নেড়ে সাইন ল্যাংগুয়েজে বলতেথাকে, “এটা আমি। এটা আমি।” তারপর খিলখিল করে হাসতে থাকে। জন তিষাকে বলল, “এটা আমাদের ফাইনাল ভিডিও । আমরা এটাআপলোড করব।” তিষা বলল, “আরো একবার দেখে নিই । শেষবার । দেখি সবকিছুঠিক আছে কী না।” জন বলল, “ঠিক আছে ।” তারপর ল্যাপটপের মাউসে একবার ক্লিককরল, সাথে সাথে ভিডিওটা শুরু হয়ে যায় । প্রথমে সেখানে একটা লেখাভেসে আসে । “সবার ধারণা এনিমেন কথা বলতে পারে না। এনিমেনেরবুদ্ধিমত্তা খুব নিচু পর্যায়ের । কিন্তু এটি কী সত্যি? “সত্যি নয় কারণ এনিম্যানকে আসলে সাইন ল্যাংগুয়েজশেখানো সম্ভব । সাইন ল্যাংগুয়েজ শেখানোর পর আমরা তারচিন্তা ভাবনার কথা তাদের কাছ থেকেই জানতে পারি।” লেখাটি শেষ হবার সাথে সাথে মিশকাকে দেখা গেল । সে সাইনল্যাংগুয়েজে কথা বলছে । সবাই সাইন ল্যাংগুয়েজে কথা বুঝতে পারে নাতাই প্রত্যেকবার মিশকা সাইন ল্যাংগুয়েজে কিছু বলার পর নিচে তার কথাগুলো লিখে দেয়া হয়েছে । মিশকার কথা গুলো এরকম: “আমি মিশকা । আমি ভালো । তুমি ভালো । আইসক্রিম ভালো। আইসক্রিম ঠাণ্ডা কিন্তু ভালো । কলা ভালো । (হাসি) টেলিভিশনভালো না। টেলিভিশন খুব বেশী কথা । খুব বেশী রাগ।টেলিভিশন গুলি। টেলিভিশন শব্দ। টেলিভিশন ভালো না । (হাসি) আমি আগে খুব ছোট । এখন বড় । আমি এখন আনন্দ। আমিআগে ছোট। আগে কষ্ট। আমি আগে খুব কষ্ট। আমি ব্যথা।চাবুক। ইলেকড্রিক চাবুক । আমি কাঁদি । আগুন ব্যথা । (হাসি) অনেক ছোট ছোট আমি । অনেক অনেক আমি । আমরা খুব ব্যথা ।আমরা খুব কষ্ট । আমরা পালাই । আমরা দৌড়াই । আমরা চাবুক ।ব্যথা । কষ্ট । রক্ত । আমরা হাত রক্ত । পিঠ রক্ত । খুব রক্ত । আমরাদুঃখ। (হাসি) আমরা ঘরে বন্ধ । ঘর গরম। ঘর অনেক গরম। আমরা মারামারি । আমরা ধাক্কা ধাক্কি । আমরা চাবুক। ইলেট্রিকচাবুক । অনেক কষ্ট । হোসি) আমরা ভয় । অনেক ভয় । আমরাখুব বেশী ভয় । আমরা দৌড়াই । আমরা চোখ বন্ধ । আমরা ভয়পাই । আমরা খুব বেশী ভয় পাই। আমরা চিৎকার। আমরা অনেকচিৎকার । আমি আগে ছোট । আমি ভয়, আমি কষ্ট । আমি ব্যথা। আমি এখন বড় । আমি এখন আনন্দ আমি এখন ভালো । খুবভালো । আমি ভালো । তুমি ভালো | সব ভাল । (হাসি) আইসক্রিমভালো।” মিশকার ভিডিও এখানে শেষ । তারপর দেখা গেল তার হাতে একটাআইসক্রিম কোন এবং মিশকা খুব তৃপ্তি করে সেই আইসক্রিমটা খাচ্ছে। তখন স্ক্রীনে আবার লেখা ফুটে উঠল। “এই এনিম্যানের কথায় কী এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেনি যে তারা যখন ছোট ছিল তখন তাদের উপর অমানুষিক অত্যাচার করা হয়েছে? তারা ভয় পেয়েছ? তারা আতংকিত হয়েছে, প্রাণভয়ে পালিয়ে যেতে চেষ্টা করেছে? এনিম্যানের মনের কথা শুনলে এরকম আরো অনেক অজানা কথা বের হয়ে আসবে । আপনি কী আপনার এনিম্যানের মনের ভেতরের অজানা কথা জানতে চান? তাহলে তাকে সাইন ল্যাংগুয়েজ শিখিয়ে দিন । তার সাথেকথা বলুন ।আপনি নিজেই দেখুন এনিম্যানের ভেতরে কী আনন্দ,নাকী তার মনের গভীরে এখনো লুকিয়ে আছে দুঃখবেদনা আর আতংক । তার সুখের হাসিটি কীসত্যিকারের হাসি নাকী এর পিছনে আছে গভীর যন্ত্রণা।আপনাকে এই ভিডিওটি বিশ্বাস করতে হবে না, আপনিনিজেই আপনার এনিম্যানকে জিজ্ঞেস করুন।” ভিডিওটা এখানেই শেষ । জন আর তিষা দুজনেই ভিডিওটা দেখেমাথা নাড়ল । তারা যেটা বলতে চেয়েছে সেটা বেশ ভালো ভাবেই এর মাঝে প্রকাশ পেয়েছে। তিষা বলল, “এখন আমরা কী করব?” “আমরা এটাকে আপলোড করব ।” “কখন?” জন মাথা চুলকে বলল, “এক দুইদিন দেখি । একটু চিন্তা করি। আগেই তুমি কিছু করো না। ঠিক আছে?” “ঠিক আছে ।” কিন্ত তিষা অনেকটা না বুঝেই সেই রাতে ভিডিওটা আপলোড করেদিল । জন যখন সেটা জানতে পেরেছে তখন অনেক দেরী হয়ে গেছে। ১৫. মধ্যবয়স্ক একজন মানুষ একটা সেমি আটোমেটিক রাইফেল হাতে নিয়েতার ম্যাগাজিনটা পরীক্ষা করল | তারপর সেটা সামনে দাড়িয়ে থাকামানুষটাকে হাতে তুলে দিল, বলল, “রালফ, এই যে তোমার রাইফেল।” রালফ নামের মানুষটার মাথায় নোংরা হলুদ চুল, মুখে খোচা খোঁচাদাড়ি । তার চোখ লাল, চোখের দৃষ্টি অপ্রকৃতস্থ ৷ মানুষটা তার হলুদ দাতবের করে হেসে বলল, “অনেক ধন্যবাদ বস।” “এখন কী করতে হবে জান?” “জানি।“ “আবার বলি । তুমি স্কুলের পার্কিং লটে আপেক্ষা করবে৷ দেখবে নীলরঙের একটা ভলবো গাড়ী করে একটা মহিলা তার মেয়েকে নিয়ে আসবে।মেয়েকে নামিয়ে মহিলা চলে যাবে। তখন তুমি এগিয়ে যাবে । মেয়েটাকেগুলী করবে ।” “ঠিক আছে।” “মনে থাকবে?” “থাকবে ।” “যাও রালফ। তোমার উপরে যে অবিচার করা হয়েছে তার প্রতিশোধনিয়ে এস |” “ঠিক আছে বস ।” রালফ ঘর থেকে বের হয়ে গেল এবং একটু পরেই গাড়ীর শব্দ শোনাগেল রালফ তার প্রতি অবিচারের প্রতিশোধ নিতে গেছে । ঠিক তখন মধ্য বয়স্ক মানুষটির টেলিফোন বেজে উঠল। মানুষটি ফোনটি কানে লাগালো, “হ্যালো।” সে শুনতে পেলো অন্য দিক থেকে লিডিয়া জিজ্ঞেস করছে, “তোমারহিটম্যান কী রওনা দিয়েছে?” “হ্যা।” “তাকে থামাও | এই মুহূর্তে থামাও ।” “কেন?” “এখন আমাকে প্রশ্ন করো না, যে কোনো মুল্যে তাকে থামাও।” “কিন্ত-” “এই মেয়ে একটা ভিডিও আপলোড করেছে । সারা পৃথিবীর সবাইকেসে আমাদের এনিম্যানের গোপন কথা বলে দিয়েছে । এখন যদি তুমি এইমেয়েকে খুন করো তাহলে তুমি আমি কেউ রক্ষা পাব না। এই মেয়েকেএখন খুন করা যাবে না । কিছুতেই না।” “তুমি এতো দেরী করে আমাকে বললে?” লিডিয়া অধৈর্ধ্য হয়ে বলল, “আমি এই মুহূর্তে জানতে পেরেছি । তোমার হিট ম্যানকে থামাও |” “মনে হয় থামানো যাবে না।” “থামাতে হবে ।” “দেখি কী করা যায়।” ফোন রেখে মধ্যবয়স্ক মানুষটা কয়েক মুহূর্ত চিন্তা করল, তারপরফোনটা আবার হাতে তুলে নিল । “বল ।” “হিটম্যানকে থামিয়েছি।” “কীভাবে থামালে?” “টেলিভিশনে দেখ। ডাউন টাউন দিয়ে যাবার সময় পুলিশের সাথেক্রস ফায়ার হলো। আমার হিটম্যান শেষ।” “চমৎকার।” “এখন তুমি কী করবে।” “লিডিয়া একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল, “আমাদের সোজা সমাধান আরনেই । এখন একটা মাত্র সমাধান, সেটা অনেক কঠিন, অনেক জটিল । কিন্তআমাদের আর কিছু করার নেই ।” “সমাধানটা কী?” “তোমাকে টেলিফোনে বলা যাবে না । তবে তোমার একটা কাজ করেদিতে হবে ।” “কী কাজ?” এনিম্যান মিশকাকে ধরে নিয়ে আসতে হবে ।” মধ্যবয়স্ক মানুষটা অবাক হয়ে বলল, “ধরে নিয়ে আসতে হবে?” “হ্যা । শুধু লক্ষ্য রাখবে যেন এটাকে কিডন্যাপের মতো মনে না হয়।” “দুইজন মানুষকে তুলে নিয়ে যাব আর সেটাকে কিডন্যাপের মতোমনে হতে পারবে না? কী বলছ তুমি?” “না মনে হতে পারবে না৷” “তাহলে কী মনে হবে?” “মনে হতে হবে যে এই মেয়েটা আর ছেলেটা পালিয়ে গেছে?” “আর তাদের এনিম্যান?” “সেটাকে নিয়ে পালিয়ে গেছে ।” মধ্যবয়স্ক মানুষ কিছুক্ষণ চিন্তা করল তারপর হতাশ ভাবে মাথা নেড়েবলল, “লিডিয়া তুমি একটু পর পর অত্যন্ত বিচিত্র বিচিত্র আদেশ দাও! তোমার এই সব আদেশের কোনো মাথা মুণ্ড নেই ।” “না থাকলে নেই । কিন্তু আমি যেটা বলি তোমাকে সেটা করতেহবে।” “করা এতা সহজ নয়।' “না হলে নেই, কিন্ত্র তোমাকে করতে হবে । খামোকা তোমাকে এতোবেতন দিয়ে আমাদের পে-রোলে রাখা হয়নি ।” “ঠি আছে । ঠিক আছে ।” মধ্যবয়স্ক মানুষটি শুনল অন্যপাশে লিডিয়া ফোন রেখে দিল।বিকেলে তিষা তার স্কুল বাস থেকে নেমে হেঁটে হেটে বাসায় এসেছে,অন্যান্য দিন দরজা খোলা মাত্র মিশকা ছুটে এসে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, আজকে কেউ ছুটে এল না । তিষা অবাক হয়ে ডাকল, “মিশকা।” কোনো সাড়া নেই । তিষা দরজা খুলে ভিতরে পা দিয়েই পাথরেরমতো স্থির হয়ে গেল । ঘরের সোফায় মধ্যবয়স্ক একজন মানুষ বসে আছে,মানুষটিকে সে আগে কখনো দেখেনি । মানুষটির সামনে মিশকা শুয়ে আছে,তার হাত পা বাধা । মুখে একটা টেপ লাগানো, তাই কোনো শব্দ করতেপারছে না। মানুষটি তিষার দিকে তাকল, তিষা দেখল তার কোলে একটা বেঢপ রিভলবার। মানুষটি রিভলবারটা হাতে নিয়ে বলল, "তোমার ভয় পাওয়ারকিছু নেই, আমি তোমাকে এখন গুলী করব না। কিন্তু এই রিভলভারের বাটদিয়ে তোমার ঘাড়ে মারতে পারি, তখন তুমি অচেতন হয়ে যাবে । আমিতখন তোমাকে ঘাড়ে করে আমার গাড়ীতে তূলে নেব । কিংবা তুমি নিজেইহেঁটে হেঁটে এ বাইরে পার্ক করে রাখা ফোর্ড এস. ইউ. ভি.-টাতে উঠতেপার তাহলে আমার রিভলভারের বাট দিয়ে তোমার ঘাড়ে মারতে হবে না।” তিষা হতবুদ্ধি হয়ে মধ্যবয়সী মানুষটার দিকে তাকিয়ে রইল । মানুষটাবলল, “অন্যকিছু করার চেষ্টা করো না মেয়ে । আমি কিন্তু প্রফেশনাল ।” তিষা অন্যকিছু করার চেষ্টা করল না। হেঁটে হেঁটে বাসার বাইরে পার্ককরে রাখা সিলভার কালারের ফোর্ডের এস. ইউ. ভি-টাতে গিয়ে উঠল। তিষা অবাক হয়ে দেখল পিছনের সিটে জন বসে আছে। তার হাত পা বাধা।মুখে টেপ লাগানো। তিষার মুখেও টেপ লাগানো হল, হাত পা গুলো বেধেনেয়া হল। তারপর এস. ইউ. ভি-টা চলতে শুরু করল। জন কিংবা তিষা নিজেদের মুক্ত করার চেষ্টা করল না, তারা জানেচেষ্টা করে লাভ নেই । মিশকা জানে না, তাই সে মুক্ত হবার জন্যে ছটফটকরতে লাগল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ এনিম্যান-(১৩,১৪,১৫)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now