বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এনিম্যান-(১০ & ১১)

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X কম্পিউটার মনিটর থেকে চোখ সরিয়ে জন তিষার দিকে তাকাল, হাত দিয়েসাইন ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করে বলল, “আমাদের কেন মিশরীয় সভ্যতার উপর রিপোর্ট লিখতে হবে?” জনের সাথে সাথে থেকে তাদের ক্লাশের অনেকেই এখন সাইনল্যাংগুয়েজ অনেকখানি বুঝতে পারে, যখন বুঝতে পারে না তখন জন ফিসফিস করে তার আধা যান্ত্রিক আধা মানবিক গলায় বুঝিয়ে দেয় | এবারেল্যাংগুয়েজ থেকে সেটা বুঝে গেল | হেসে বলল, “কোর্সটা ইতিহাসের তাইমিশরীয় সভ্যতার উপর লিখতে হবে । কম্পিউটারের কোর্স হলেকম্পিউটারের উপর লিখতে হত । গাড়ীর কোর্স হলে গাড়ীর উপর লিখতেহত।” জন হাত দিয়ে বলল, “সরাসরি কেটে এনে রিপোর্টে বসিয়ে দিলেসমস্যা কী? নিজের মতো করে লিখতে হবে কেন? আমি কী গুগল থেকেবেশী জানি?” তিষা হাসল, বলল, “সেটা ভুল বলনি! কিন্তু গ্রেডটা তো গুগলকেদেয়া হয় না, গ্রেড দেয় তোমাকে!” জন হতাশার ভঙ্গী করে আবার মনিটরে চোখ দিয়ে গভীর মনোযোগ দিয়ে মিসরের ফেরাউন রামেসিসের কাহিনী পড়তে থাকে। এরকম সময় মিশকা ঘরে এসে ঢুকে, সে কাছে এসে তিষাকে ধরেদুই পায়ে দাড়াল | তিষা মিশকার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল, “কী খবরমিশকা? জীবনটা কী রকম মনে হচ্ছে?” মিশকা ফিক করে হেসে তিষার হাতে হাত বুলিয়ে দেয় ৷ তার ভঙ্গীদেখে মনে হয় সে বুঝি তিষার কথাটা বুঝতে পেরেছে । তিষা বলল,“মিশকা । তুমিই ভালো আছ তোমার মিশরীয় সভ্যতার উপর রিপোর্ট লিখতে হচ্ছেনা!” মিশকা আবার ফিক করে হেসে উঠল । জন মিশকার দিকে তাকিয়েথেকে হাত নেড়ে সাইন ল্যাংগুয়েজে বলল, “কী সুন্দর হাসে দেখেছ?” মিশকা জনের দিকে তীম্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে, মনে হয় সেও বুঝিসাইন ল্যাংগুয়েজ বোঝার চেষ্টা করছে, তারপর জনের কাছে গিয়ে তারপায়ে হাত বুলিয়ে তার দিকে তাকিয়ে একটু হাসল । জন আদর করে মিশকার চুল এলোমেলো করে দিয়ে তিষাকে বলল, “আমি কখনো জানতামনা মানুষ ছাড়া অন্য প্রাণী হাসতে পারে ।” তিষা বলল, “হয়তো এটা মানুষ ।” জন মাথা নাড়ল, বলল, “না । এটা মানুষ না। বৈজ্ঞানিকেরা বলেছেএর জিনেটিক কোডিং মানুষের থেকে ভিন্ন ।” “কতোটুকু ভিন্ন? তার চেয়ে বড় কথা কতোটুকু ভিন্ন হলে তুমি বলবেএটা মানুষ না?” জন হাল ছেড়ে দেওয়ার ভঙ্গী করে বলল, “আমি জানি না । আমিএনিম্যান ডিজাইন করি নাই ।” তিষা তীক্ষ দৃষ্টিতে মিশকার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, “তা ছাড়াএই যে এর মুখের হাসি, তুমি কী মনে কর এটা সত্যি? হয়তো এটা সত্যিনা।? জন হাত তুলে তিষাকে থামাল, বলল, “দাড়াও, দাড়াও, মনে আছেতুমি তোমার ব্লগে এটা লিখেছিলে?” “হ্যা ।” “তারপর অন্যেরা কী লিখেছে দেখ নাই ।” “দেখেছি । অন্যেরা বলেছে এটা ঠিক না, তাদের এনিম্যান কখনোভয় পায় না, দুঃখ পায় না। বলেছে এনিম্যানের ভয় পাবার, দুঃখ পাবার,মনে কষ্ট পাবার ক্ষমতা নেই ।” “কাজেই কেস ক্লোজড । তুমি এটা নিয়ে মাথা ঘামিও না।” তিষা একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল, “আমার কী মনে হয় জান?” “কী মনে হয়?” “আমার মনে হয় এই যে অন্যেরা যা লিখেছে সেগুলো আসলে সত্যি না। যারা এনিম্যান তৈরী করেছে তারা চায় না আসল কথাটা বের হয়েআসুক । তারা সবকিছু গোপন রাখতে চায় ।” জন হা হা করে হাসল, বলল, “তুমি আজকাল মনে হয় খুব বেশীডিটেকটিভ বই পড়ছ।!” তিষা হাসল না | বলল, “আমার কী মনে হয় জান?” “কী?” “আমার মনে হয় আমি যদি কোনোভাবে মিশকার সাথে কথা বলতেপারতাম তাহলে জিজ্ঞেস করতাম, বল দেখি মিশকা তোমার মনে কোনোগোপন দুঃখ আছে কী না!” জনের মনে হল কথাটা খুব পছন্দ হল, সে আরো জোরে হা হা করেহাসতে লাগল । মিশকা তাদের দুজনের দিকে তাকিয়ে রইল তারপর সেও,খিল খিল করে হাসতে লাগল। দুইদিন পর বিকেল বেলা তিষা স্কুলে তার আম্মুর জন্যে অপেক্ষা করছেতখন তার টেলিফোন বেজে উঠল, তার আম্মুই ফোন করেছেন | তিষা ফোনধরল, “হ্যালো আম্মু । তুমি কোথায়?” “আর বলিস না । সেফওয়ে থেকে বাজার করে গাড়ীতে উঠেছি, দেখিগাড়ী কেমন যেন ঘসটে ঘসটে যাচ্ছে আর থপ থপ শব্দ!” তিষা অবাক হয়ে বলল, “থপ থপ শব্দ?” নাই । চাকা পাংচার |” “এখন?” “গাড়ী পার্কিং লটে রেখে তোর আব্বুকে ফোন করেছি!” তিষা হতাশ ভাবে মাথা নাড়ল, বলল, “এই দেশের ক্লাশ ফাইভেরবাচ্চাও গাড়ীর চাকা পালটাতে পারে, আর তুমি এখনো মনে হয় জান নাতোমার গাগির চাকা কয়টা। আম্মু বললেন, “ঢং করবি না । আমি মরি নিজের যন্ত্রণায় আর ইনিএসেছেন জ্ঞান দিতে।” “তুমি যদি চাকা বদলানো শিখে নিতে তাহলে আর নিজের যন্ত্রণায় মরতে হত না । যাই হোক আমি কী করব? তোমার জন্যে অপেক্ষা করবনাকী বাসায় চলে যাব?” “আমার মনে হয় দেরী হবে । তোর আব্বু সেই বেসমন্ট থেকেআসবে, এসে আমার উপর একটু মেজাজ করবে তারপর চাকা বদলাবেতারপর আবার মেজাজ করবে তারপর পাংচার চাকা ঠিক করতে দিবে-মনে হয় কয়েকঘন্টার ধাক্কা | তুই কোনোভাবে চলে যা-” “ঠিক আছে আম্মু ।” “তুই কীভাবে যাবি?” “বাসে চলে যাব না হলে কেউ নামিয়ে দেবে। জনের কতো বড় গাড়ীদেখ নাই?” “ঠিক আছে ।” তিষা জনকে খুঁজে বের করে বলল, “জন | তুমি যদি আমাকে দশডলার দাও তাহলে তোমাকে আমি একটা খুবই স্পেশাল কাজ করার সুযোগদিব ।” “কী স্পেশাল কাজ?” বাসায় নামিয়ে দেওয়ার একটা সুযোগ দেব ।” জন হা হা করে হেসে কুর্নিস করার ভঙ্গী করে মাথা নিচু করে বলল, “প্রিন্সেস তিষা! আপনাকে বাসায় নামিয়ে দেবার জন্যে আমি দশ ডলারকেন দশ হাজার ডলার দিতে প্রস্তুত |” তিষা বলল, “আজকে স্পেশাল সেল, তাই তোমার জন্যে ফী! চল ।” একটু পরেই দেখা গেল জনের বিশাল গাড়ীতে জনের পাশে বসেতিষা তার বাসায় রওনা দিয়েছে । জন কয়েক মিনিট গাড়ী চালিয়েই তার ভ্রুকুঁচকে একটা গালি সূচক শব্দ(f**) উচ্চারণ করল | তিষা বলল, “কী হয়েছে?” জন কানে শুনতে পায় না, মুখের দিকে তাকিয়ে ঠোটের ভঙ্গী দেখেকথা বুঝতে পারে তাই সে তিষার প্রশ্নের কোনো উত্তর দিল না। জন গাড়ীরগতি হঠাৎ করে বাড়িয়ে দিয়ে আবার হঠাৎ করে কমিয়ে এনে কিছু একটাপরীক্ষা করল । তিষা জনের কাধ স্পর্শ করতেই সে ঘুরে তিষার দিকেতাকাল । তিষা জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে?” জন স্টিয়ারিং ধরে রেখেছে বলে সাইন ল্যাংগুয়েজে না বলে তারনিজস্ব অস্পষ্ট উচ্চারণে বলল, “কিছু একটা গোলমাল লাগছে । গাড়ীটা ঠিকব্যবহার করছে না।” আর ভুল ব্যবহার করবে কেমন করে?” জন বলল, “মানুষকে কেউ বিশ্বাস করে না। গাড়ীকে করতে হয় ।” জন দক্ষ হাতে গাড়ীটা চালিয়ে নিতে থাকে । তাদের স্কুলটা ছোটখাটোএকটা উপত্যকার মাঝে, শহরে যেতে হলে আকাবাকা একটা রাস্তা দিয়েপাহাড়ী একটা এলাকায় উঠতে হয় | সেখান থেকে ঢালু বেয়ে নিচে নেমেএকটা খাড়া পাথরের ঢালের পাশে দিয়ে যেতে হয় । জায়গাটা একটুবিপদজনক তবে জনের জন্যে এটি কোনো সমস্যা নয়। এই পথে সেএতোবার গাড়ী চালিয়েছে যে সে আক্ষরিক অর্থেই চোখ বন্ধ করে এখানেগাড়ী চালিয়ে যেতে পারে | পাহাড়ের উপর থেকে নিচে নামার সময় হঠাৎ জন চিৎকার করেএকটা গালি দিল, গলার স্বরে কিছু একটা ছিল, তিষা চমকে উঠে বলল, “কীহয়েছে?” তিষা আতংকিত হয়ে দেখে জন বারবার ব্রেক প্যাডেলে চাপ দিচ্ছেআর প্রতিবার প্যাডেল একেবারে নিচে নেমে যাচ্ছে কিন্তু গাড়ী থামছে না,ব্রেক একেবারেই কাজ করছে না । পাহাড়ী ঢালু বেয়ে নামতে নামতে গাড়ীর বেগ বেড়ে যাচ্ছে জননিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না । তার মাঝে হঠাৎ ইঞ্জিনের শব্দ বেড়ে গেল- শুধুযে ব্রেক কাজ করছে না, গাড়ীর ইঞ্জিন দ্বিগুণ শক্তিতে কাজ করছে । গাড়ী সোজা ছুটে যাচ্ছে, কয়েক সেকেন্ডের মাঝে খাড়া ঢালটায় এসে রাস্তারপাশের হালকা রেলিংয়ে ধাক্কা খেয়ে কয়েকশ ফুট নিচে পাথরের উপরছিটকে পড়বে। পৃথিবীর কোনো শক্তি এখন তাদের থামাতে পারবে না। জন হঠাৎ আশ্চর্য রকম শান্ত হয়ে গেল । স্টিয়ারিং হুইলটা শক্ত করেতার বিচিত্র যান্ত্রিক উচ্চারণে বলল, “তিষা |” “হ্যা।“ “হ্যান্ড ব্রেকটা দুই হাত দিয়ে ধর ।” তিষা কাপা হাতে হ্যান্ড ব্রেকটা দুই হাতে ধরল । জন শান্ত গলায় বলল, “যখন আমি বলব তখন সমস্ত শক্তি দিয়েব্রেকটা টানবে।” “ঠিক আছে ।” “যদি গাড়ী থামাতে না পারি দুজনেই মরে যাব ।” তিষা কোনো কথা বলল না । জন বলল, “আমি দুগখিত তিষা । আমিখুব দুঃখিত । এটা হওয়ার কথা ছিল না।” তিষা কোনো কথা না বলে সমস্ত শক্তি দিয়ে হ্যান্ড ব্রেকটা ধরে রাখল,জন যখন বলবে সে টেনে ধরবে । খাড়া ঢালটাতে নেমে রেলিংটাতে প্রচণ্ড বেগে আঘাত করার পূর্বমুহূর্তে জন সমস্ত শক্তি দিয়ে বিদ্যুৎ গতিতে স্টিয়ারিং হুইল পুরোটা ঘুরিয়েদিয়ে চিৎকার করে বলল, “এখন |” গাড়ীটা ঘুরছে, কোন দিকে ঘুরছে সে জানে না, বিকট ঘর্ষণের শব্দহচ্ছে তার সাথে টায়ার পোড়া গন্ধ, ধোয়ায় গাড়ী ভরে গেল । সিট বেল্টতার বুকের উপর পাথরের মতো চেপে বসেছে, তার মনে হল তবু বুঝি সেছিটকে বের হয়ে যাবে, সে সবকিছু ভুলে হ্যান্ড ব্রেকটা শরীরের সমস্ত শক্তিদিয়ে টেনে ধরল । তারপর কী হল সে জানে না । গাড়ীটা কয় পাক ঘুরেছে সেটাও জানেনা, কোথায় ধাক্কা খেয়েছে তাও জানে না, কিন্তু হঠাৎ করে টের পেল গাড়ীটাথেমে গেছে । জন তার বিচিত্র উচ্চারণে জিজ্ঞেস করল, “তুমি ঠিক আছ?” তিষা বলল, “মনে হয় ।” “তাহলে নেমে যাও |” তিষা পোড়া একটা গন্ধ টের পেলো কোথা থেকে জানি ধুয়া বেরহচ্ছে । হাত দিয়ে দরজার হ্যান্ডেলটা টান দিয়ে সে দরজা খুলে বের হয়েএল । কপালের কাছে হাত দিতেই ভিজে চটচটে একটা অনুভূতি হল । হাতচোখের সামনে এনে দেখে রক্ত, কপালের কাছে কোথাও কেটে গেছে । গাড়ীর অন্য পাশ থেকে জন নেমে আসে, তার নাক থেকে রক্ত বেরহচ্ছে । সে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে তিষার কাছে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে । তারপর সাইন ল্যাংগয়েজ দিয়ে বলল, “আমরা বেচে গেছি ।” তিষা ফিস ফিস করে বলল, “থ্যাংকু জন । শুধু মাত্র তোমার জন্যেবেঁচে গেছি ।” রাস্তার পাশে তখন বেশ কয়েকটা গাড়ী এসে থেমেছে, সেখানথেকে লোকজন নেমে তাদের দিকে ছুটে আসতে থাকে। এতক্ষণ তারা দুইপায়ের উপর দীড়িয়েছিল হঠাৎ করে বিচিত্র এক ধরনের ক্লান্তি এসে তাদেরউপর ভর করে । প্রথমে তিষা তারপর জন রাস্তার পাশে এসে বসে পড়ল। তিষা জনের ঘাড়ে মাথা রেখে ফিস ফিস করে বলল, “কী হয়েছিল জন?” জন বিড়বিড় করে বলল, "কেউ একজন আমাদেরকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল!” তিষা কথাটা শুনতে পেল না, তাই জিজ্ঞেস করল, “কী বলছ?” জন তিষার মুখের দিকে তাকালো, বয়সের তুনায় বেমানান একটা নির্দোষ সারল্য, তার হঠাৎ করে তার জন্যে এক ধরণেরবিচিত্র মায়া হল। বলল, “ব্রেক ফেল করেছিল।” “কেন?” “জানি না তিষা । আমি জানি না।” ১১. লিডিয়া স্থির দৃষ্টিতে তার সামনে বসে থাকা মধ্যবয়স্ক মানুষটির দিকেতাকিয়ে রইল | তারপর একটু ঝুঁকে পড়ে বলল, “তুমি এই সহজ কাজটাকরতে পারলে না?” “আমি আমার কাজ একেবারে নিখুঁত ভাবে করেছি । মেয়ের মায়েরগাড়ীর চাকা পাংচার করিয়ে গ্রোসারী স্টোরের পার্কিং লটে আটকে দিয়েছি।জন নামের শ্রবণ প্রতিবন্ধী ছেলের গাড়ীতে ইলেকট্রনিক ডিভাইস লাগিয়েছি,মেয়েটা ঠিক ঠিক জনের গাড়ীতে উঠেছে । জন যখন পাহাড়ের ঢাল বেয়েনামছে তখন তার ব্রেক ওয়েল ফেলে দিয়ে ব্রেক অকেজো করেছি, কাজটা বাড়িয়ে দিয়েছি এর চাইতে নিখুঁত পরিকল্পনা করা আর সেই পরিকল্পনাকাজে লাগানো এই পৃথিবীর কারো পক্ষে সম্ভব না। এই গাড়ীটারপ্যাসেঞ্জারদের কোনো ভাবে বেচে আসা সম্ভব না।” লিডিয়া বলল, “কিন্তু গাড়ীটা খাদে পড়ে যায়নি । গাড়ীটা একেবারেভালো আছে । ছেলে মেয়েগুলোকে হাসপাতালে ভর্তি পর্যন্ত করেনি, ছেড়েদিয়েছে ।” “আমি কেমন করে জানব ষোল বছরের একটা ছেলে এরকমস্টান্টম্যানের মতো গাড়ী চালায়? যে ভাবে সে গাড়ীটাকে ঘুরিয়ে থামিয়েদিয়েছে সেই পদ্ধতিটা সিক্রেট এজেন্টের লোকেরা তাদের কমান্ডোদের শেখায় । গাড়ীর মোমেন্টাম আর এংগুলার মোমেন্টাম ব্যবহার করে গাড়ীকেথামানো, উল্টোদিকে ঘুরিয়ে দিলে যে মোমেন্টাম পরিবর্তন হয় সেটা দিয়ে-” “আমি তোমার থেকে পদার্থ বিজ্ঞান শিখতে আসিনি।” মধ্যবয়স্ক মানুষটি বলল, “আমার কাছে পুরোটার ভিডিও আছে।আমি পিছনে পিছনে ছিলাম, তুমি ভিডিওটা একবার দেখো তাহলে বুঝবেএই ছেলে কীভাবে গাড়ী চালায় । মাত্র ষোল বছর বয়স, কানে শুনতে পায়না। কিন্তু গাড়ী চালানো দেখলে মনে হয় ইন্ডি ফাইভ হান্ড্রেডের ড্রাইভার।” লিভিয়া বিরক্ত হয়ে বলল, “আমার ভিডিও দেখে মুগ্ধ হওয়ার কোনোপ্রয়োজন নেই । আমার প্রয়োজন কাজ উদ্ধার করা । পনেরা ষোল বছরেরএকটা মেয়েকে শেষ করতে পার না-” “একটা মানুষকে খরচা করতে আমার তিরিশ সেকেন্ড সময়ও লাগেনা। কিন্তু তুমি বলেছ কাজটা ক্লিন হতে হবে । কেউ যেন বুঝতে না পারেএটা মার্ডার, যেন মনে হয় এটা একসিডেন্ট । সেজন্যেই তো এতো যন্ত্রণা ।” “কিন্তু এখন কী লাভ হল? সবাই জেনে গেল তাদেরকে তুমি মার্ডারকরার চেষ্টা করেছ ।” মধ্যবয়স্ক মানুষটা মাথা নাড়ল, বলল, “না । কেউ জানে নাই।খুলে ফুয়েল ইনজেকশান থেকে আমার ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস খুলে নিয়েছি । ছেলেটা বা মেয়েটা কিছু জানে না। পুলিশকে বলেছে গাড়ীর ব্রেক ওয়েলপড়ে ব্রেক ফেল করেছে । পুলিশ উল্টো ছেলেটাকে দোষ দিচ্ছে, তারড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করে দিতে পারে | কাজেই তুমি নিশ্চিন্ত থাক এইসুপার ড্রাইভার আমার প্রজেক্ট ফেল করিয়ে দিয়েছে কিন্তু এখনো কেউ কিছুজানে না।” লিডিয়া মাথা নেড়ে বলল, “আমি যদি এ ছেলেটা কিংবা মেয়েটাহতাম তাহলে বুঝে যেতাম।” “কিন্তু এ ছেলে আর মেয়ে তুমি না। তুমি হচ্ছ একটা রাক্ষুসি ওরারাক্ষুসি না । ওরা সাধারণ ছেলে মেয়ে । ওরা তোমার যতো চিন্তা করে না। যদি করতো তাহলে পুলিশকে বলত । ওরা বলে নাই, আমি জানি । পুলিশকেআমরা কক্ট্রোল করি।” লিডিয়া তার চেয়ারে হেলান দিয়ে বলল, “ঠিক আছে। প্রথম বারতোমার প্রজেক্ট ফেল করেছে, দ্বিতীয়বার ফেল করতে পারবে না।” “করবে না । তুমি নিশ্চিত থাক।” “কখন করবে?” “একটু সময় দিতে হবে । যদি এই মুহূর্তে আবার চেষ্টা করি তাহলেসবার সন্দেহ হবে।” “কিন্ত আমার হাতে সময় নেই । এর মাঝে এক সপ্তাহ শেষ হয়েগেছে ।” “কম পক্ষে দুই সপ্তাহ সময় দিয়ে চেষ্টা করতে হবে, তা না হলেসন্দেহ করবে ।” “এক সপ্তাহ।” মধ্যবয়স্ক মানুষটা খোচা খোচা দাড়িতে ঢাকা তার গালটা চুলকেবলল, “ঠিক আছে এক সপ্তাহ। তার মানে পরিকল্পনাটা আরো নিখুত করতেহবে। কোনো ফাক থাকতে পারবে না । সবচেয়ে ভাল হয় বুলেট দিয়েএকেবারে মাথায় গুলী করলে, কোনো ঝুঁকি থাকে না । স্কুলের একটা বাচ্চামেয়ের মাথায় বুলেট দিয়ে গুলী করতে পারে শুধু মাথা খারাপ মানুষ। এইদেশে সেই রকম মানুষের অভাব নাই । দুইদিন পর পর কোনো না কোনোস্কুলে কলেজে ইউনিভার্সিটিতে মাথা খারাপ মানুষ এসে অটোমেটিকরাইফেল দিয়ে গুলী করে বাচ্চাদের মারছে । এরকম একজন নিয়ে আসতে হবে । তবে মাথা খারাপদের কন্ট্রোল করা একটু কঠিন-” দরকার নেই । কাজ হলেই আমি খুশী ।” মধ্যবয়স্ক মানুষটা দাত বের করে হেসে বলল, “আমি সেটা জানি।মেয়েটা মার্ডার হলেই যে তুমি খুশী হবে রাক্ষুসী লিডিয়া আমি সেটা জানি ।” লিডিয়া হিস হিস করে বলল, “তুমি মনে করো না আমাকে রাক্ষুসীডেকে তুমি আমাকে অপমান করতে পারবে ।” মধ্যবয়স্ক মানুষটি হঠাৎ করে গম্ভীর হয়ে গেল, “আমি তোমাকেঅপমান করার চেষ্টা করছি না, আমি সত্যি কথাটাই বলছি ।” লিডিয়া শীতল দৃষ্টিতে মধ্যবয়স্ক মানুষটির দিকে তাকিয়ে রইল,কোনো উত্তর দিল না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ এনিম্যান-(১০ & ১১)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now