বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এনিম্যান -(০৭)

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X লিডিয়া টেবিলে পা তুলে দিয়ে তার অফিসের বিশাল কাচের জানালা দিয়েবাইরে তাকিয়েছিল । রাস্তা থেকে ডাউনটাউনকে খুব ব্যস্ত একটা শহর মনেহয়, তেতাল্লিশ তালা থেকে সেই ব্যস্ততাটুকু বোঝা যায় না । মনে হয় নিচেবুঝি এক ধরণের শান্ত নির্ঝঞ্ঝাট পরিবেশ। লিডিয়া রাস্তার একটি মোড়থেকে একটা বড় দোতলা বাসকে চোখ দিয়ে অনুসরণ করছিল ঠিক তখনঘরের মাঝে পায়ের শব্দ শুনে মাথা ঘুরিয়ে তাকাল । রিকার্ডো দরজা খুলেঅফিসে ঢুকেছে, লিডিয়ার দিকে তাকিয়ে হাসি মুখে বলল, “কেমন আছলিডিয়া?” “ভাল |” রিকার্ডো একটা চেয়ারে বসে চারদিকে তাকিয়ে বলল, “তুমি এতোবড় মাল্টি বিলিওন ডলার প্রজেক্টের ম্যানেজার সেই হিসেবে তোমারঅফিসটা একেবারে ফাকা | এখানে কিছু নেই, দেয়ালে অন্ততপক্ষে একটাএন্ড্রু ওয়াইথ বা জন স্টুয়ার্ট থাকা উচিৎ ছিল” “আমি পেইনটিং দুই চোখে দেখতে পারি না ।” “তোমার অফিসে কাগজপত্র, ফাইল, কম্পিউটার কিছু নেই !” “না । কখনো থাকে না । আমার সবকিছু মাথার মাঝে থাকে ।” রিকার্ডো মুখে জোর করে একটা হাসি ধরে রেখে বলল, “বছর তিনেকআগে তোমাকে যখন আমি রিক্রুট করেছিলাম তখন আমি চিস্তাও করিনিএতো দ্রুত তুমি এই কোম্পানীর এতো বড় একটা এসেট হয়ে উঠবে ।” লিডিয়া কোনো কথা বলল না । রিকার্ডো একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল,“তুমি যখন এনিম্যানের ওপর প্রজেক্টটা দিয়েছিলে তখন আমি ভেবেছিলামএটা স্রেফ পাগলামো। বস কিন্তু ঠিকই এর গুরুত্ব ধরতে পেরেছিলেন ।এখন সারা পৃথিবী এনিম্যান নিয়ে পাগল।” লিডিয়া এবারেও কোনো কথা বলল না। রিকার্ডো অন্যমনষ্কভাবে আঙুল দিয়ে টেবিলে টোকা দিতে দিতে বলল, “বুঝেছ লিডিয়া আমি যখনচিন্তা করি যে আমি তোমাকে রিক্রুট করেছিলাম তখন আমার এক ধরণের অহংকার হয়। বলতে পার তুমি হচ্ছ আমার জীবনের সবচেয়ে বড়অবদান |” লিডিয়া বলল, “তুমি আমার কাছে কেন এসেছ বল।” “আমি এনিম্যানের পরের প্রডাকশান নিয়ে কথা বলতে এসেছি । তুমিতো জান আমাদের প্রথম প্রডাকশন-_-” লিডিয়া হাত তুলে তাকে থামাল | বলল, “দাড়াও |” রিকার্ডো কথা থামিয়ে লিডিয়ার দিকে তাকাল । লিডিয়া বলল, “আমিযখন প্রথমবার বসের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম তখন তুমি আমাকেকিছু উপদেশ দিয়েছিলে, মনে আছে?” রিকার্ডো একটু অবাক হয়ে বলল, “হ্যা ৷ কেন?” “তুমি বলেছিলে বস অনুমতি না দিলে বসবে না, নাম ধরে ডাকারঅনুমতি দিলেও নাম ধরে ডাকবে না, সোজাসুজি চোখের দিকে তাকাবে না,কিছু খেতে দিলে জোর করে হলেও খাবে । মনে আছে?” “হ্যা মনে আছে ।” “তুমি কেন সেই উপদেশ দিয়েছিলে বলতে পারবে?” “তার কারণ তুমি তখন ছিলে একেবারে নুতন একজন গবেষক আরবস কতো ওপরে ! “এখন?” “এখন তুমিও অনেক উপরে উঠেছ । অনেক উপরে-” “আর তুমি?” “আমি?” রিকার্ডো কেমন যেন ভ্যাবাচেকা খেয়ে লিডিয়ার দিকেতাকিয়ে রইল । লিডিয়া বলল, “আর তুমি এখনও অনেক নিচে আছ । অনেক নিচেযারা থাকে তাদের অনেক উপরে যারা থাকে তাদের সাথে যেরকম ব্যবহারকরার কথা, আমি চাই তুমি সেভাবে আমার সাথে ব্যবহার কর |” “যদি নিয়মটা পছন্দ না হয় তুমি এপসিলন ছেড়ে চলে যেতে পার ।যারা এপসিলন ছেড়ে চলে গেছে তাদের ছবি করিডোরের শেষে টানানোআছে । তোমারটাও টানিয়ে দেব।” রিকার্ভোর মুখ কেমন যেন রক্তশুন্য হয়ে ওঠে | লিডিয়া বলল, “যাও।তুমি আবার শুরু কর । অফিসের বাইরে যাও। ঢোকার আগে দরজায় শব্দকরে অনুমতি নিও।” “লিডিয়া_” “শুধুমাত্র আমি অনুমতি দিলে--” রিকার্ডো উঠে দাড়াল | সে কিছুক্ষণ লিডিয়ার মুখের দিকে তাকিয়েরইল । খুব ধীরে ধীরে তার মুখে এক ধরনের হাসি ফুটে ওঠে । হাসিটা মুখেধরে রেখে সে অফিস থেকে বের হয়ে যায় । প্রায় সাথে সাথেই দরজায় শব্দ করে রিকার্ডো তারপর মাথাটা ঢুকিয়ে বলল, "আসতে পারি?" লিডিয়া জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়েছিল, মাথা ঘুরিয়ে রিকার্ডোরদিকে তাকাল, তারপর বলল, “এসো ।” লিডিয়া তার মুখের দিকে তাকাল কিন্তু রিকার্ডো লিডিয়ার চোখের দৃষ্টিএড়িয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে রইল | লিডিয়া তার ড্রয়ার খুলে একটাললিপপ বের করে, তার ওপরের প্লাস্টিকটা সময় নিয়ে খুলে ফেলে তারপরছোট বাচ্চাদের মত সেটা চেটে চেটে খেতে শুরু করে । রিকার্ডো কোনোকথা না বলে নিঃশব্দে দাড়িয়ে রইল । লিডিয়া বলল, “তুমি কিছু বলবে?” “জী ম্যাডাম ।” “বল” “এনিম্যানের প্রথম শিপমেন্ট শেষ হয়ে যাবে । দ্বিতীয় শিপমেন্ট পথেআছে । তৃতীয় শিপমেন্ট তৈরী হচ্ছে । আমরা যেরকম অনুমান করেছিলামএনিম্যানের চাহিদা তার থেকে অনেক বেশী ।” “আমি জানি |” রিকার্ডো বলল, “জী ম্যাডাম । আপনি সেটা অনেকবার বলেছেন।আমাদের মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট খুব সতর্কভাবে পরিকল্পনা করায় আমরা এই ক্রাইসিসে পড়েছি ।” লিডিয়া তার ললিপপটা আরেকবার চেটে বলল, “এটা মোটেওক্রাইসিস না। আমাদের হাতে যদি এক শিপমেন্ট এনিম্যান থাকত যেটামার্কেটিং করা যাচ্ছে না সেটা হতো ক্রাইসিস ।” রিকার্ডো বলল, “জি ম্যাডাম।” “এখন মার্কেটিং ডিপাটর্মেন্ট প্রোডাকশান কতো বাড়াতে চাচ্ছে?” “কম পক্ষে দশ গুণ | এনিম্যানের দামও বাড়িয়ে দেবে।” “চমৎকার |” “কিন্তু-” “কিন্তু কী?” রিকার্ডো বলল, “কীভাবে প্রোডাকশন এতো বাড়াব আমি বুঝতেপারছি না।” লিডিয়ার মুখ হঠাৎ কঠিন হয়ে উঠল, সে হিংস্র গলায় বলল,“রিকার্ডো, তোমার সম্ভবত বয়স হয়ে গেছে । তোমার মস্তিষ্ক সম্ভবত আগেরমতো ধারালো নেই । তুমি খুব সহজ বিষয় বুঝতে পার না ।” রিকার্ডো ফ্যাকাসে মুখে বলল, “আমি দুঃখিত।” লিডিয়া মাথাটা একট্রু সামনে ঝুঁকিয়ে বলল, “আমরা কীভাবেএনিম্যান প্রডাকশান করি রিকার্ডো?” “ক্লোন করে ।” “গুড । এই প্রজেক্টের সবচেয়ে বড় ফান্ড ব্যয় করা হয়েছে এইঅসাধারণ ক্লোনটি তৈরি করতে । এনিম্যান ক্লোন করার জন্যে আমাদেরকোল্ড স্টোরেজে তিন মিলিওন জাইগট জমা করে রাখা আছে । যখন খুশী আমরা এই জাইগট থেকে এনিম্যান তৈরি করি ।” “জী ম্যাডাম।” “কীভাবে তৈরি করি?” “সেটি গোপনীয় ম্যাডাম । আমরা মিডিয়াকে একভাবে জানিয়েছিতাদেরকে বলেছি আমাদের বিশাল জাইগট ফার্ম আছে সেখানে হাজারহাজার বায়োসেল, সেই বায়োসেলে জাইগট বড় হচ্ছে । এই শতাব্দীরসবচেয়ে বড় আবিষ্কার । মায়ের গর্ভ ব্যবহার না করে স্তন্যপায়ী প্রাণীর জন্ম দেওয়া |” “আফ্রিকা এশিয়ার গরীব দেশের মহিলাদের গর্ভটাকে এনিম্যান জন্যদেয়ার জন্য ব্যবহার করি । আমাদের দেশের এন জিও সেই সব দেশে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার নামে তাদের গর্ভে এনিম্যান জাইগট ইমপ্লান্ট করে । বড় হলেবের করে নেয় ।” “তাহলে প্রডাকশান বাড়াতে হলে কী করতে হবে?” “এরকম মহিলার সংখ্যা বাড়াতে হবে ।” “চমৎকার । নুতন নুতন দেশ খুজে বের করতে হবে । দেশের সরকারযদি সহযোগিতা না করে সেই দেশে বিপ্লব করে সরকার ফেলে দিতেহবে? “জী ম্যাডাম |” “তাছাড়া আমাদের গবেষণা চলছে ।”সত্যিকারের বায়োসেল তৈরি করার গবেষণা?” লিডিয়া শব্দ করে হেসে উঠল, সারা জীবনে সে এতো কম হেসেছেযে সে ঠিক করে হাসতে শিখেনি এবং তার হাসি দেখে রিকার্ডো এক ধরনেরআতংক অনুভব করে। লিডিয়া হাসি থামিয়ে বলল, “তোমার কথা শুনেআমার খুব আশা ভঙ্গ হয়েছে রিকার্ডো | তুমি আমাকে খুব নিরাশ করেছ ।” “আমি খুব দুঃখিত ম্যাডাম ।” “তুমি আমাকে বল রিকার্ডো, একটা সত্যিকারের বায়োসেলের দামবেশী নাকী এশিয়া কিংবা আফ্রিকার একটা গরীব দেশের একটা দরিদ্রমেয়ের জীবনের দাম বেশী।” “অবশ্যি বায়োসেলের দাম বেশী ।” “এতো সস্তা দরিদ্র মহিলারা থাকতে আমরা কেন মূল্যবান বায়োসেলতৈরি করতে যাব?” রিকার্ডো ইতস্তত করে বলল, “তাহলে গবেষণাটা কীসের উপর হচ্ছেম্যাডাম?” “গবেষণাটা হচ্ছে একটা মহিলার গর্ভে মাত্র একটা এনিম্যান জাইগট ইমপ্লান্ট না করে এক সাথে পাচটা ইমপ্লান্ট করা যায় কী না তার ওপর।মায়ের শরীরের ওপর চাপ পড়তে তার জীবনী শক্তি কমে যাবে কিন্তু সেটাহয়তো খারাপ না।” রিকার্ডো মাথা নাড়ল, বলল, “জী ম্যাডাম । এই হতভাগ্য মহিলাদেরকষ্টের জীবন যত কমানো যায় ততই মঙ্গল |” লিডিয়া জিব বের করে তার হাতে ধরে রাখা ললিপপটা আরো একবারশেষ হয়েছে । আমি পাঁচটি করার জন্য চাপ দিচ্ছি ।” “জী ম্যাডাম।” “ঠিক আছে রিকার্ডো, তুমি তাহলে ফাইলগুলো আপলোড কর । আমিদেখি ।” “জী ম্যাডাম |” লিডিয়া হঠাৎ সুর পাল্টে বলল, “রিকার্ডো, তুমি কী ললিপপ খেতেপছন্দ কর? “জী ম্যাডাম ।” লিডিয়া তার হাতের ললিপপটা রিকার্ডোর দিকে এগিয়ে দেয়, নাও।এটা তোমার জন্যে |” রিকার্ডো হাত বাড়িয়ে ললিপপটা হাতে নেয় | লিডিয়া মুখে হাসি টেনেবলল, “খাও রিকার্ডো ।” রিকার্ডো লিডিয়ার টেবিলের সামনে দাড়িয়ে ললিপপটা চেটে চেটে খেতে থাকে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ এনিম্যান -(০৭)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now