বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পকেটে ফোনটা ভাইব্রেট হচ্ছে রাহাতের।রিহার
ফোন, রিসিভ করতেই কাঁদো কাঁদো গলা শোনা
যায় রিহার,‘হ্যালো দোস্ত, সিয়ামের কোন
খোঁজ পেলি?’
‘নারে, আমি দেখছি কিভাবে কি করা যায়!তুই একদম
চিন্তা করিস না, সব ঠিক হয়ে যাবে।’কি ভাবে জানি
কোন রকমে কথা গুলো মুখ দিয়ে বের হয়
রাহাতের।ও জানে সিয়ামকে আর কখনোই খুঁজে
পাওয়া যাবে না,কারণ ও নিজেই খুন করেছে
সিয়ামকে!
কিন্তু তা কি করে সম্ভব,সেদিনই তো আবার
বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দিয়ে এসেছে।ডাক্তার
তো বললই সব হ্যালুসিনেশন।
প্রচণ্ড জোরে চিমটি কাটে নিজের হাতে।
উহু,ব্যথা পাচ্ছে ও!
কোন রকমে বসার ঘরে ফিরে আসেও,পানি
দিয়ে এক সাথে দুইটা ঘুমের ঔষধ খেয়ে নিয়ে
বিছানায় পড়েই ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেল ও।
মাঝরাতে দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে উঠল
একবার,তারপর সারারাত বারান্দায় বসে বসে ধোঁয়া
ওড়াল।
কিছু করার নেই আসলে ওর!সব কেমন জানি
ওলট-পালট হয়ে গেছে।
***
পরের দিন সকালে পুরনো পেপারগুলো নিয়ে
বসল,খুঁজতে শুরু করল সিয়ামের ঘটনাটা নিয়ে কিছু
আছে কিনা।
ঘন্টাখানেক পর হতাশ হয়ে উঠতে হল ওকে,কিছুই
নেই।সব স্বাভাবিক!
তারপর কি মনে করে রিহাকে কল দিল ও।
‘কিরে ? কি মনে করে হঠাৎ?সেদিন যে বিয়ে
থেকে গেলি তারপর তো একটা ফোনও দিলি না
আর।’
রিহার গলায় স্পষ্ট ব্যাঙ্গ!কিন্তু শেষের কথাটা শুনে
অবাক হয়ে গেল রাহাত, রিহাকে বুঝতে না দিয়ে
বলল,‘এমনি,সিয়ামের কোন খোঁজ পেলি?’
‘খোঁজ পাব মানে?ওকে তো বিয়ের পর
একবারের জন্যও চোখের সামনে থেকে
সরতে দেইনি!তুই যে কি সব বলিস না!’
আবার অন্ধকার দেখতে শুরু করল রাহাত।আর কিছু না
বলেই কেটে দিল ফোনটা।
তারপর বেরিয়ে পড়ল ওর বন্ধু সাইকোলজিস্ট
ইশতিয়াক আহমেদের বাসার দিকে।এই সময়ে
ইশতিয়াককে চেম্বারে পাওয়া যাবে না,জানে ও।
***
‘তাহলে তোর থিওরিটা কি শুনি ?’ ডাক্তার আহমেদ
ভ্রু কুচকে রাহাতকে জিজ্ঞেস করল।
‘প্যারালাল ইউনিভার্স সম্পর্কে তোর ধারনা আছে?’
‘হ্যাঁ, সায়েন্স ফিকশনগুলোতে অহরহ ব্যবহার করা
হয় এই শব্দ।একই রকম পৃথিবীর অস্তিত্ব।কিন্তু
বিশ্বাস কর,ওগুলো বইয়েই ভাল লাগে,বাস্তবে
এর কোন এক্সিসটেন্সিই নেই।’
‘বিজ্ঞানীরা কি করে জানিস ? কিছু একটার কার্যকারিতা
পরীক্ষা করার জন্য কিংবা ফলাফল কি হয় দেখার
জন্য বিভিন্ন গিনিপিগের উপর একই পদার্থ বিভিন্ন
মাত্রায় প্রয়োগ করে থাকে।আমার মাঝে মাঝে
নিজেকে ওই ধরনের খাঁচায় বন্দি গিনিপিগের মত
লাগে। কেউ একজন উপর থেকে দেখছে,
একই রকম সাবজেক্টগুলো ভিন্ন ভিন্ন কাজে কি
ধরনের ফলাফলের মুখোমুখি হয়।যেমন ধর, তুই
এই ইউনিভার্সে ডাক্তার হলি, এর ফলে শেষ
পর্যন্ত কি হবে, কিংবা অন্য ইউনিভার্সে ডাক্তার
হতে পারলি না,এর ফলাফল কি হবে,এই ধরনের কিছু
একটা।’
এদিক-ওদিক মাথা নাড়ে ডাক্তার আহমেদ, বুঝতে
পারে বন্ধুটির মাথা আসলেই খারাপ হয়ে গেছে।
‘তুই আসলে কি বুঝাতে চাইছিস?’
‘আমি বুঝাতে চাইছি, ধর এমন হতে পারে না?যে
এই ইউনিভার্সে আমি সিয়ামকে খুন করলাম না,কিন্তু
অন্য ইউনিভার্সে ওকে খুন করে ফেললাম।এখন
দুইটা দুইভাবে,সব আলাদা আলাদা ভাবে চলার কথা,কিন্তু
এনিহাউ আমি দুইটা ইউনিভার্সেই লিঙ্কড হয়ে
গেলাম?’
‘আমি তোর কথার মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝছি না।আমার
মনে হয় তোর সিটিস্ক্যান করানো উচিত।’
হঠাৎ করে রেগে উঠল রাহাত।‘তোরা কেউ
আমাকে বিশ্বাস করতে চাইছিস না,কিন্তু আমার কথাই
হয়ত ঠিক।নয়ত এমন হবে কেন?তোর সাথে
হলে তুই বুঝতি!’বলতে বলতে আহমেদের ঘর
থেকে বেরিয়ে এল রাহাত।
***
পরের রাত।
এরই মাঝে আরো ৩/৪বার অন্য ইউনিভার্স
থেকে ঘুরে আসার অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে
ওর।এবং পার হয়ে গেছে সহ্যের সীমাও।
অনেক ভেবে একটা বুদ্ধি বের করল ও।
আত্মঘাতী বুদ্ধি!
পরের বার যখনই অন্য ইউনিভার্সে যাবে সাথে
সাথেই আত্মহত্যা করে ফেলবে ও,তাহলেই
বেঁচে যাবে এই যন্ত্রণা থেকে,আর রিহাও
সুখে থাকবে আজীবন।
কিন্তু ও জানে না,কখন কিংবা কিভাবে যেতে হয়
সেই অন্য জগতটায়।তাই অপেক্ষা করছে কখন
আবার সেই জগতে চলে যাবে তার।
মাঝরাতের দিকে ও ফোন দিল রিহাকে!
‘সিয়ামের কোন খোঁজ পেয়েছিস?’মরিহা ফোন
রিসিভ করতেই জিজ্ঞেস করল রাহাত।
‘না রে, পুলিশও কিছু বলতে পারছে না এখনও।’
কাঁদো কাঁদো গলায় বলে রিহা।
যা বুঝার বুঝে নেয় রাহাত।
‘ভাল থাকিস,দোস্ত।’ রিহা কিছু বলার আগে ফোনটা
কেটে দেয় রাহাত।
তারপর একটা সিগারেট ধরিয়ে ধীরে সুস্থে টান
দিয়ে কিভাবে কি করবে ভাবতে লাগল ও!
***
পেপারটা হাতে নিতেই খবরটা চোখে পড়ল
ডাক্তার আহমেদের।
“যুবকের রহস্যজনক আত্মহত্যা”
পাশে রাহাতের একটা ছবি দেয়া!
কি মনে করে ল্যাপটপটা অন করে মেইলে
খুলল,আর শুরুতেই রাহাতের মেইলটা চোখে
পড়ল ওর।পড়তে শুরু করল আগ্রহ নিয়ে।
“অবশেষে একটা সমাধান বের করলাম, পরেরবার
আমি ওই ইউনিভার্সে গেলেই সুইসাইড করব!এতে
অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।যদি আমার ধারনা
ভুল হয় আমি মারা যাব,নয়ত এই ইউনিভার্সে কোন
যন্ত্রণা ছাড়াই বেচে থাকব।তোকে জানিয়ে
গেলাম।ভাল থাকিস।”
মেইলটা পড়ে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল তার
নিজের অজান্তেই।
***
‘আরে, তুমি আমাদের স্কুলে পড়তে না ?’রিহা
পরিচিত মুখ দেখে অবাক হয়।
‘হ্যাঁ, কিন্তু আপনাকে তো ঠিক চিনলাম না?’ডাক্তার
আহমেদও অবাক হয়েছে।
‘আমি রিহা, আর ও আমার হাজবেন্ড সিয়াম।রাহাতের
টেবিলে তোমার প্রেসক্রিপশন দেখলাম, তাই
ভাবলাম তুমি হয়ত কিছু বলতে পারবে।’
‘ওহ,বুঝতে পেরেছি।’
ডাক্তার রিহাকে সব কিছু খুলে বলে, শেষে
নিজের মতামতটাও জানায়।
‘আসলে ও ভেবেছিল ও অন্য একটা ইউনিভার্সে
চলে যেত, কিন্তু আমার মনে হয় ও অবচেতন
মনে ভাবত যে অন্য একটা ইউনিভার্সে চলে
গেছে আর এই সব ঘটছে।বেচারা,আসলে খুব
বেশী মেন্টাল প্রেশারে ছিল ও।চাপ সহ্য
করতে পারেনি।
আরো কিছুক্ষণ আলাপ করার পর রিহারা বের হয়ে
আসার সময় ডাক্তার আহমেদ বলল,‘যদি সম্ভব হয়
থানায় গিয়ে একটু খোঁজ নিও,ওর পকেটে যা যা
পাওয়া গেছে তা ওখানেই আছে।একটু কষ্ট করে
ওগুলো ওর গ্রামের বাড়িতে ওর বাবা-মায়ের হাতে
তুলে দিও।
রিহা কিছু বলল না, শুধু মাথা নাড়ল।ওর মুখের দিকে
চাওয়া যাচ্ছে না।রাহাতের মৃত্যুর জন্য নিজেকেই
দায়ী মনে হচ্ছে ওর।
***
দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসারকে বলতেই একটা প্যাকেট
বের করে দিল রিহার হাতে। রাহাতের বডিটা এখনও
মর্গে।সিয়ামকে সাথে নিয়ে শেষ বারের মত
রাহাতের ফ্ল্যাটে এল রিহা।
টেবিলের উপর প্যাকেটটা রাখল,তারপর কি মনে
হতেই প্যাকেটের ভেতর হাত ঢোকাল রিহা।হাতে
চামড়ার কি যেন লাগল,বের করে দেখল ওটা
রাহাতের মানিব্যাগ।ভেতরে রিহার একটা ছবি,স্কুলের
কোন অনুষ্ঠানে তোলা।
অকারণেই চোখের কোনটা ভিজে এল রিহার,মুখ
ফিরিয়ে চাইল সিয়ামের দিকে।
সিয়ামের দৃষ্টিতে সহানুভূতি ।
চোখের কোনা মুছে আবার প্যাকেটের
ভেতর হাত ঢোকাল রিহা,এবার ধাতব কিছুর স্পর্শ
পেল ও।
বের করে আনতেই অবাক হয়ে গেলও।ওটা
একটা আংটি।একদম সিয়ামের হাতের
এঙ্গেইজমেন্ট রিঙের মত!
চোখ তুলে পাশে চাইল রিহা,কিন্তু যেখানে সিয়াম
দাঁড়িয়ে ছিল সেখানে কেউ নেই।
রুমের মধ্যে ও একাই!
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now