বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এঙ্গেইজমেন্ট রিং-০২

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X পকেট থেকে আংটিটা বের করে টেবিলের উপর রাখল রাহাত! লোহার বালতিটার মধ্যে পরনের কাপড়গুলো রাখল ও,তারপর হাতের গ্লাভসগুলো।তারপর কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরালো,অপেক্ষা করল একদম ছাই না হওয়া পর্যন্ত । কাজটা শেষ করে কমোডে ছাই গুলো ফেলে দিল । সাবান দিয়ে ঘষে ঘষে শরীর থেকে রক্ত ধুয়ে ব্যাগ থেকে আগের কাপড় (যে গুলো পড়ে আদনানের বাসায় গিয়েছিল) পড়ে নিল, আর ব্যাগে নতুন এক জোড়া কাপড় ঢুকিয়ে বেরিয়ে আসল ওর ফ্ল্যাট থেকে। তারপর চুপিচুপি আদনানের বাসায় রেলিং টপকে এসে বিছানায় শুয়ে রইল । *** কিছু একটা মনে পড়তেই ধড়মড় করে উঠে বসল ও।ঘড়িতে প্রায় ৯টা বাজে।একটা বিয়ের দাওয়াত আছে, যেতেই হবে।ওর সবচেয়ে আপন বন্ধুটার বিয়ে।সেই ছোট থেকেই একসাথে বড় হয়েছে, খেলা-ধুলা করেছে,পড়া-লেখা করেছে।আজ সেই মেয়েটারই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। ওর থাকাটা বড্ড প্রয়োজন! *** ভেবেছিল পরিবেশটা থমথমে থাকবে,কিন্তু গেইট পার হতেই ওর ভুল ধারনা ভাঙল।সেই বিয়ে বাড়ি সুলভ হৈচৈ, সেই বাচ্চাদের হুড়োহুড়ি সবই আছে। রিহাকে দেখে একটা হার্টবিট মিস করল রাহাত, বিয়ের সাজে মনে হচ্ছে মেয়েটা সোজা স্বর্গের সিঁড়ি ধরে নেমে আসছে। এসেই ওকে জড়িয়ে ধরল কোনরকম দ্বিধা ছাড়াই,অবাক হল রাহাত।ওর হার্টবিট এত বেড়ে গেলে যে ওর ভয় হল রিহা শুনে ফেলবে! কিন্তু পরের ঘটনা ওকে এতটাই হতভম্ব করে দিল যে মনে হল কেউ ওর নাকে-মুখে ঘুষি দিয়েছে । রিহার পিছে পিছে এগিয়ে আসছে সিয়াম! ‘ভাইয়া,আপনি না থাকলে কি যে হত, আজ আমরা দু’জন একসাথে হয়েছি শুধু আপনার কারণেই।আপনি আসায় ভীষন ভাল লাগছে,ভীষণ খুশি হয়েছি, ভাইয়া!’ হড়বড় করে বলে গেল সিয়াম । রাহাত শুধু মাথা নেড়ে গেল, পুরো পৃথিবী ঘোলাটে লাগছে ওর। অন্ধকার আর ঘোর লাগা । *** ‘তুই শিউর, রাহাত?’ ‘হু?’ হঠাৎ যেন ঘুম থেকে জেগে উঠল রাহাত।ও বসে আছে নামকরা সাইকোলজিস্ট ডাক্তার আহমেদ এর চেম্বারে।ওর স্কুল জীবনের খুব কাছের বন্ধু ছিল।সহ্য করতে না পেরে আহমেদের কাছে আসতে বাধ্য হয়েছে রাহাত। ‘হ্যাঁ দোস্ত, আমি ড্যাম শিউর।’ ‘তুই আমার কাছে কিছু লুকাচ্ছিস না তো?’ ‘না রে, লুকোনোর ইচ্ছে থাকলে কি তোর কাছে আসতাম?’ ‘তাও ঠিক!আচ্ছা, তুই ছেলেটাকে কেন খুন করেছিলি।আই মিন, খুন করার চিন্তা করেছিলি কেন?’ ‘আমি ওদের দুজনের রিলেশনের ব্যাপারটা আগে থেকেই জানতাম।তাই জানতাম রিহা কখনও আমার হবে না।তারপর যখন ওর বাসা থেকে ওর বিয়ে ঠিক করল,তখনই আমার মাথায় বুদ্ধিটা আসল।আমি ওদের রিলেশনের কথা বলে ওর বিয়েটা আটকে দিলাম। ওদের দু’জনের চোখেই হিরো হয়ে গেলাম। ভাবলাম,শেষ সময়ে এসে সিয়াম উধাও হয়ে গেলে রিহা হয়ত একটা ধাক্কা খাবে।তারপর একটা সময় কোন অপশন না পেয়ে আমাকেই বেছে নেবে! ‘অনেক দিন ধরেই এগুলোর প্লানিং করছিলি, তাই না ?’ ‘হ্যাঁ, অনেক দিন ধরেই!’ ‘হুম, সব লক্ষণ দেখে মনে হচ্ছে তুই বেশ কিছুদিন যাবত ক্রাইসিস সিজোফ্রেনিয়ায় ভুগছিস!’ ‘মানে কি?রাহাত অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে।’ ‘একধরনের মেন্টাল ডিসঅর্ডার । ক্রাইসিস সিজোফ্রেনিয়া হলে রোগীর হ্যালুসিনেশন হয়।এমন কিছু দেখে,যা আসলে ঘটছে না।এমন কিছু শোনে, যার আসলে কোন অস্তিত্ব নেই।’ ‘কিন্তু আমার স্পষ্ট মনে আছে, আমি ঐ কাজ গুলো করেছি!’ ‘হ্যাঁ, এ সব ক্ষেত্রে পেসেন্ট মনে করে এগুলো বাস্তবেই ঘটেছে।চিন্তা করিস না।কিছু ওষুধ লিখে দিচ্ছি সেগুলো খাবি,আর বিশ্রামে থাকবি।কোন ধরনের প্রেশার নিবি না। সবচেয়ে ভাল হয় যদি কিছুদিনের জন্য কোথাও থেকে ঘুরে আসতে পারিস।’ ‘হ্যাঁ, সেটাই করতে হবে। দেখি কালকেই গ্রামে চলে যাব, এর ফলে হয়ত রিহাকেও ভুলে থাকতে পারব।’ ‘শুভ কামনা রইল তোর জন্য!’ ‘যাই এখন?’ ‘আচ্ছা,যা!’ *** সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতেই সিদ্ধান্ত নিল,কাল সকালের ট্রেনেই বাড়ি যাবে ও, রুমে গিয়েই ব্যাগ গোছাতে শুরু করল।ব্যাগে কাপড়-চোপড় নেয়া শুরু করেছে, তখনই হঠাৎ করেই লোডশেডিং।বিদ্যুৎ অফিসের বাবা-মা তুলে মুখ খারাপ করা কিছু গালি দিল ও, তারপর ম্যাচ আর মোমের জন্য টেবিল হাতড়াতে শুরু করল।মোম না পেলেও হাতে ম্যাচ বক্সের ছোঁয়ায় অনেক স্বস্তি এনে দিয়েছে ওর মনে, কিন্তু ওটা নিতে গিয়েই কি যেন পড়ে গেল নিচে, ধাতব। একটা ম্যাচের কাঠি জ্বালিয়ে নীচ থেকে চকচকে জিনিসটা কুড়িয়ে নিল।হতভম্ব ভাবটা কাটল যখন কাঠিটা পুড়ে গিয়ে হাতে আগুনের ছোঁয়া লাগল।ও জানে, ওর হাতে ওটা একটা আংটি। সিয়ামের হাতের সেই এঙ্গেইজমেন্ট রিং! ***


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ এঙ্গেইজমেন্ট রিং-০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now