বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একটি রূপ-কথার গল্প !

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Opu Ahasan (০ পয়েন্ট)

X -তুমি আমার সাথে ব্রেক আপ করতে চাইছো ? -না । আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাইছি । লাইনটা বলে আমি সরাসরি ফারিয়ার দিকে তাকালাম । বিয়ে শব্দটাতে বেশ জোর দিয়েই বলেছি । ফারিয়া তাই চট করেই ব্যাপারটা উড়িয়ে দিতে পারলো না । সেই সাথে আমি আমার মুখের ভাবটাও বেশ গম্ভীর করে রেখেছি । আমি ব্যাপারটা নিয়ে যে বেশ সিরিয়াস সেটা বুঝতে ফারিয়ার কষ্ট হল না । ফারিয়া বলল -এভাবে হয় নাকি ! তুমি কিছু কর না । আব্বু কোন দিন ...... আমি ফারিয়াকে কথা শেষ করতে দিলাম না । বললাম -তোমাকে বাবাকে আমি বিয়ে করছি না । তাই সে কি ভাবলো না ভবলো সেটা আমার ভাবনার বিষয় নয় । আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই । তুমি কি বিয়ে করবে আমাকে ? -বিয়ের পর ? -এতো চিন্তা ভাবনা করে তো আমি তোমাকে ভালবাসি নি । এতো অংক করেও তোমাকে বিয়ে করতে চাই নি । আমি কেবল চাই যে প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে যেন আমি তোমার মুখটা দেখতে পাই আর ঘুমাতে যাওয়ার সময় তোমার মুখটা দেখতে পাই । ব্যাস আর কিছু না । ফারিয়া আমার দিকে আরও কিছুটা সময় তাকিয়ে রইলো । ও যেন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা বোধ করছে । যদিও আমি জানি ওর শেষ কথা কোনটা হবে । আমি আবার বললাম -আমাদের উপর তলায় মিমি নামে একটা মেয়ে থাকে চেনো তো ? -কিসের ভেতরে কি ! -আহ ! বল না চেন কি না ? -হ্যা চিনি ! -আমি যদি ওকে এখন গিয়ে বলি ওকে আমি বিয়ে করতে চাই । ও কিংবা ওর ফ্যামিলি রাজি হবে ? -মানে ? -আরে বল না ! রাজি হবে কি না ? -আমি কিভাবে বলবো রাজি হবে কি না ? -তোমার দিক দিয়ে বিচার কর ? তোমার পাশে বাসায় থাকে চাকরি-বাকরি করে না একটা ছেলে তোমাকে বিয়ে করতে চাইলো । তুমি বিয়ে করবে ? -অবশ্যই না ! -এখন তুমিও কিন্তু আমাকে বিয়ে করতে চাইছো না । কারন কি ঐ একই । আমার চাকরি নাই । কিন্তু মনে কর আমি একটা ভাল চাকরি পেয়ে গেলাম । তারপর মিমিকে আবারও বিয়ের প্রস্তাব দিলাম । তখন কিন্তু সমূহ সম্ভবনা আছে আমার বিয়ের প্রস্তাবে সে এবং তার ফ্যামিলি রাজি হয়ে যাবে ! তুমিও রাজি হবে যেতে । কারন আমার ভাল চাকরি আছে । ঐ মেয়েটা আমাকে ভালবাসে না কিন্তু তুমি আমাকে ভালবাসো । তাহলে তোমাদের আচরনে কোন ফারাক নেই কেন ? কেন চাকরিটা আমার থেকেও কেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ ? -তার মানে কি বলতে চাও ? -যা তুমি ভাবছো তাই বলতে চাই । তোমার কাছে আসলে আমি আর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত জীবন এই দুইয়ের ভেতরে আমি কম গুরুত্বপূর্ণ । আমি পাল্টালেও চলবে কিন্তু নিশ্চিৎ জীবন ছাড়া যাবে না ! ফারিয়া খানিকটা যেন অবাক হয়ে গেল আমার কথা শুনে ! আমি যে এমন কথা বলতে পারি সে ভাবতেই পারে নি । আমি বলেই চললাম । আজকে আমি বাসা থেকে খানিকটা প্রস্তুতি নিয়েই এসেছি । -তোমার কাছে আসলেই আমি গুরুত্বপূর্ন নই । চাকরীওয়ালা ছেলে গুরুত্বপূর্ণ । সেটা আমি হলে ভাল হয় কিন্তু আমি না হলেও চলে ! এই হলে ভাল আর না হলেও চলে এই অপশানের ভেতরে আমি নাই । আমাকে যদি ভালবাসো তাহলে সেটা হবে সব বেশি গুরুত্বপুর্ণ । আমার কাছে যেমন তুমি সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ন, সব কিছুর বিনিময়ে আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই আমি আশা করবো যেন আমিও তোমার কাছে ঠিক তেমনই গুরুত্বপূর্ণ হই । কিন্তু পরিস্কার বুঝতে পারছি আমি সেটা নই ! -তুমি ব্যাপার টা বুঝতে চেষ্টা করো । আব্বু কোন দিন মানবে না ! -আরে রাখো । তুমি একজন সাবালিকা । তুমি আমাকে বিয়ে করতে চাইলে তোমার বাবা কে পৃথিবীর সকল বাবা মিলেও সেই বিয়ে ঠেকাতে পারবে না । আসল কথা হচ্ছে তুমি আমার সাথে যুক্ত হয়ে নিজের জীবন টাকে অনিশ্চিৎ করতে চাইছো না । এই হল ভালবাসা । ভালবাসা মানেই কেবল ভবিষ্যৎ জীবনের সুখে থাকার জন্য সামনের মানুষটার হাত ধরা । যদি তুমি আমার অনিশ্চিৎ জীবনে আমার হাতই ধরতে ভয় পেলে তাহলে আমাকে তুমি কি ভালবাসলে ? যখন আমার তোমাকে সব থেকে বেশি দরকার তখনই তুমি আমার হাত ধরতে ভয় পাচ্ছো তাহলে যখন আমি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবো তখন আমি সেই হাত ধরে কি করবো । টাকা আসলে হাত ধরার মানুষের অবাব হয় না ! -তুমি কিন্তু একটু বেশি বেশি বলছো ! -বেশি বলছি না । সত্যি বলছি । তোমার শুনতে খারাপ লাগলে আমার কিছুই করার নেই । -ওকে ! আমিও একটা সত্যি বলি । আমি আমার বাবা মায়ের অমতে কোন কিছু করবো না ! -ওকে কর না । আমার সাথে প্রেম করার আগেও বাবা মায়ের অনুমুতি নেওয়া দরকার ছিল ! ফারিয়ার মুখটা কেমন লাল হয়ে যেতে দেখলাম । আমার দিকে তাকিয়ে বলল -আমি যাচ্ছি । আমার এসব ফালতু কথা শোনার সময় নেই । -তাই তো যাবে । চলে যাও । তবে আমাকে ভালবাসো এই কথাটা যেন আর বল না । তোমার ভালবাসতে পারো না । সুখে থাকার নৌকা খুজে বেড়াও । যে যত ভাল অফার দেয় তার নৌকায় চড়ে বস ! ফারিয়া আর দাড়ালো না । আমি ওর চলে যাওয়া পথের দিকে চেয়ে রইলাম । খানিকটা কষ্ট হতে লাগলো তবে সেটা স হ্য হয়ে যাবে আমি জানি । কদিন থেকেই ফারিয়া আমার কানের কাছে গ্যানোর গ্যানোর করছিলো । আর বিয়ে করতে চাও করছি সেটা তো আপত্তি করছি না । কিন্তু না ওনার চাকরিওয়ালা বর লাগবে । কেন ভালবাসার সময় তো এমন কথা হয় নি । চাকরি কি মুখের কথা নাকি যে বললাম আর হয়ে গেল । এদিকে মুখে বলে ভালবাসি, আমার জন্য সব করতে রাজি আবার আমাকে চাকরি ছাড়া বিয়ে করতে পারবে না । হিপোক্রেসি আর কাকে বলে ! তুমি যদি আমার অনিশ্চিৎ পথে আমার হাত ধরতেই না পারলে আমার কঠিন সময়ে আমার পাশে থাকতেই না পারলে তাহলে তুমি আমাকে কিসের ভালবাসো ! চাকরি পেলে তুমি যেমন হাত ধরতে চাইবে, আরও হাজার হাজার মেয়েও আমার হাত ধরতে চাইবে ! তাহলে তোমার আর ওদের ভেতরে পার্থক্য থাকলো কই ! এমন ভালবাসার মানুষের আমার দরকার নেই । চলে গেছে যাক ! দুদিন পরে আমি নিজ থেকেই ওকে ফোন দিলাম কিন্তু ও ধরলো না । তিনবার চেষ্টা করে বাদ দিলাম । মনে হল সম্পর্ক এবার শেষ হয়ে গেছে । যাক, যা গেছে চলে যাক । কিন্তু তবুও মনের ভেতরে একটু আশা ছিল হয়তো ও ফিরে আসবে । কিন্তু মাস খানেক পরে যখন ফারিয়ার এঙ্গেইজমেন্টের কথা শুনলাম তখন শিওর হয়ে গেলাম যে ওর সাথে আমার একদম সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে । ওর বান্ধবীর কাছ থেকে জানতে পারলাম যে মাস দুয়েক পরে ওর বিয়ে । পাত্র নাকি ইঞ্জিনিয়ার ! ভাল । এটাই তো চেয়েছিলো ও । সুনিশ্চিৎ জীবন ! আমাকে চায় নি কোন দিন । আজ কালকার মেয়েরা ভালবাসার মানুষের থেকেও বিয়ে করতে চায় যার কাছে ভাল চাকরি আছে । ভালবাসার মানুষটি ভাল চাকরি পেলে ভাল, না হলে অন্য কাউকে তারা ঠিকই খুজে নেয় । আর দোহাই/দোষ দেয় বাবা মায়ের ! ভাল ফন্দি ! মন যে খারাপ লাগছিলো না তা বলবো না । মেয়েটা আমাকে ভালবাসে নি কিন্তু আমি ওকে ঠিক ঠিকই ভালবাসতাম । কদিন কোথা থেকে ঘুরতে আসতে মন চাইলো । ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে গেলাম । মোবাইল টা বাসাতেই রেখে গেলাম । বলতে গেলে পুরো দুনিয়ার সাথে একেবারে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন । বাসায় ফিরতে ফিরতে প্রায় আরও দুই সপ্তাহ কেটে গেল । মা আমার মুখ দেখে অনেক কথা জানতে চাইলো । অনেক চিৎকার চেঁচামিচি করলো তবে আমি যে কেন এমন করছি । আমি তাদের কিছু না বলে নিজের ঘোরের দিকে চলে গেলাম । তবে আমি যে আবার ফিরে এসেছি এতে তাদের একটা স্বস্থি ফিরে এসেছে । তার ঠিক দুই সপ্তাহ পরেই আমার চাকরি হয়ে গেল । পড়ালেখা শেষ করে বেশ কয়েক জায়গায় আমি ইন্টার ভিউ দিয়েছিলাম । তাও বেশ কয়েক দিন আগের কথা । এতোদিন পরে তারা আমাকে কেন কল করলো আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না । কাউকে কিছু বললাম না । কেবল বাসার মানুষজনকে বললাম যে কাউকে যেন কিছু না জানাই । আগে কদিন করে দেখি যদি ভাল লাগে তাহলে যেন সবাইকে জানায় । আম্মা আমার মন মানষিকতা খুব ভাল করেই জানতো । আমি চাকরি ছেড়ে দিতে পারি ভাল না লাগলে সেটা তিনি জানতেন । তবে আমি চাকরিতে জয়েন করার পরপরই দেখলাম বাবা আর মা দুজনের আচরনই কেমন পরিবর্তন হয়ে গেছে । যে বাবা আমার উপর সারাদিন বিরক্ত থাকতো সেই বাবাকেই দেখলাম আমার উপর বেশ সন্তুষ্ট । এর ভেতরে আমি ফারিয়ার কথা ভুলেই গেছিলাম । সজিবের ফোনে মনে পড়লো । বেটা মনে করিয়ে দিল যে সামনের শুক্রবার নাকি ফারিয়ার বিয়ে । খুব ইচ্ছে করলো ওকে গিয়ে বলি যে দেখো আমার চাকরি হয়েছে । আসো, এবার তো আমাকে বিয়ে কর । কিন্তু ইচ্ছে টাকে দমন করলাম নিষ্ঠুর ভাবে । দেখতে দেখতে ফারিয়ার বিয়ের দিন চলে এল । শুক্রবারে ছুটির দিনে বেশ বেলা করেই ঘুমিয়ে ছিলাম । মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙ্গলো । মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে মনে হল কি যেন ঠিক নেই । বললাম -কি সমস্যা ? -তোর কাছে একটা মেয়ে এসেছে ? -কে ? অফিসের কেউ । -এসে দেখ ! ড্রয়িং রুমে গিয়ে ধাক্কার মত খেলাম । ফারিয়া মাথা নিচু করে বসে আছে । কালো রংয়ের একটা সেলোয়ার কামিজ পরা । আমাকে ঘরে ঢুকতে দেখেই ও উঠে দাড়ালো । আমার মাথায় তখন হাজারটা প্রশ্ন চলছে । বুঝতে পারছি না এই মেয়ে এখানে কি করছে ? আমি ওর সামনে গিয়ে বললাম -তোমার না আজকে বিয়ের কথা ? -হুম ! -তা এখানে কেন ? দাওয়াত দিতে এসেছো ? ফারিয়া আমার দিকে এমন ভাবে তাকালো যেন আমাকে পারলে চিবিয়ে খায় ! সেটা অনেক কষ্টে দমন করলো । আমার দিকে তাকিয়ে বলল -তোমার সাথে কয়েকটা কথা বলবো । -বল ! -এখানে না ! বুঝতে পারলাম মায়ের সামনে বলতে সংকোচ করছে । আমি ওকে মায়ের সামনে দিয়েই আমার ঘরে নিয়ে এলাম । ঘরের দরজা ভিড়িয়ে দিতেই ফারিয়া আমাকে জড়িয়ে ধরলো । বেশ শক্ত করেই । আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই অনুভব করলাম মেয়েটা কাঁদছে । প্রবল ভাবেই কাঁদছে । এতোদিন ওর উপর যে রাগ আর অভিমান ছিল সেটা ওর েই কান্না দেখে একদম পানি হয়ে গেল । বললাম -কি হয়েছে ? বল আমাকে ? বল আমাকে ? আমি তো রয়েছি ! এই ..... অনেক টা সময় কান্নার পরে ফারিয়া কান্না থামিয়ে বলল -আমি বাসা থেকে পালিয়ে এসেছি । তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না । আমাকে যেভাবে রাখবে যা খাওয়াবে তাই খাবো, কেবল আমার হাত ধরে রাখবে ? রাখবে তো ? আমি ওকে আমার চোখের সামনে নিয়ে এসে ওর দিকে তাকালাম । মেয়েটার চোখ বলছে মেয়েটা আমাকে সত্যিই ভালবাসে । আমার জন্য ইঞ্জিনিয়ার ছেলে ছেড়ে চলে এসেছে । আমার জন্য সুনিশ্চিৎ ভবিষ্যৎ ছেলে আমার অনিশ্চিৎ জীবনের সঙ্গি হতে চলে এসেছে । আমি কিভাবে এই মেয়ের হাত ছেড়ে দিতে পারি । আমি ওকে বলল -আপাতত এক কাজ কর । আমার বাবা আসার আগেই এখন থেকে পালাই ! -কোথায় যাবা ! -দেখা যাক । আগে মগবাজার কাজী অফিসে তো যাই তারপর দেখা যাবে ওখান থেকে কোথায় যাওয়া যায় ! (সমাপ্ত) এই গল্প রূপকথার গল্পকেও হার মানাবে । বর্তমান কালের মেয়েরা প্রেম প্রেম খেলা সবার সাথে খেলতে পারে কিন্তু নিজের সুনিশ্চিৎ ভবিষ্যতের জন্য সব কিছু ত্যাগ করতে সদা প্রস্তুত থাকে । আর সেই ত্যাগ করার লিস্টে নিজের প্রেমিকের নাম থাকে সবার আগে । আর সব থেকে মজার ব্যাপার হচ্ছে প্রেম ভালুবাসা বিষয়ক সব থেকে নীতিকথা আপনি এই মেয়েদের কাছ থেকেই শুনতে পাবেন


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একটি রূপ-কথার গল্প !

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now