বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
একটি অসমাপ্ত দৌড়ের গল্প -
পর্ব ২
- সালেহ তিয়াস
৪
মামার একটা বর্ণনা দেয়া যাক।
মামা হচ্ছেন বিশাল একটা মেডিকেল কলেজের
শিক্ষক। শিক্ষক মানে পুরা বাঘ। পারলে
স্টুডেন্টদের ধরে কাঁচাই খেয়ে ফেলে।
ভয়ে সবাই তার ১০০ হাত দূর দিয়ে যায়।
উনার চেহারাও সেইরকম। যেন আলকাতরা ঢালা মাঠে
সিটি কর্পোরেশনের খন্দকার দলের আক্রমণ।
গলাটাও ম্যাচ করা। পুরা মাইক। করাত কল। শুনেই মনে
হয় বুকে হাত দিয়ে দেখি প্রাণপাখি আছে, না
ভয়ে উড়ে চলে গেছে? জটিল কম্বিনেশন।
মামীর কাছে শোনা, কলেজ লাইফে কোন
মেয়ে ওনার ধারে কাছে ঘেঁষত না। একবার নাকি
উনি কোন মেয়েকে একটা চেয়ার আগিয়ে
দিতে বলেছিলেন, মেয়েটা ভালো করে
শোনেই নি, মনে করেছে ঝাড়ি দিচ্ছে। ভয়ে
সে পরপর দুদিন আর ক্লাসেই আসেনি!
বিয়ের জন্য মামীকে দেখতে যাবার সময় উনার
রকমসকমে ভয় পেয়ে শালীদের গ্যাং সেই
যে পালিয়েছে, আর এমুখো হয় নি। গয়নাগাটি
নিয়ে কি এক কথা উঠেছিল, উনি একটু জোরে কি
একটা বলে ফেলেছেন, হবু শ্বশুরের তাই
শুনেই ভয়ে কথা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল হঠাৎ করে।
তারপর পানি টানি দিয়ে আর ম্যাসেজ করে মামাই
উনাকে আবার ঠিকঠাক করে দিয়েছিলেন। ব্যস,
খুশি হয়ে পুরস্কার জুটে গিয়েছিল উনার জন্য
আস্ত একটা বউ আর আমার জন্য আস্ত একটা
মামী।
এই সংসারে আমার আগমনের ইতিহাসটা দুঃখের।
বেশ নভেল নভেল টাইপ। এইটা এইখানে বলার
প্রয়োজন তেমন একটা আছে বলে আমার
মনে হয় না। আমার বাপমায়ের কথাও এইখানে
টেনে আনার কোন প্রয়োজন নেই। ওর
চেয়ে বরং আমার মামাতো বোনের কথা বলা যাক।
৫
এই বাসায় একটা অতি ফাজিল ও ফটকু প্রজাতির মেয়ে
আছে। এইটা আবার মামাতো বোন। বয়স আমার
কাছাকাছিই। একটু ছোট হবে হয়তো বা।
মাইয়া বেশি আধুনিক। চলনবলন পোশাকআশাক সবই
একটু কেমন কেমন। কলেজে যাবে, বাপের
জিপ ছাড়া যাবে না। সবসময় ঠোঁটে ছাইপাশ রঙ
মারবে, কিন্তু মুখে বলবে লিপস্টিক, মাঝে মাঝে
লিপশেডও বলতে পারে। চোখের পাতায় মারবে
জঘন্য কালার, হাতের নখে দেবে বমি কালারের
নেলপালিশ। ব্যাগ একটা আছে পাখির পালকঅলা,
ফুলটুল আঁকা আছে, সেইটাই সারাদিন কাঁধে ঝুলিয়ে
টো টো। পড়াশুনার নামগন্ধ নেই, কিন্তু
কলেজে যাবার ব্যাপারে বিশাল আগ্রহ। সপ্তাহে
সপ্তাহে হয় পার্টিতে যাবে নাহলে বাসায় কিছু একটা
হইহল্লা করবে। পুরাই বখে যাওয়া মেয়ে।
এই মেয়েকে নিয়ে মামার দুশ্চিন্তার শেষ নেই।
হয়তো তিনি ধরেই নিয়েছেন এই মেয়েকে
দিয়ে কিছুই হবে না। তাই হয়তো শেষমেশ
আমাকে নিয়েই পড়েছেন, জীবন চলে যাবে
তবু পুত্রবত ভাগিনাকে ডাক্তার বানিয়েই ছাড়ব
ইনশাল্লাহ।
মামার স্বভাবটাই এইটা। যেন সবাইকে ডাক্তার বানিয়েই
ছাড়বেন। যেন বাংলাদেশটা হবে পৃথিবীর ইতিহাসে
১০০ % ডাক্তারঅলা প্রথম দেশ। তার চেম্বারে
কোন অল্পবয়সী ছেলেমেয়ে গেলেই
হয়েছে, তার লেকচার শুরু হবে। ‘হ্যাঁ বাবা কি
পড়ছ? কি হবার ইচ্ছা? ডাক্তার? না? কেন? এই
পেশায় কত সম্মান কত টাকা...’ একদিকে বাঁচাও বাঁচাও
রব উঠবে ছাত্র/ছাত্রীর মনে, অন্য দিকে
বাইরে বসা রোগীরা ভাববে আহা, কত সময়
ধরে দেখছে, যেন কত ভালো ডাক্তার! তারপর
ঝড়ক্লান্ত প্রলয়রিক্ত অল্পবয়সী বেচারা ছাত্র/
ছাত্রী চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসবেন এবং
মুক্তির আনন্দে বিকট শব্দে চিৎকার দিয়ে লাফিয়ে
উঠবেন।
বোনটা আগে খুব কাছে ঘেঁষার চেষ্টা করত।
এখন আর করে না। সাইজ হয়ে গেছে। তাও
পুরোটা হয় নি।
৬
‘আচ্ছা আপনি সারাদিন বলদের চুপচাপ থাকেন কেন?
কথা টথা বলতে পারেন না?’
‘কি কথা বলব?’
‘মানুষের কথার কি শেষ আছে? আমি তো সারাদিন
কথা বলি, তাও কথা ফুরায় না। খালি বলতেই ইচ্ছা
করে’।
‘বললেই তো পার’।
‘কার সাথে বলব? আমি যার সাথে কথা বলতে চাই
সে-ই তো কথা বলে না’।
‘কে সে?’
‘আপনাকে বলব কেন? আপনি কি করবেন?’
‘কিছু করব না’।
‘আচ্ছা আপনি সারাদিন এত কি ভাবেন?’
‘কিছু না’।
‘কিছু না মানে? কিছু তো ভাবেন?’
‘বললাম না কিছু ভাবি না’।
‘আপনি এইরকম কেন? একদম রোবট’।
‘তুমি যাও আমার কাজ আছে’।
‘কি এমন কাজ? পড়াশুনা?’
‘হুম’।
‘সারাদিনই তো করলেন পড়াশুনা...’
‘আহ, যাও তো। ঝামেলা কোর না...’
‘আহা, আমি ঝামেলা করি, না...’
কথা আরও কিছুদূর আগাতে পারত, কিন্তু মামীর
ডাকে প্রধান বক্তা ব্যস্ত হয়ে পড়ল। নিস্তার
পেলাম তখনকার মত।
এইটা হল আমার সেই বোনের সাথে আমার কথা
বলার প্রথম দিকের স্যাম্পল। ক্রমাগত পার্ট না দিতে
দিতে এখন সে আমার কাছে আগের মত ঘেঁষার
চেষ্টা করে না, গায়ে পড়ে আলাপ জমাবার চেষ্টা
করে না।
বর্তমানে ফিরে আসি। একটু আগে মামার
চেম্বারের একটা লোক এসে একটা বড়
প্যাকেট দিয়ে গেছে। কি আছে কিছু বলে নি।
শুধু বলেছে জিনিসটা নাকি আমার জন্য।
আমার বাইরে কাজ ছিল, প্যাকেট খোলা না
দেখেই বেরিয়ে যেতে হল। কি এমন আছে
ওর মধ্যে?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now