বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ঘটনাটা ঘটে আজ থেকে প্রায় দশ বারো বছর
আগে!!
যার কাছ থেকে শোনা আমি তার মতো করেই
বলছি,
আমার নাম মোঃ ফারুক আমি তখন ট্রেনে হকারি
করতাম,আমার বাড়ি থেকে ষ্টেশনের দূরত্ব প্রায়
নয় কিলোমিটার রাস্তা,
আমি প্রতিদিন ভোরে বের হতাম সারাদিন হকারি করে
রাতে বাড়ি ফিরতাম
আসা যাওয়া করতাম পায়ে হেটেই কারন তখন রাস্তাঘাট
এতোটা ভালো ছিলোনা তার উপর আবার গ্রামের
রাস্তা,
ঘটনাটা যেদিন ঘটে সেদিন সারাদিন কাজ করে যখন
আমার বাড়ির ষ্টেশনে নামলাম রাত তখন সারে
বারোটা,
আমার কোনোদিনই এতো দেরি হয়না
কিন্ত আজ ট্রেনটা লেট করাতে আমার এতো
দেরি হলো,
কিছুই করার নেই বাড়ি আমাকে যেতেই হবে কারণ
আমি বাড়ি না গেলে আমার বৌ বাচ্চারা না খেয়ে
থাকবে,
আমার ষ্টেশন থেকে বাড়ি যাওয়ার দুটো রাস্তা একটা
সোজাসুজি আর একটা একটু ঘোরে যেতে
হবে,আমি সোজা রাস্তাটায় কোনোদিনও আসা যাওয়া
করিনা, কারন মানুষের মুখে শোনা যায় ওই রাস্তাটা
ভালো না,
এসব ভাবতে ভাবতেই আমি সেই দুই রাস্তার সামনে
এসে পরছি ভাবছি কোন রাস্তায় যাবো,
ভাবতে ভাবতে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে আজ সোজা
রাস্তায়ই যাবো কারন রাত প্রায় দুটো বাজে,
বেকা রাস্তায় গেলে অনেক দেরি হবে তাই
আমি যখন রাস্তাটা ধরলাম তখনই হঠাৎ একটা বিড়াল
পাশের ঝোপ থেকে বেড়িয়ে আমার সামনে
দিয়ে দৌড়ে চলে গেলো,
আমি কিছু মনে করলাম না ভাবলাম বিড়াল এরোকম
করতেই পারে,
নির্জন রাস্তা একটা পাখিরও শব্দ নেই শুধু দুপাশের ঘন
ঝোপ গুলো থেকে ঝি ঝি পোকার শব্দ গুলো
কানে আসছে,
আমি একমনে হেটে চলছি হঠাৎ সামনে দেখি
সেই কবরস্থানটা আমার শরীরটা একটা ঝাকুনি দিয়ে
উঠলো
কারণ এই কবরস্থান সম্পর্কে আমি অনেক ভয়ানক
কিছু শোনেছি আর সে জন্যেই আমি এই রাস্তাটায়
আসা যাওয়া করিনা,
যাই হোক এসেই যখন পড়েছি তখন আর এসব
ভেবে কোনো লাভ নেই
আমি দ্রুত পা চালাতে লাগলাম কবরস্থান টা পার হওয়ার
জন্য
আমি খুব দ্রুত হাটছি কিন্ত একি আমি কবরস্থান টা পার
হতে পারছি না কেনো
আমার শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে হাটতে লাগলাম
কিন্ত কোনোভাবেই আমি কবরস্থান টা পার হতে
পারছি না,
ভয়ে আমার সমস্ত শরীর কাপতে লাগলো গা
বেয়ে দরদর করে ঘাম ঝরতে লাগলো
কি করবো কিছুই বুঝতে পারছিনা,
এমন সময় আমার চোখ পড়লো পিছনের দিকে,
তাকিয়ে দেখি একটা দুই তিন বছর বয়সের বাচ্চা কান্না
করতেছে,
আমি নিমিষেই সব কিছু ভুলে গেলাম যে এতো
রাতে এখানে বাচ্চা আসবে কেমন করে
আমি আস্তে আস্তে বাচ্চাটার কাছে গিয়ে তাকে
মাটি থেকে তুলে কোলে নেওয়ার চেষ্টা
করছি,কিন্ত একি বাচ্চাটাকে কিছুতেই মাটি থেকে
তুলতে পারছি না,
এমন সময় দেখলাম বাচ্চাটার হাতে একটা বলের
মতো কি জানি দেখা যায়, আলো আধারের মধ্যেই
যা দেখতে পেলাম সেটা দেখার জন্য আমি
মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না,
দেখতে পেলাম বাচ্চাটার হাতে যেটা বলের
মতো দেখা যায় সেটা বল না,সেটা আমার নিজেরই
কাটা মাথা,
আমার মাথাটা ঘোরতে লাগলো আমি আমার গায়ের
সমস্ত শক্তি দিয়ে সেখান থেকে উঠে দৌড়াতে
লাগলাম এমন সময় পিছন থেকে কে যেনো
ডেকে বলছে ভুল করেছিস ফারুক ভুল আজ
তোকে কে বাচাবে,
আমি দিক বেদিকে ছোটতে লাগলাম যেমন
করেই হোক এখান থেকে যেতেই হবে,
আমি কতক্ষণ দৌড়াইছি তার কিছুই বলতে পারবো না,
এমন সময় সামনের দিকে তাকিয়ে দেখি অনেক
বড়ো একটা কুকুর আমার পথ আগলে বসে আছে
আমি কুকুরটার সামনা সামনি হতেই দেখতে পেলাম
কুকুরটার চোখ দিয়ে আগুনের ফুলকির মতো কি
জানি বের হচ্ছে আর সবচেয়ে বেশি ভয় পেলাম
এটা দেখে যে কুকুরটার মুখে আমারই সেই কাটা
মাথাটা,
এটা দেখে আমি ওখানেই সেন্সলেস হয়ে যাই
কতক্ষণ ওভাবে পরে ছিলাম বলতে পারবো না
যখন আমার জ্ঞান ফিরে আমি শুনতে পাচ্ছি
মুয়াজ্জিনের সুমধুর কন্ঠে ভেসে আসছে
আছছালাতু খাইরুম মিনান নাওম,
আমি ওখান থেকে তাড়াতাড়ি উঠে বাড়িতে গেলাম,
বাড়িতে গিয়ে মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে সব
ঘটনা খুলে বল্লাম,
সব শোনার পর ইমাম সাহেব বল্লো যে তোমার
ভাগ্য টা খুবই ভালো যে ফজরের আজান টা তাড়াতাড়ি
দিয়েছে
বেশি দেরি হলে হয়তো তোমাকে আর পাওয়া
যেকনা ৷
সমাপ্ত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now