বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৩
আহমদ মুসার গাড়ি বাহরাইনের আল-মুহাররেক
দ্বীপের উপকূল হাইওয়ে ধরে তীব্র বেগে
এগিয়ে চলছিল পূর্ব উপকূলের ‘‘আল-হিদ’-এর
দিকে।
‘আল-হিদ সাগরের পানি ঘেঁষে দাঁড়ানো বিখ্যাত
পর্যটন শহর। আল-দুর বন্দরে নেমে খোঁজ-
খবর নেয়ার পর আহমদ মুসারা বাহরাইনের রাজধানী
মানামায় এসেছিল। মানামার একটা ব্রীফ চিত্র সামনে
আনার পর মানামার শীর্ষ হোটেল গোল্ডেন
টিউলিপের একটা কক্ষে বসে আহমদ মুসা
বাহরাইনের মানচিত্র গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ
করে আল-হামাদীকে বলেছিল, আমার মনে হয়
ওরা সব দিক বিবেচনা করে আল-মুহাররেক
দ্বীপকে বেছে নিয়েছে। আহমদ মুসার কথা
শুনে আল- হামাদী বলেছিল, আল-মুহাররেক
দীর্ঘ দ্বীপ। কোথায় আমরা ওদের তালাশ
করব? আহমদ মুসা বলেছিল, আল-মুহাররেকে
দ্বীপে তেমন বন-বাদাড় নেই ওদের লুকিয়ে
থাকার মত। সুতরাং ওরা মানুষের ভিড়কেই বেছে
নেবে নিজেদের হাইড করার মত। তাছাড়া এমন এক
স্থানে আশ্রয় নেবে যেখান থেকে তাদের
চলে যাওয়া বা পালোনো সহজ হয়। এ জন্যে
সমুদ্রের উপকূল, বিশেষ করে সমুদ্রের পানি
সংলগ্ন জায়গা ওরা বেছে নেবে ওদের
লুকানোর জন্যে। এ সব দিকের বিবেচনায আমি
মুহাররেক দ্বীপের পূর্ব উপকূলের আল-হিদ’-
কে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। মুল শহরটাই বলা যায় সমুদ্রের
গা ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মধ্যে আল-হিদের
সবচেয়ে ক্রাউডেড হোটেল’ সী-গাল
বাহরাইন’ আর ‘সী গাল বাহরাইন’ তো গোটাটাই
সমুদ্রের উপর ভাসছে! গোটা বাহরাইনে এর
চেয়ে আইডিয়াল জায়গা সমুদ্রচারী কিডন্যাপাদের
জন্যে আর দ্বিতীয়টি নেই বলে আমার মনে
হয়। আল-হামাদী সোৎসাহে আহমদ মুসার কথায় সায়
দিয়েছিল।
এই চিন্তার সাথে সাথেই আহমদ মুসা ও আল-হামাদী
আল-মুহাররেক দ্বীপের ‘আল-হিদে’র
উদ্দেশ্য বের হয়।
‘আল-হিদ’ শহরে প্রবেশ করেছে আহমদ
মুসাদের গাড়ি। আল-হিদ শহরটি উপকূল বরাবর
লম্বালম্বি গড়ে তোলা হয়েছে।
গভীর সাগর থেকে উঠে আসা পাহাড়ের
গোড়ায তৈরি হয়েছে শহরটি। পাহাড়ের পাদদেশটা
পাথুরে, দীর্ঘ ও প্রশস্ত। এটাই আল-হিদ শহরের
ভিত্তিভূমি। হোটেল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করল
আহমদ মুসাদের গাড়ি।
পার্কিং-এ গাড়ি রেখে দু’জনে হোটেলের
লাউঞ্জে প্রবেশ করল।
‘মি. আল-হামাদী, আপনি এদের ডিসপ্লে ষ্ট্যান্ড
থেকে হোটেলের ক্যাটালগটা নিয়ে আসুন।’
বলে আহমদ মুসা সোফায় গিয়ে বসল।
হোটেলের ক্যাটালগ নিয়ে আল-হামাদী এসে
আহমদ মুসার পাশে বসল।
আহমদ মুসা হোটেলের ক্যাটালগে একবার চোখ
বুলিয়ে বলল, ‘হোটেলে স্পেশাল স্যুট ছাড়াও
এপার্টমেন্ট রয়েছে। স্যুট ও এপার্টমেন্ট প্রায়
সব ক’টারই ফ্রন্ট দেখা যাচ্ছে সাগরের দিকে।
যে সব স্যুট এপার্টমেন্টের ফেস সাগরের
দিকে, সেগুলোর বাসিন্দাদের বিবরণ যোগাড়
করুন। ইতিমধ্যে আমি দেখছি কোন এপার্টমেন্ট
খালি আছে কিনা।’
উঠল আহমদ মুসা্। এগোলো রিজার্ভেশন
কাউন্টারের দিকে।
উঠে দাঁড়িয়েছিল আল-হামাদী্ও।
এপার্টমেন্ট রিজার্ভেশনে গিয়ে আহমদ মুস
দেখল যে, একটিও খালি নেই। আহমদ মুসা মনে
মনে একটা হিসাব কষে বলল, ‘কিন্তু আমি
জেনেছিলাম একটা খালি আছে।’
‘স্যার, আজ সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দু’টি এপার্টমেন্ট
খালি ছিল। পরে দু’টিই ভাড়া হয়ে গেছে।’ বলল
রিজার্ভেশন অফিসার।
‘এক সাথে দু’টি?’ জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার।
‘জি, স্যার।’ বলল রিজার্ভেশনের লোকটি।
‘তাহলে কি আমার বন্ধুরা আগেই এসে গেছে!
প্লিজ নামগুলো একটু দেখি। ওরা হলে তো
আমাদের রিজার্ভেশনও হয়ে গেছে।’ বলল
আহমদ মুখে খুশির ভাব টেনে।
‘অবশ্যই স্যার, দেখুন। কিন্তু ওরা তো বিভিন্ন
বয়সের। বাবার বয়সেরও আছেন।’
বলে রিজার্ভেশনের লোকটি রিজার্ভেশন
রেজিষ্টারের সংশ্লিষ্ট পাতা আহমদ মুসার সামনে
মেলে ধরল।
আহমদ মুসা দেখল, নামগুলো সব ইউরোপীয়ান।
বিভিন্ন বয়সের। দু’জন পঞ্চাশোর্ধ্ব। দু’জনের
বয়স চল্লিশের উপরে। একজনের তিরিশ।
অবশিষ্টজনের পঁচিশ।
মনে মনে হতাশ হওয়ার ভংগিতে বলল আহমদ মুসা,
‘না, এরা নয়। তাহলে ওরা কি স্যুটে উঠেছে!
আচ্ছা, বলুন তো আজ কয়টি স্যুটের রিজার্ভেশন
হয়েছে?’
‘স্যার, আজ কোন স্যুটের রিজার্ভেশন হয়নি। সব
স্যুট আগে থেকেই ভর্তি।’
বলে রিজার্ভেশনের লোকটি একটু ভাবল। তারপর
বলল, ‘স্যার, ঘন্টাখানেকের মধ্যে একটা
এপার্টমেন্ট রিজার্ভেশনের জন্যে রেডি হবে।
এ এপার্টমেন্টের পাশেই সে এপার্টমেন্টটি।
আপনি ইচ্ছা করলে এখনি বুক করতে পারেন।
ঘন্টাখানেক কষ্ট করতে হবে আপনাকে।’
আহমদ মুসা বসে ভাবল, আল্লাহ যখন তাদের
জন্যে এই এপার্টমেন্টটাই মেলাচ্ছেন, তখন
নেয়াই উচিত। পরের চিন্তা পরে হবে।
‘ঠিক আছে রিজার্ভেশন করে ফেলুন।’ বলল
আহমদ মুসা।
রিজার্ভেশন অফিসার একটি ফরম এগিয়ে দিলে
আহমদ মুসা সেটা পূরণ করে টাকা দিয়ে ফিরে এল
লাউঞ্জে আগের সোফায়।
একটু পর ফিরে আল-হামাদীও।
‘মি. আল-হামাদী, স্যুট ও এপার্টমেন্টে আশার
আলো আমি দেখছি না। একমাত্র দু’টো
এপার্টমেন্টে বেলা ১টার দিকে নতুন ভাড়াটিয়া
এসেছে। তারা সংখ্যায় ছয় বটে, কিন্তু বয়সে
আকাশ পাতাল। দেখি আপনার লিষ্টটায় নতুন কিছু
আছে কিনা। বলে আহমদ মুসা আর-হামাদীর হাত
থেকে স্যুট ও এপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের তালিকা
নিয়ে নিল। নজর বুলাল সব শেষে এপার্টমেন্টে
ওঠা দুই এপার্টমেন্টের সেই ছয়জনের
বিবরণের উপর। ছয়জনের সবাই নিউজিল্যান্ডের
নাগরিক। বলল, ‘নামগুলো দেখে ভেবেছিলাম এরা
ইউরোপীয়, কিন্তু এখন দেখছি এরা
নিউজিল্যান্ডের নাগরিক। এটুকু নতুন পাওয়া গেল।’
‘তাহলে আমাদের এখানে আসাটা কি ব্যার্থ হলো?’
বলল আল-হামাদী।
‘অনেক বিবেচনা সামনে নিয়ে এখানে এসেছি।
বিবেচনাগুলো আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন।
অতএব, হতাশা নয়। এপার্টমেন্টে উঠতে এখনও
এক ঘন্টা বাকি। চলুন, সময়টা আমরা কফিখানায় কাটাই।
বিকেলে তো কফিখানায় অনেক লোক পাওয়া
যাবে।’
বলে আহমদ মুসা উঠে দাঁড়াল। দু’জনে চলল
কফিখানার দিকে।
দু’জনের পরনেই শিখ ট্যুরিষ্টের ছদ্ধবেশ।
বিশাল কফিখানা। অনেক লোক, তবু ফাঁকাই মনে
হচ্ছে।
কফিখানার এক প্রান্তের মঞ্চে আরবী
পোষাকে একজন ইউরোপীয় গায়িকা হালকা সুরে
সেতার বাজিয়ে গান গাচ্ছে। দু’জন সেই আরবী
পোষাকে ইউরোপীয় তরুনী গানে সঙ্গ
দিচ্ছে হালকা রকমের শরীর দুলিয়ে।
বাহরাইনের কফিখানায় বিকালেও কফি পানের চল
আছে।
কফিখানায় নজর বুলাল। সাগর প্রান্তের
টেবিলগুলোতেই ভিড় বেশি। দেখা গেল দু’টি
চেয়ারের একটা টেবিল খালি আছে।
আহমদ মুসা নিউজ পেপার ষ্ট্যান্ড থেকে একটা
ইংরেজি পত্রিকা নিয়ে এগোলো সেই ফাঁকা
টেবিলটার দিকে।
টেবিলও একটা ইংরেজি পত্রিকা পড়ে ছিল।
আহমদ মুসা টেবিলে পৌঁছতেই ওয়েটার কাগজটা
নিয়ে যাচ্ছিল। ওটা ভিন্ন একটা ইংরেজি দৈনিক।
‘ওটাও আমি দেখব, রেখে যান প্লিজ।’ বলল
ওয়েটারকে আহমদ মুসা।
আহমদ মুসা ও আল-হামাদী বসল টেবিলে। আহমদ
মুসার পেছনেই আরেকটা টেবিল। চারজনের
টেবিল। তাতে চারজন শ্বেতাংগ বসে আছে।
আহমদ মুসা কফির অর্ডার দিয়ে পত্রিকা খুলে
পড়তে লাগল।
পেছনের টেবিলের কথাবার্তা নিচু স্বরে হলেও
কিছু টুকরো টুকরো শব্দ তার কানে আসছিল।
শব্দগুলো ইংরেজি নয়। দু’একটা কন্ঠ পরিচিত হিসাবে
কানে বাজছে। মাঝে মাঝে ইংরেজি শব্দও
আসছে। কিন্তু পরক্ষনেই কন্ঠ আবার অপরিচিত
শব্দে চলে যাচ্ছে। আহমদ মুসা দেখল ওদের
উচ্চারণচটা সাবলীল, কিন্তু অপরিচিত ভাষাটা তাদের
কন্ঠে সাবলীল শোনাচ্ছে না।
যা হোক, ওদের কথাবার্তায় মনোযোগী হওয়ার
এবং সেদিক থেকে মনোযোগ সরাতে না পারায়
আহমদ মুসার খবরের কাগজ পড়া এগোল না।
ইতিমধ্যে এসে গেল কফি।
এবার কফির কাপে মনোযোগ দিল আহমদ মুসা।
এখন তার খেয়াল হলো পেছনের কথাবার্তা আর
কানে আসছে না। সংগে সংগে মাথা ঘুরিয়ে দেখল
পেছনের টেবিল খালি।
কফির সাথে সাথে এবার কাগজে মনোযোগ দিল
আহমদ মুসা।
‘বাহরাইন টাইমস’ পড়ার পর আহমদ মুসা ‘বাহরাইন
ইন্টারন্যাল’ পত্রিকা টেনে নিল।
পত্রিকাটি খোলা অবস্থায় ভাঁজ করা ছিল। ভেতরের
খোলা অংশের উপর চোখ পড়তেই চোখ
আটকে গেল পত্রিকার মার্জিনে একটা লেখার
উপর। তিন শব্দের একটা লেখা। ইংরেজি বর্ণমালায়,
কিন্তু শব্দগুলো ইংরেজি নয়।
মনোযোগ দিয়ে পড়ল আহমদ মুসা।
বিস্মিত হলো আহমদ মুসা, এ যে তাহিতিয়ান ভাষা!
হঠাৎ আহমদ মুসার মাথায় এল, ‘পেছনের
টেবিলের যে শব্দগুলো তার কানে এসেছে,
সেগুলোও তো তাহিতিয়ান! তাহলে এ টেবিলেও
কি ওদেরই কেউ বসেছিল? পাশ দিয়ে ওয়েটার
যাচ্ছিল। আহমদ মুসা তাকে ডাকল। জিজ্ঞাসা করল, ‘এ
টেবিলে আমাদের আগে কারা বসেছিল, জান?’
‘স্যার, আপনাদের পেছনের টেবিলের ৪
জনের দু’জন আগে এই টেবিলেই বসেছিল,
পরে ওরা ঐ টেবিলে উঠে যায়।’ বলল ওয়েটার।
‘ধন্যবাদ ওয়েটার।’ আহমদ মুসা বলল।
‘মোস্ট ওয়েলকাম স্যার!’ বলে ওয়েটার চলে
গেল।
আবার লেখার দিকে মনোযোগ চলে গেল
আহমদ মুসার।
আহমদ মুসা মিন্দানাও থাকাকালে মুর হামসারের কাছে
তাহিতিয়ান ভাষা কিছুটা শিখেছিল। মুর হামাসার বলা যায় ঐ
অঞ্চলের ভাষার একজন বিশেষজ্ঞ প্রায়। তিন
শব্দের তাহিতিয়ান ভাষায় যে অর্থ আহমদ মুসা দাঁড়
করাল তা হলো: ‘অ্যাটল ক্ষমতার রাজধানী আজ।’
অর্থ করার পর আহমদ মুসা বিস্মিত হলো, পত্রিকার
যে মার্জিনে এই কথা লেখা আছে তার পাশেই
পত্রিকার যে ফিচারটা লেখা তা ‘অ্যাটল’-এর উপর।
পত্রিকার ৪ কলাম আট ইঞ্চি নিয়ে বিশাল ফিচারটা।
ফিচারের শিরোনাম হলো: ‘স্রষ্টার এক অপরূপ
সৃষ্টি পৃথিবীর অ্যাটল দ্বীপগুলো।’
শিরোনামটা আহমদ মুসাকেও আকৃষ্ট করল। ‘অ্যাটল’
জাতীয় দ্বীপের কথা সে শুনেছে, কিন্তু
কিছুই জানে না সে এই দ্বীপগুলো সম্পর্কে।
পড়ল আহমদ মুসা ফিচারটা।
পড়ে আহমদ মুসাও স্বীকার করল ‘অ্যাটল দ্বীপ’
সত্যিই আল্লাহর বিস্ময়কর সৃষ্টি! কিন্তু মার্জিনে
তাহিতিয়ান ভাষায় যা লেখা রয়েছে তার সাথে কোন
সংগতি খুঁজে পেল না আহমদ মুসা। ‘অ্যাটল দ্বীপ’
সুন্দর, বিস্ময়কর ঠিক আছে, কিন্তু ক্ষমতার
রাজধানী হলো কি করে?
এই জিজ্ঞাসার কোন উত্তর খুঁজে পেল না
আহমদ মুসা। বিষয়টা অর্থহীন অবচেতন একটা
মন্তব্যও হতে পারে।
‘স্যার, মাগরিবের নামাজ ঘনিয়ে আসছে। এদিকে
আমাদের বরাদ্দ এক ঘন্টা সময়ও পূর্ণ হয়ে
গেছে। আমরা এপার্টমেন্টে গিয়ে নামাজ
পড়তে পারি।’ বলল আল-হামাদী।
লেখা নিয়ে আহমদ মুসার চিন্তায় ছেদ পড়ল।
আহমদ মুসা আল-হামাদীর দিকে তাকিয়ে বলল,
‘হোটেলের মসজিদ দোতলায়। খাবারের প্রধান
হলপরও দোতলায়। আমরা মসজিদে নামাজ পড়ে,
ডিনার শেষ করে তারপর এপার্টমেন্টে নেমে
যাব।’ সব এপার্টমেন্টই সাগরের উপর একতলার
বিশাল বর্ধিত ডক অংশে তৈরি।
‘ঠিক আছে, এটাই ভাল হবে। নামাজ পড়ে খাওয়ার
আগে আমি একটু খোঁজ নিতে চাচ্ছি যে, আজ
বেলা ১ টার দিকে কারা হোটেলে এসেছে।’
বলল আল-হামাদী।
‘ঠিক বলেছেন, ওটা খুব জরুরী। খাবার ফাঁকে
আমরা লিস্টটা দেখে নেব। রাত দশটার পর
সন্দেহজনক টার্গেটগুলোর-আমরা খোঁজ-খবর
নিতে চাই। ‘ছয়’ সংখ্যাটা গুরুত্বপূর্ণ স্যার।’ বলল
আল-হামাদী।
‘ঠিক বলেছেন, ওটা খুব জরুরি। খাবার ফাঁকে আমরা
লিষ্টটা দেখে নেব। রাত দশটার পর সন্দেহজনক
টার্গেটগুলোর-আমরা খোঁজ খবর নেব।’
আহমদ মুসা বলল।
‘আমাদের পাশের এপার্টমেন্টেরও আমরা একটু
খোঁজ-খবর নিতে চাই। ‘ছয়’ সংখ্যাটি গুরুত্বপূর্ণ
স্যার।’ বলল আল-হামাদী।
‘অবশ্যই, মি. আল-হামাদী। এমন চিন্তা থেকেই
তো ওদের পাশের এপার্টমেন্টটা নিয়েছি। শুধু
‘ছয়’ সংখ্যা নয় মি. হামাদী, ওরা একটার দিকে
হোটেলে উঠেছে, এটাও গুরুত্বপূর্ণ। ওদের
বয়স অবশ্যই বড় কথা, কিন্তু বয়স নানাভাবে
বাড়ানো-কমানো যায়।’ আহমদ মুসা বলল।
আল-হামাদীর চোখ দু’টি উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
বলল, ‘ঠিক তো, এ দিকটা তো আমার মাথায়
আসেনি!’
আহমদ মুসা উঠে দাঁড়াল। বলল, ‘চলুন।’
আল-হামাদী উঠে দাঁড়াল। দু’জন বেরিয়ে এল
কফিখানা থেকে।
রাত ৯টায় আহমদ মুসারা লিফটে উঠল এ্যাপার্টমেন্টে
নামার জন্যে।
এক তলায় লিফটের দরজা খুলতেই এক নয়নাভিরাম
দৃশ্য চোখে পড়ল আহমদ মুসাদের।
ডেকের তিন প্রান্ত দিয়ে সাগরের ধার ঘেঁষে
এপার্টমেন্টের সারি। এপার্টমেন্টের
ফেসগুলো সব সমুদ্রের দিকে।
এপার্টমেন্টগুলোর দু’পাশ ও পেছন ঘিরে বাগান।
পেছনের বাগানগুলোর পরে দীর্ঘ প্রশস্ত
ডেকে টেনিস-ব্যাডমিন্টনের কোর্ট ও
শিশুদের খেলাখুলা করার মত জায়গা। এসবের মধ্যে
দিয়ে লাল পাথরের রাস্তা তৈরি হয়েছে
ফ্ল্যাটগুলোতে যাবার।
প্রতিটি এপার্টমেন্টের টপে নিয়ন সাইনে
এপার্টমেন্টের নাম্বার লিখা।
আহমদ মুসাদের এপার্টমেন্ট নাম্বার ‘সিগাল
সুইট-১১’।চোখ ঘুরাবার সময় সর্বশেষ নাম্বারটাও
চোখে পড়ল:’সি-গাল তাজ-৩৩’।
আহমদ মুসাদের এপার্টমেন্ট মাঝ বরাবর থেকে
একটু ডান পাশে। তার মানে সিরিয়ালটা শুরু হয়েছে
দক্ষিণের প্র্রান্ত থেকে।
আহমদ মুসারা লাল পাথরের রাস্তা ধরে
এঁকেবেঁকে এগুলো তাদের এপার্টমেন্টের
দিকে।
প্রতিটি এপার্টমেন্টের পেছনের বাগানের
ভেতর দিয়ে এপার্টমেন্টে ওঠার গেট।
আহমদ মুসারা বাগানের সু্ন্দর গ্রিলের গেট খুলে
বাগানের ভেতরে প্রবেশ করল।
বাগানের ভেতর দিয়েও সেই লাল পাথরের রাস্তা।
লাল রাস্তা ধরে আহমদ মুসারা এগুলো গেটের
দিকে।
মাথায় নীল গম্বুজের পরা সুন্দর গেট। দামি
কাঠের সুন্দর দরজা মুসলিম ঐতিহ্যের লতা-পাতার
অপরূপ কারুকাজে ভরা।
একদম সামনের ফেসটা মজবুজ, সুন্দর, উঁচু
ফেন্সে ঘেরা প্রশস্ত লন। ফেন্সের মাঝখানে
তালাবদ্ধ একটা গ্রিলের দরজা আছে। দরজা
খুললেই পাওয়া যাবে একটা সিঁড়ি এবং সেটি নীচে
নেমে গেছে। সিঁড়ির গোড়ায় বাঁধা আছে
বোট।
প্রতিটি এপার্টমেন্টের একই ব্যবস্থা কিনা, তা
দেখার জন্যে আহমদ মুসা তাকাল পাশের
এপার্টমেন্টের জন্য দশ দশ ফুটের
সাইডগার্ডেনে নামা যায়।
পাশের এপার্টমেন্টের সামনে চোখ পড়তেই
ভূত দেখার মত আঁৎকে উঠল আহমদ মুসা। দেখল
এপার্টমেন্টটি থেকে সাগরে নেমে যাওয়া সিঁড়ির
গোড়ায় একটা টিউব সাবমেরিন ভাসছে। টিউব
সাবমেরিনের গায়ের একটা হোল দিয়ে একজন
প্রবেশ করছে, আরেকজন অপেক্ষমাণ
হোলের মুখে।
সংগে সংগেই আহমদ মুসার মাথায় এল এটাই তো
সেই নিউজিল্যান্ডের ছয় জনের ভাড়া নেয়া ‘সি-গাল
আল-হামরা-১২’ এপার্টমেন্ট!
একটা প্রচন্ড ঝড়ে রহস্যের সব দরজা এক
সাথেই খুলে গেল আহমদ মুসার সামনে।
মুহূর্তের জন্যে একটা বিমূঢ়তা এসে আহমদ
মুসাকে আচ্ছন্ন করল।
তাকাল সে সাগরের সিঁড়িতে নামার গ্রিলের দরজার
দিকে। ওটা তালাবদ্ধ। চাবি কোনটা বা কোথায় তা তার
জানা নেই। খুঁজলে বা জিজ্ঞাসা করলে জানা যাবে।
সে সময় কোথায়? এখনি ওদের আটকাতে হবে।
আহমদ মুসা হাতে রিভলবার আগেই উঠে এসেছিল।
গুলি করে আহমদ মুসা গ্রিলের দরজার তালা ভেঙে
ফেলল।
এক টানে দরজা খুলে ফেলল আহমদ মুসা। সাগরে
নামার সিঁড়ির দিকে এগোচ্ছিল দ্রুত।
বুঝতে পেরেছে আল-হামাদীও।
সেও আহমদ মুসার পেছনে ছিল।
হঠাৎ সে চিৎকার করে উঠল, ‘স্যার, ওরা বোমা
ছুঁড়েছে!’
আল-হামাদীর কথা শেষ হবার আগেই একটা কিছু
এসে বুম করে ফেটে গেল তাদের পাশের
গ্রিলে।
আহমদ মুসার সেদিকে তাকাবারও সময় হলো না।
কয়েকটা শব্দ তার কানে এল। তা ভাববারও তার সময়
হলো না। তার দেহটা লুটিয়ে পড়ল খোলা দরজার
উপর। তার পেছনে আল আল-হামাদীর দেহটাও
ঝরে পড়ল দরজার পেছনে মেঝের উপর।
কতক্ষণ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে ছিল তা ভাবতে
পারছে না আহমদ মুসা। সংজ্ঞা ফিরে আসতেই
আহমদ তার কষ্টকর অবস্থায় পড়ে থাকাটা প্রথম
উপলব্ধি করল।
তার কোমর থেকে উপর দিকটা ছিল দরজার উপর।
আর সিঁড়ির উপর ঝুলছিল দেহের পেছনের অংশ।
আহমদ মুসা দ্রুত উঠে বসে তাকাল পাশের
এপার্টমেন্টের সামনে। যেখানে সাগরে দাঁড়িয়ে
ছিল টিউব সাবমেরিন। কিছুই সেখানে নেই। শান্ত,
নিস্তরঙ্গ সাগরের বুক।
আহমদ মুসা তাকাল হাত ঘড়ির দিকে। রাত ১ টা বাজে।
তার মানে চার ঘন্টা সে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিল।
আহমদ মুসা হিসাব করল বাহরাইনের আল-মুহাররেক
দ্বীপ থেকে পারস্য উপসাগরের মুখ হুরমুজ
প্রণালীয় দূরত্বের কথা। ছয়শ’ কিলোমিটারের
কম হবে না। চার ঘন্টায় ৬শ’ কিলোমিটার অতিক্রম
করা টিউব সাবমেরিনের জন্যে কঠিন নয়।
তবু আহমদ মুসা তাঁর দেয়া অয়্যারলেস থেকে কল
করল সৌদি নিরাপত্তা প্রধান ইবনে আবদুল আজিজ
আল-সউদের কাছে। আহমদ মুসা বুঝল ঘুম
থেকে উঠে তিনি কল রিসিভ করলেন। আহমদ মুসা
সালাম দিতেই ওপার থেকে উদ্বিগ্ন কন্ঠে সৌদি
নিরাপত্তা প্রধান আল-সউদ সালাম দিয়ে বলল, ‘আহমদ
মুসা, আপনি ভাল আছেন?’
‘এক্সিলেন্সি! চার ঘন্টা সংজ্ঞাহীন থাকার পর জ্ঞান
ফিরে পেয়েই আপনাকে কল করছি!’
বলে আহমদ মুসা সব ঘটনা তাকে জানিয়ে বলল,
‘যদিও টিউব সাবমেরিন এতক্ষণে হুরমুজ প্রণালী
অতিক্রম করে যেতে পারে। তবু আপনি নির্দেশ
দিয়ে দেখতে পারেন, হুরমুজ প্রণালীতে এই
মুহুর্তে আপনাদের নৌবাহিনী পাহাড়া বসাতে পারে
কিনা। হুরমুজ প্রণালীতে ওদের আটকাতে না
পারলে পরে আর তা সম্ভব নয়।’
‘ধন্যবাদ আহমদ মুসা। আমি নির্দেশ দিচ্ছি। আমি
আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি যে, আপনি শুধু জানা
নয়, কাছাকাছিও যেতে পেরেছেন। এটা বড়
সাফল্য। আমরা দু:খিত আহমদ মুসা আপনাকে এই
কষ্টে ফেলার জন্যে। এর কোন বিনিময় দেয়া
তো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আল্লাহ
আপনাকে এর উপযুক্ত যাযাহ দিন।’বলল সৌদি নিরাপত্তা
প্রধান আল-সউদ।
‘আল-হামদুলিল্লাহ! আল্লাহই আমাদের জন্যে
যথেষ্ট। ওকে এক্সিলেন্সি আপনার সাথে পরে
কথা বলব।আপনি ওদিকের কাজ সারুন। আসসালামু
আলাইকুম।’
ধন্যবাদ দিয়ে, সালাম নিয়ে কল অফ করে দিল ওপার
দিল থেকে আল-সউদ।
আহমদ মুসা কল অফ করে দিয়ে মনোযোগ দিল
আলী আল-হামাদীর দিকে। তার সংজ্ঞা এখনও
ফিরে আসেনি।
আরও সময় নিল আলী হামাদীর সংজ্ঞা ফিরে
আসতে।
আহমদ মুসা বসেছিল গ্রিলের দরজায়। তার দুই পা
সাগরে নামা সিঁড়ির উপর।
সামনে পারস্য উপসাগরের দিগন্তপ্রসারী কালো
কালো বুক। মাঝে মাঝে এই কালো বুকে তারার
মত আলো জ্বলে উঠছে, আবার তা হারিয়ে
যাচ্ছে।
সেই ভাবনাটা আবার আহমদ মুসার মাথায় ফিরে এল।
সৌদি নিরাপত্তা প্রধান আল-সউদ কি চেষ্টা করলেন
হুরমুজ প্রণালীতে তাদের আটকাতে। আশা কম।
টিউব সাবমেরিনের ক্ষমতা সাধারণভাবেই বেশি। আর
ওতে যদি কোন বিশেষ জ্বালানি ব্যবহার করা হয়ে
থাকে তাহলে গতিটা আরও বেশি হতে পারে। সুতরাং
ওদিক থেকে কোন আশা নেই। কোথায় গেল
ওরা?
হঠাৎ আহমদ মুসার মনে পড়ল জ্ঞান হারাবার সময়
ওদের কন্ঠ থেকে ভেসে আসা তিনটি শব্দের
কথা।
মনে পড়তেই চমকে উঠল আহমদ মুসা।
শব্দগুলো তো তাহিতিয়ান! এদের মুখে তাহিতিয়ান
ভাষা লেখা দেখেছে, তা কি এদের কেউ
লিখেছে! তার টেবিলের পেছনে বসা যাদের
মুখে তাহিতিয়ান ভাষা শুনেছে, তার কি এরাই? তারা
এরাই, যুক্তি তো এটাই বলে। আহমদ মুসা এটাই
ভাবল।
এর সাথে আরেকটা ভাবনা চেপে বসল আহমদ
মুসার মনে। বুঝা গেছে, তাহিতিয়ান ভাষা এদের
মাতৃভাষা নয়। নিজেদের কথা আড়াল করার জন্যে
অপরিচিত তাহিতিয়ান ভাষা ব্যবহার করেছে। কিন্তু
প্রশান্ত মহাসাগরের ক্ষুদ্র একটা দ্বীপ তাহিতি,
সেই তাহিতির ভাষা এরা ব্যবহার করল কেন?
মাথায় একটা চিন্তার উদয় হওয়ার সাথে সাথেই
ভীষণভাবে চমকে উঠল আহমদ মুসা। ওরা কি
তাহিতিতে থাকে? ওদের হেডকোয়ার্টার কি
তাহিতিতে বা আশে-পাশে কোথাও?
আরেকটা প্রশ্ন আহমদ মুসার কাছে খুব বড় হয়ে
দেখা দিল। কফিখানার সেই খবরের কাগজে অ্যাটল
দ্বীপের প্রশংসা এভাবে এতটা করল কেন? যে
অ্যাটল আজ ক্ষমতার রাজধানী। এটা কি একটা কথার
কথা? না এর সাথে ব্ল্যাক সান সিন্ডিকেটের কাজ
কিংবা পরিকল্পনার কোন যোগ আছে?
সব এক সাথে আহমদ মুসার মাথায় জট পাকিয়ে
গেল। কিন্তু সব ছাপিয়ে একটা বিষয় তার কাছে
সুস্পষ্ট হয়ে উঠল যে, তাহিতি দ্বীপ ও ‘অ্যাটল
দ্বীপ’-এর সাথে ব্ল্যাক সানের কোন না
কোন সম্পর্ক রয়েছে।
এই সংগে তার কাছে আরেকটি প্রশ্নও বড় হয়ে
উঠল, বিজ্ঞানীকে কিডন্যাপকারীরা তাহিতিয়ান ভাষা
মানে তাহিতির সাথে সম্পর্কিত, এ বিষয়টিও খুবই
স্পষ্ট। তাহলে কি কিডন্যাপকারীরা বিজ্ঞানীকে
তাহিতিতে কিংবা তাহিতির দিকে কোথাও নিয়ে গেল?
উজ্জ্বল হয়ে উঠল আহমদ মুসার মুখ। একটা নতুন
আশার আলো জাগল তার মনে। কিডন্যাপড হওয়া
অন্য সব বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদেরও তাহলে
কি ঐ একই স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে!
সংজ্ঞা ফিরে পেয়েছে আলী আল-হামাদী।
উঠে বসল সে।
‘মি. আলী আল-হামাদী, চিড়িয়া উড়ে গেছে
আমাদের সংজ্ঞাহীন করে দিয়ে।’ বলল আহমদ
মুসা।
‘তাহলে এরাই কিডন্যাপার? আমাদের বিজ্ঞানীকে
নিয়েই ওরা পালিয়েছে?’ বলল আলী আল-
হামাদী।
‘হ্যাঁ, এরাই কিডন্যাপার। আমরা ওদের সন্দেহের
আওতায় এনেও কিছু করতে পারিনি। হয়তো
আল্লাহর এটাই ইচ্ছা। আল্লাহর পরিকল্পনা হতে
পারে এমনটাই যে, ‘শুধু এক বিজ্ঞানী নয়,
কিডন্যাপড হওয়া বা হারিয়ে যাওয়া বিজ্ঞানী ও
বিশেষজ্ঞদের ব্যাপারেই আমরা চিন্তা করি।’
আহমদ মুসা।
‘বুঝলাম না স্যার। আরও কি কিডন্যাপড হয়েছে?’
জিজ্ঞাসা আলী আল-হামাদীর। তার চোখে-
মুখে বিস্ময়।
‘হ্যাঁ, মি. আল-হামাদী। এ পর্যন্ত অনেক
বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ হারিয়ে গেছে। বিচ্ছিন্ন
অনুল্লেখযোগ্য নিউজ হিসাবে সেগুলো বের
হয়েছে। কোন কোনটা প্রচারও পেয়েছে।
কিন্তু এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়া কোন হৈ-চৈ
করেনি।’ বলল আলী আল-হামাদী।
‘তাজ্জবের ব্যাপার! এ নিয়ে হৈ চৈ হয়নি কেন?
এসব নিয়ে তো হৈ চৈ হবারই কথা! পাশ্চাত্য মিডিয়া
মানবাধিকার’ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নিয়ে তো
পাগল!’ বলল আলী আল-হামাদী।
হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘সব কারণের কথা আমি জানি
না। তবে বড় একটা কারণ এই হতে পারে কিডন্যাপড
বা হারিয়ে যাওয়া প্রায় সবাই মুসলমান।’
‘হ্যাঁ, সাংঘাতিক কথা! এই সাংঘাতিকটাই সত্য আল-হামাদী।’
আহমদ মুসা বলল।
উত্তরে কথা বলল না আল-হামাদী। বলতে পারল
না। তার বিস্ফরিত দুই চোখ নিস্পলকভাবে তাকিয়ে
আছে আহমদ মুসার দিকে।
আহমদ মুসাই কথা বলল আবার তার হাত ঘড়ির দিকে
একবার তাকিয়ে, ‘রাত ২টার বেশি বেজে গেছে
মি. আল-হামাদী। চলুন, ঘুমাতে হবে। এত টাকা
দিয়ে এপার্টমেন্ট নেয়া হলো, ব্যবহার তো
করতে হবে!’
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now