বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একটি দ্বীপের সন্ধানে (চ্যাপ্টার- ২)

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ২ মদিনা মনোওয়ারা বিমান বন্দরে টপ ফ্লোরে ভিভিআইপি মিটিং রুম। ওভাল সিটিং টিবিলের সভাপতির আসনে বসেছেন মদিনার গভর্নর। তার এক পাশে সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অন্য পাশে বসেছে আহমদ মুসা। অভাল টেবিল ঘিরে অন্যদের মধ্যে রয়েছে সৌদি অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা প্রধান, সৌদি কাউন্টার টেররিজম গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান, পুলিশ প্রধান ও মদিনা মনোয়ারা নিরাপত্তা কমিটির প্রধান। মদিনার গভর্নর, আহমদ মুসা ও মদিনা মনোওয়ারা নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ছাড়া অন্য সবাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে রিয়াদ থেকে এসেছেন। মিটিং উদ্বোধন করেছিলেন মদিনার গভর্নর। তিনি উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি যে, অল্প সময়ের জন্যে রিয়াদ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, জাতীয় দুই গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান ও পুলিশ প্রধান এসেছেন। আহমদ মুসা ও তার পরিবার আমাদের নাগরিক হলেও আমাদের সম্মানিত ও মূল্যবান অতিথিও। সৌদি আরবে তাদের জীবনে উপর আক্রমণ এই প্রথম। এই আক্রমণ আসলে সৌদি সিকিউরিটি ব্যবস্থারর উপর। আমরা আনন্দিত যে, খাদেমুল হারামাইন শরীফাইনের মহান বাদশা বিষয়টিকে এভাবে দেখেছেন এবং একটি সবোর্চ্চ কমিটি রিয়াদ থেকে পাঠিয়েছেন। তারা আসার আগে আমরা আরও দু’বার বসেছি। আল-হামদুলিল্লাহ! আহমদ মুসার পরমর্শে আমরা ঘটনার গভীরে প্রবেশ করতে পেরেছি। একটা ষড়যন্ত্র নেটওয়ার্কের গোটাটাকেই মনে হয় আইডেনটিফাই করা গেছে। এ ব্যাপারে রিপোর্ট পেশ করার জন্য আমি মদিনা মনোওয়ারার সিকিউরিটি কমিটির প্রধানকে সংক্ষেপে রিপোর্ট পেশ করার জন্য অনুরোধ করছি।’ প্রাদেশিক রাজধানী মদিনা মনোওয়ারার নিরাপত্তা কমিটির প্রধান জেনারেল আলী আবদুল্লাহ আল-হাবশা সোজা হয়ে বসল। কথা শুরুর ফর্মালিটি শেষ করে বলল, ‘বিস্ফোরণের সময় আমি বিমান বন্দরের সিকিউরিটি কক্ষে ছিলাম।’ বিস্ফোরণের সংগেই বিমান বন্দর সীল করে দেয়া হয়। কাউকে ঢুকে ও বের হতে দেয়া হয়নি। আর সংগে সংগেই বিমান বন্দর সার্চ করা হয়েছে সন্দেহজনক কিছ কিংবা কাউকে পাওয়া যায় কিনা সেটা নিশ্চিত করার জন্য। বিস্ফোরিত বিমান ও বিস্ফোরণস্থল পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ একই সাথে চালানো হয়। পরের গুরুত্বপূর্ণ কাজটি আমরা করি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরামর্শে। তিনি আমাদের নির্দেশ দেন, গত রাতে থেকে বিস্ফোরণ পর্যন্ত যারা বিমান বন্দর, টার্মাক ও বিমানে প্রবেশ করেছে, তাদের তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় নিয়ে আসতে। বিমান…..।’ জেনারেল আলী আবদুল্লাহ আল-হাবশীর কথার মাঝখানেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলে উঠল, ‘এই পরামর্শ বিমান বন্দর থেকে আহমদ মুসাই আমার কাছে পাঠিয়েছিল। স্যরি জেনারেল। বলুন আপনি।’ জেনারেল আলী আবদুল্লাহ আবার শুরু করল, ‘বিমান বন্দর, টার্মাক, বাইরে রাস্তা প্রভৃতি সংশ্লিষ্ট সকল জায়গায় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা থেকে আমরা আগের মত সকাল ৮টা থেকে পরের দিন সকাল ৮টা পর্যন্ত ১২ ঘন্টা সময়ে যারা বিমান বন্দরে, টার্মাক ও বিমানে প্রবেশ করেছেন, তাদের বিস্তারিত একটা তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই তালিকায় আমরা দেড় হাজার লোককে- যাদের মধ্যে আউটগোয়িং প্যাসেঞ্জারের সংখ্যাই সাড়ে ১৪শ’।অবশিষ্ট পঞ্চাশ ননপ্যাসেঞ্জার। এই পঞ্চাশ জনের মধ্যে বিমান বন্দর অফিসিয়ালস, ইমিগ্রেশন অফিসিয়ালস সার্ভিসিং কর্মী ও কেবিন ক্রুর সংখ্যা ৪৯ জন। মাত্র একজন ননঅফিসিয়ালস। কিন্তু তিনিও একজন ভিআইপি। এরোমেটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার আবুল ওয়াফা আল-সিদরী। তিনি আমাদের বিমান-বাহিনীর একজন টেকনিক্যাল উপদেষ্টা। আজ ভোরে পাঁচটায় তাঁকে ডাকা হয় বিশেষ বিমানটির একটা চেক করার জন্য।’ একটু থামল জেনারেল আলী আবদুল্লাহ আল-হাবশী। সামনে গ্লাস থেকে একটু পানি খেয়ে আবার শুরু, ‘এই পঞ্চাশ জনের ছবি ও বায়োডাটা নিয়ে একটা প্রোফাইল তৈরি করা হয়েছে এবং এরা সকলেই কর্মক্ষেত্রে কিংবা নিজ নিজ বাড়িতে হাজির আছে। বিনা অনুমতিতে তাদের মদিনার বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এটা নিশ্চিত করার জন্যে তাদের প্রত্যেকের উপর নজর রাখা হয়েছে।’ বলে একটু থামল। একটু নড়ে-চড়ে বসে আবার শুরু করল, ‘বিমান বন্দরের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় এদের যে গতিবিধি ধরা পড়েছে, তাতে অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া যায়নি। এদের পার্সোনাল ফাইলে তাদের যে অতীত রেকর্ড পাওয়া গেছে, তাতে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। এটা প্রাথমিক অনুসন্ধানের ফল। নিরাপত্তা কমিটির পক্ষ থেকে বিষয়টি মহোদয় সমীপে পরামর্শ ও নির্দেশনার জন্য পেশ করা হলো।’ থামল জেনারেল আবদুল্লাহ। সংগে সংগে কেউ কোন কথা বলল না। নিরব কিছুক্ষণ সবাই। মদিনা মনোয়ারার গভর্নর নিরবতা ভাঙল। বলল, ‘নিরাপত্তা কমিটিকে ধন্যবাদ। তারা গত তিন ঘন্টায় তদন্তের প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু এই রিপোর্টে আনন্দিত হবার কিংবা সামনে এগোবার কোন আলো দেখছি না। অপরাধীদের প্রতি কোন অঙুলি সংকেত নেই। রিপোর্ট আমরা সবাই শুনেছেন। এখন দয়া করে বলুন, আপনাদের পরামর্শ কি? কোন দিকে অঙ্গুলি সংকেত করার মত আপনারা কিছু দেখছেন কিনা।’ থামল গভর্নর। মুখ খুলল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলল, ‘তদন্ত কমিটি তার রিপোর্টের শেষে মন্তব্য করেছে, গত রাত ৮টা থেকে আজ সকাল ৭ টা পর্যন্ত বিমান বন্দরে এসেছে, টার্মাক ও বিশেষ বিমানটিতে ঢুকেছে, তাদের গতিবিধিতে কোন অস্বাবিকতা দেখা যাচ্ছে না এবং তাদের অতীত রেকর্ডেও সন্দেহজনক কিছু নেই। এই মন্তব্যের পর নতুন অনুসন্ধান ছাড়া কিছু বলার বা অপরাধী হিসেবে কারও দিকে অংগুলি সংকেতের কোন সুযোগ নেই। আমি ভাবছি, গুরুত্বপূর্ণ এই তদন্ত কাজটি পুলিশের অপরাধ অপরাধ তদন্তের ব্যাপারে সরকারের ‘এন্টিটেররিষ্ট কমিশন’ ও ‘‘সেনা গোয়েন্দা সংস্থা’র প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটা যৌথ কমিটির হাতে দেয়া উচিত। এ কাজে ভাই আহমদ মুসার সাহায্য পেলে ভাল হতো, কিন্তু অন্য একটা বড় কাজ তার হাতে আছে।’ থামল স্বরাষ্টমন্ত্রী। উপস্থিত সবাই একে একে স্বরাষ্টমন্ত্রীর প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানাল। শুধু আহমদ মুসাই কিছু বলল না। ভাবছিল সে। সবশেষে গর্ভনর আহমদ মুসার দিকে তাকাল। বলল, ‘ভাই আহমদ মুসা, এবার প্লিজ আপনি কিছু বলুন। কোন আশার কথা বলুন।’ ‘ধন্যবাদ এক্সিলেন্সি!’ বলে শুরু করল আহমদ মুসা। বলল, ‘মানণীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঠিকই নিয়েছেন এমন ঘটনা তদন্তের জন্য ঐ রকম একটি চৌকস তদন্ত কমিটিরই প্রয়োজন। তবে আমি কয়েকটা বিয়ষ জানতে চাই, বলতে চাই।’ একটু থামল আহমদ মুসা। তাকাল জেনারেল আলী আবদুল্লাহর দিকে। বলল, ‘বিশেষ বিমানটির পাইলট অফিসার ও কেবিন ক্রদের দায়িত্বে যারা ছিলেন সবাই মারা গেছেন। বিশেষ বিমানটিতে ওঠার লোকদের মধ্যে শুধু বেঁচে আছেন এ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার আবুল ওয়াফা ও ফ্লাইট উত্তর সার্ভিসিং কর্মীরা। বিভিন্ন টেকনিক্যাল বিভাগের সার্ভিসিং কর্মীরা যারা বিমানে উঠেছিলেন বা বিমানের কাছে গিয়েছিলেন কাজের জন্যে তাদের সংখ্যা কত হবে, মি. জেনারেল?’ ‘স্যর, সব মিলিয়ে তাদের সংখ্যা পাঁচজন।’ বলল জেনারেল আলী আবদুল্লাহ। ‘এ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার জনাব আবুল ওয়াফাসহ এদের তথ্য-বিবরণী কি ম্যানুয়ালি রেকর্ড করেছেন, না শো করার মত কম্পিউটারাউজড্ বিবরণীও আছে?’ জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার। ‘দু’ভাবেই রেকর্ড করা হয়েছে স্যার।’ বলল জেনারেল। ‘এখন কি শো করা যায়?’ জানতে চাইল আহমদ মুসা। ‘অবশ্যই স্যার।’ বলল জেনারেল আলী আবদুল্লাহ। ‘তাহলে ইঞ্জিনিয়ার আবুল ওয়াফা আল-জিদয়ী দিয়ে শুরু করুন।’ আহমদ মুসা বলল। ‘ওকে স্যার।’ বলে কাজ শুরু করে দিল সে। সব ব্যবস্থা করাই ছিল টেবিলে। টেবিলের বিশেষ ড্রয়ার খুলে সেখান থেকে একটা তাঁর বের করে জেনারেল আলী আবদুল্লাহ তার ল্যাপটপে ঢুকিয়ে দিল। সেই সাথেই সামনের দেয়ালের মাঝামাঝি জায়গা থেকে তিন ফুট বর্গাকৃতির একটা স্লাটড সরে গেল। দেখা গেল সেখানে বড় একটা কম্পিউটার স্ক্রিন। স্ক্রিনে ভেসে উঠল একটা ছবি। ‘স্যার, আমি ইঞ্জিনিয়ার আবুল ওয়াফা আল-জিদয়ী দিয়েই শুরু করছি।’ বলল জেনারেল আলী আবদুল্লাহ। প্রথমে স্ক্রিনে এল ইঞ্জিনিয়ার আলী আবদুল্লাহর ছবি। তারপর একে একে জন্ম, পিতা-মাতার নাম ও তাদের ছবি, লেখা-পড়া, কর্মজীবনে প্রবেশ, বিয়ে, স্ত্রীর ছবি, নাম ও পেশা, উপদেষ্টা হিসেবে সৌদি এয়ারলাইন্সে যোগদান ইত্যাদিসহ ব্যক্তিগত জরুরি বিষয়সমূহ তুলে ধরা হলো। এভাবে মদিনা বিমান বন্দরের পাঁচজন গ্রাউন্ড ষ্টাফের সদস্যেরও পূর্ণ জীবন-বৃত্তান্ত কম্পিউটার স্ক্রিনে আনা হলো। আহমদ মুসা গভীর মনোযোগের সাথে সবার জীবন বৃত্তান্ত দেখছিল। বিভিন্ন সময় তার চোখে-মুখে প্রশ্ন, কিছু বিস্ময় ফুটে উঠতে দেখা গেল। জীবন বৃত্তান্ত দেখানো শেষ হলে আবার নিরবতা নামল সীটিং রুমে। এবার নিরবতা ভাঙল আহমদ মুসা। জেনারেল আলী আবদুল্লাহকে লক্ষ করে আহমদ মুসা বলল, ‘জেনারেল আলী আবদুল্লাহ, ইঞ্জিনিয়ার আবুল ওয়াফার জন্ম, লেখা-পড়া, বিয়ে মিসরে, এটা তো দেখাই গেল। কিন্তু পাঁচ গ্রাউন্ড ষ্টাফ-সার্ভিসিং কর্মীর মধ্যে আলী হাসানের জন্ম, লেখা-পড়া বিয়ে কি মিসরে?’ ‘ঠিক স্যার, এ বিষয়টি তার বায়োডাটাতে নেই। ঠিক আছে, তার পারসোনাল প্রোফাইলে ওটা পাওয়া যাবে।’ বলে জেনারেল আলী আবদুল্লাহ তার ল্যাপটপের ভিন্ন একটা ফাইলে গিয়ে ক্লিক করতেই দেয়ালের কম্পিউটার স্ক্রিনে আলী হাসানের বিশদ জীবন-বৃত্তান্ত এসে গেল। তাতে দেখা গেল আলী হাসানের জন্ম, লেখা-পড়া, বিয়ে সবই মিসরে। আহমদ মুসা জেনারেল আলি আবদুল্লাহকে ধন্যবাদ দিয়ে বলল, জেনারেল আরেকটা তথ্য পাওয়া কি সম্ভব, ইঞ্জিনিয়ার আবুল ওয়াফা বিয়ে করেছেন মায়ের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়া বা মাতৃকুলের কাউকে কী?’ গভর্নর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সকলের বিস্ময় দৃষ্টি আহমদ মুসার দিকে। এসব প্রশ্ন জেনে কি দরকার, এটা তাদের ভাবনার বিষয় নয়। কিন্তু কেউ কিছু বলল না। জেনারেল আলী আবদুল্লাহ হাসল। বলল, ‘এর উত্তর আমরা অনেকেই জানি স্যার। ইঞ্জিনিয়ার সাহেব তার মায়ের বোনঝি মানে তিনি তার খালার মেয়েকে বিয়ে করছেন।’ ‘ধন্যবাদ জেনারেল, আমার একটা খবর জানার কৌতুহল আছে। ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের খালার নাম কি আমাত আল-কাদির?’ ‘জি হ্যাঁ, তাঁর নাম আমাত আল-কাদির। মিসর-সিনেমার তিনি নাম করা অভিনেত্রী, আবার লেখিকাও। কিন্তু এটা আপনি জানলেন কি করে স্যার? আপনি কি তাকে চেনেন?’ বলল জেনারেল আলী আবদুল্লাহ। ‘না, চিনি না জেনারেল। অন্য একটা হিসেব থেকে আমি এটা বলেছি।’ বলে আহমদ মুসা ফিরে তাকাল গভর্নর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকে। বলল, ‘এক্সিলেন্সি, মদিনা মনোয়ারার গভর্নর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী! আমার বিবেচনায় ভূল থাকতেও পারে, তবে মনে করছি ইঞ্জিনিয়ার আবুল ওয়াফা ও আলী হাসান ভিন্ন ভিন্নভাবে বা যুক্তভাবে আহমদ মুসাকে হত্যার এই ষড়যন্ত্র করেছিল। ষড়যন্ত্রের জাল অনেক আগেই বিস্তার করা হয়। তারা সুযোগের সন্ধানে থাকে। অবশেষে উপস্থিত একটা সুযোগকে তারা কাজে লাগায়। আমি মনে করি তাদের দু’জনকে গ্রেফতার করে তদন্ত চালালে সবকিছু প্রমাণিত হয়ে যাবে।’ গভর্নর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ উপস্থিত সকলের চোখে-মুখে অপার বিস্ময়! ইঞ্জিনিয়ার আবুল ওয়াফা ও আলী হাসান দুই জনের কারো বিরুদ্ধেই তারা কিছুই দেখছে না। আহমদ মুসা কিভাবে এমন চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিচ্ছে। অবশ্য এটা ঠিক, আহমদ মুসা শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেন না। গভর্নর তাকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও তাকিয়েছিল গভর্নর দিকে। বোধ হয় বুঝল তারা দু’জনের কথা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকাল আহমদ মুসার দিকে। বলল, ‘আপনার পরমর্শ আমাদের কাছে নির্দেশ। মি. আহমদ মুসা, আমরাও সব দেখলাম শুনলাম, কিন্তু আমরা তো কিছু বুঝতে পারছি না। আমরা জানতে খুব আগ্রহী আপনি এই সিদ্ধান্ত কি কারণে, কি জন্য নিলেন।’ আহমদ মুসা হাসল। বলল, ‘শক্তিশালী কোন এভিডেন্স, যথেষ্ঠ রকম কোন কার্যকরণের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত আমি নিইনি। দুর্বল একটা ক্লু আমি পেয়েছি, তার ভিত্তিতেই বড় এ সিদ্ধান্তটি আমি নিয়েছি।’ ‘সেটা কি মি. আহমদ মুসা? বলল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।’ ‘তিনটি বিবেচনা থেকে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রথমটি হলো, ইঞ্জিনিয়ার আবুল ওয়াফার মা, স্ত্রী ও খালা এই তিনজন এবং আলী হাসানের স্ত্রীও ইহুদি। দ্বিতীয় বিবেচনা ছিল, সম্প্রতি আমি ইস্তাম্বুল ও পূর্ব আনাতোলিয়ার যাদের ষড়যন্ত্র ও স্বার্থ মাটি করে দিয়েছি, তাদের সাথে যুক্ত ছিল ইহুদি স্বার্থ। সুতরাং প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয়ার আশু আশংকা তাদের তরফ থেকেই আসার কথা। তৃতীয় বিবেচনা হলো, স্পেশাল ফ্লাইটের নির্দিষ্ট স্পেশাল প্লেনটির জন্যে তাকে কল করা হয়নি, তিনি বিমান বন্দরে এসে সুযোগ সৃষ্টি করে তবেই প্লেনে উঠেছিলেন। কল রেজিষ্টারে তার জন্য কল এন্ট্রি হয়েছে তিনি বিমান বন্দরে আসার পর। কলের কারণটাও স্পেসেফিক নয়, জেনারেল।’ থামল। ‘ধন্যবাদ মি. আহমদ মুসা। তিনটি বিবেচনা এক সাথে করলে আপনার সিদ্ধান্তকেই অপরিহায্য করে তোলে। কিন্তু মি. আহমদ মুসা, ইঞ্জিনিয়ার আবুল ওয়াফার মা, স্ত্রী, খালা ও আলী হাসানের স্ত্রীকে ইহুদি বলছেন কেন?’ মুসলিম নাম নিয়ে এবং মুসলিম হিসেবেই ওরা ঘর-সংসার করছেন।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলল। ‘একথা ঠিক, ইহুদিরা এখন এ নামগুলো ব্যবহার করে না। কিন্তু মধ্যযুগে মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে মিসরে এই নামগুলোর ব্যাপক প্রচলন ছিল। সাধারণভাবে এই নামগুলো ইহুদীরা ব্যবহার করতো। মধ্যযুগের বিভিন্ন ইহুদী ডকুমেন্টে বিশেষ করে মিসরের সিনাগগ থেকে এর প্রমাণ পাওয়া ‘Genij’ ডকুমেন্টগুলোতে এই সব ইহুদি নামের দীর্ঘ তালিকা রয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার আবুল ওয়াফার স্ত্রীর নাম ‘আমাত আল-ওয়াহিত’ খালার নাম ‘আমাত আল-কাদির’ ও মায়ের নাম’ ‘আমাত আল-আজিজ’। মজার ব্যাপার হলো ইহুদিদের ‘গিনিজ’ ডকুমেন্টে এই তিনটি নাম এক সাথে রয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারের বায়োডাটা মা ও স্ত্রীর নাম যথাক্রমে ‘আমাত আল-আজিজ’ ও ‘আমাত আল-ওয়াহিত’ দেখার পর যখন শুনলাম ইঞ্জিনিয়ার খালাতো বোনকে বিয়ে করেছে, তখন আমি ইহুদি সিরিয়াল অনুসারে না জেনেই তার খালার নাম বলেছি ‘আমাত আল-কাদির’ এবং তা ঠিক হয়েছে। আলী হাসানের স্ত্রীর ‘মিত আল-শাদা’ নামটিও ‘গিনিজ’ ডকুমেন্টের। এই ক্লু সামনে রেখেই আমি মহিলাদের ইহুদি বলেছি এবং তা প্রমাণিত হবে ইনশালল্লাহ!’ থামল আহমদ মুসা। ‘ধন্যবাদ ভাই আহমদ মুসা। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। আল্লাহ আপনাকে লম্বা জীবন দান করুন। আপনার বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত নির্ভূল। আমরা এক সাথে জীবন-বৃত্তান্তগুলো শুনলাম। কিন্তু আপনি এত চিন্তা, এত অনুসন্ধান ও এত বিশ্লেষন কখন করলেন! সত্যি আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আপনাকে তার অসীম নেয়ামত দিয়ে ধন্য করেছেন। আল-হামদুলিল্লাহ!’ বলল মদিনা মনোয়ারার গভর্নর। ‘সম্মানিত সভর্নর মহোদয় ঠিক বলেছেন। আল-হামদুলিল্লাহ! তিনি এই তদন্তকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন, সহজ করে দিয়েছেন। আমি নিশ্চিত, তদন্ত অন্ধকার থেকে আলোতে চলে এসেছে। অপরাধীরা চিহ্নিত হয়েছে। এখন শুধু দেখার বিষয় ষড়যন্ত্রের শেকড় কোথায়, কারা এর পেছনে রয়েছে। এটা আমাদের গোয়েন্দারা পারবে।’ বলল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ‘কিন্তু ঐ বিষয়টাও জানা গেছে। আহমদ মুসা বলেছেন, তাকে হত্যা-প্রচেষ্টার সাথে ইহুদি ষড়যন্ত্র জড়িত রয়েছে। এখন শুধু বের করতে হবে, সৌদি আরবে কারা ইঞ্জিনিয়ার আবুল ওয়াফাদের এ কাজে ব্যবহার করছে। আবুল ওয়াফা ও আলী হাসানদের গ্রেফতার করলেই পেছনের লোকদের কথা জানা যাবে।’ বলল গভর্নর। এ সময় জেনারেল আলী আবদুল্লাহর টেলিফোন বেজে উঠল। ‘মাফ করবেন!’ বলে জেনারেল আলী আবদুল্লাহ মোবাইলসহ দ্রুত ঘরের বাইরে চলে গেল। মিনিট খানেক পরেই ফিরে এল জেনারের আলী আবদুল্লাহ। নিজের আসনের সামনে দাঁড়িয়ে বলল, ‘এক্সিলেন্সি, একটা খবর এসেছে, অনুমতি হলে বলতে পারি।’ গভর্নর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সকলেই তাকাল জেনারেল আলী আবদুল্লাহর দিকে। ‘বল জেনারেল, কি খবর।’ বলল গভর্নর। কন্ঠে প্রবল ঔৎসুক্য। ‘এই মাত্র আমাদের মদিনার পুলিশ প্রধান জানালেন, ইঞ্জিনিয়ার আবুল ওয়াফা সপরিবারে চলে যাচ্ছিলেন। সাদা পোষাকে পাহারায় থাকা পুলিশ তাদের আটকায়। জানায় যে, তাঁর মদিনা শরীফের বাইরে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আছে। এ কথা শুনে উনি পকেট থেকে রিভলবার বের করে ফাঁকা গুলি করে গাড়ি ষ্টার্ট দিয়ে পালাবার চেষ্টা করেন। পুলিশ সামনে গিয়ে বাধা দিলে সে একজন পুলিশকে গুলি করে আহত করেন। অবশিষ্ঠ দু’জন পুলিশ চাকায় গুলি করে তার গাড়ি থামিয়ে দেয় এবং তাকে আটক করে।’ ‘আল-হামদুলিল্লাহ! মি. আহমদ মুসার কথা ঘরের বাইরে বেরুবার আগেই সত্য প্রমাণিত হয়ে গেল। ঘটনা যে ঘটিয়েছে, সে ধরা পড়ল। আল্লাহর হাজার শোকর। আবারো ধন্যবাদ আহমদ মুসা আপনাকে।’ ‘তার গ্রেফতারের খবর দয়া করে সবার কাছ থেকে গোপন রাখুন। তার ধরা পড়ার কথা জানলে পেছনের ষড়যন্ত্রকারীরা পালাবে, তাদের ধরা কঠিন হয়ে পড়বে।’ বলল আহমদ মুসা। ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহেব, প্লিজ আপনি ব্যবস্থা করুন। কিভাবে সবার কাছ থেকে বিষয়টা গোপন রাখা যায় দেখুন।’ বলল গভর্নর দ্রুত কন্ঠে। ‘ইয়েস এক্সিলেন্সি, আমি দেখছি। আমি এখানকার পুলিশ ও গোয়েন্দা প্রধানের সাথে বসছি। আমি জানাব আপনাকে।’ একটু থামল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সামনের গ্লাস থেকে একটু পানি খেয়ে নিয়ে আবার শুরু করল’ ‘এক্সিলেন্সি, আমি সাড়ে ১২ টার দিকে আহমদ মুসাকে নিয়ে রিয়াদ যাত্রা করব। ওদিকের সংকটের কোনই সুরাহা হয়নি আপনি জানেন।’ ‘অবশ্যই। বেগম ও সাহেবজাদাকে আমরা খুব কষ্ট দিলাম। সেই ৭টা থেকে ওরা এয়ারপোর্টে। আরও দেড় ঘন্টা থাকতে হবে। দু:খিত আহমদ মুসা আমরা সকলে।’ বলে গভর্নর তাকাল আহমদ মুসার দিকে। ‘না, কোন কষ্ট নয়। ওরা পাশের স্যুটে বেশ ঘুমাচ্ছে আমি খোঁজ নিয়েছি। সুন্দর ব্যবস্থা করায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ এক্সিলেন্সি।’ আহমদ মুসা বলল। ‘ধন্যবাদ আহমদ মুসা! বলে গভর্নর সকলের দিকে তাকাল। বলল, ‘সকলকে ধন্যবাদ, একটা সফল মিটিং-এর জন্যে। আমরা এখন উঠতে পারি।’ কথা শেষ করেই গভর্নর উঠে দাঁড়াল। তার সাথে সাথে উঠে দাঁড়াল সবাই। রিয়াদের গোয়েন্দা সদর দফতর। চারদিক ঘুরিয়ে ঠিক পেন্টগনের আদলে তৈরি। ঠিক যেন আরেকটা পেন্টাগন! মাইনাস থার্ড ফ্লোরে অর্থাৎ তিরিশ ফুট মাটির নিচে একটা সুরক্ষিত কক্ষ। কক্ষের দক্ষিণ প্রান্তে চারটি টেবিল। প্রতিটি টেবিলে একটি করে ছোট রিভলভিং চেয়ার। টেবিলের একটিতে বসেছে আহমদ মুসা। তার ডানপাশে সৌদি নিরাপত্তা প্রধান, বাম পাশে সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার বাম পাশে সৌদি গোয়েন্দা প্রধান। কথা শুরু করেছিল গোয়েন্দা প্রধান আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ। সে আল্লাহর প্রশংসা ও নবী স. এর প্রতি দরুদ পেশের পর বলল, ‘আমাদের মুয়াজ্জেজ মেহমান আহমদ মুসা জরুরি ভিত্তিতে যে তথ্যগুলো চেয়েছিলেন তার মধ্যে রয়েছে, ‘সেদিন ভোর রাত থেকে সন্ধ্যা রিয়াদ থেকে আউটগোয়িং রাস্তাগুলোর যান চলাচলের মনিটরিং রিপোর্ট, এই সময়ের সধ্যে এই রাস্তাগুলোতে অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক কিছু ঘটেছে কিনা সে সম্পর্কে তথ্য, রিয়াদ থেকে বাইরে যাওয়া কোন গাড়িতে বা কয়টি গাড়িতে একাধিক নন-আরব, বিশেষ করে শ্বেতাংগ মেয়ে ও কয়েকজন ছেলেকে দেখা গেছে, যাদের সাথে একজন অসুস্থ বা ঘুমন্ত মধ্যবয়সী আরব ছিল।’ রিয়াদ থেকে আউটগোয়িং সব হাইওয়ে ও সড়কের মনিটরিং রিপোর্ট আমাদের কাছে আছে। অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক বড় কিছু ঘটেনি। শুধু একটা মজার ঘটনা। সেটা হলো রিয়াদ থেকে দক্ষিনে আল-খারজ ক্রসিং পয়েন্টে এবং রিয়াদ থেকে পুবে ও হফুফ থেকে চার মাইল পশ্চিমে আল-জগুফ পয়েন্টে দু’টি গাড়ির ছবি ও তথ্যবলী রেকর্ড হবার পর মনিটরিং ফাইল থেকে তা মুছে গেছে।….. গোয়েন্দা প্রধানের কথার মাঝখানেই আহমদ মুসা চোখ তুলে তাকাল গোয়েন্দা অফিসারের দিকে। তার কপাল কুঞ্চিত। কিন্তু কিছু বলল না। গোয়েন্দা প্রধান বলছিল, ‘একাধিক শ্বেতাংগ মেয়েসহ কয়েকজন শ্বেতাংগ পুরুষকে কোথাও কোন গাড়িতে এই সময়ের মধ্যে দেখা যায়নি। আমাদের জন্যে দু:খ যে, মনিটরিং থেকে বড় ধরনের কোন ক্লু পাওয়া যায়নি দেখা যাচ্ছে। সম্মানিত মেহমান আল্লাহর অশেষ নেয়ামতে ধন্য আহমদ মুসাসহ সবাই মনটরিং দেখলে, আমাদের আশা আহমদ মুসা, নিশ্চয় আমাদের পথ দেখাবেন।’ থামল গোয়েন্দা প্রধান আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ। সৌদি নিরাপত্তা প্রধান আহমদ মুসার দিকে একবার তাকিয়ে নিয়ে বলল, ‘হ্যাঁ মি. আবদুল্লাহ শুরু করুন।’ ‘ধন্যবাদ এক্সিলেন্সি! বলে গোয়েন্দা প্রধান আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ তার টেবিলের ড্রয়ার খুলে একটা লাল বোতামে চাপ দিল। সঙ্গে সঙ্গে ঘরের ডান, বাম ও সামনের দেয়াল বিশাল সফেদ স্ক্রিনে পরিণত হলো। ‘এক্সিলেন্সি, আমি প্রথমে রিয়াদ থেকে পুবে যে হাইওয়ে ও সড়ক গেছে সেগুলোর মনিটরিং রিপোর্ট দেখাবো। তারপর উত্তর, এরপর পশ্চিম এবং শেষে দক্ষিণ দিকের হাইওয়ে।’ বলল গোয়েন্দা প্রধান আবদুল্লাহ। গোয়েন্দা প্রধান থামলেই আহমদ মুসা বলল, ‘জনাব, পুবের পর দক্ষিন হাইওয়েটা প্লিজ আগে দেখান, যদি অসুবিধা না হয়।’ ‘না স্যার, কোন অসুবিধা নেই। আপনি যা বলেছেন সেটাই হবে।’ বলল গোয়েন্দা প্রধান আবদুল্লাহ। বলেই গোয়েন্দা প্রধান একটা নীল বোতামে চাপ দিল। দেয়ালের স্ক্রিনে একটা প্রশস্ত রাস্তার ছবি ভেসে উঠল। ‘এক্সিলেন্সি, এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিসার্চ বাংলো।’ গোয়েন্দা প্রধান বলল। (চলবে...)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একটি দ্বীপের সন্ধানে (চ্যাপ্টার-৪)
→ একটি দ্বীপের সন্ধানে (চ্যাপ্টার-৩)
→ একটি দ্বীপের সন্ধানে (চ্যাপ্টার-২)
→ একটি দ্বীপের সন্ধানে (চ্যাপ্টার-১)
→ একটি দ্বীপের সন্ধানে (চ্যাপ্টার- ৩)
→ একটি দ্বীপের সন্ধানে (চ্যাপ্টার- ২ বাকি অংশ)
→ একটি দ্বীপের সন্ধানে (চ্যাপ্টার- ২)
→ একটি দ্বীপের সন্ধানে (চ্যাপ্টার- ১ এর বাকি অংশ)
→ একটি দ্বীপের সন্ধানে (চ্যাপ্টার- ১)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now