বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ফেসবুকিং করছি। হঠাৎ একটা ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসলো।মেয়েটার আইডিতে নাম দেয়া নীলা রায়।
আমি প্রোফাইলের ভেতর ঢুকলাম। প্রোফাইলে পিকচার হিসেবে আলীয়া ভাটের একটা ছবি দেয়া।আমি খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে সব দেখতে শুরু করলাম। প্রোফাইল পিকচার বাদে বাকি সবই তো রিয়েল মনে হচ্ছে।এছাড়া মিউচুয়াল ফ্রেন্ডও আছে ৩০/৪০ জন।তারমানে পরিচিত কেউ হলেও হতে পারে।
এবার আমি একটু ঠান্ডা মাথায় ভাবতে শুরু করলাম।কল্পনা করছি ;কিন্তু কল্পনায় বারবার আলীয়া ভাট চলে আসছে ।তাই ভালো করে কল্পনা করতে টেবিল-চেয়ার ছেড়ে বিছানায় এসে শুয়ে পড়লাম।
কোলবালিশটা জরিয়ে ধরে আবার ভাবতে শুরু করলাম।একটা মেয়ে আমাকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছে।তার সাথে আমার চ্যাট হবে।সেই চ্যাট আস্তে-আস্তে প্রেমে রুপ নিবে।আমরা একসাথে রিকশায় ঘুরবো, চটপটি খাবো,পার্কে হাত ধরে ঘুরবো।তারপর একদিন আমরা বিয়ে করবো।
আমি বাসরঘরে ঢুকলাম।সম্পূর্ণ ঘরটা ফুল দিয়ে সাজানো। ফুলের কী ঘ্রাণ।মনে হয় বাসর ঘর না, ভুলে একটা ফুলের বাগানে ঢুকে পরেছি। আর সেই ফুলের বাগানে বউ সেজে বসে আছে আমার নীলা।
আমি নীলার কাছে গিয়ে বসলাম। তার হাতটা ধরলাম।কী নরম হাত! তারপর ঘুমটাটা সরালাম। ঘুমটাটা সরিয়ে চুমু খেতে কাছে যাচ্ছি।কিন্তু তখনি দরজায় কে যেন নক করল।আমি খিটখিট করতে-করতে গিয়ে দরজা খোলে দিলাম।দরজা খোলে দেখি আমার বন্ধু আরিয়ান।
-কীরে তুই?....সারাজীবন জ্বালাতে-জ্বালাতে কয়লা বানায় দিলি, তারপরো এই বাসর রাতে এসে জ্বালাতে হবে?
-পাগল নাকি!....দিনের বেলা খোয়াব দেখো! আগে ভিতরে ঢুকতে দে।
এই কথা বলে আরিয়ান আমাকে ধাক্কা দিয়ে ভিতরে ঢুকে গেল.....
কিন্তু ভিতরে ফিরে এসে তো আমি অবাক! আমার বাসরঘর কই!এতো ফুল কই গেল! আর নীলা.....নীলা-ই বা কই গেল!
আমি বারবার চোখ ডলছি আর বিছানার দিকে তাকাচ্ছি....
-কিরে বিছানার দিকে বারবার কী দেখিস?
-না!...কিছু না।
-এইসব ঢং বাদ দে।ফেসবুকে ঢুক।
আমি কোলবালিশেরর পাশ থেকে ফোনটা নিয়ে ফেসবুকে ঢুললাম...
-হুম...এবার দেখ নীলা রায় নামে একটা আইডি থেকে তোকে রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছি, ঐটা একসেপ্ট কর।আকশটা বেশী বার-বাড়ছে! ওর এতো বড় সাহস ফেইক আইডি দিয়ে আমার সাথে প্রেম করে!ওরে দেখ এবার কী নাচা নাচাই। কিছু যাতে টের না পায় তাই আগে আইডিতে কিছু মিউচুয়াল ফ্রেন্ড করে নিলাম।
-হুম...একসেপ্ট করেছি। (আমি আর কিছু বলতে পারলাম না।কারন এখন বেশী কিছু বলতে গেলে আমার হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাবে।আর এমন তুচ্ছ কারনে হার্ট অ্যাটাক হলে বন্ধুমহলে আর মুখ দেখানো যাবে না।)
আরিয়ান চলে গেল।এবার আমি ভাবতে শুরু করলাম....আচ্ছা এতক্ষণ কী তাহলে আমি স্বপ্ন দেখলাম নাকি আরিয়ান যে এলো এটা দুঃস্বপ্ন। কারন স্বপ্নে তো কোনোকিছুর গন্ধ পাওয়া যায় না।আমি যে ফুলের গন্ধ পেলাম।
ভাবতে-ভাবতেই দেখি আবার আরিয়ান আমার সামনে দাঁড়িয়ে....
-কীরে....কী হইলো তোর!এমন ধ্যানে বসলি ক্যান!
-না কিছু না।
-ওহ্...দেখ তো এই পারফিউমটা কিনলাম, কেমন হলো?
আমি আরিয়ানের হাত থেকে পারফিউমটা নিয়ে টি-শার্টে দিলাম।কিন্তু একি.... এতো দেখি আমার বাসরঘরের ফুলের গন্ধ।
আমি আমার সব রাগ চাপা দিয়া আরিয়ানকে বললাম...বেশ ভালো পারফিউমটা, একেবারে বাসরঘরে যেমন ফুলের গন্ধ থাকে তেমন।
কী তখন থেকে বাসরঘর-বাসরঘর শুরু করলি.. এই কথা মিনমিন করতে-করতে আরিয়ান চলে গেল।আর আমি সাথে-সাথে ফেসবুকে ঢুকে নীলা রায়কে ব্লক মেরে ফোনটা ঢিল দিয়ে কোলবালিশের উপর ফেলে দিলাম
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now