বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৩
প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনাটা ভালো ভাবেই উতরে
গেল । রাণী আসার পর থেকে রাজা ভীষণ
খুশী । আগের সেই ঔদাসীন্যতার
ছিটেফোটাও এখন আর তার মাঝে নেই ।
রাজকার্যেও গতি এসেছে । ভালোই কেটে
যাচ্ছিল দিন ।
একদিন রাজা তার সভাসদদের নিয়ে আলোচনায়
বসেছিলেন, কিভাবে প্রজাদের অসুবিধা না করে
রাজকোষের আয় আরো খানিকটা বাড়ানো যায় তা
নিয়ে । এমন সময় এক সুফী তার দরবারে
প্রবেশ করল । পরনে সফেদ জোব্বা, বুক
পর্যন্ত নেমে আসা দাড়ি, হাতে লাঠি, কাঁধে
ঝোলা । চেহারায় ক্লান্তির ছাপ, কিন্তু চোখে-
মুখে আশ্চার্য রকমের ঔজ্বল্ল্য ।
রাজা তার দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে চাইতেই
সে বলল- আমি একজন পরিব্রাজক । দেশে
দেশে ঘুরে বেড়াই । অনেকদূর হেঁটে এসে
আমি ক্লান্ত । আজকের দিনটা আপনাদের কাছে
আশ্রয় চাই ।
আগেই বলেছিলাম, দেশটির মানুষরা খুব অতিথি
পরায়ণ । রাজা তাকে সাদরে প্রাসাদে আমন্ত্রণ
জানালেন । ব্যক্তিগত দাসীকে আদেশ দিলেন
মুসাফিরের জন্য বিশ্রাম আর আহারের ব্যবস্থা
করতে । এবং সেই সাথে সূফীকে বলে
দিলেন- তিনি যতদিন ইচ্ছা এখানে থাকতে পারেন ।
সপ্তাহ গড়িয়ে মাস পার হল । সূফী এখনো
প্রাসাদেই আছেন । ইতিমধ্যে রাজার সাথে তার
ভালই খাতির হয়েছে । বিশাল তার জ্ঞানের ভান্ডার ।
হেন কোন বিষয় নেই যা তিনি জানেন না ।
রাজাকে তো রীতিমত তার গুণমুগ্ধ বলা চলে ।
প্রতিদিন সূফীর সাথে তার কিছু সময় না কাটালেই
যেন নয় ।
সূফীর অতি ভক্তি ভাব মন্ত্রীর কাছে ভাল
ঠেকল না । তিনি রাজাকে সাবধান করে দিলেন ।
কিন্তু রাজা মন্ত্রীর পরামর্শকে খুব একটা গ্রাহ্য
করল না । বৃদ্ধ সূফী তার আর কিই বা ক্ষতি করতে
পারে ?
একদিন সূফী রাজাকে নিয়ে শিকারে যাওয়ার ইচ্ছা
ব্যক্ত করল । রাজাও সানন্দে রাজি হলেন । সূফী
রাজাকে তাদের এই যাত্রার ব্যাপারটা মন্ত্রীর
কাছে গোপন রাখতে অনুরোধ করল । কারণ
হিসেবে বলল- মন্ত্রী হয়ত তাদের যাত্রার
ব্যাপারে আপত্তি তুলতে পারেন । সূফীর
ব্যাপারে মন্ত্রীর মনোভাব রাজা জানতেন, তাই
হাসিমুখে তিনি এই শর্তটাও মেনে নিলেন । দুদিন
পর, এক সকালে রাজা আর সূফী সবার
অগোচরে ঘোড়া নিয়ে শিকারে বেরিয়ে
গেলেন । কে জানে, এটাই হয়ত হবে রাজার
জীবনে শেষ আনন্দ যাত্রা !
জঙ্গলে ঢুকতেই তারা এক মায়া হরিণ দেখতে
পেলেন, আপন মনে ঘাস খাচ্ছে । দুজন
চোখাচোখি করে হরিণটাকে ঘিরতে দুদিকে
চলে গেলেন । কাছাকাছি যখন পৌঁছেছেন, হরিণটা
সম্ভাব্য বিপদ টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা
করল । কিন্তু সূফীর তীরের অব্যর্থ নিশানা, যা
তার চেহারা আর বেশভূষার সাথে সম্পূর্ণ বেমানান
। এক আঘাতেই হরিণ লুটিয়ে পড়ল । কিছুক্ষণ
ছটফট করে তারপর মরে গেল । রাজা আর সূফী
দুজনেই ঘোড়া থেকে নিচে নেমে দাঁড়ালেন
। রাজার চোখে ঘোর লাগা মুগ্ধ দৃষ্টি । তিনি
নিজেও একজন ভাল শিকারি কিন্তু সুফীর মত এতটা
ভাল না ।
হঠাৎ রাজাকে অবাক করে দিয়ে সূফী বলল-
মহারাজা, আপনি চাইলে আমি এখন এই হরিণটাকে
জীবত করে দেখাতে পারি । রাজা অবাক-
কিভাবে ? সূফী হেসে বলল- "আত্মা
সঞ্জিবণী" মন্ত্রের সাহায্যে । দাঁড়ান, আপনাকে
দেখাই !
রাজা দেখলেন সূফীর দেহটা আস্তে করে
মাটিতে পড়ে গেল আর হরিণ গা ঝাড়া দিয়ে উঠে
দাঁড়াল । তারপর দুপা তুলে রাজাকে কূর্নিশ করল ।
তারপর আবার পড়ে গেল এবং সূফী উঠে দাঁড়াল ।
রাজা তো বিষ্ময়ে কথা বলতেও ভুলে গেছেন
। একটু পরে সম্বিৎ ফিরে পেয়ে কোনমতে
শুধু বললেন- কিভাবে ? সূফী পুরো প্রক্রিয়াটা
ব্যাখ্যা করল রাজাকে- এই মন্ত্রের মাধ্যমে
আপনি যেকোন মৃত দেহে প্রবেশ করতে
পারবেন । এই মন্ত্রের মাধ্যমে প্রথমে আমি
হরিণটির শরীরে ঢুকি । তখন আমার নিজের
দেহেটা প্রাণহীন হয়ে পড়ে যায় । আবার যখন
আমি আমার দেহে ফিরে আসি, তখন হরিণটা আবার
মৃত হয়ে পড়ে ।
রাজা মন্ত্রটা শিখতে চাইলে সূফী সোত্সাহে
রাজাকে মন্ত্রটা শিখিয়ে দিল এবং পরীক্ষা করে
দেখতে বলল । বোকা রাজা কুটিল সূফীর
চক্রান্তটা ধরতে পারলেন না । তাই মন্ত্র পড়ে
যেই না তিনি হরিণের শরীরের প্রবেশ
করলেন, ঠিক তখনই সূফী নিজের শরীর
ছেড়ে রাজার শরীরে প্রবেশ করল । শেষে
মূহুর্তে রাজা রাজা বুঝতে পেরেছিলেন সূফীর
উদ্দেশ্য । কিন্তু তখন আর কিছুই করার ছিল না ।
রাজার শরীরে ঢুকেই সূফী তীর ধনুক তাক
করল হরিণরূপী রাজাকে নিঃশেষ করতে । আর
রাজা সব ভূলে প্রাণ ভয়ে দৌড়াতে শুরু করলেন ।
রাজার বেশে সূফী ঘোড়া ছুটাল হরিণটার পিছনে,
এক সত্যকে চিরতরে ধ্বংস করতে । আর হরিণের
শরীরে আবদ্ধ রাজা ছুটছেন গভীর জঙ্গলের
দিকে, আপতত নিজের প্রাণ বাঁচাতে....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now