বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
২
সুখ বেশীদিন স্থায়ী হয় না । স্বয়ং আদম-হাওয়াও
স্বর্গে বেশীদিন সুখে থাকতে পারেন নি । এই
মত্যৈর মানুষ কিভাবে থাকবে ? একদিন তাই মত্যৈর
স্বর্গেও শোকের অমনিশা উঁকি দিল ।
বৃদ্ধ রাজা অসুস্থ হয়ে পড়লেন । রাজ্যজুড়ে হৈ হৈ
রব পড়ে গেল । রাজবৈদ্যের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ
হল । এক প্রত্যুষে পুরো রাজ্যকে শোক
সাগরে ভাসিয়ে রাজা পাড়ি জমালেন না ফেরার
দেশে । রাজ্যজুড়ে নেমে এল শ্মশানের
নীরবতা ।
রাজার মৃত্যুতে কয়েক জায়গায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিল ।
কিছু সৈন্য বিদ্রোহ করল । রাজকোষের
কয়েকজন কর্মচারী বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়ে
রাতের অন্ধকারে পালিয়ে গেল । শুরু হল
অরাজকতা ।
এমতাবস্থায় প্রধান মন্ত্রী রাজ্যের হাল ধরতে
এগিয়ে এলেন । বাকি সভাসদদের সাথে পরামর্শ
করে রাজপুত্রকে নতুন রাজা ঘোষণা করলেন।
ঘোষণাটা প্রত্যাশিতই ছিল । কিন্তু হুট করে রাজা
হয়ে যাওয়ায় রাজপুত্র হঠাৎ অপ্রস্তুত হয়ে
গেলেন । তিনি ছিলেন একজন স্বাধীনচেতা
তরুণ । যখন যা মন চাইত, তাই করতেন । রাজ্যময়
ঘুরে বেড়াতেন, মাঝে মাঝে শিকারে
বেরুতেন, কখনোবা তার পক্ষীরাজ ঘোড়ায়
চেপে চলে যেতেন নাম না জানা কোন
দেশে... তার বাবা ছিলেন খুবই বিচক্ষণ রাজা । বাবা
বেঁচে থাকতে রাজ্য নিয়েই কখনোই মাথা ঘামায়
নি তিনি । তাই বাবার মৃত্যুর পর হঠাৎ করেই রাজ্যের
সব ভার তার ঘাড়ে এসে পড়ায় ভয় পেয়ে
গেলেন। তবে ভয় পেলেও তিনি রাজার
ছেলে, পিতার যোগ্য উত্তরসুরী । ধীরে
ধীরে সব সামলে নিলেন । চপলা রাজপুত্রের
খোলস পাল্টে হয়ে গেলেন গম্ভীর রাজা ।
পিতার মতই বিচক্ষণতার পরিচয় দিলেন রাজকার্যে ।
সব বিশৃঙ্খলা শক্ত হাতে দমন করলেন ।
দোষীদের যথাপোযুক্ত শাস্তি দিলেন ।
কিছুদিনের মাধ্যেই রাজ্যে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হল ।
রাজ্যে শান্তি ফিরে এলেও নতুন রাজার মনে শান্তি
নেই । এখন তার হৈ হুল্লোড করে বেড়ানোর
বয়স । এই বয়সে রাজ সিংহাসনে বসে প্রজার সুখ
দুঃখ দেখতে কার-ই বা ভাল লাগে ? তার ছিল
উত্তেজনাপূর্ণ জীবন, ছিল নিত্য নতুন
আবিষ্কারের নেশা, সেই তাকেই এখন রাজার
গতানুগতিক জীবন যাপন করতে হয় । কোন
উত্তেজনা নেই, নেই কোন নতুন চ্যালেঞ্জ,
প্রতিদিন শুধু একই কাজ- গম্ভীর মুখে প্রজাদের
যত অভিযোগ শোনা ! রাজসভা যতক্ষণ চলে
ততক্ষণ হাসিমুখে দায়িত্ব পালন করে যান তিনি । সভা
শেষেই প্রসাদের ছাদে উঠে উদাস চোখে
আকাশপানে তাকিয়ে থাকেন আর নিজের ভাগ্যকে
অভিসম্পাত দেন । এভাবেই কেটে যাচ্ছিল দিন ।
সবকিছু ঠিকঠাক ভাবে চললেও প্রধানমন্ত্রী
ব্যাপারটা খেয়াল করলেন । নতুন রাজা সবসময় উদাস
হয়ে ছাদে বসে থাকেন ! আগের রাজার
দীর্ঘদিন সহচর ছিলেন তিনি । ছেলেটাকে
বলতে গেলে নিজের চোখের সামনেই বড়
হতে দেখেছেন । নিজের সন্তানের মতই
স্নেহ করেন তাকে । তাই রাজার উদাসীনতা তাকে
ভীষণ পীড়া দিল । তার উদাসীনতার কারণ তিনি
বুঝেন । এই বয়সটা তো সবাই পার করে
এসেছে, তাই না ? রাজার উদাসীনতা কাটানোর
জন্য তিনি মনে মনে একটা পরিকল্পনা করলেন ।
তারপর নিকট ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আপন
মনেই হেসে উঠলেন ।
রাজ্যে রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ল প্রধানমন্ত্রীর দূত
। তারা গেছে রাজকুমারীর সন্ধানে । রাজা থাকবে,
অথচ রাণী থাকবে না এটা তো হয় না ।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ পরিকল্পনাটা আর কিছু না,
রাজাকে একটা বিয়ে করানো ! রাজার তো আর
আপন জন বলতে কেউ নেই, দায়িত্বটা তাই নিজ
কাঁধে তুলে নিয়েছেন মন্ত্রী । রাজার প্রতিকৃতি
দিয়ে দূর-দূরান্তের রাজ্যগুলোতে বিশেষ দূত
পাঠিয়েছেন যোগ্য রাজকুমারীর সন্ধানে ।
সপ্তাহ পেরিয়ে মাস গেল । পাঠানো দূতেরাও
ফিরে আসতে শুরু করেছে নানান দেশের
রাজকুমারীদের প্রতিকৃতি নিয়ে । মন্ত্রীর তো
"শোল ধরি না বোয়াল ধরি" অবস্থা । কাকে
দেশের রাণী বানানো যায় এটা নিয়ে ভাবতে
ভাবতেই তার মাথার আধপাকা চুলগুলো পুরোপুরি
পেকে গেল । অবশেষে তিনি হাল ছেড়ে
দিয়ে রাজার সরাপন্ন হলেন । সবগুলো ছবি তার
সামনে ধরে বললেন- দেখো তো বাছা,
এদের মাঝে কাকে তোমার বেশী পছন্দ
হয় ?
নিজের বিয়ের কথা শুনে পরমক্রমাশীল রাজাও
লজ্জায় লাল হয়ে গেলেন ! মিনমিন করে বলল-
আপনি তো দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের পরিবারের
সাথে যুক্ত আছেন । আপনিই ঠিক করুন এই
রাজ্যের রাণী হিসেবে কে বেশী যোগ্য ?
মন্ত্রী আবার অথৈ সাগরে পড়লেন ।
ভেবেছিলেন, রাণী নির্বাচনের কাজটা রাজাকে
দিয়েই সারবেন, কিন্তু তা আর হল কই ?
শেষমেষ বহু বাছ-বিচারের মাধ্যমে দূর দেশের
এক রাজকুমারীকে রাণী হিসেবে মনোনীত
করলেন । রাজ্যজুড়ে খুশীর জোয়ার বইতে
লাগল । রাজার বিয়ে বলে কথা !
নির্দিষ্ট দিনে রাজ্যের সহস্রাধিক মান্যগণ্য ব্যক্তি
নিয়ে রাজা রওনা দিলেন বিয়ে করতে । সাথে
উপঢ়ৌকন হিসেবে শত উট বোঝায় সোনা-দানা,
আর জনা পন্ঞ্চাশেক দাসীও সামিল তাদের সাথে
। সপ্তাহ খানেক বাদে নতুন রাণী নিয়ে তারা
ফিরেও এলেন ।
নতুন রাণীকে নিয়ে প্রজাদের উন্মাদনার সীমা
নেই । রাণীকে অভ্যর্থনা জানাতে রাজধানীর মূল
ফটক থেকে রাজপ্রাসাদ পর্যন্ত কয়েক
কিলোমিটার লম্বা ফুলের তৌরণ তৈরি করা হল । পুরো
পথ ঢেকে দেয়া হল লাল গালিচায় । যেদিন রাণী
পৌঁছাবেন, পুরো রাজ্যের মানুষ এসে জমা হল
রাজপথের দু'ধারে, রাণীকে এক নজর দেখার
আসায় । রাজা-রাণীকে বহনকারী বিশেষ রথটি
যখন রাজধানীতে ঢুকল, চারপাশ থেকে বৃষ্টির মত
ফুল ঝরতে শুরু করল । রাজা তো প্রজাদের এমন
ভালবাসায় সিক্ত হয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেন ।
আর রাণী.... নতুন দেশে এমন অভ্যর্থনা
পেয়ে রাণীও মহাখুশী । রাণীর সম্মানে
সপ্তাহব্যাপী রাজ্যের এখানে সেখানে উৎসব
চলল ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now