বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
১
বনের মধ্য দিয়ে একটা মায়া হরিণ প্রাণপণে
দৌড়াচ্ছে । ভয়ার্ত তার চোখ; সে চোখে অশ্রু,
অবিশ্বাস, জীবন নাশের শঙ্কা । ছোটখাটো
ঝোপ-ঝাড় পেরিয়ে জঙ্গলের আঁকা-বাঁকা পথে
দৌড়াচ্ছে সে। পিঠে তার গভীর ক্ষত, এখনো
রক্ত ঝরছে সেখান থেকে । তবে সেদিকে
তার ভ্রুক্ষেপ নেই ।
হরিণটার ঠিক পেছনেই ঘোড়ায় চেপে এক
রাজপুত্রের মত সুদর্শন এক যুবক, তীর-ধনুক
হাতে হরিণটাকে তাড়া করছে। তবে সে ঠিক সুবিধা
করতে পারছে না। কয়েক বার তীর ছুড়েছিল,
কিন্তু হরিণটা আঁকা বাঁকা দৌঁড়ানোয় তা লক্ষভ্রষ্ট হয় ।
শেষে তীর ছোড়া বাদ দিয়ে সে জোরে
ঘোড়া ছোটাতে থাকে। যে করেই হোক,
খাল পার হয়ে গভীর জঙ্গলে ঢুকে পড়ার আগে
হরিণটাকে থামাতেই হবে । একবার সেখানে চলে
গেলে পরে তার নাগাল পাওয়া কষ্টকর হবে।
ঐদিকে, হরিণও এই তথ্যটা জানে । তাই সেও
ছুটছে উর্ধ্বশ্বাসে । যে কোন মূল্যেই সে
বনের এই হালকা অংশটা পেরিয়ে খালপাড়ের
গভীর অংশটায় পৌঁছাতে চায় । এই যাত্রায় তাকে যে
বাঁচতেই হবে।
রাজ্যের একবারে শেষ প্রান্তে বিশালাকৃতির এই
বনটা । একপাশে লোকালয়, অন্যপাশে আদিগন্ত
সমুদ্র । বনের ঠিক মাঝ দিয়েই বয়ে গেছে
সাপের মত সর্পিল একটা খাল । খালটি বনের দুটো
অংশকে আলাদা করে রেখেছে । একপাশে
হালকা জঙ্গল, বড় বড় গাছ আর ছোটখাটো
ঝোপ সেখানে। হরিণ, খরগোশ,
বনমোরগের মত কিছু নিরীহ প্রাণীর বাস
এখানে । এই অংশটায় মানুষের চলাফেরা আছে ।
কাঠুরিয়া এখানে কাঠ কাটতে আসে, মৌয়ালরা আসে
মধু সংগ্রহ করতে । মাঝে মাঝে রাজা তার উজির-
নাজির নিয়ে বের হন অবলা প্রাণী শিকারে । আর
খালের অন্য পাশে ? সেখানে জঙ্গল এত ঘন
যে সূর্যের আলোও ঠিকমত পৌঁছাতে পারে না ।
এজন্য দিনের বেলাতেও সে অংশটা অন্ধকারাচ্ছন্ন
থাকে । আর সেখানে কত রকম প্রাণী বাস
করে তার সঠিক হিসেবটা কেউ জানে না । যারাই
সেখানে ঢুকেছে, তাদের কেউই আর ফিরে
আসেনি । তাই দুঃস্বপ্নেও কেউ ঐ অংশটায়
প্রবেশের কথা চিন্তা করেনা ।
দূর থেকেই খালপাড়ের ঘন জঙ্গলটা চোখে
পড়ল মায়া হরিণের । গতি বাড়িয়ে দিল সে ।
শরীরের সমস্ত শক্তি এক করে সে ছুটছে ।
এদিকে ঘোড়ার পিঠেও ক্রমাগত চাবুক মেরে
যাচ্ছে যুবক, গতি বাড়ানোর জন্য। শিকার যে তার
ফসকে যেতে বসেছে ।
ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল মায়া হরিণটির । এক লাফে
পেরিয়ে গেল খাল, তারপর হারিয়ে গেল গভীর
জঙ্গলে ।
খালপাড়ে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ মাথার চুল ছিঁড়ল যুবক ।
তারপর ঘোড়ায় চেপে বসল ফিরে যাওয়ার জন্য ।
যাওয়ার আগে বিড়বিড় করে বলল- আমি আবার আসব
। আবার আসব তোমাকে খুঁজে বের করতে ।
পৃথিবীর যেই প্রান্তেই লুকাও না কেন তুমি,
আমার হাত থেকে তোমার নিস্তার নেই.....
পূর্বকথাঃ
বহু বছর আগের কথা । কত বছর আগের তার
হিসেব নেই, কারণ তখনকার মানুষের সাল গণনার
দরকার হত না ।
সমুদ্রের উপকূলে বিশাল এক বদ্বীপ । একপাশে
আবক্ষ সমুদ্র, অন্যপাশে বিস্তৃত সমভূমি । দূরে
কোথাও বরফ ঢাকা পাহাড়ের চূড়া, তারই অববাহিকায়
বয়ে যাওয়া পাহাড়ি কিছু নদী । নদীর তীর
ঘেঁষে উর্বর জমিতে গড়ে উঠছে ছোট
খাটো কিছু জনপদ, ছোট খাটো কিছু রাজ্য ।
তেমনই এক রাজ্যের কাহিনী এটি ।
সেখানকার মানুষেরা ছিল খুব সহজ-সরল, শান্ত
প্রকৃতির, কারো সাতে-পাঁচে নেই এমন ধাঁচের ।
তারা খুব অতিথি পরায়ণও ছিল । দূর দূরান্তে ছড়িয়ে
পড়েছিল তাদের আতেথিয়তার খবর । আর ছিল
তাদের এক মহানুভব জ্ঞানী রাজা, ছিল গ্রীক
দেবতাদের মত সুদর্শন সাহসী এক রাজপুত্র । ছিল
একগাদা অন্তপ্রাণ বিচক্ষণ মন্ত্রী, প্রজাদের সুখই
ছিল তাদের সব । অনুগত কিছু সৈন্য-সামন্ত্যও ছিল,
বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষার জন্য
সর্বঃস্ব দিয়ে লড়তেও তারা ছিল সর্বদা প্রস্তুত ।
উজির-নাজির-কাজী.... সবাই যার যার কতর্ব্য
পালনে সচেষ্ট ছিল, রাজ্যের শান্তি রক্ষায় সবাই
ছিল বদ্ধপরিকর । সেখানে সবকিছুই ছবির মত
সাজানো গোছানো ছিল । এ যেন মত্যৈর স্বর্গ
।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now