বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
একটা গোপন কথা
‘আমার নাম আবির’।
যাকে নামটা বলা হল,সুতপা, তখন একটু পর পর ঘড়ি দেখায় ব্যস্ত।তার তাড়া আছে,কিন্তু বাসের দেখা নেই। ঘড়ি দেখার ব্যস্ততার ফাকে সে ‘আবির’ নামটি শুনে মানুষটার দিকে তাকালো।
আবির নামের মানুষটি তখন সামনে দাঁড়িয়ে।সুতপা অবাক হয়ে ভাবছে সে কখন এই লোকের নাম জানতে চেয়েছে! উঁহু চায়নি,আবির নামের কাউকে সে চেনেনা।
কেউ নিজের নাম বললে অন্যকেও তার নাম বলতে হয়,এটা সুতপা জানে।কিন্তু এই মুহূর্তে তার মেজাজ এতটাই বিগড়ে আছে, সে ভদ্রতার ধার ধারলনা।
নিশ্চিত হতে চাইল সুতপা মানুষটা তাকেই ডাকছে? সে ঘাড় ঘুড়িয়ে আশেপাশে তাকাল। নাহ্ সুতপাকেই ডাকছে লোকটি।
‘আপনার নাম আবির,খুব ভাল কথা।কিন্তু আমাকে বলছেন কেন?আমি কি আপনাকে চিনি?’,সুতপার কন্ঠ শীতল।
সুতপা অবাক হয়ে দেখল সূক্ষ্ম অপমানটা ছেলেটি গায়ে মাখেনি। বুঝতে পারেনি নাকি?দেখে তো বোকা-সোকাও মনে হচ্ছে না।
‘ঠিকই বলেছেন,আপনি আমাকে চেনেননা’,ছেলেটা হাসছে।
‘বেশ,আপনি চেনেন আমাকে?’
‘উহু,আমিও না,আপনি নিশ্চয়ই বাসের জন্যে অপেক্ষা করছেন, আমিও করছি। আপনার সাথে কথা বলাটা সময় কাটানো বলা যেতে পারে।‘
মেজাজ পুরোপুরি খারাপ হয়ে গেল সুতপার। নিজেকে সামলে নিয়ে শান্ত গলায় বলল সে,
‘আমি কোনো টাইম পাসের বস্তু না।দিব্যি একজন ‘মানুষ’ আমি। কোনো ‘বস্তু’ জোগাড় করে দয়া করে সময় কাটান।’
ছেলেটি শব্দ করে হেসে ফেলল। চমৎকার সেই শব্দে সুতপার রাগটা কমিয়ে দিল।
‘আপনাকে রাগিয়ে দেবার জন্য দুঃখিত,আন্তরিকভাবে দুঃখিত’,আবির লজ্জিত গলায় বলল।
সরু চোখে আবিরের দিকে তাকাল সুতপা । সে সম্ভবত বুঝতে চেষ্টা করছে ছেলেটির কন্ঠে ভান আর সত্যতা কতটুকু। ইদানিং কাউকে বিশ্বাস করা হয়না তার। পথে-ঘাটে প্রতারকরা দিব্যি ভালমানুষ সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই ‘আবির’ ছেলেটির কি মতলব কে জানে।
‘আমার নাম কিন্তু আবির’,ছেলেটি আবারও বলল।
সুতপা অবাক হয়ে গেল।একটা মানুষের নিজের নাম নিয়ে এতটা অবসেশন থাকার কি আছে? বারবার কেন বলতে হচ্ছে! এমনতো না যে সুতপা শুনতে পায়নি। সে শুনেছে। তার কান ঠিক আছে। কান-নাক-চোখ সব ঠিক আছে।
‘বারবার নিজের নাম বলছেন কেন?’ সুতপার কন্ঠে বিরক্তি।
‘এজন্য বলছি,আমিও আপনার নামটা জানতে চাচ্ছি’।আবিরের কন্ঠ কোমল।
সুতপা লজ্জিত হল।সেও নরম গলায় বলল-‘সুতপা,আমার নাম শারমিন সুতপা।’
‘চমৎকার নাম আপনার সুতপা’, ছেলেটি হাসছে।আন্তরিক ভাবেই হাসছে।
বাস চলে এসেছে।
জানতে চাইবেনা ভেবেও সুতপা প্রশ্নটা করে বসল।
‘আপনি কোথায় যাবেন?’
আস্তে করে উত্তর দিল সে, ‘আমি কোথাও যাবনা,সুতপা।’
সম্পুর্ন অপরিচিত একজন মানুষের মুখে নিজের নাম শুনতে এত ভালো লাগল কেন সুতপা জানেনা। তার খুব ইচ্ছে হল এই মানুষটার সাথে আরো কিছুক্ষন কথা বলে এবং নিজের ইচ্ছের জন্যে সে খুব লজ্জিত বোধ করল।
‘তবে যে বললেন আপনি বাসের অপেক্ষা করছেন?’
‘হ্যাঁ অপেক্ষা করছিলাম...কিন্তু কেন যেন এখন আর যেতে ইচ্ছে করছেনা।’
অদ্ভুত মানুষ তো; যাক আর ভাবাভাবির দরকার নেই।সুতপা কিছুনা বলেই বাসে উঠে পড়ল।একটাবার পেছনে তাকালে দেখত আবির নামের মানুষটি তার দিকেই তাকিয়ে আছে,হাসিমুখে।
আধুনিক জীবনযাত্রা,বেঁচে থাকার তাগিদ মানুষকে এতটাই যান্ত্রিক করে ফেলে যে শুধুই ছুটে চলা! সময় নেই নিজের মনের কথা শোনারও। এখানে জীবনের গতিময়তা শুধু বেঁচে থাকার মত। এই বেঁচে থাকা সবসময় ‘মানুষের’ মত বাঁচা নয়, হয়ত নিম্নশ্রেনীর প্রাণীর মত বাচা...যে জীবনে ব্যক্তি নিজেই অনুপস্থিত।
সুতপার জীবন ব্যতিক্রম না। পুরো দিনের ব্যস্ততা শেষে যখন নিজের ঘরে বিছানায় গা এলিয়ে দিল তখন তার ‘আবিরের’ কথা মনে পড়ল।অবশ্যি মনে পড়ার তেমন কারনও নেই, পথে-ঘাটে কত মানুষের সাথেই তো দেখা হয়। ক’জনের কথা আমরা মনে রাখি! বিচিত্র মন সবার ছবি ধরে রাখেনা।
সুতপা একসময় বিস্মিত হয়ে দেখল, সে ঐ ছেলেটিকে নিয়েই ভাবছে! ভাবার কারন কি? আকাশ-মাটি হাতড়ে সুতপা কারন খুঁজে পায়না। ‘কার্যকরন ছাড়া তো পৃথিবীতে কিছু হয়না’, এই বাক্যটি যেন কে বলেছেন!...সুতপা মনে করার চেষ্টা করছে।ইদানিং তার এই এক সমস্যা হয়েছে ,দরকারের সময় কিছু মনে পড়বে না। সে হাল ছেড়ে দিল।যখন মনে পড়বে,পড়ুক!
আচ্ছা,আবির অর্থ তো রং,তাইনা? নাকি লাল রং? রং ব্যপারটাই তার ভাল লাগে। কেউ যদি তার কাছে জানতে চায় তার প্রিয় রঙ কি,সে বলবে-পৃথিবীর সব রং।কুৎসিত ছাই রঙ, যেটাকে বেশিরভাগ মানুষের অপছন্দ, সুতপার সেটাও ভাল লাগে।এজন্যই কি ‘আবির’ নামটা তার খুব মনে ধরেছে!!
নিজের অজান্তেই দু’বার উচ্চারন করল সুতপা-
‘আবির,আবির’।
তার ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগে।শহর থেকে শহরে, গ্রাম থেকে গ্রামে,বহুদূরে। ব্যাপারটা আসলেঘুরে বেড়ানো না। তার আসলে মানুষ দেখতে ভালো লাগে। মহানগরী যতটা বিচিত্র তার থেকে হাজারগুন বিচিত্রু চরিত্রের মানুষের বাস এখানে।
আবিরের ভালো লাগে দেখতে, ইচ্ছে করে বিচিত্র সেই মানুষগুলোর সাথে কথা বলতে। নিজস্ব কিছু,একান্তই তার কিছু ব্যথা কাউকে বলতে ইচ্ছা করে। কিন্তু সবাই তো তারই মতো,বলতে পছন্দ করে। কারোরই অন্যের কথা শোনার সময় নেই।
পথে পথে ঘুরে বেড়িয়ে আবির কাউকে খোঁজে। বিশেষ কাউকে। একজন মানুষকে, যে মানুষটি শুধু শুনবে...তাকে আবিরের ব্যথা,আনন্দ কিছু অনুভব করতে হবেনা। তার দায়িত্ব শুধু শুনে যাওয়া। একজন মনোযোগী শ্রোতা।
আজও সে সেই বাসস্টপে এসে দাঁড়িয়েছে ,কাউকে খুঁজতে। যাকে বলতে পারবে তার সব কথা।সব না হোক অন্তত কিছু কথা।
সেদিনের মেয়েটির কথা তার খুব মনে পড়ে,সুতপা নামের মেয়েটির কথা।খুব রেগে যাচ্ছিল মেয়েটি, আবির সেসব গায়ে মাখেনি। সে শুধু মেয়েটির চোখের দিকেই তাকিয়েছিল।আচ্ছা, শ্যামলা মেয়েদের চোখে কাজল এত সুন্দর মানায়?নাকি সবার চোখেই?আবির তা জানেনা। জানে কাজল যেন সুতপার চোখের জন্যেই তৈরী হয়েছে। মেয়েটির সাথে কি আর দেখা হবে না? সম্ভাবনা কম।এই নগরীতে হারিয়ে যাওয়া মানুষ পাওয়া খুব মুশকিল।তবু কম সম্ভবনাও তো এক অর্থে সম্ভবনা,তাইনা?
আচ্ছা, সুতপা কি হারিয়ে গেছে? নাকি তার নিজের হারানোর সময় হয়ে এসেছে?
যে মুহুর্তে আবির মনে মনে হারিয়ে যাওয়া মানুষকে খুঁজে বেড়াচ্ছে,তখনই একই শহরে আর একজন মানুষ কাউকে খুঁজে ফিরছে।
সুতপার কেন যেন মনে হচ্ছে মানুষটিকে সেই বাসস্টান্ডে খুঁজলেই পাওয়া যাবে।এমন তার কেন মনে হচ্ছে কে জানে; হয়তোবা তার অবচেতন মন এটা জানে...হয়তো পুরোটাই একটা উইশফুল থিংকিং!!
নিতান্তই অপরিচিত একজন মানুষকে কেন খুঁজতে হবে..এর কোনো ব্যাখ্যা সুতপার নিজের কাছেই নেই কিংবা ব্যাখ্যা সে ইচ্ছে করেই খোঁজেনি। বিস্মিত হয়ে দেখল কয়েকমাস পর সে ‘সেখানে’ এসে উপস্থিত হয়েছে,তাকে খুজতে।
মানুষের ভেতরের অস্থিরতা সে চেপে রাখতে পারেনা। অবচেতনভাবেই ছড়িয়ে দেয় তার চারপাশে। সুতপা এতটা অস্থির বোধ করছে,একজায়গায় স্থির হয়ে বসে থাকতে পারছেনা সে। পায়চারী করে বেড়াচ্ছে টার্মিনালের ফাঁকা রাস্তাটুকুতে...খানিক পড়েই চোখ বুলাচ্ছে আশেপাশে। ক্ষীন আশা, যদি দেখা যায় ‘তাকে’,যদি...একটাবার। সেই তরুনটি, লম্বা, ফর্সা একজন তরুন,তার গায়ে আসমানি রঙের একটা শার্ট।সুতপার অস্থির লাগছে।
তার গায়ে আজ হালকা সবুজ রঙের শার্ট। একদম কচি ঘাসের মত স্নিগ্ধ । চমৎকার মানিয়েছে তাকে।টার্মিনালে অস্থির হয়ে হাঁটাহাঁটি করা মেয়েটিকে অনেকক্ষন ধরেই লক্ষ্য করছে সে।অস্থির হয়ে আছে মেয়েটি।এই হাটঁছে,আবার বসছে। আবার হাটঁছে।আবির শান্ত ভঙ্গিতে এগিয়ে গেল ওর দিকে।
‘একটা গল্প শুনবেন সুতপা ?কিংবা একটা গোপন কথা?’
সুতপা চমকে উঠেও নিজেকে সামলে নিল।
‘কি গল্প আবির?’,তার কন্ঠে কিছু পাবার আনন্দ।
‘বৃহন্নলা,একজন বৃহন্নলার গল্প’, সহজসুরে বলল আবির।
ভালো লাগার ব্যাপারটা আপেক্ষিক! প্রতিটি মানুষের জন্যে ভালো লাগার,ভালোবাসার অনুভূতি আলাদা...সুখী হবার সমস্ত উপাদান থাকা সত্বেও একজন মানুষের তার জীবন ভালো নাও লাগতে পারে! কেউ হয়তবা সামান্যতেই পৃথিবীর সবথেকে সুখী মানুষ হয়...
সুতপার কিছুই ভালনা লাগার কাল চলছে।তার জাগতিক কিছুই ভালো লাগেনা। কোনো কাজ করতে ইচ্ছে করেনা। এই নাগরিক জীবন থেকে মুক্তি নিয়ে দূরে কোথাও চলে গেলে কি ভাল লাগবে?কোথায় যাবে সে?আপন নেই যে কেউ তার..গ্রামের বাড়িতে চাচা-চাচি...
নাহ্, কে আছে তার!
অনেকগুলোদিন কেটে গেছে আবিরের সাথে দেখা হওয়ার পর । কেমন করে কেটেছে সেটা সৃষ্টিকর্তাই ভালো বলতে পারবেন, হয়তো দিন কাঁটাতে হয় বলেই কেটেছে। সুতপা নিজেকে এক প্রচন্ড ঘোরের মাঝে বিসর্জন দিয়েছে।
আচ্ছা,দুজন মানুষের পাশাপাশি বাস করার জন্যে কোন ব্যপারটা সব থেকে বেশি জরুরি??অনেকে অনেক কিছু বলবেন- বিশ্বাস,মায়া,ভালবাসা! কেউ হয়তো বলবেন, খুব কট্টরপন্থী কেউ... ভালবাসা-টালবাসা বলে কিছুই নেই। সবই দৈহিক আকর্ষন!
সুতপা কিছু ভাবতে পারেনা, ভাবতে ভাল লাগেনা। আকর্ষন-টাকর্ষন কিছুনা।শুধু পাশাপাশি থাকা,জোছনা,বর্ষায় একসাথে পার করা। মন খারাপ হলে তার কাধে পরম শান্তিতে মাথা রাখা। ব্যাস্,এইতো...তবু কেন এই সারাজীবনের পাশাপাশি থাকার সিদ্ধান্তটা নিতে এত কষ্ট হয়!!
আবেগ,ভালোবাসা এসব নিয়ে সুতপা কখনো মাথা ঘামায়নি! তার জীবন ছোট্ট এই বাসাটাতেই সীমাবদ্ধ। জীবনের,মনের কোণের আবেগের এই অংশটুকু অনুপস্থিত তার জীবনে।হঠাৎ বদলে গেল সব!
সুতপা জানেনা সে আবেগপ্রবন কি-না। কিন্তু এতটুকু জানে এটা দিয়ে আর যাই হোক জীবন তো চলবেনা। সে তো সমাজের বাইরে বাস করেনা, সিদ্ধান্ত তাকে সামাজিক দিক মাথায় রেখেই নিতে হবে...কিন্তু!
নিজের জীবনের অনেক বড় বড় সিদ্ধান্ত সে নিজেই নিয়েছে তবে এখন কেন পারছেনা? আবিরের ‘একটা গল্প’ শুনে তার জীবনটাই পালটে গেছে। কেনর উত্তর নেই সুতপার কাছে। হয়তো আবিরের কাছেও নেই। থাকা উচিৎ না। একজন ‘বৃহন্নলার’ কাছে জীবনের মানে অন্যরকম...হয়তো কোনো মানেই থাকেনা।
সন্ধ্যা মিলিয়েছে বাইরে।সবার ঘরে ফেরার সময় হয়েছে। একধরনের তাড়া অনুভব করে সবাই সন্ধ্যায় ঘরে ফেরার। সুতপার অন্য এক তাড়া আছে...
ঘর অন্ধকার রাখতে নেই সন্ধায়,সুতপার মা বলতেন।এই মহিলা প্রতি সন্ধ্যায় নিয়ম করে সন্ধ্যা বাতি জ্বালাতেন। এই অভ্যাস তিনি তার মেয়ের মাঝেও দিয়ে গেছেন।
কিন্তু আজ সুতুপার ঘর অন্ধকার। অন্ধকার ঘরে মশারা আঁকড়ে ধরেছে তাকে। কিন্তু সে তার বসার ঘরের বেতের সোফায় বসে থাকল। তার চোখ জলে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে বারবার। মুছে ফেলছে,আবার পরক্ষনেই ভর্তি হয়ে গাল,গলা বেয়ে গড়িয়ে নামছে জল!! তারমতো শুকনো রসকষহীন মেয়ের মনে এতখানি আবেগ লুকানো ছিল? থাকুক,কিন্তু আবিরের প্রতি কি এই আবেগ সে কেমন করে দেখাবে?? পৃথিবী,সমাজ তাদের চোখে কি এই আবেগের অংশটুকুর কোনো মুল্য আছে?উঁহ,নেই,থাকা উচিৎও না।
ঢাকার আকাশে মেঘ নেই। নীল আকাশ,ঝকমক করছে সব। এতটাই নীল, মনে হচ্ছে এই মাত্র কেউ কাঁচা রঙ গুলে লাগিয়েছে। এই নীলে অদ্ভুত পবিত্রতা,অদ্ভুত শুভ্রতা ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে।ধূসর সিমেন্টের শহরটাকেও কি উজ্জ্বল লাগছে! বাতাসে মিষ্টি একটা গন্ধ।
নীল এই আকাশের দিকে তাকিয়েই সুতপা তার জীবনের সব থেকে কঠিনতম সিদ্ধান্তটি নিয়েছে। সিদ্ধান্ত নিয়েছে মানুষের বাইরের রঙ নয়,তার মনের রংকে ভালোবাসার।
বারবার ঘড়ি দেখা সুতপার অভ্যাস। ঘড়ি বলছে সুতপা তিন ঘন্টার মত সময় পার করেছে; তিন ঘন্টা খুব কম সময় নয় আবার অনন্ত মহাকালের সামনে কিছুই তো নয়।
সে কি করবে?এই বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা? চলে যাবে শহর ছেড়ে নাকি সত্যকে গ্রহণ করার সৎ সাহস দেখাবে! সুতপা জানেনা... জান।। চায়না; শুধু জানে ...
‘আমার নাম আবির’ ,হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছে সে।সুতপার সামনে। ফর্সা,লম্বা,স্বাস্থ্যবান একজন ‘তরুন’(!!) তার চোখে ঠিক মেয়েদের চোখের মত গভীর মায়া। যে মায়া তার সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে থাকা মেয়েটির জন্যে!
সুতপা কেঁদে যাচ্ছে , আবির ফিসফিস করে বলল-‘আমি আমার গল্পটি আর কাউকে বলিনি সুতপা,বলব ও না।’
মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতেই ‘তার’ হাত ধরল...একজন ‘মানুষের হাত’...এই ধরা হাতেই সে সারাজীবন থাকতে চায়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now