বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একশ রুপী-০১

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X একশ রুপী মূল : কৃষণ চন্দর অনুবাদ : মনযূরুল হক ‘আমি একশ’ রুপির খাটুনি করেছি, আমাকে একশ’ রুপি দিন।’ শেঠ বললেন, ‘ষোল তারিখ এসো।’ আমি ষোল তারিখ গেলাম। শেঠ অফিসে নেই। আছে তার সেই ভীমকৃষ্ণ ম্যানেজার। মাথার চাঁদিতে একগাছ চুল নেই তার। দাঁত একটা মুখ ফুঁড়ে বের হয়ে আছে। আসতে অব্দি দেখছি এসিস্ট্যান্টকে লাগাতার ধমক ফুটিয়েই যাচ্ছে। আমাকে দেখে পিগলিত বরফের স্বরে বললো, ‘তুমি একশ’ রুপির কাজ করেছো। বিলকুল একশ’ রুপিই পাবে। কিন্তু শেঠ তো আজ নেই। কাল আসবেন।’ ‘শেঠ যদি কালও না থাকেন, তখন?’ ‘তবে আমি ব্যবস্থা করে রাখবোখন। তুমি চিন্তা করো না। তোমার পয়সা বাপুজি তুমি ঠিকই পাবে।’ অফিসঘর থেকে বের হয়ে দু’পয়সার শাদাপাতা দেয়া পান খেলাম পেটের ক্ষিদেটা সামাল দিতে। নইলে দু’পয়সায় চাইলে খয়ের, তামাক, মিষ্টি জর্দ্দা, গুঁয়ামুড়ি মাখানো একটা মজার পানও খাওয়া যেতো। পকেটে মাত্র দেড় কি দু’আনা বাঁচুয়া। ট্রাম আসছে। হুড়োহুড়ি করে টিকিট কাটলাম। সিটে বসেই শেঠের বাংলোর দিকে ‘ত্থু’ করে মুখভর্তি পিক ছুঁড়লাম। পরদিনও শেঠ নেই। ম্যানেজার আমাকে দেখেই বললো, ‘শেঠজি তো আসলো না। তাছাড়া তোমার হিশাবেও দেখি একটু গড়মিল আছে।’ রাগ হলো ভীষণ। হিশাব আমার নিজের করা। ম্যানেজারও তারপর অন্তত দশবার চেক করেছে। গড়মিল ঢুকলো কখন? ওদিকে সে কথাও বলছে রেশমের মতো মোলায়েম শব্দে। আমিও ভদ্রভাবে বললাম, ‘আমার হিশাব তো পরিষ্কার।’ তারপরও ময়লা পাতলুনের পকেট থেকে হিশাবের পর্চা বের করে এগারোতমবার পুরোদস্তুর যাচাই করতে বসলাম। এইটা সিরিশ কাগজ কেনার বিল, মোম-তেলের মূল্য এতো। দোকানের রসিদও এই। মজুরিও আগে থেকে ঠিকঠাক। এই যে শেঠের ফার্নিচার কামরাজুড়ে ঝলমল করছে, এতেও আমার মেলা খাটা-খাটুনির খর্চা আছে। এবার তার চিন্তার রেখা কাটলো। ‘হাঁ, বাপুজি, হিশাব ঠিক আছে। আচ্ছা, কাল আসো। কাল অবশ্যই পাবে।’ বিরান চাঁদিটা চটকাতে চটকাতে বললো। আজ আর দু’পয়সার পান খাওয়ার মুরোদ হলো না। এক আনা দামের ট্রামের টিকিটও না। মোহতারশাহ রোড থেকে সাইন পর্যন্ত হেঁটেই গেলাম। পরদিন আবার শেঠের অফিসে হাজির। আজ শেঠজির অস্তিত্বও তো নেই-ই। ম্যানেজারও গায়েব। এসিস্ট্যান্ট তার সামনে রাখা এক সিঙ্গেল চায়ের দিকে ঘোলাটে দৃষ্টিতে তাকিয়ে কী জানি ভাবছে। চেহারা হলুদ, মাথা আর শাদা গালের দিকে পিঙ্গল, থুতনির দিকটা মেটে। যেনো চামড়ার বদলে কাদামাখা কাগজ লেপ্টানো। আমাকে তাকিয়ে থাকতে দেখে এসিস্ট্যান্ট হাত ইশারা করে চেয়ারে বসতে বললো। ‘শেঠজি কোথায়? ‘সে তো তার দুই নম্বর অফিসে।’ ‘আর ম্যানেজার?’ ‘বাবু গেছেন শেঠের তিন নম্বর অফিসে।’ ‘তা আমাকে এই চার নম্বর অফিসে ডাকলেন ক্যান?’ আমি একটু রাগের তোড়েই বললাম। এসিস্ট্যান্ট চায়ের সর্বশেষ চুমুক গিলে সেরেছে। আস্তে করে জবাব দিলো, ‘তুমি একটু বসো। বাবু চলে আসবেন। তার সঙ্গে কথা বলে যাও।’ একটা চেয়ার পেতে আমি একনাগারে সোয়া তিন ঘণ্টা বসে রইলাম। এতো কষ্ট করে ফার্নিচারে যেই বার্নিশ মেখেছি, মনে চাইলো, একটা কাঁচের টুকরা নিয়ে সব খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তুলে ফেলি। আরেকবার মনে হলো, সিরিশ কাগজ ঘষে ঘষে এসিস্ট্যান্টের চেহারার নগ্ন হাড্ডি বের করে ফেলি। না, তার চেয়ে ম্যানেজারকে জানে মেরে ফেলাই সবচে’ ভালো হবে। শেঠকে কী শাস্তি দেয়া যায়? হ্যাঁ, ‘বি’ নম্বরের মোটা গরম বালু তার শরীরময় ঢেলে দেবো, যেনো সব চামড়া খসে গলে নিচে পড়ে যায়। পৌনে দুইটা বাজে এলো ম্যানেজার। হেসে বললো, ‘কাজ হয়ে গেছে। একশ’ রুপির চেক পেয়েছি, কিন্তু আর মাত্র পনের মিনিট বাকি। জাস্ট দুইটায় ব্যাংক বন্ধ হয়ে যায়। দুই মাইল দূরে ব্যাংক। আর কাল রবিবার ছুটির দিন, পরশু.. ‘তাতো ঠিক।’ আমার হতাশা দেখে ম্যানেজার বেজায় উৎফুল্ল। আমি কর্কশ কণ্ঠে বললাম, ‘চেকটা দেন।’ আরো পাঁচ মিনিট পর চেক হাতে পেয়ে দেখি, চেকে আমার নাম শফির বদলে লেখা রফি। ‘চু চু’ আওয়াজ করে ম্যানেজার বললো, ‘বড় গলতি হয়ে গেছে বাপু। তবে অসুবিধা নাই। তুমি সোমবার এসো, নতুন চেক নিয়ে যাও।’ ‘নামের চেক, ভুলে কিছু আসে যায় না। সোমবার আবার কোথায় থাকবো, কোন চক্করে ঘুরবো, ঠিক নাই।’


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একশ রুপী-০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now