বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সিগারেট কেন খাও আব্বা?
আমি তখন অনেক ছোট।আমার কথা শুনে আব্বার দুই ঠোটের কোণে মুখে মৃদু হাসি খেলে গেলো।সিগারেট নিভিয়ে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বল।
- যখন তোর বয়স হবে তখন বুঝছি কেন সিগারেট খায়।হয়তো তুইও কোনো একদিন এই বাজে অভ্যাসে জড়িয়ে যাবি।ছাড়তে চেয়েও পারবি না ছাড়তে।
.
ঠোট কুচঁকে বলেছিলাম আমি...
- আমি কি তোমার মতো বোকা।টাকা দিয়ে ধোঁয়া কিনে খাবো? সিগারেট খেলে শরীরের ক্ষতি হয়।সিগারেটের প্যাকেটে দেখছিলাম।
.
আব্বা জান সেদিন কিছু আর বলতে পারলো না।ঠোট নড়িয়েও চুপ হয়ে গেলো।দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে উঠে গেলো খাট থেকে।লম্বা শ্বাস ছাড়ে অনেকটা কষ্ট পেলে যেমন হয়।আর কিছুক্ষণ কথা বললে হয়তো সব কষ্টের কথা বলেই দিতো।
.
মাত্র ১৫ বছর বয়সে আমি সিগারেটে সুখ টান দিতে শিখি।প্রথম ধোঁয়া গলার পর্যন্ত অর্ধেক নিয়ে নাক আর ঠোট দিয়ে ছাড়লে অনেকটা শান্ত পাই।মানুষ বলে সিগারেট খেলে নাকি কলিজা পুড়ে ছাড়-খাড় হয়ে যায়।আমাদের মনের ভেতর কোনো অনুভুতিই কাজ করে না।
.
সিগারেটে যখন সুখ টান দিতাম তখনই বুঝতে পারলাম এটা টেনশন মুক্ত করার আরেক ঔষধ।
মনে পরে গেলো সেই পিচ্চি বয়সটার কথা তখন একদিন আব্বা জানকে বলেছিলাম "সিগারেট কেন খাও আব্বা?" আজ উত্তরটা পেয়ে গেছি।অনেক বেশি অহংকার ছিল আমি সিগারেট খাইনা।মানুষ কয়েকটা কারনে সিগারেট খায় (১) সভাবে (২) অভাবে আর (৩) প্রেমে ব্যর্থ হলে।আমি দ্বিতীয় কারনেই সিগারেট ধরেছি।
.
সিগারেট না খেলে কষ্ট গুলো আমি বেশি দিন ধরে রাখতে পারবো না।মুদির দোকানে সিগারেট কিনে ঠোটে লাগিয়ে মাত্রই আগুন লাগিয়েছি তখনই কাধের উপর কারো হাত।ঘাড় ঘুড়িয়ে তাকিয়ে দেখি আব্বা জান।ঠোট থেকে জ্বলন্ত সিগারেট টান দিয়ে নিয়ে দূরে ছুড়ে মারি।এক লাইনের কথা বলেই চলে গেলো।থাপ্পর বা গালাগালিও দিলো না।
- আমি মনে হয় তোর উপর একটু বেশিই চাপ দিয়ে দিছি।এতো অল্প বয়স তোকে কষ্ট দেওয়া আমার ঠিক হয়নি।
.
পিচ্চি বয়সে সবাই যখন সাইকেল কিনে চালাতে ব্যস্ত আমি তখন চোখ ভরা জল নিয়ে কার্টুন দেখি।দিব্যি মনে আছে ডোরেমন দেখতে ছিলাম তখন অথচ দাঁত দাঁত চেপে বার বার চোখের জল মুছতে মুছতে গাল ছিলে গেছে।ভেবেছিলাম আব্বা জানকে বলব একটা সাইকেল কিনে দিতে।
দরজার কাছে দাড়াতেই কিছু কথা শুনতে পেলাম।আব্বা আম্মাকে বলছে "একটা টাকাও নাই।কিভাবে যে সংসার চলবে।তার ভেতর আবার সোহান, নাজমার স্কুলের বেতন দিতে হবে"।
.
সাইকেল আর চাইতে পারলাম না।৯ বছর বয়সেও আমি বুঝে গেছি কষ্ট জিনিসটা কি? বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে শেখানো হয় পুরুষ মানুষদের কিভাবে বাঁচতে হয়।পছন্দের কোনো রং নেই।কোনো কিছুর ইচ্ছা নাই।শুধু পরিবার বাঁচানোর যুদ্ধে আমরা মগ্ন।আজ কি খেলাম, কাল কি খাবো সেটাও আমাদের ভেবে রাখতে হয়।সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা।আমার আব্বাজান ঠোটে কোনো দিন আসল হাসি দেখতে পারলাম না।ঠোট দুটো সব সময় নিচেই নামানো থাকে।চিন্তা করতে করতে বুকের পাশে তার ব্যাথা হয় বেশ কিছু দিন হলো।বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই আমরা জীবন যুদ্ধে নেমে যাই।মৃত্যুর আগ পর্যন্ত টেনশন যেন পিছু ছাড়েই না।বড় বড় ব্যবসায়ীদের রাতে ঘুম হয় না।তারাও পরিবারকে নিয়ে চিন্তায় থাকে।
আব্বা জান একটা কথা বলেছিলঃ কাপুরুষরা কাঁদে।আসল পুরুষ সাহস নিয়ে সামনে এগিয়ে যায়।মনে রাখবি পুরুষদের কখনো কাঁদতে নেই।
.
একজন পুরুষ যখন বলে "এর থেকে ভালো ছিল মেয়ে হয়ে জন্মানো" তার নিশ্চয় ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেছে।দায়িত্ব পালন করতে করতে ক্লান্ত সে।
.
সব পুরুষ কাপুরুষ হয় না।একজন পুরুষ আপনার বাবা, একজন পুরুষ আপনার ভাই, একজন পুরুষ আপনার স্বামী।যে মানুষটা শুধু নিজের পরিবারের জন্য রোবট-এর মতো কাজ করতে থাকে।সমুদ্রে ৭ নং সংকেত চলছে অথচ জেলে মাছ ধরে যায়।কেন জানেন? পরিবারের মুখে দুই মুঠো ভাত তুলে দেবার জন্য।নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে।
[]
বাস্তব গল্পঃ #একজন_পুরুষ
লেখকঃ সোহানুর রহমান সোহান (দেবদাস)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now