বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একজন খুনি part 7

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Fahim (০ পয়েন্ট)

X পর্ব ৭ ঘড়িটা ঠিক করাচ্ছিলাম তখনেই কালকের সেই মেয়েটাকে পাশের ঘড়ির দোকানে দেখলাম।আমার মতোই একটা ঘড়ি ঠিক করাচ্ছো।দোকানদারের সাথে ওদের কথাগুলো এমন ছিলো -আবারও ম্যাডাম ঘড়িটা ঠিক করাতে আনছেন।আর কত ঠিক করবেন এই পুরনো ঘড়ি। -আপনাকে এতো জানতে হবে না।ঠিক করে দিন তো একটু কাছে গিয়ে লক্ষ্য করলাম একদম হুবহু একই রকম ঘড়ি আমারটার মতো।পুরনো সময়ের একই রকম। ওইদিকে উঁকি মারছিলামম এইদিকে আমার ঘড়ি যে ঠিক করছিলো সে ডাক দিলো। -এই নিন স্যার আপনার ঘড়ি। -ধন্যবাদ আপনাকে -আচ্চা স্যার ঘড়িটা কি কেউ গিফট করেছিলো? -হঠাৎ এই প্রশ্ন? -না স্যার ঘড়ির তিন কাঁটাতেই নীল নামটা খোদাই করে লিখা।আমার নাম কি নীল? -নাহ আয়মান।আজব তো আমি তো আতে খেয়াল করি নি। -ছোট্ট করে লিখা হয়ত এই জন্যই খেয়াল করেন নি। ঘড়িটার কাটার দিকে তাকিয়েই বের হচ্ছিলাম দোকান থেকে। তখনেই ঠুস করে ধাক্কা খাই।সামনে তাকিয়ে দেখি সেই মেয়েটা।ওরে হার্টবিট বেড়ে গেলো তখন আমার।মেয়েটা উঠে আমায় stupid বলে চলে যায়।আমি কি ছাড়ি। ও গাড়িতে উঠলো আর আমি বাইকে।পিছু শুরু।গাড়িটা আজ বাড়ির দিকে গেলো না অন্য কোথায়ও যাচ্ছে।আজ কোথায় যাচ্ছে।যেতে যেতে একটা পোড়া বাড়ির সামনে থামলো।মেয়েটা গাড়ি থেকে বের হয়ে বাড়িটার ভিতরে ঢুকলো।গাড়ির ড্রাইবার গাড়িতেই আছে।আমিও চুপিচুপি বাড়িতে ঢুকলাম।বিশাল বাড়িটা।কিন্তু মেয়েটা এই বাড়িতে কি করছে।মেয়েটাকে আর পেলাম না কোনো রুমে যে ঢুকলো।কিন্তু আজব বিষয় বাড়িটা তেমন চেনা চেনা লাগছে।বাড়ির সব পথ জেনো আমার চিনা।বিনা কোনো পথ না হারিয়ে সঠিকভাবে যাচ্ছি।হঠাৎ একটা রুমে এসে আমি মেয়েটাকে দেখলাম।দেওয়ালে থাকা অর্ধ পোড়া ছবির দিকে তাকিয়ে আছে।আমি পিছন দিয়ে গিয়ে দাড়িয়ে ছবিটার দিকে তাকালাম।পাশে চারচন মাঝখানে একটা ছোট মেয়ে আর একটা ছোট ছেলে।হঠাৎ মেয়েটা ঘুরলো ঠুস করে আমার কপালের সাথে ভাড়ি খেলো। -আপনি আমার ছাড়ছেন না কেনো আমাকে ফলো করতে করতে এখানেও আসছেন। আমি কোনো প্রতিউত্তর না দিয়ে দেওয়ালটা থেকে ছবিট না নামিয়ে তাকিয়ে রইলাম।ছেলেটাকে অনেক চেনা লাগছে। -এই যে মিস্টার ছবিটা ভালোও ভালো দিয়ে দিন। -চুপ থাকেন তো।আমার ছবি এখানে কেনো আসলো। -আপনার ছবি? -হুম এই যে ছবিতে থাকা ছেলেটা।এটা আমার ছোটবেলার ছবি। -কিহ অসম্ভব এই ছেলেটা মারা গেছে।লাশটাও পাওয়া যায় নি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। -না না। হতে পারে না। এটা আমি সিউর একদম।এক মিনিট আমার ফোনে আমার ছোটবেলার ছবি আছে।।।একটু পর বের করে ওনাকে দেখালাম। এই যে দেখেন এটা আমি।ডান হাতে ছবিটা ছিলো বাম হাতে ফোন।ফোনটা ওনার দিকে এগিয়ে দিলাম। -আসলেই তো।তার মানে তুমি নীল?তুমি বেঁচে আছো? আমি কিছু বলার আগেই মেয়েটা বাম হাতে একটু আগে ঠিক করা ঘড়িটার দিকে নজর পড়লো। -দেখি তো ঘড়িটা। মেয়েটা চোখের সামনে ঘড়িটা নিয়ে কিছু দেখার চেষ্টা করছে।একটু পর বললো - -শার্টটা খুলো তো -কিহ বলেন আপনি? কিছু বলার আর সুযোগ না দিয়ে নিজেই একটানে শার্টটা খুলে ফেললো।মানে টান দিয়ে বোতামগুলো নষ্ট করে ফেলছে।আমার আদরের শার্ট। -কি করছেন এসব এরপর মেয়েটা আমার চোখের দিকে তাকিয়ে শয়তানি হাসি দিলো। -চোখটা বন্ধ করো তো -না না করমু না।না জানি কি করবেন -চুপ বন্ধ করছে বলছি।এই শার্টের বদল। প্যান্টও যাবে। আর কি করার আছে বন্ধ করলাম। একটু পর খুলে দেখি ওমা মেয়েকা কাদছে। -এই মিস আপনি আবার কাদছেন কেন? -ফাজিল,কুত্ত,শয়তান,বদমাইশ............... আমি কি জানি আমিও গালি দিতে লাগি -পেত্নী,ফাজিল........ -এটা সত্যিই তুমি তাহলে। এবার জড়িয়ে ধরলো।হায়রে স্টোক করমু হলে হয়।এমনেই হার্টবিট অনেক বেড়ে গেছে এখন তো আরো। -এই কুত্তা এতো বছর কই ছিলি। -আমি জানি না আপনি কি বলছেন।আমাকে ছড়লে খুশি হতাম। এরপর ছেড়ে দিলো -তুমি আমায় চিনো নি? -নাহ।তবে এই বাড়িটা চিনা চিনা লাগে।একটু আগে আপনার গালিগুলোও চিনা চিনা লাগে। -তুমি নীল।নীল ওয়েল্স আর এই বাড়িটা তোমার। -আমার কিচ্ছু মনে আসছে না। -তুমি কি সব ভুলে গেলা নাকি? -আমার শুধু মনে আছে আমারর জ্ঞান হাসপাতালে ফিরে সেখান থেকেই মনে আছে আর কিচ্ছু মনে নাই। -তার মানে তুমি স্মৃৃতি শক্তি হারিয়ে ফেলেছো? -জানি না তবে মনে আছে সেদিন মাথায় ব্যান্ডেজ ছিলো।হতে পারে এর আগে আমার কোনো দুর্ঘটনা হয়েছে। -তাহলে তো তুমি তোমার বাবা-মায়ের মারা যাওয়ার ঘটনা জানো না।ভুলে গেছো তাহলে তোমার বাবা মা মারা গেছে। -জানি না।তবে কষ্ট লাগছে আমি যাদের সাথে ছিলাম তারা আমার আসল বাবা মা নয়।আর যারা জন্ম দিলো তাদের কথাই মনে নেই। -কুত্তা তুই ওদের ভুল তাতে আমার কিছু যায় আসে না।তুই আমারে ভুললি কিভাবে? -চুপ অনিশা -এই আমার নাম মনে পড়ছে তোমার। -হুম।মাত্র চোখের সামনে ভেসে উঠলো একটা ঝগড়ার দৃশ্য একটা মেয়ের সাথে। -আরে গাধা ওটা আমিই। -হুম একটু একটু মনে পড়ছে।তবে এটা সবার আগে মনে পড়ছে তুমি একটা গুন্ডি মেয়ে।হুদাই আমার সাথে ঝগড়া করতা সব সময়। -আমি গুন্ডি।কুত্তা তুই গুন্ডা। -আচ্চা বাদ দেও তো ভালো লাগছে না।বাড়িটা আরো ঘুরে দেখতে চাই হয়ত অারো অনেক কিছু মনে পড়বো। -চলো দুইজন ঘুরতে ঘুরতে বাড়ির পাশে বাগানে চলে আসলাম।হঠাৎ এতটা দৃশ্য ভেসে উঠলো চোখের সামনে।একটা লোক আরর আমি মানে ছোট আমি বাগানে দৌড়াদৌড়ি করছি।লোকটাকে একটু একটু করে চিনতে পারছি এটা আমার বাবা।চোখ দিয়ে পানি পড়ে গেলো অনিশা-এই কাদছো কেনো? নীল-পুরনো কিছু স্মৃতি মনে পড়লো তাই।আচ্চা ওই সময় বুঝলা কি করে আমিই নীল? অনিশা-তোমার চোখের পাতায় আর কাধের তিলটা আর হাতে থাকা ঘড়িটা যেটা আমার বাবা তোমায় দিয়েছিলো।আর কি লাগে বলো।তাছাড়া আমি কি আমার নীলকে চিনি না। নীল-এমন ভাবে বলছো জেনো আমি তোমার বিয়ে করা স্বামী। অরিশা-হুম।আমাদের তো ছোট থাকতে বিয়ে হইছে মনে নাই। নীল-ওটা বাচ্চামি ছিলো।দুষ্টামি করে বলে দিলাম। অনিশা-যা তুই বাগ এখানে থেকে।আমার সাথে আর কথা কবি না। নীল-আরে আরে মজা করেছি।রাগ করো কেনো।আমার অভ্যাস কি ভুলো গেছো। অনিশা-না মনে আছে একটা ফাজিল পোলা। কথা বলতে বলতে বাড়ি থেকে বের হলাম।অনিশার গাড়ির ড্রাইবার গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েছে।গাড়ির পাশে দুইটা ছেলে আমাদের দেখে বাজে কথা বলতে লাগলো। ১ম ছেলেটা-মেয়েটা জোস রে।মনে হয় ওরা মাত্র আকাম করে আসছে ২য় ছেলেটা-মেয়েটাকে এক রাতের জন্য পেলে হতো রে। আমি গাড়ির ড্রাইভারকে জাগিয়ে অনিশাকে উঠিয়ে পার করে দিলাম। এরপর আমি কিছু কাজ ছেড়ে বাড়ি ফিরলাম। সন্ধ্যায়----খবরে দেখাচ্ছে দুটো ছেলের মৃত দেহ পাওয়া গিয়েছে।মাথার খুলিই উঠিয়ে খেলেছে।ছেলে দুটো ওই দুইজনেই।মুচকি একটা তৃপ্তির হাসি দিয়ে টিভিটা বন্ধ করে দিলাম। একটু আগে বিকালে--- অনিশাকে পার করে সোজা বাড়ি ঢুকে পড়ি।নিজের পোড়া বাড়িটায়।খুজে একটা শক্ত মোটা রড নিই।বের হয়ে সোজা ছেলে দুইটাকে দুইটা দিলাম রড দিয়ে।রডের এক আঘাতেই দুইজন মাটিতে পড়ে গেলো।দুইজনের মাথায় মেরেছি কিছু বুঝে উঠার আগেই।রক্ত পড়ছে তবে রাগ কমছে না।একের পর এক মাথায় মারতে থাকি দয়া মায়া ছাড়া।অনেক শান্তি লাগছিলো।মনের মতো মাথায় মেরে বাইক চালু করে চলে আসলাম। চলবে..........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একজন খুনি Last part
→ একজন খুনি part 8
→ একজন খুনি part 7
→ একজন খুনি part 6
→ একজন খুনি part 5
→ একজন খুনি part 3
→ একজন খুনি part 2
→ একজন খুনি part 1

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now