বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পর্ব ২
রাতের খাবার সকালে নাস্তা হিসেবে খেয়ে অফিরের দিকে গেলাম।পরিবেশটা আজ কেমন জানি আমার মনের মতো সেজেছে।হালকা হালকা বাতাস।পাখির কিচিরমিচির। গাছে বকুলের সুগন্ধটা মন মাতিয়ে দিলো।এই রকম যদি প্রতিটা দিন হতো কত ভালোই না হতো।সময় মতো বাস পেয়ে গেলাম।হঠাৎ বাস থেমে গেলো কি হলো।জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখলাম পুলিশের চেক পয়েন্ট সব গাড়ি চেক করছে।একটু পর বাসে আসলো।রাব্বি আমাকে দেখি বললো
-কিরে অরিক অফিসে যাচ্ছি।দেখি করছি না
-আরে না।আচ্চা কি হইছে রে গাড়ি চেক করছিস।
(রাব্বি আমার ছোট বেলার বন্ধু পুলিশ অফিসার)
-আর জানিস না কাল রাতে আরমান সাহেবের মৃত্যু হয়েছে।
-কি বলিস আজ তো ওনার সাথেই মিটিং ছিলো বিজনেস মিটিং।
-ডিলটা গেছে।তোরা আর পাচ্ছিস না
-এটা কথা।প্রোমোশন পেতে পারতাম যদি ডিলটা হতো আজ।
-আচ্চা চেকিং এবার যা পরে কথা হবে নে।
বাস আবার ছাড়লো অফিসে পৌছে গেলাম।তবে দেরি হয়ে গেছে।অফিসের বস ডাকলো আমাকে।
-স্যার আসবো?
-আসো।আধা ঘন্টা লেট কেনো।
-স্যার আসলে চেকিং চলছিলো সেজন্য।শুনলাম আরমান সাহেব মারা গেছে?
-হুম। সেটাই বলার জন্য ডাকলাম।ডিলটা আর তো হচ্ছে না।
-স্যার এতো কষ্ট করলাম এটার উপর।এতো বড় ডিলটা
-কিচ্ছু করার নেই তুমি যাও আমার মাথাটা এমনেই গরম হয়ে গেছে
দিনের শুরুটা হলো ভালো আর এখন কি হচ্ছে।আসলেই কথাটা সত্য বিপদের আগের পরিবেশটা শান্তই হয়।
কোনো রকম অফিট টাইম শেষ করে বাসায় আসলাম।আসার পথে রাতের খাবার টাও।বাসায় এসে খেয়ে ঘুম দিলাম।
রাত দুইটা বাজে তৃষা নিজের রুমে বসে প্রতিদিনে অভ্যাস মতো ভূতের গল্প পড়ছিলো।জানলা ঠিক টেবিলের পাশেই।হঠাৎ খেয়াল করলো অরিক যাচ্ছে।
-এতো রাতে অরিক কোথায় যাচ্ছে।
জানালা দিয়ে ডাক দিলাম কিন্তু অরিক কোনো উত্তর দিলো না।অরিক কোথায় যাচ্ছে।সন্দেহ হলো।
রহস্য প্রেমিক তৃষা আর নিজেকে সামলাতে না পেরে পিছু নিলো অরিকের।অরিক যেখানে থাকে তার থেকে অনেক দুরে তৃষার বাড়ি।অরিক ওর সহপাঠী ছিলো।
-------------
পিছু নিতে নিতে দেখলাম অরিক ওসি সাহেবে বাড়িতে গেলো।নতুন ওসির দেড় মাস আগে জয়েন করেছে রাকিব নাম।ওনার বাড়ি সামনে আসতেই দেখলাম এক লাফে ছাদে উঠে গেলো।একি দেখলাম।ভয়ে আর এক মিনিটও দাড়ালাম না সোজা বাড়ি চলে আসলাম।আসার পথে দুটো মাতাল ছেলে পিছুও নিচ্ছিলো অনেক কষ্টে ঠিক ভাবে বাসায় ফিরলাম।
অরিক-সকালে ঘুম থেকে উঠেতেই মনে হলো পা টা ব্যাথা করছে মনে হচ্ছে কয়েক কিলোমিটার হেঁটেছি।কোনো রকম উঠে ফ্রেস হয়ে টিভিটা ছাড়লাম।কালকের খুনের কোনো খবর আছে কিনা জানতে আরকি।খবর ছাড়তেই ব্রেকিং নিউজ নতুন ওসি উপর হামলা।মারা যায় নি তবে আহত হয়েছে।ওসি কিছুই বলছে না।এখনো জ্ঞান ফিরার পর কিচ্ছু বলে নি।রাব্বিকে কল দিলাম
-কিরে তোর স্যারের কি হলো রে?
-একটা বাজে কান্ড ঘটেছে।তুই একটু হাসপাতালে আয় তো।
-আচ্চা দাড়া অফিস তো আজ শুক্রবার বলে বন্ধ আসছি আধা ঘন্টার মধ্যে।
রেডি হয়ে গেলাম হাসপাতালে।ঢুকতেি আমাকে আটকালো পুলিশ রাব্বি বলে আমার লোক ভিতরে আসতে দিতে তারপরে আসতে দেয়।
-কিরে কি হইছে রে?
-রাতে জানিস কি হয়েছে স্যারের সাথে।রাতে উনি হঠাৎ ছাদে কিছু আওয়াজ পায়।উঠে বন্দুক দিয়ে দেখে কেউ নেই।ফিরার পথে হঠাৎ কিছু উড়ে সামনে আসে।অন্ধকারের কারণে চেহারাটা দেখা যায় নি।জানিস ওসির গলাটা ধরে মাটিতে ফেলে মাথা ফেটে যায়। তখন ওনার চিৎকার শুনে গার্ডেরা উপরের দিকে আসতে থাকে তখন যাবার আগে সেই লোকটা বলে যায় ৬৭নং অসম্পূর্ণ কেসটা জেনো কাল চালু হয় ওসি।এটা বলেই বাতাসে মিশে যায়।
-কিহ তুই বলছিস আত্মা জাতীয় কিছু করেছে এমনটা।
-আমি জানি নারে
-এই ৬৭নং কেসটা কিরে?
-কেসটা হলো তেরো বছর আগের কেস।আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া পরিবারের ঘটনা।তবে অনেকে দাবি করে এটা খুন ছিলো।তবে প্রমাণের অভাবে কেসটা বন্ধ হয়ে যায়।
-ওনাদের নাম কি?
-ছোট পরিবার লোকটার বিজনেসম্যান আর ওনার স্ত্রী এক ছেলে সন্তান নিয়ে ছোট পরিবার।সবার লাশ পাওয়া গেলেও ছেলেটার লাশ পাওয়া যায় নি।অনেকে বলে ওনার চাচা নাকি মেরেছে ওনাদের। কারণ ওনার মরলে চাচাই মালিক হবে।কি সত্য কি মিথ্যা আজও জানা যায় নি।
-কেসটা আবার খুলা উচিত।একটু চেষ্টা করে দেখ কি ফল পাস
-কেসটার সাথে হয়ত খুনের ও কোনো সংযোগ আছে
-হতে পারে
এরপরর আরো কিছুক্ষণ কথা বলে ফিরে আসলাম।
কি আজব কথা শুনলাম।একটা অাত্মা ওসিকে মারলো।কিন্তু কেনোইবা।আবার আরমান সাহেবকে সে মারলো নাকি।ধুর আমি এসব ভাবি কেনো বাসায় ফিরতেই দরজায় তৃষাকে দেখলাম।
-কিরে তুই এখানে কেন?
চলবে........
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now