বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একজন ফাসির আসামী

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Siam 2.0 (০ পয়েন্ট)

X একজন ফাঁসির আসামি শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস করেন কোনো দৈব শক্তি এসে তাকে রক্ষা করবে।এমন কি পেছনে হাত বাঁধা, গলায় দঁড়ি পরানো অবস্থায় এক পৃথিবী থেকে অন্য পৃথিবীতে যাওয়ার মাঝখানে দেয়াল যখন একটি মাত্র রুমাল; নীরবে দাঁড়িয়ে তখন সে ভাবতে থাকে এই বুঝি তাকে রক্ষা করতে কেউ এগিয়ে এলো!! বাংলাদেশে যেভাবে ফাঁসি কার্যকর করা হয়ঃ °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°° ...... বাংলাদেশে এক সময় মুনিরের ফাঁসি বেশ আলোড়ন সৃস্টি করেছিল।এরপর এরশাদ শিকদারের ফাঁসি নিয়ে ছিল মানুষের ব্যাপক আগ্রগ!! ...... একহন মৃত্যুদন্ড আসামী যতই ঘৃন্য হোক তার শেষ ইচ্ছা পালনের চেস্টা করা হয়।চেস্টা করা হয় তার মৃত্যুদন্ডটি যথা সম্ভব আরামদায়ক করতে।মৃত্যুদন্ড আরামদায়ক করতে বিজ্ঞানীরা কাজ করে যাচ্ছেন। এই ধারাবাহিকতায় ইলেক্ট্রিক চেয়ার,ইন্জেকশান এর মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড আবিষ্কার হয়েছে।তবে যতো সিস্টেমই আবিষ্কার হোকনা কেনো, মৃত্যু তো মৃত্যুই!! আইনানুগ সকল ফর্মালিটি শেষে ফাঁসির আসামীকে নিয়ে আসা হয় কনডেম সেলে।সেখানে শুধু ফাঁসির আশামীরাই থাকে। মাথায় থাকে লাল টুপি। অনেকটা ওয়েটিং রুম এর মতো।এখানে কয়কদিন রাখা হয়। তার সাথে যথা সম্ভব ভালো ব্যবহার করা হয়। বিদেশ থেকে আনা হয় দড়ি। সাধারনত জার্মান থেকে এই দড়ি আনা হয়। নিয়মানুযায়ী এতে মাখা হয় সাবরী কলা আর মাখন।জল্লাদ নির্বাচন করা হয় কয়েক দিনের মধ্যেই। প্রতিটি ফাঁসি কার্যকরের জন্য ঐ কয়েদির দুই মাস করপ সাজা কমে। আসামির সম ওজনের বালির বস্তা দিয়ে কয়েকবার ফাঁসির প্র্যাকটিজ করা হয় কয়কদিন আগেই। কনডেম সেলে আসামীর আত্নীয় স্বজনদের সাথে দেখা করানো হয়। তবে কবে ফাঁসি হবে তা আসামী এবং আসামীর আত্নীয় স্বজন কাউকেই বুঝতে দেয়না। সাধারনত রাত ১০ টা থেকে সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত কারাগার মসজিদের ইমামকে সাথে নিয়ে জেল সুপার কনডেম সেলে যান।তখন কয়েদী বুঝতে পারে যে আজই তার শেষ রাত। ১২ টার ৫ মিনিট আগে যম মাথায় টুপি ও গলায় দড়ি পরিয়ে দেয়।জেল সুপার হাতে রুমাল নিয়ে মন্ঞ্চের পাশে দাড়িয়ে থাকেন। সাথে দাড়িয়ে থাকেন অন্যান্য অতিথীরা।জল্লাদের চোখ তখন রুমালের দিকে।ঐ মূহুর্তে একটা রুমালই একজন মানুষ এইপাড় থেকে ঐপাড়ে পাঠিয়ে দেওয়ার ভুমিকা পালন করে। .........আসামীর চোখে মুখে অন্ধকার দাঁতে দাঁত পিষতে থাকে।গলাটাকে পোলানোর চেস্টা করেন যেনো ব্যাথা কম লাগে।কিন্তু বিশাল এই দেহের ওজন কি আর গলা সইতে পারে??ধর্মীয়,দোয়া/ মন্ত্রপাঠ করতে থাকে আর মনে মনে অপেক্ষা করে কোন দৈব শক্তির!! কান খাড়া করে রাখে এই বুঝি কেউ একজন বলে উঠবে, " স্টপ এই ফাঁসি হবে না"। ভাসতে থাকে প্রিয় মানুষ গুলোর মমতা ভরা মুখ।তাদের মায়ামুখ গুলোর কথা ভেবে মন কেঁদে উঠে। মনে হয়, যেকোনে কিছুর বিনিময়ে আর কিছু দিন ওদের সাথে কাটিয়ে দিতে।যদি প্রিয় মানুষ গুলোকে একটু জড়িয়ে ধরতে পারতাম। একজন আত্নহত্যা কারী আর একজন ফাঁসীর আসামীর মৃত্যুর মধ্যে অনেক ফারাক। আত্নহত্যাকারী পৃথিবীর বিতৃষ্ঞার কারনে আত্নহত্যা করে।তাছাড়া সেই মূহুর্তে তার কোনো হিতায়িত জ্ঞান থাকেনা। আর আসামী পৃথিবীর মায়ার জন্যে অন্যায় করে এবং সে ভাবার জন্য যথেস্ট সময় পায়।আসামী যাদের উজ্জল ভবিষ্যতের জন্য অপরাধ করে,শেষ সময়ে তারা কেউ পাশে থাকতে পারেনা।যারা উপস্থিত থাকে সবগুলোই অপরিচিত মুখ। সবাই সবার কাজে ব্যস্ত। স্বজনদের মতো মমতা ভরা কন্ঠ এখানে কারো নেই। তার কস্টে ব্যাথা পাওয়ার কেউ নেই।যত বড় দূর্ধর্ষ ব্যক্তি হোকনা কেনো, সে এই সময়টিতে সবচেয়ে বেশি অসহায় অনুভব করে। একজন মানুষ যখন উত্তেজিত থাকে তখন ভবিষ্যত পরিনতি ভাবার মতো জ্ঞান থাকেনা। আর সেই সময় টিতেই ঘটায় যতো অঘটন।আর এজন্যই মনীষীরা বলে থাকেন -"জীবনে দুটি সময় কোনো সিদ্বান্ত নেয়া উচিত নয়" ★১-খুব রাগান্বিত অবস্থায় এবং ★২- খুব আনন্দময় অবস্থায় অবশেষ ১২ টা ৫ মিনিটে পায়ের নিচ থেকে পাটাতন সরে যায়। গলায় আটকে যায় মোটা দড়ি। শুরু হয় রহস্যময় যাত্রা!! ১০ মিনিট ঝুলে থাকার পর একজন ডাক্তার এসে গাঁড়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে।পরে থাকে নিথর দেহ।এরপর থেকে আর প্রয়োজন হয় না কোনো খাবার বা পানির। রাতের খাবার গিলো কোনো কাজে আসেনা। পাকস্থলিতে পড়ে থাকে নিথর হয়ে........... মৃত্যুর আগ মূহুর্তে একজন আসামী ফিরে যেতে চায় তার অতীতে।মুছে দিয়ে নতুন করে লিখতে চায় নতুন অধ্যায়... °°°°°°°°°____ আমরাও একই পথের যাত্রী। শুধু জানতে পারিনা মৃত্যুর সময়- ক্ষন।আমাদের যেনো শেষ মুহূর্ত র্তে পিছনে ফিরে লিখতে না হয় নতুন কোনো জীবন।সেই জন্য প্রতিটি সেকেন্ড প্রতিটি মুহূর্ত সৎ ভাবে অতিবাহিত করতে হবে।কেননা জীবন খাতার অক্ষর মোছার নয়......... Collected


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একজন ফাসির আসামী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now