বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একজন ব্যর্থ সৈনিক

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X একজন ব্যর্থ সৈনিক হাসান মাহমুদ রনি ________________________________________________ নাম তার মোহাম্মদ আলী। আজ হতে প্রায় একশ বছর আগে তার জন্ম। তখনকার দিনে হয়ত লেখাপড়ার তেমন সুযোগ ছিলনা। আর থাকলেও সে সুযোগ খুব কম লোকেরই হত। মোহাম্মদ আলীও তাদের মধ্যে একজন। মাত্র সাত বছর বয়সেই জীবিকার সন্ধানে বেরিয়ে পরতে হয় তাকে। কাজ শুরু করেন কলকাতার এক বই বাধাইয়ের কারখানায়। সেই বয়স থেকেই সংসারের খরচ চালানোর জন্য কাজ করেছেন বিভিন্ন কারখানায়। তারপর......শুরু হল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। মোহাম্মদ আলী যোগ দিলেন সেনাবাহিনীতে একজন সৈনিক হিসেবে। বনে-জঙ্গলে ঘুরে যুদ্ধ করলেন মিত্র শক্তির হয়ে। একসময় কমে এলো যুদ্ধের তীব্রতা........পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল, শেষ হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। বৃটিশরা আমাদের স্বাধীনতা প্রদান করলো.......ভারত ও পাকিস্তানের জন্ম হলো। সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিলেন মোহাম্মদ আলী। শুরু হলো তার জীবনের নতুন আরেক অধ্যায়। নতুন কর্মস্থলে কাজ শুরু করলেন.....বিয়ে করে সংসারী হলেন। দেখতে দেখতে চার কণ্যা ও তিন পুত্রের জনক হলেন তিনি। এরমধ্যে বেশ কয়েকবারই কর্মস্থল পরিবর্তন করতে হয়েছে তাকে, কারণ হয়তো অত্যন্ত সৎ ও কঠোর নীতিপরায়ণ মোহাম্মদ আলি কোন কাজেই শতভাগ শততার নীতি খুজে পাননি, যা তৎকালীন সময়ে খুবই সাধারণ একটা দৃশ্য ছিল। তার এই মানসিকতার জন্যই তাকে নিত্য নতুন কর্মস্থলে কাজ করতে হয়েছে। অত্যন্ত কষ্ট করে সংসার পরিচালনা করেও ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া করিয়েছেন। তারপর, এক এক করে মেয়েদের বিয়ে দিলেন, বড় ছেলে নিজেই কিছু করার চেষ্টা করছে। এমন সময় দেশ স্বাধীন হলো। ১৯৮৮ সাল, চার মেয়ের ঘড়েই নাতী-নাতনী হয়েছে। বড় ছেলে নিজেই একটা ছোট কন্সট্রাকশন ফার্ম দাড় করিয়েছে.....বিয়ে করে সংসারী হয়েছে। ভাবলেন হয়ত জীবনে একটু সুখ আসবে এবার.......কিন্তু কপালে যার সুখ নেই সে কি করে সুখের দেখা পাবে। একেবারে হঠাৎ করেই মারা গেল তার মেঝ মেয়ের স্বামী। মেয়ে আর তার পাঁচ সন্তানের দ্বায়িত্ব নির্দ্বিধায় নিজের কাধে তুলে নিলেন। ১৯৯৯ সাল, সংসারের দ্বায়িত্ব ছেলেরা বুঝে নিয়েছে.......দীর্ঘ কর্মজীবনের ইতি টেনেছেন মোহাম্মদ আলী। শরীরে বাসা বেধেছে ডায়বেটিস। পুরোনো দিনের বন্ধুবান্ধব, বই আর টুকটাক লেখালেখি করে সময় পার করেন। সুখ যেন এতদিনে এসেছে তার জীবনে। কিন্তু তার সুখের সংসারে হানা দিল মরণ ব্যধি ক্যন্সার......কেড়ে নিল তার জীবনসঙ্গিনী, প্রিয়তমা স্ত্রীকে। স্ত্রীর প্রয়ানের সাথে সাথেই যেন তার জীবনে যেন অন্ধকার নেমে এলো। বড়ছেলে তার নিজের পরিবার নিয়ে ব্যস্ত, পিতার দিকে নজর দেয়ার সময় কই? মেঝ ছেলের দেখা কালেভদ্রে পাওয়া যায়। বাড়ীতে ছোট ছেলে আর তার স্ত্রী। কিন্তু সেই ছেলের আচরন দিন দিন খারাপ হতে লাগল, তবুও মুখ বুজে পড়ে রইলেন কয়েক বছর। কিন্তু কতইবা আর সহ্য করা যায়, একসময় বাধ্য হলেন বাড়ি ছাড়তে, উঠলেন মেঝ মেয়ের বাড়ী। নাতীরা এবার তার দ্বায়িত্ব নিল। দু-তিন বছর বেশ চললো..........কিন্তু.......নাতীর সংসারেও ভাঙনের সুর। কে নেবে তার দ্বায়িত্ব। হায়রে জীবন তিন তিনজন ছেলে, যারা প্রত্যেকেই যথেষ্ট ভাল রোজগার করে তাদের বাবাকে অশ্রয়ের জন্য সন্দিহান হতে হয়। অবশেষে তার আশ্রয় হলো সেঝ মেয়ের বাড়ী। বছরের বেশিরভাগ সময় সেখানেই কাটে। মাঝে মাঝে অন্য মেয়েদের বাড়ী থেকে ঘুরে আসেন। নাতীরাও মাঝে মাঝে তার খরচের জন্য কিছু কিছু অর্থ দেয়। বেশ চলছিল তার দিন.........কিন্তু তার নিয়তিই যেন দুঃখে ভরা। ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেল তার আদরের মেঝ মেয়ে। একজন পিতার চোখে সন্তানের লাশ দেখাটা যে কতটা কষ্টের সেটা শুধু কোন সন্তান হারা পিতাই বলতে পারবেন। এমনিতেই অনেক বয়স হয়েছে তার, সেই সাথে বিভিন্ন রোগতো আছেই.......তার সাথে যোগ হলো সন্তান হারানোর ব্যথা। নিয়তি যে তার জন্য আর কত কষ্ট জমা করে রেখেছিলেন সেটা তিনি জানতেন না। ২০১৬ সালের নভেম্বর মাস........একটা ম্যাসিভ ব্রেন স্ট্রোক আক্রমন করে তাকে। বেশ কয়েকদিন চলে যমে-মানুষে টানাটানি......ডাক্টাররাও একসময় আশা ছেরে দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয়টা মানুষেরই হয়.......কিন্তু শরীরের নীচের অংশ প্যরালাইজ হয়ে যায়। মাঝে মাঝে সজ্ঞানে কথাও বলতে পারেন না। বিছানায় শুয়ে হয়ত জীবনের অন্তিম দিনগুলো পার করছেন তিনি....... যদিনা নিয়তি তার জন্য আর কোন কঠিন পরীক্ষা সাজিয়ে না থাকে............ [ যে ব্যক্তি এবং তার সম্পর্কে যে কথাগুলো আজ বললাম তা আমার কল্পনার ফসল নয়। তার সম্পর্কে বলা আমার প্রতিটি কথাই সত্য। এই কথাগুলো বলার পেছনে তাকে মহৎ কোন মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কোন প্রয়াস আমার নেই, বরং বাস্তবতা যে কতটা নির্মম হতে পারে তা বোঝার জন্য যে আমাদের কল্পনার অশ্রয় নেয়ার প্রয়োজন নেই, আমাদের চারপাশেই তার ভুরি ভুরি প্রমান আছে সেটা বলাই আমার মূল লক্ষ্য। ] # ১৪ই জানুয়ারী, ২০১৭


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একজন ব্যর্থ সৈনিক

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now